ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে এই কাজগুলো করুন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইন্টারনেটের উচ্চগতির জন্য অনেক টাকা দিচ্ছেন, কিন্তু তবুও মন মতো পাচ্ছেন না ইন্টারনেটের গতি। ইতোমধ্যে হয়তো বা অনেকবার ফোন করে কাস্টমার কেয়ারে বকাও দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। তাই রাগে মাথার চুল ছেঁড়ার আগে এই আটটি কাজ করে নিতে পারেন। এরপরও যদি কাজ না হয়, তবে যোগাযোগ করুন আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের সাথে।

১) রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট:

সব সময় আপনার রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট রাখুন। একেকটি রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট পদ্ধতি একেক রকম। তবে আপডেট করতে হলে আপনাকে রাউটারের আইপি এড্রেস দিয়ে লগিন করতে হবে। তারপর ফার্মওয়্যার আপডেট দিতে হবে।

২) ডুয়ালব্যান্ড গিগাহার্টজ আপডেট:

আপনার ডুয়াল ব্যান্ড এর গিগাহার্টজ যদি ২.৪ দেওয়া থাকে তবে তা ৫ গিগাহার্টজে আপডেট করুন।

৩) মেশ ওয়াইফাই:

ভালো ওয়াইফাই কাভারেজ পেতে মেশ (mesh) ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে উন্নিত করতে পারেন। এ বিষয়ে এই লিঙ্কটি দেখতে পারেন।

৪) রাখার স্থান:

ওয়াইফাই রাউটারটি খোলা স্থানে রাখুন। কখনোই তা দেয়ালের কাছে রাখবেন না । অনেকে দেয়ালে রাউটার ঝুলিয়ে রাখেন। সেটা না করাই শ্রেয়।

৫) ওয়াইফাই বুস্টার:

উপরের টিপসগুলোতে কাজ না হয়ে থাকলে এক্সটার্নাল এন্টেনা বুস্টার লাগিয়ে বাড়িয়ে নিতে পারেন স্পিড।

৬) লো কস্ট রিপিটার:

অনেক সময় বড় বাসাতে একটি রাউটার দিয়ে কাভার দেওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে কম দামি কিছু ওয়াইফাই রিপিটার ব্যবহার করতে পারেন।

১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করছে মোবাইল অপারেটররা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মোবাইল অপারেটরগুলো এত দিন ইন্টারনেট সেবার বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিয়ে আসছিল, গত ১ জুলাই থেকে সেটি ১৫ শতাংশ

মোবাইল অপারেটরগুলো এত দিন ইন্টারনেট সেবার বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিয়ে আসছিল, গত ১ জুলাই থেকে সেটি ১৫ শতাংশ

  • Font increase
  • Font Decrease

মোবাইল অপারেটরগুলো এত দিন ইন্টারনেট সেবার বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিয়ে আসছিল, গত ১ জুলাই থেকে সেটি ১৫ শতাংশ আদায় করছে। এতে ৬-৮ শতাংশ বেশি দামে গ্রাহকদের ইন্টারনেট কিনতে হবে।

গত ৩০ জুন চিঠি দিয়ে বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব (অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ)।

জানা গেছে, বর্তমানে মোবাইল অপারেটরগুলো ৫ শতাংশ ভ্যাট দিচ্ছে। কিন্তু এ ভ্যাটের বিপরীতে রেয়াত গ্রহণ করতে পারছে না অপারেটরগুলো। অন্যদিকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিলে রেয়াত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। তাই অপারেটরগুলো ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে চাইছে। এতে অপারেটরগুলোর সুবিধা হলেও গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ ইন্টারনেট কেনায় ১০ শতাংশ ভ্যাট বেশি দিতে হবে।

এ বিষয়ে রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, গত এক বছর অপারেটরগুলো ৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়েছে। হ্রাসকৃত হার হওয়ায় এই ভ্যাট সমন্বয় করা যায়নি। ফলে কার্যকরি ভ্যাট হার ১৭ শতাংশ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তা ছাড়া চলতি বাজেটে ভ্যাট আইনে যেসব সংশোধন আনা হয়েছে, তা হিসাব-নিকাষকে আরো জটিল করে তুলেছে। তাই সব অপারেটর ইন্টারনেট প্যাকেজের ওপর ১৫ শতাংশ আদর্শ হারে ভ্যাট আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে ইন্টারনেটের দাম ৬-৮ শতাংশ বাড়তে পারে।

