অভিমান ভুলে ফিরবেন ওজিল?



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বয়স মাত্র ২৯। ইনজুরি নিয়েও নেই কোন সমস্যা। আবার ফর্মটাও হারান নি তিনি। কিন্তু সেই ফুটবলারটি যখন ‘বর্ণবাদী আর অসৌজন্যমূলক’ আচরণের কারণ দেখিয়ে সরে গেলেন, তখন হতাশ হয়েছিলেন অনেকেই। খোদ জার্মানিতেই উঠেছিল প্রতিবাদ। এবার মেসুত ওজিলের জন্য রাস্তায় দাঁড়ালেন ফুটবল ভক্তরা। তুর্কী বংশোদ্ভুত এই ফুটবলারকে জাতীয় দলে ফেরাতে উঠল স্লোগান।

তারপরই গুঞ্জন ভাসছে হয়তো অভিমান শেষে আবারো জার্মান ফুটবল দলে ফিরতে পারেন এই তারকা প্লেমেকার। যদিও এনিয়ে এখনো মুখ খুলেননি ওজিল। ব্যস্ত আছেন আর্সেনালের হয়ে প্রাক মৌসুম ফুটবলে।

গত ২৩ জুলাই জার্মানি জাতীয় দল থেকে তার সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই অবশ্য ভক্তরা মেনে নিতে পারছিলেন না। বিশেষ করে বর্ণবাদের কারণে একটা ফুটবলারের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়া নিয়েও ছিল প্রতিবাদ। সোমবার মেসুত ওজিল ছবি সম্বলিত টি-শার্ট গায়ে নেমে আসেন ভক্তরা। সেখানে লেখা ‘আই অ্যাম ওজিল।’

অনেকের হাতেই দেখা গেছে জার্মানি আর তুরস্কের পতাকা। স্লোগানে স্লোগানে প্রিয় ফুটবলারকে ফেরার অনুরোধ রাখলেন তারা। যদিও ফের জাতীয় দলে তিনি ফিরবেন কীনা এনিয়ে শঙ্কা থাকছেই। কারণ পুরো ব্যাপারটাই রাজনৈতিক রঙ পেয়েছে। তারপরও তার ফেরার পথ খোলাই থাকছে।

রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে  লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ানের সঙ্গে একটি ছবি তুলেই সর্বনাশ হয় ওজিলের। তুর্কি রাস্ট্রনায়কে স্বৈরাচারী বলে মনে করে জার্মানি। ওজিলের ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) প্রধান রেইনহার্ড গ্রিনডেল এনিয়ে মুখ খুলেন।

এরপর রাশিয়া বিশ্বকাপেও এনিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় ওজিলকে। যদিও বিশ্বকাপ জয়ী এই ফুটবলার বলেছিলেন, ‘ছবিটি তোলার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। শুধুই আমার পূর্বপুরুষের দেশ তুরস্কের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার সম্মানে ছবিটি তুলেছিলাম।’ ওজিলের বাবা-মা তুরস্কের হলেও তার জন্ম অবশ্য জার্মানিতেই।

চ্যাম্পিয়ন হয়ে খেলতে গিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয় জার্মানি। সেই ভরাডুবির পর ওজিল ছিলেন তোপের মুখে। সমালোচনা শুরু হয় তার। এ কারণেই এ মাসে বিদায় বলে দেন তিনি। ২০০৯ সালে জার্মানির হয়ে অভিষেক ওজিলের। ৯৩টি ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন ২৩ গোল।