চিঠি: 'তুমি আজ কত দূরে?'



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease
ইমেইল, মেসেঞ্জার, হোয়াটসআপ যুগে চিঠির ভাবগাম্ভীর্য ও মর্ম উভয়ই লুপ্ত। লাল টালির ছাদের ঔপনিবেশিক ডাকঘরও হারিয়ে গিয়েছে নাগরিক ল্যান্ডস্কেপ থেকে। জংধরা, জবুথবু পোস্টবক্স হয়তো গলির এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে অবহেলায়। শোনা যায় না জগন্ময় মিত্রের হৃদয় ছোঁয়া সেই গান:  'বলেছিলে তাই চিঠি লিখে যাই/কথা আর সুরে সুরে/মন বলে তুমি রয়েছ যে কাছে/আঁখি বলে কত দূরে/তুমি আজ কত দূরে?'

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ব ডাক দিবস হলেও খোদ চিঠিই এখন বিবর্তনের পথে বিলুপ্ত-প্রায়। বুকভরা উত্তেজনা, রোমাঞ্চ, শিহরণ জাগিয়ে ডাক পিয়নের হাতে হাতে চিঠি আসার নস্টালজিক দিনগুলোও চলে গেছে একবিংশের প্রযুক্তি-তাড়িত জীবনের পটভূমি থেকে। পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে অনেক কিছুর মতোই 'চিঠি' যেন এক বিস্মৃত প্রপঞ্চ।

বার্তা২৪.কম ডাক দিবসে একটি ভিডিও ফিচারে প্রত্যাশা করেছিল, প্রযুক্তির হাত ধরে ফিরে আসুক চিঠি এবং ডাক বিভাগের ঐতিহ্য।

চিঠির আদানপ্রদান পাখির ঠোঁটে, দূতের মারফতে অনাদীকাল থেকে চললেও আনুষ্ঠানিক সূচনা প্রায় দেড়শ আগে। ১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরে বিশ্ব ডাক সংস্থার (ইউপিইউ) প্রতিষ্ঠা হয়। প্ৰতি বছর ৯ অক্টোবর গোটা বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় চিঠি লিখে তথ্য আদান-প্রদান এবং যোগাযোগের মাধ্যমে ডাক বিভাগে বৈশ্বিক বিপ্লবের সূচনাকারী ঐতিহাসিক ঘটনাকে।১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিও শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ডাক সংস্থার সম্মেলনে ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে প্রথম ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে ডাক সেবার গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে সারা বিশ্বে এই দিবস পালন করা হয়, যদিও প্রযুক্তির তোপে প্রতাগত ডাকব্যবস্থা ও চিঠি নিজেই ক্ষয়িষ্ণু।

তথাপি আঙিক ও ধরনের বদল হলেও চিঠি আছে বৈদ্যুতিকভাবে, ডিজিটাল ফর্মে, মেসেজের আঙুলের ডগায়, কী-বোর্ডে এবং হৃদয়ের ব্যক্ত-অব্যক্ত বার্তায়।