;

থাইল্যান্ড যাচ্ছে সিডস ফর দ্য ফিউচার বাংলাদেশের বিজয়ী ৯ শিক্ষার্থী 



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
থাইল্যান্ড যাচ্ছে সিডস ফর দ্য ফিউচার বাংলাদেশের বিজয়ী ৯ শিক্ষার্থী 

থাইল্যান্ড যাচ্ছে সিডস ফর দ্য ফিউচার বাংলাদেশের বিজয়ী ৯ শিক্ষার্থী 

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার বনানীর হোটেল শেরাটনে এক অনুষ্ঠানে সিডস ফর দ্য ফিউচার ২০২২, বাংলাদেশের শীর্ষ নয় (৯) শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেছে হুয়াওয়ে। আয়োজনের পরবর্তী রাউন্ডে অংশ নিতে আগামী মাসে এই বিজয়ীরা থাইল্যান্ড যাবেন এবং এশিয়ার অন্যান্য বিজয়ীদের সাথে যোগ দিবেন। 

চলতি বছর এই প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এক হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত হয়। বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে তৃতীয় রাউন্ড তথা বাংলাদেশের ফাইনাল রাউন্ডে শীর্ষ নয় (৯) শিক্ষার্থীকে বাছাই করা হয়। থাইল্যান্ডে এই প্রোগ্রামের পরবর্তী রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন এবং তাদের প্রোজেক্ট আইডিয়া এবং সাবমিশনের মাধ্যমে অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতায় অংশ নিবেন। থাইল্যান্ড রাউন্ডের বিজয়ীরা ‘টেক ফর গুড অ্যাকসেলারেটর ক্যাম্প’-এ অংশ নিতে সিঙ্গাপুর যাবেন। প্রোগ্রাম শেষে চ্যাম্পিয়নরা পাবেন হুয়াওয়ে মেটবুক ল্যাপটপ।         

প্রতিযোগিতার নয়জন বিজয়ী হলেন: বুয়েটের গোলাম মাহমুদ সামদানী; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাদমিন সুলতানা; রুয়েটের মাদিহা বিনতে জাকির ও মেহরিন তাবাসসুম, আইইউটির ওয়াসিফা রহমান রেশমি ও মো. সুমিত হাসান; চুয়েটের মোহাম্মদ ইফতেখার ইবনে জালাল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাজিব শারার শায়ক ও মোহসিনা তাজ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর ইউ লিওয়েন, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালদুন এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও, হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বোর্ড মেম্বার জেসন লি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, “আমাদের স্টেমের বিষয়গুলোতে আরও বেশি জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে যথাযথ আইসিটি জ্ঞান প্রদান করতে হবে। এ ধরনের প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা এই লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাচ্ছি। সিডস ফর দ্য ফিউচার আমার কাছে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মনে হয়। আমি নিশ্চিত যে, আমাদের শিক্ষার্থীরাও ঠিক এমনটাই মনে করে। এই উদ্যোগের জন্য আমি হুয়াওয়েকে সাধুবাদ জানাই এবং প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া সকল বিজয়ীকে অভিনন্দন জানাই।”

