আমন ধান ও চাল সংগ্রহে ১৭ নির্দেশনা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
সংগৃহিত

সংগৃহিত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি মৌসুমে আমন ধান ও চাল সংগ্রহ করতে ১৭টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ ২০২২-২৩ মৌসুমে তিন লাখ টন ধান ও পাঁচ লাখ টন সিদ্ধ চালের উপজেলাওয়ারি বিভাজন মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।

ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম সফল করত নিম্নোক্ত নির্দেশনাগুলো মানতে হবে-

ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভা সম্পন্ন করতে হবে। কৃষকের অ্যাপের বাইরে উপজেলায় লটারি করে ধান সংগ্রহ দ্রুত শুরু ও শেষ করতে হবে। কৃষকের অ্যাপভুক্ত উপজেলায় রেজিস্ট্রেশন দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য কৃষক নির্বাচন ও দ্রুত ধান সংগ্রহ করতে হবে।

ধান সংগ্রহের বার্তাটি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, স্থানীয় কেবল টিভিতে প্রদর্শনের মাধ্যমে বহুল প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

‘অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা, ২০১৭’ অনুসারে নির্দেশসম্মত ২০২২ সালের আমন মৌসুমে উৎপাদিত ধান ও চাল সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চাল সংগ্রহের জন্য মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরপরই মিলারদের অনুকূলে চুক্তি পরিমাণ চালের বরাদ্দপত্র ইস্যু করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের এর অনুলিপি প্রদান করে স্ব স্ব জেলার ওয়েব পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে।

চুক্তিযোগ্য যেসব মিল মালিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করবেন না, কিংবা চুক্তি সম্পাদন করে কোনো চাল সরবরাহ করবেন না- তাদের বিরুদ্ধে ‘অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যশস্য সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ আদেশ-২০২২’ এবং ‘অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭’ এর আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

যেহেতু পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা অপেক্ষা চলমান সংগ্রহ মৌসুমে বরাদ্দ কম, তাই জাতীয় পর্যায়ে চাল সংগ্রহ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৭০ শতাংশ, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ৯০ শতাংশ এবং আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শতভাগ সম্পন্ন করার জন্য (তারিখ, পরিমাণ, সময়ভিত্তিক) সিডিউল প্রস্তুত করতে হবে। এ জন্য জেলা, উপজেলা ও গুদামভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরি এবং সে অনুসারে সংগ্রহ সম্পন্ন করতে হবে।

হাস্কিং মিলারদের ক্ষেত্রে চুক্তিকৃত চাল সটিং করে সংগ্রহ করতে হবে।

খাদ্য গুদামে কৃষকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক যেনো হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সংগৃহীত সব চালের বস্তায় সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী স্টেনসিল প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম যুগপৎভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

গুদামে স্থান সংকুলান না হলে ‘চলাচলসূচি প্রণয়ন নীতিমালা-২০০৮’ অনুসারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, মহাপরিচালক (খাদ্য) স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক স্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চলাচল সূচি জারি করবেন।

বস্তার স্বল্পতা দেখা দিলে স্ব স্ব অধিক্ষেত্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ে বস্তার স্বল্পতা নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সংগ্রহ কার্যক্রমে সর্বোচ্চ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকগণের মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

ধান ও চাল সংগ্রহ ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন।

প্রতিদিন বিকেল ৫টার মধ্যে সব আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে ধান ও চাল সংগ্রহের তথ্য ই-মেইলে খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগে পাঠাতে হবে।

১৭ নভেম্বর জাতীয়ভাবে ধান ও চাল সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে পুনরায় কোনো আনুষ্ঠানিকতার অজুহাতে কোনোক্রমেই সংগ্রহ কার্যক্রম বিলম্ব করা যাবে না।

অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ ২০২২-২৩ মৌসুম চলাকালীন সময়ে সংগ্রহ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকবেন।

গোপালগঞ্জে কোটালীপাড়ার ১৫০০ এর অধিক প্রান্তিক কৃষকের হাতে ‘এবি স্মার্ট কৃষি ঋণ’



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এবি ব্যাংক লিমিটেড গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ১৫০০-এর অধিক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে।

গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মনি স্মৃতি মিলনায়তনে এ ঋণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এবি ব্যাংক লিমিটেড-এর প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব তারিক আফজাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব নিটুল রায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ এবং জনাব আয়নাল হোসেন শেখ, সাধারণ সম্পাদক, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

;

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের শিবপুর এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের উদ্বোধন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আধুনিক ব্যাংকিং সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ০৫ জুন ২০২৩ তারিখে পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নে শিবপুর এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মশিউর রহমান জেহাদ অনলাইন মাধ্যমে উক্ত আউটলেটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ সময় ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি করিম, প্রধান কার্যালয়ের ভিপি ও মার্কেটিং ডিভিশনের প্রধান ইমতিয়াজ আহমেদ সিদ্দিকী, এসএভিপি ও এজেন্ট ব্যাংকিং ডিভিশনের বিভাগীয় প্রধান এ, কে, এম নূরুল আফসার, শিবপুর এজেন্ট আউটলেটের স্বত্ত্বাধীকারী মো: আলাউদ্দিন ও প্রধান কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান, শাখা ব্যবস্থাপক, ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাসহ আমন্ত্রিত সম্মানীত অতিথি ও গ্রাহকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ^স্ত ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক দেশব্যাপী স্বকীয়তা বজায় রেখে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট সম্প্রসারণ করবে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

