মিরপুরের উইকেট এবং মাশরাফির ব্যাখ্যা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম
মাশরাফি বিন মর্তুজা

মাশরাফি বিন মর্তুজা

  • Font increase
  • Font Decrease

-উইকেট কেমন?

প্রশ্নের উত্তর শুনে শুধু দুর থেকে ঘাড় নাড়ান পিচ কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। মৃদু হাসিতেই উত্তর দেয়ার কাজ সারেন। শনিবার সকালে সেন্টার উইকেটের পরিচর্যা চলছিল। এই সময় ফটোসাংবাদিক ও টিভি ক্যামেরার লেন্স সেন্টার উইকেটের তাক হতেই হা হা করে উঠেন পিচ কিউরেটর। হাত নাড়িয়ে ছবি তুলতে নিষেধ করেন। মনে হল সেন্টার উইকেটের ছবি তুলে ফেললে এই উইকেটের গুনাগুণ ফাঁস হয়ে যাবে!

মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটের চরিত্র বিশ্লেষণে একটা শব্দই যথেস্ট-স্পিন সহায়ক! সেটা জিম্বাবুয়েরও বেশ ভালই জানা। এই সিরিজে তাদের বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ সামাল দিতে হবে, সেটাও অজানা কিছু নয়। এই উইকেট জিম্বাবুয়ের দলের খেলোয়াড়দের জন্য নতুন কোন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ের আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসাররাও ভাল সাফল্য দেখিয়েছেন। ওয়ানডে ম্যাচের একাদশে তিন পেসার নিয়ে খেলাকে বাংলাদেশ নিয়মিত একটা ব্যাপারই বানিয়ে ফেলেছে।

অতিথি দল জিম্বাবুয়ে বিকেএসপিতে যে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে সেখানেও বিসিবি একাদশের পেসাররাই মুলত গুঁড়িয়ে দেয় তাদের ব্যাটিংলাইন আপকে। তো তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে কি বাংলাদেশ তেমন পেস সহায়ক উইকেট বানিয়ে জিম্বাবুয়েকে আরেক দফা ভড়কে দিতে পারে না? চিরায়িত স্পিন আক্রমণের একঘেঁয়ে পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে আসার কোন উপায় কি বাংলাদেশ খুঁজছে? এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ বিশ্ব আসরের কোন প্রতিযোগিতায় নিশ্চয়ই মিরপুরের মতন এমন স্পিনবান্ধব উইকেট পাবে না বাংলাদেশ। সেই সময়, সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হওয়ার কোন পরিকল্পনা কি আছে বাংলাদেশের?

সিরিজ শুরুর আগের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এই প্রসঙ্গে বলছিলেন-‘ পেছনের তিন-চার বছর ধরে আমরা শতকরা ৯৯ ভাগ সময় একাদশে তিনজন ফাস্ট বোলারকে ব্যাকআপ করেছি, যে কোন অবস্থায় ও যে কোন উইকেটে। আমরা পেস বোলিংয়ে সবসময় প্রাধান্য দিয়ে এসেছি। আমাদের পেস বোলিং বিভাগও ভালো করছে। খারাপও করেছে। তবে খারাপের চেয়ে ভালোর সংখ্যাই বেশি। ম্যাচ উইনিং পারফরমেন্সও আছে বেশ। আমরা যতদুর সম্ভব এটা ব্যাক আপ করে যাবো। একই সঙ্গে উপমহাদেশ ও মিরপুরের উইকেটে স্পিনের একটা বড় ভুমিকা থাকে। আমরা স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষকে এর আগে অনেক সময় অলআউট করেছি এখানে। এটা অবশ্যই আমাদের মাথায় আছে এবং থাকবে। তবে সেই সঙ্গে আমরা পেস বোলারদেরও সব জায়গায় ব্যাকআপ দিয়েছি। সামনের দিনেও সেটা দিয়ে যাবো।’

আর মিরপুরের উইকেট বিশ্লেষণে মাশরাফি যা বললেন তার অর্থ দাড়ালো এই উইকেটের ‘চরিত্র’ কখন বদলায় তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই! স্লো এবং লো-বাউন্সের উইকেট হিসেবে পরিচিত মিরপুরের উইকেট। তবে হঠাৎ করেই এই উইকেটের আচরণ বদলে যায়। এই বদলে যাওয়া উইকেটের সঙ্গে সবচেয়ে ভাল মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দেরই আছে। কারণ আর কিছু নয়-অভিজ্ঞতা ও অভ্যস্থতা! মাশরাফির ব্যাখায়ও সেই উত্তরই মিললো-‘আমরাও বিশ্বাস করি মিরপুরের উইকেট আনপ্রেডিক্টবল। হঠাত করেই এখানে উইকেটের আচরণ বদলে যায়। হঠাৎ করে দেখা যায় বল টার্ন হচ্ছে বা নিচু হয়ে আসছে। তখন কিন্তু যারা ব্যাটিং করছে তাদেরও মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হচ্ছে। ডাগআউটে যারা থাকে তাদেরও মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হয়। আনপ্রেডিক্টেবল হলেও আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কারণ বেশিরভাগ সিনিয়র খেলোয়াড়ই ১০ বছর যাবত এই উইকেটে খেলছে। তো এই জায়গায় অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও যারা খেলছে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আপনি যদি দেখেন একক্ষেত্রে সুবিধাও থাকে। উইকেটের আচরণ যখন বদলাতে থাকে তখন প্রতিপক্ষের জন্য একটু কঠিন হয়। আমরা যখন ২০১৫ থেকে জেতা শুরু করেছি তখন থেকে আমার বিশ্বাস এই মাঠে আমাদের রেকর্ড ভাল। খেলার মাঝবিরতির পর এই উইকেট অন্যরকম আচরণ শুরু করে। এজন্য বলছিলাম আনপ্রেডিক্টেবল। তবে আমি নিশ্চিত আমাদের ক্রিকেটাররা এই উইকেটে এতদিন খেলার পরে কোন অজুহাত দাড় করাবে না। তবে ম্যাচে ২৫০-২৬০ রান করার একটা মাইন্ড সেটআপ আমাদের থাকা উচিত। এমন রান তুলতে পারলে সেটা প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন হবে।’