নারীবাদী লেখিকা কামিনী রায়ের জন্মদিন আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা ২৪
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

'করিতে পারি না কাজ, সদা ভয় সদা লাজ, সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে।' কিংবা 'নাই কিরে সুখ? নাই কিরে সুখ? এ ধরা কি শুধু বিষাদময়। যাতনে জ্বলিয়া কাদিয়া মরিতে, কেবলি কি নর জনম লয়।'

যে সময় বাঙালি মেয়েরা লোকালয়ে আসতে পারত না, তখন তিনি সাহিত্য রচনা করতেন, লিখতেন কবিতা। এমনই অসংখ্য কবিতা লিখেছেন তিনি। তিনি প্রথিতযশা বাঙালি কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা কামিনী রায়। আজ তার জন্মদিন।

১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক। কামিনী রায় ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী, ভাবুক ও কল্পনাপ্রবণ। তিনি ব্রিটিশ ভারতের প্রথম মহিলা স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তিত্ব।

মায়ের কাছেই কামিনী রায়ের লেখাপড়ার হাতেখড়ি। শিশু শিক্ষা শেষ করে ৯ বছর বয়সে কামিনী রায়কে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। তিনি ১৮৮৩ সালে প্রাইমারী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং প্রথম স্থান অধিকার করেন। কামিনী রায় ১৪ বছর বয়সে মাইনর পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৮৮০ সালে কলকাতা বেথুন ফিমেল স্কুল হতে এনট্রান্স পাস করেন। ১৯৮৩ সালে ফার্স্ট আর্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বেথুন কলেজ হতে ভারতের প্রথম নারী হিসেবে সংস্কৃত ভাষায় অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ভারতের প্রথম নারী হিসেবে কামিনী রায় এ সম্মান অর্জন করেন।

১৮৯৪ সালে কামিনী রায়ের বিয়ে হয় কেদারনাথ রায়ের সাথে। সেই থেকে সেন পরিবারের মেয়ের নামের সাথে রায় যুক্ত হয়। সেই থেকে তিনি কামিনী রায় নামেই পরিচিত লাভ করেন। কামিনী রায় কলকাতা বেথুনে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরে অধ্যাপক হন।

কামিনী রায়ের ছদ্মনাম ছিল জৈনিক বঙ্গমহিলা। কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক ও জনহিতকর, বিশেষ করে নারীকল্যাণমূলক কাজেও আত্মনিয়োগ করেন। তিনি নারী শ্রমিক তদন্ত কমিশনের অন্যতম সদস্য (১৯২২-২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সাহিত্য শাখার সভানেত্রী (১৯৩০) এবং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি (১৯৩২-৩৩) ছিলেন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো- নির্মাল্য, পৌরাণিকী, গুঞ্জন, মাল্য ও নির্মাল্য প্রভৃতি।

বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন। ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় এ কবির।