;

সন্ধ্যা ৬টা-রাত ১০টা পর্যন্ত বিকাশ থেকে মোবাইল রিচার্জে প্রতি মিনিটে ক্যাশব্যাক



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যেকোনো মোবাইল নাম্বারে বিকাশ থেকে ২০ টাকা রিচার্জ করলেই প্রতিদিন চার ঘণ্টা সময়জুড়ে প্রতি মিনিটে প্রথম ৬০ জন রিচার্জকারী পাচ্ছেন ১০ টাকা ক্যাশব্যাক।

১ জুন, ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া এই অফারটি আগামী ৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬:০০ থেকে রাত ১০:০০ পর্যন্ত উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকরা। সপ্তাহজুড়ে চলা এই ক্যাম্পেইনে প্রতিদিন ১৪,৪০০ জন করে মোট এক লাখেরও বেশি গ্রাহক এই ক্যাশব্যাক সুবিধা পাচ্ছেন।

গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপ থেকে বা *২৪৭# ডায়াল করে যেকোনো নাম্বারে ২০ টাকা রিচার্জ করে অফারটি উপভোগ করতে পারবেন। অফার চলাকালীন একজন গ্রাহক একবারই ক্যাশব্যাক অফারটি উপভোগ করতে পারবেন।

যেকোনো সময়, দেশের যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো অংকের টাকা নিজের বা প্রিয়জনের মোবাইলে রিচার্জ করার সুযোগ থাকায় এই সেবাটি গ্রাহকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

বিকাশ অ্যাপ থেকে মোবাইল রিচার্জে বিভিন্ন অপারেটরের সাথে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অফার। গ্রাহক তার ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী নিজস্ব মোবাইল অপারেটরের ভয়েস, ডাটা প্যাক অথবা বান্ডেল কিনতে পারেন খুব সহজেই।

;

পথ ভুলে হাবুডুবু, তারপরও ভুল পথেই জ্বালানি খাত!



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

ভুল পথে পরিচালিত হয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে জ্বালানি খাত, তারপরও ভুল পথেই চলছে। রশিদপুরে (রশিদপুর-৯) গ্যাস ফেলে রেখে ভোলা থেকে চড়াদামে (পরিবহন খরচ) সিএনজি আনার উদ্যোগ প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, রশিদপুর-৯ নম্বর কূপটি ২০১৭ সালে খনন করা হয়। কুপটি থেকে দৈনিক ১৪-১৯ মিলিয়ন গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব। শুধুমাত্র ৫ কিলোমিটার পাইপলাইনের অভাবে সেই গ্যাস পড়ে রয়েছে ৫বছর ধরে। যা আমদানিকৃত (১৯ মিলিয়ন) এলএনজির সঙ্গে তুলনা করলে দৈনিক দাম দাঁড়ায় ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার উপরে। বছরে এই টাকার অংক দাঁড়ায় প্রায় ১৮’শ কোটি টাকা। চাইলে ২-৩ মাসের মধ্যে পাইপলাইন নির্মাণ করা সম্ভব। অথচ সেখানে কোন গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে না।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির যুক্তি হচ্ছে পাইপলাইন নেই কারণে গ্যাস উত্তোলন করা যাচ্ছে না। রশিদপুর-৭ নম্বর কূপ পর‌্যন্ত পুর্বের যে লাইনটি রয়েছে সেটি ব্যবহার অনুপযোগি। যে কারণে ১৭ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের ‍প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। বার্তা২৪.কম এ একাধিক রিপোর্ট প্রকাশের পর গত বছরের জুলাইয়ে হাইড্রো টেস্ট করে পাইপটি ব্যবহার উপযোগি বলে জানতে পারে। এখন ৭ নম্বর কূপের বিদ্যমান লাইনে হুকিং করে দিলেই (রশিদপুর-৯) উৎপাদনে যেতে পারবে। সেখানেও দীর্ঘসুত্রিতা দেখা গেছে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, পাইপলাইন নির্মানের জন্য বনের কিছু গাছ কাটতে হবে। গাছ কাটার অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে এক মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে চাই।

অন্যদিকে গ্যাস সংকট দূর করার কথা বলে ভোলা থেকে সিএনজি আকারে ৫ মিলিয়ন (প্রথমধাপে) গ্যাস আনার বিশাল তোড়জোড় চলছে। সম্প্রতি ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে পেট্রোবাংলা। কোম্পানিটি ভোলা থেকে গ্যাস পরিবহন করে ঢাকার পাশ্বর্বতী এলাকায় সরবরাহ করবে। প্রতি ঘনমিটার গ্যাস পরিবহনের জন্য ৩০.৬০ টাকা দিতে হবে ইন্ট্রাকোকে। শিল্প কারখানায় পাইপলাইনে পাওয়া গ্যাসের জন্য ১৮.০২ টাকা (বৃহৎ শিল্প) পাওয়া গেলেও, এই গ্যাসের মূল্য দিতে হবে ৪৭.৬০ টাকা। খানিকটা খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি প্রবাদের মতো।

