দুই শূন্যের পরও রাব্বী পাচ্ছেন মাশরাফির ভোট!



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম
অধিনায়ককে পাশে পাচ্ছেন ফজলে রাব্বী

অধিনায়ককে পাশে পাচ্ছেন ফজলে রাব্বী

  • Font increase
  • Font Decrease

অভিষেক ওয়ানডেতে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর চারধার থেকে প্রচুর সান্তনাসূচক কথাবার্তা শুনছিলেন ফজলে রাব্বী মাহমুদ। শূন্য রান! ও কিছু নয়। ওটা নিয়ে ভেবো না। মন খারাপ করো না। প্রেষণার ঢংয়ে সান্তনা শব্দ! শুনতে শুনতে শেষমেষ বাধ্য হয়ে ফেসবুক, ইনস্ট্র্রাগ্রাম সহ আরো যে সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আছে-সবগুলোই ডিঅ্যাক্টিভেট করে দিলেন।

এরই মধ্যেই দ্বিতীয় ওয়ানডের সময় চলে এলো। বলাবলি শুরু হলো-প্রথম ওয়ানডেতে পারেনি। ওকে কি দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সুযোগ দেয়া উচিত হবে? বয়সও ত্রিশ হয়ে গেছে। এরই মধ্যে আবার বিসিবি বস মাইক্রোফোনের সামনে ক্রিকেটে তারুণ্যে শক্তির জয়গানও গেয়ে ফেললেন! জ্বি স্যার, জ্বি স্যার ভঙ্গিতে তার সঙ্গে কোরাসে সুরও মেলালেন জনাকয়েক।

কিন্তু তাও ফজলে রাব্বী দ্বিতীয় ওয়ানডে খেললেন। কারণ অধিনায়ক মাশরাফি সেটাই চেয়েছিলেন বলেই। তো রাব্বী যথারীতি দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তার আগের জায়গায় খেললেন। খেলতে যখন নামলেন তখন দল বেশ শক্ত অবস্থানে। ওপেনিং জুটিতে যোগ হয়ে গেছে ১৪৮ রান। ম্যাচ জয়ের ঘ্রাণ পাচ্ছে বাংলাদেশ। এমন অবস্থায়ও ফজলে রাব্বী আরেকবার শূন্য রানে আউট! এবার আবার আউটের ধরনটা মোটেও সুখকর কোন ভঙ্গির নয়!
দুই ম্যাচে সবমিলিয়ে ৯ বল খেলে শূন্য রান। এখনো আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে কোন রান নেই তার। প্রথম শূণ্যের পর ফজলে রাব্বী সান্তনা শব্দ শুনছিলেন। টানা দ্বিতীয় শূণ্যের পর আশপাশ থেকে যা শুনছেন তার নাম রায়-চলে না!

প্রথম শূন্যর পর ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টগ্রাম ডিঅ্যাক্টিভেট করেছিলেন রাব্বী। এখন যে তাকে দুই কানে তুলোও ঠুসতে হচ্ছে! দুই ম্যাচে কোন রান না এই ক্রিকেটার কি দুঃসহ মানষিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন সেটা সহজেই অনুমেয়। তবে রাব্বীর ভাগ্য ভাল যে তিনি তার অধিনায়ক হিসেবে পেয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। অধিনায়কের পুরো সমর্থন পাচ্ছেন তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/25/1540471447937.jpg

প্রশ্ন উঠলো-ফজলে রাব্বী কি তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পাবেন?

মাশরাফির জবাব-‘আপনি যদি আমাকে দল নির্বাচন করতে বলেন তাহলে ওকে আরেকটি সুযোগ দিতে আমি দ্বিধা করবো না। সত্যি বলছি আমি। আমার কাছে মনে হয় সে অনেক বেশি দুর্ভাগ্যবান।’

তিন নম্বরে খেলার জন্য রিজার্ভ বেঞ্চে বসে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। যিনি আবার সবে জাতীয় লিগে বড়সড় সেঞ্চুরি করে এসেছেন। আর দল নির্বাচনের বিষয়টা শুধুমাত্র অধিনায়কের একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। এখানে টিম ম্যানেজমেন্টের আরো অনেকে আছেন। সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই একাদশ স্থির হয়। সেই বাস্তবতা উপলদ্ধি করে মাশরাফি তার উত্তরের বিস্তারিত ব্যাখায় বললেন-‘শান্তও খেলার জন্য বসে আছে। সেক্ষেত্রে আমাদের সকলেরই চাওয়া থাকবে যে শান্তই খেলুক। পয়েন্ট হলো এখানে আসলে আমি একা বলে কিছু হবে না। সবার সঙ্গে আলোচনার ব্যাপার আছে। আমি যেটি বলবো, সেটিই যে হবে তাও না। তবে রাব্বী আরেকটি সুযোগ পেলে আমি কিছুই মনে করবো না, আমার সমস্যা নেই। আর আমি বিশ্বাস করি কাউকে ব্যাক আপ করলে এভাবেই করা উচিত। আমি এটাও মনেও করি। আমার ক্ষেত্রেও এটি হতে পারতো। সে (রাব্বী) কিন্তু নিজেকে প্রমান করে এ পর্যন্ত এসেছে। হুট করে দুটি ম্যাচে আউট হয়ে গিয়েছে।’

তৃতীয় ওয়ানডের একাদশে রাব্বীর অর্ন্তভুক্তির প্রশ্নে নিজের ভোটে অধিনায়ক কিন্তু প্রকাশ্যেই সীল মারলেন!