ফুলের মতো গড়ব মোরা, মোদের এই জীবন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা ২৪
কবি গোলাম মোস্তফা। ফাইল ছবি

কবি গোলাম মোস্তফা। ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

'এই করিনু পণ, মোরা এই করিনু পণ, ফুলের মতো গড়ব মোরা, মোদের এই জীবন।' কিংবা 'অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি, বিচার দিনের স্বামী। যত গুণগান হে চির মহান, তোমারি অন্তর্যামী।' অথবা 'নিখিলের এত শোভা, এত রূপ, এত হাসি-গান, ছাড়িয়া মরিতে মোর কভু নাহি চাহে মন-প্রাণ।' আরও আছে 'আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি, নিখিল বন-নন্দনে, ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।'

এমন অসংখ্য জনপ্রিয় কবিতা মনে করিয়ে দেয় মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত বাঙালি লেখক ও কবি গোলাম মোস্তফাকে। আজ তার ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯৬৪ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

যশোর জেলার অন্তর্গত শৈলকূপা থানার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে কবি গোলাম মোস্তফা জন্মগ্রহণ করেন। গোলাম মোস্তফার পিতা কাজী গোলাম রব্বানী গ্রাম্য কবি হিসাবে সমাধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন। দাদা কাজী গোলাম সরওয়ার তৎকালীন নীল বিদ্রোহের সময় নীলকরদের বিরুদ্ধে জাতীয় উদ্দীপনামূলক কবিতা রচনা করে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতেন। তারা সাহিত্যানুরাগী-ফারসি ও আরবি ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন।

স্কুল জীবনেই গোলাম মোস্তফার সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ ঘটে। এ সময় তার ‘আর্দ্রিয়ানোপল উদ্ধার’ কবিতাটি মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রক্ত রাগ’ প্রকাশিত হলে কবিতার মাধ্যমে তাকে অভিনন্দিত করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

গোলাম মোস্তফার কাব্যের মূল বিষয় ছিল ইসলাম ও প্রেম। তার পরবর্তী গ্রন্থাবলির মধ্যে ‘হাসনাহেনা’ (কাব্যগ্রন্থ) ‘খোশরোজ’ (কাব্যগ্রন্থ), ‘সাহারা (কাব্যগ্রন্থ)’, ‘বুলবুলিস্তান’ (কাব্যচয়ন) ও ‘রূপের নেশা’, ‘ভাঙ্গাবুক’, ‘একমন একপ্রাণ’ ইত্যাদি উপন্যাসগুলো বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

অনুবাদক হিসেবেও তার বিশেষ খ্যাতির পরিচয় পাওয়া যায়। আরবি ও উর্দু সাহিত্য থেকে বেশকিছু গ্রন্থ ভাষান্তরিত করে বাংলা সাহিত্যকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। এ ছাড়া চিন্তামূলক ও যুক্তিবাদের ওপর লিখিত আরও কিছু গ্রন্থাবলি তিনি রচনা করেছিলেন। তার ‘বিশ্বনবী’ একটি আশ্চর্য রকমের সফল সৃষ্টি। পরে তিনি কোর-অনিক ঘটনার অমিত্রাক্ষর ছন্দে ‘বনি আদম’ নামে একটি মহাকাব্য লিখেছিলেন। যা বাংলা সাহিত্যে এক অমর ও অক্ষয় কীর্তি।

সংগীতের ক্ষেত্রে তার উল্লেখযোগ্য প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়। গায়ক ও গীতিকার হিসেবে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার অনেক গান আব্বাস উদ্দীনের কণ্ঠেও রেকর্ড হয়েছিল।