বাংলাদেশে ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালদুন বলেন, “হুয়াওয়ে তরুণদের শেখার ও অন্যদের শিখতে উৎসাহিত করার চমৎকার সুযোগ তৈরি করছে। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে, এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যা শিখবে তা তাদের ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে, যা পরবর্তীতে সমাজ ও দেশের প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর ইউ লিয়েন বলেন, “ইকোসিস্টেমের বিকাশে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে হুয়াওয়ে। যেহেতু তরুণরা এ ইকোসিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ; তাই বিশ্বজুড়ে তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতা বিকাশের জন্য হুয়াওয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, “হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্য ফিউচার এমন একটি উদ্যোগ, যা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়তা করার পাশাপাশি তাদের এ খাত সংশ্লিষ্ট জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করবে। তরুণ মেধাবীদের বিকাশেও চীনা দূতাবাস কাজ করছে। প্রতি বছর আমরা শিক্ষার্থীদের  চীন সরকারের বৃত্তি, প্রভিন্সিয়াল বৃত্তি, বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি ও কনফুসিয়াস বৃত্তি দিয়ে থাকি। চীনা দূতাবাস ও হুয়াওয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের প্রচেষ্টা বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সাহায্য করেছে এবং ভবিষ্যতে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণেও সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি।"

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বোর্ড মেম্বার জেসন লি বলেন, “আইসিটি খাতের মেধাবীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি উন্নত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হুয়াওয়ে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মেধাবী তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাপী সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রোগ্রামে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে হুয়াওয়ে। বাংলাদেশে অনেক মেধাবী তরুণ রয়েছেন এবং বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে হুয়াওয়ে সবসময় পাশে আছে।”

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বদরবারে নিজেদের চিহ্ন রাখতে হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্যা ফিউচার প্রোগ্রামে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। নিঃসন্দেহে এটি দুর্দান্ত কিছুর শুরু। তরুণদের দিকনির্দেশনায় আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাবো।”

শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি চুয়েটের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইফতেখার ইবনে জালাল বলেন, “সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রোগ্রামে আমরা অনেকগুলো ধাপে অংশ নিয়েছি। এর মধ্যে ছিলো একটি মেন্টরশিপ স্টেজ, যেখানে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। এই প্রোগ্রামটি আমাকে এবং আমার মতো আরও অনেককে আইডিয়াকে একটি কার্যকর পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন শিখতে সাহায্য করেছে এবং আমাদের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে।”

বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ আইসিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বিভিন্নভাবে অবদান রাখছে হুয়াওয়ে। এই বৈশ্বিক আইসিটি অবকাঠামো সেবাদাতা দেশকে ডিজিটাল রূপান্তরের সকল সুবিধা লাভে সাহায্য করছে। ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ হুয়াওয়ের এমনই একটি উদ্যোগ, যা ২০০৮ সালে থাইল্যান্ডে বৈশ্বিকভাবে চালু হয়। এখন পর্যন্ত, এই প্রোগ্রামটি বিশ্বের ১৩৭টি দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিশ্বের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী ও পাঁচ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে। স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত) এবং নন-স্টেমে শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই প্রোগ্রাম, অংশগ্রহণকারীদের শেখার ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে।

;

‘দেশ-সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করে মানুষের কর্মদক্ষতার ওপর’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নাসিমা আক্তার নিশা

নাসিমা আক্তার নিশা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে বৈশ্বিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন নিয়ে বার্তা ২৪ এর প্রতিবেদকের সাথে কথোপকথনে নাসিমা আক্তার নিশা, ই-ক্যাবের (ই-কমার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং উইমেন এ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা

প্রশ্ন: প্রগতি উন্নয়ন নির্ভর করে কর্মদক্ষতার ওপর, যা একমাত্র মানসম্মত উচ্চশিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভবএকটি উন্নয়নশীল দেশে উচ্চশিক্ষার বিকাশের জন্য প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছেআপনার মতে গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার পার্থক্যগুলো কী কী?