অথচ সেই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে পেট্রোবাংলা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা যেভাবে নিজেদের ক্রেডিট নিয়েছেন, তাতে মনে হবে তারা নতুন কোন গ্রহ আবিস্কার করে ফেলেছেন।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, আমি জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাকে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। আমরা কয়েক মাসের মধ্যেই ভোলার গ্যাস আনার বিষয়টি চুড়ান্ত করতে পেরেছি। এ জন্য আমি আমার সহকর্মীদের ধন্যবাদ দিচ্ছি এতো।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বিষয়টি প্রথম তৌফিক ভাইয়ের (প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা) মাথা থেকে এসেছে। বিষয়টি খুবই অভিনব।

প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, সমকালীন সমস্যাকে মিটিয়ে এগিয়ে যাওয়া এটাই সরকারের বড় লক্ষ্য। আমরা যদি যৌথভাবে কাজ করি তাহলে আমরা অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারবো।এটা যদি কনসালটেন্ট নিয়োগ করতাম, তারা অনেকদিন সময় লাগাতো। কিন্তু ইন্ট্রাকো দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে পেরেছে। এতে শুধু সরবরাহ বাড়ল না, সংকটও দূর হবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মকবুল ই-এলাহী চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, গ্যাস সংকটের কথা বলে ভোলা থেকে গ্যাস আনার আগে রশিদপুরের গ্যাস আনা যেতো। এক দুই মাসের মধ্যেই যে কাজটি করা যেতো। ভোলা থেকে গ্যাস আনার মতো এখানে কোন ঝুঁকি নেই, এবং নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ দেওয়া সম্ভব। আবার সেই দামও হতো সাশ্রয়ী। সেই কাজটি কেনো এতোদিনে করা যাচ্ছে না সেটাই বড় বিষ্ময়ের।

ভোলা থেকে প্রথম দফায় আসবে মাত্র ৫ মিলিয়ন, পরে আরও ২০ মিলিয়ন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অথচ এর সিকিভাব প্রচেষ্টা নিলে ১ টাকারও কম মূল্যে রশিদপুর থেকে কয়েকগুন বেশি গ্যাস আসতে পারতো। সেদিকে না পেট্রোবাংলা, না জ্বালানি বিভাগের কোন আগ্রহ দৃশ্যমান।

বাংলাদেশে মোট ২৯টি গ্যাস ফিল্ড আবিস্কৃত হয়েছে। ২১ টি গ্যাস ফিল্ডের ১১৩টি কূপ দিয়ে দৈনিক (৩জুন) ২১৪০ মিলিয়ন গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এক সময় ২৮০০ মিলিয়ন পর‌্যন্ত গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত গ্যাসের উৎপাদন কমে আসছে। ঘাটতি সামাল দিতে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানির জন্য দু’টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। নতুন করে আরও দু’টি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা এখনও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে রয়েছে। কার‌্যাদেশ দেওয়ার পর কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগবে । এছাড়া একটি ল্যান্ড বেজড এলএনজি টার্মিনালের উদ্যোগ রয়েছে, সেই প্রক্রিয়ায় কাগজে সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বাড়তি গ্যাস আমদানি সুযোগ একেবারেই ক্ষীণ।

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে স্থবিরতার কারণেই আজকের এই সংকট বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ইউএসজিএস তাদের এক সার্ভে রিপোর্টে বলেছে বাংলাদেশে আরও ৩২ টিসিএফ গ্যাস অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। বর্তমানে বছরে ১ টিসিএফ গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে সে হিসেবে আরও ৩২ বছরের মজুদ রয়েছে। দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম সঠিক গতিতে না হওয়ায় আজকের এই সংকট। অচলাবস্থার কারনেই আজকে চড়াদামে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, দেশীয় গ্যাস তুললে যে লাভ তার চেয়ে না তুললে বেশি লাভ। আমদানি করলে কমিশনের বিষয় থাকতে পারে। এটা শুধু আজকে থেকে নয়, ঐতিহাসিকভাবেই অনুসন্ধানে স্থবিরতা বিদ্যমান। সরকার পরিবর্তন হলে একটা পরিবর্তন আশা করা হয়, কিন্তু সেভাবে পরিবর্তন হয় নি। বরং পুর্বের ধারার সঙ্গে নতুন ধারা আমদানি যুক্ত করা হয়েছে। এই অবস্থা থাকলে ৩০ সালে গ্যাস খাত পুরোপুরি আমদানি নির্ভর হয়ে পড়বে।

অনেকে ধারণা করেছিলেন সমালোচনা হয়েছে এবার মনে হয় বোধদয় হবে, গুরুত্ব পাবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাত। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ কমিয়ে গত বছরের তুলনায় অর্ধেক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

;