একটি দেশ, জাতি কিংবা সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করে এর মানুষের কর্মদক্ষতার ওপর। সঠিক, যুগোপযোগী, মানসম্মত শিক্ষা ও প্রাযোগিক জ্ঞানের মাধ্যমেই এ কর্মদক্ষতা অর্জন সম্ভব। কোন একটি দেশ বা সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে হলে প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিদায় জানিয়ে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে গ্রহণ করতে হবে। কারণ, গতানুগতিক ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক এ বিশ্বে টিকে থাকতে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থীকে গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনে অনুপ্রাণিত করা হয়। গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি হলো এমন জ্ঞান, দক্ষতা ও গুণাবলিকে নির্দেশ করে, যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিষয় জানা, বোঝা বা ব্যবহারের মাধ্যমে একজন মানুষ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারে। বিশ্বায়নের এ যুগে সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেকে এগিয়ে রাখতে শুধু আশপাশের এক-দুটি দেশ নয়, সারা বিশ্বের সব দেশ, দেশের মানুষ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই পর্যাপ্ত জ্ঞান রপ্ত করতে হবে, হতে হবে ‘গ্লোবালি কম্পিট্যান্ট’। অন্যদিকে, গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থায় অ্যাকাডেমিক বা পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের ওপর বেশি আলোকপাত করা হয়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা একটি তীব্র রূপান্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছেডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়ায় প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে; আপনার মতে কি কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে এই ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়াটিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতেতরুণ উদ্যোক্তা করপোরেট জনশক্তি তৈরিতেও কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

বিশ্বায়নের এ যুগে রূপান্তরিত শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের শিক্ষা ও শেখার পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তন গতানুগিক শিক্ষা পদ্ধতিকে আরো উন্নত ও ত্বরাণ্বিত করেছে। আমাদের দেশে তরুণ উদ্যোক্তা ও করপোরেট জনশক্তি তৈরি করতে হলে পিপলস স্কিলস বা সফট স্কিলসের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ সেন্টারের একটি সমীক্ষা বলছে, আমরা আমাদের ক্যারিয়ারে কতটুকু সফল তার ১৫ শতাংশ নির্ভর করে আমাদের টেকনিক্যাল বা বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার ওপর আর বাকি ৮৫ শতাংশ নির্ভর করে আমাদের পিপল স্কিলস বা সফট স্কিলসের ওপর। বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তাদের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয় “উই” । সংস্থাটি গড়ে তুলতে, শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে এবং মহিলা উদ্যোক্তাদের তাদের নৈপুণ্যকে ব্যবসায় পরিণত করতে অনুপ্রাণিত করেছি  সফট স্কিলসের ওপর ভিত্তি করে । বর্তমানে আমরা বিভিন্ন সফ্ট স্কিলস এর উপর প্রশিক্ষণসহ উদ্যোক্তাদের প্ল্যাটফর্ম প্রদান, জ্ঞান পরিসর বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছি ।

আমার মতে, শিক্ষা পদ্ধতিতে আধুনিকায়নের সাথে সাথে সফ্ট স্কিলস থাকা উচিত এতে এই সবকিছুর সমন্বয়ে আমরা আরো তরুণ উদ্যোক্তা ও করপোরেট জনশক্তি তৈরি করতে পারবো।

প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় আমাদের বর্তমান শিক্ষা পাঠ্যসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশের জন্য সহায়ক?

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশে শিক্ষা পাঠ্যসূচিতে যুগোপযোগী বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাঠ্যক্রমে এমন কিছু বিষয় সংযুক্ত করতে হবে যেনো শিক্ষার্থীরা নিজের ও অন্য দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারে, ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটাতে পারে এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে সবার সমৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে আগ্রহী হতে পারে। এছাড়া, নতুনের সঙ্গে নিজেদের সহজে মানিয়ে নেয়ার মানসিকতা তৈরি করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী বিশেষজ্ঞের দ্বারা পরিচালিত কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতারও তারা বিকাশ ঘটাতে পারবে। 

প্রশ্ন: বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে শিক্ষার্থীদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা বিশ্বমানের না হলে গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জন প্রায় অসম্ভব। তবে, এ বিষয়গুলো নিয়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ করছে। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টিকে তুলে ধরা যাক, কিছুদিন আগে একজন মোনাশ এর সাবেক শিক্ষার্থী আমিদ হোসাইন চৌধুরীর একটি লেখা আমার নজরে পরে যেখানে এক অনন্য প্রতিষ্ঠানের  ব্যাপারে জানতে পারি। বিস্তারিত পড়ে জানতে পারলাম মোনাশ কলেজ, অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র অংশীদার ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ (ইউসিবি) দেশে বসেই শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষালাভের সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়া, ইউসিবি বৈশ্বিক পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনে বিভিন্ন সফট স্কিলের ওপর বিনামূল্যে কর্মশালা আয়োজন করছে। এতে যোগদান করে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন এবং অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে সহজে ধারণা লাভ করতে পারেন, যা গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনে অত্যন্ত সহায়ক। গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের ও দেশের পরিচিতি উজ্জ্বল করবে বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

প্রশ্ন: বৈশ্বিক পাঠ্যক্রমে উচ্চশিক্ষা কর্মক্ষেত্রে কেমন ভূমিকা রাখে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতে দেশে এরূপ পাঠ্যক্রমে শিক্ষা লাভের সুযোগ শিক্ষর্থীরা কিভাবে পেতে পারে?

বৈশ্বিক পাঠ্যক্রমে উচ্চশিক্ষা কর্মক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশে বসে শিক্ষার্থীরা যাতে এ ধরনের শিক্ষা লাভ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজও করছে। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরা যাক, এ দেশের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীরা যাতে দেশে বসেই তাদের মোনাশ ডিগ্রি অর্জনের যাত্রা শুরু করতে পারেন, এ ধরনের সুযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের জন্য কাজ করছি। ইউসিবি বাংলাদেশে মোনাশ কলেজ অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা তাদের ও লেভেল/এস লেভেল/এ লেভেল/ এইচ এস সি প্রথম বর্ষ ও লেভেল/এস লেভেল/এ লেভেল/ এইচ এস সি  পর পরই ঢাকায় ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশে ফাউন্ডেশন ইয়ার এবং মোনাশ ইউনিভার্সিটি ১ম বর্ষের ডিগ্রি সমমানের প্রোগ্রামে যোগ দিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করতে পারেন। তরুণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সত্যিই একটি চমৎকার সুযোগ। আর এভাবেই তারা দেশে বসে বৈশ্বিক পাঠ্যক্রমের উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার কিছু পরামর্শ এবং উপদেশ যা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে?

বিশ্বায়নের এ যুগে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নেতৃত্বের গুণাবলী, যোগাযোগ দক্ষতা, দূরদর্শিতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতার মতো সফট স্কিল অর্জন করতে হবে। আজকের তরুণ শিক্ষার্থীরাই যেহেতু ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবেন, তাই তাদের গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জন করতেই হবে; এর কোন বিকল্প নেই।  

;

অ্যাপল-গুগলকে টিকটক সরাতে বলল এফসিসি



টেক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অ্যাপল ও গুগলকে তাদের অ্যাপ স্টোর থেকে টিকটক সরানোর আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি)।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) অ্যাপল ও গুগলকে এ বিষয়ে চিঠি লিখেছেন এফসিসি কমিশনার ব্রেন্ডন কার।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ক্ষুদ্র ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি। প্রতিষ্ঠানের কাছে কোটি কোটি মার্কিন গ্রাহকের ব্যক্তিগত ডেটা থাকায়, চীন সরকার তা হাতিয়ে নিতে পারে বলেও শঙ্কা এফসিসি’র।

চীনে তৈরি সামাজিক মাধ্যমের এই অ্যাপটির যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপরই এর জনপ্রিয়তা হু হু করে বেড়ে যায়। ২০১৮-র অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে সব থেকে বেশি ডাউনলোড করা অ্যাপ ছিল এই টিকটক।

জনপ্রিয় ভিডিও অ্যাপ টিকটকের মালিক, চীনা প্রতিষ্ঠান 'বাইটড্যান্স। এটি এমন একটি সংস্থা যা চীনের কমিউনিস্ট পার্টি নজরদারি করে।

টিকটক দেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি থাকায় ২০২০ সালে ভারত এটি নিষিদ্ধ করেছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টিকটক কীভাবে মার্কিন ব্যবহারকারীদের তথ্যকে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও ট্রাম্প টিকটক-এর ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা বা স্থানীয় ক্রেতার কাছে তার মার্কিন ব্যবসা বিক্রি করার বিকল্প প্রস্তাব করেছিলেন।

;