আবুল হাসনাত : প্রতিষ্ঠান ছিল যার সাধনা



ড. কাজল রশীদ শাহীন
আবুল হাসনাত

আবুল হাসনাত

  • Font increase
  • Font Decrease

আবুল হাসনাত সম্পাদিত পত্রিকা কালি ও কলমের তরফে তরুণ লিখিয়েদের জন্য প্রবর্তন করা হয় কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার। ২০০৮ সালে প্রবর্তিত পুরস্কার শুরুর দিকে বহুজাতিক একটা কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে দেয়া হলেও পরবর্তীতে একক উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। আবুল হাসনাত বেঁচে থাকতে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে একটা বিষয় প্রায়শ উচ্চারিত হত। পুরস্কার প্রাপ্ত তরুণ কবি নিজের অনুভূতি প্রকাশে হাজির করতেন কমন একটা অভিযোগ। কালি ও কলম পুরস্কার পাওয়াটা উনার জন্য ভীষণ আনন্দের হলেও বেদনার বিষয় হল কালি ও কলম পত্রিকা কখনো উনার লেখা প্রকাশ করেননি। বেদনার এই অভিজ্ঞতা বিনিময় করার শানে নযুল হল সম্পাদক আবুল হাসনাতের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছোঁড়া।

তরুণ কবি বুঝতে অপারগ যে, কবিতা প্রকাশ আর কাব্যগ্রন্থের জন্য পুরস্কার পাওয়া দুটো আসলে দুই বিষয়। পুরস্কার দেয়ার ক্ষেত্রে সম্পাদকের কোন প্রকার ভূমিকা নেই, যদি থাকে সেটাও খুবই গৌন, ধর্তব্যের মধ্যে না রাখায় যুক্তিযুক্ত ও শ্রেয়। পুরস্কার প্রদান করা হয় বিচারকদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক। উনাদের সিদ্ধান্তেই চূড়ান্ত হয় কে বা কারা পাচ্ছেন ওই বছরের পুরস্কার। কবিতা প্রকাশের ক্ষেত্রে সম্পাদক হিসেবে উনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কবিতা দিয়েই বিচারের ক্ষমতা রাখেন কোন কবিতা প্রকাশিত হবে আর কোন কবিতা প্রত্যাখ্যাত হবে। এক্ষেত্রে কিছু কিছু সিদ্ধান্ত কোনো লেখক-কবি-সাহিত্যিকের বিপক্ষে যেতেই পারে। সেটাই সত্য, সম্পাদকীয়তার বাস্তবতা ও প্রসাদ গুণ। সম্পাদকের বিবেচনায় লেখক নয়, লেখা মুখ্য ভূমিকা পালন করে যে, আদৌ সেটা আলোর মুখ দেখবে, নাকি অমনোনীত হবে। লেখক বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃতি সাহিত্য সম্পাদক কখনোই সম্পাকীয়তার বাছ-বিচার নিয়ে করেন না।

আবুল হাসনাত ছিলেন অন্য ধাতুতে গড়া একজন সম্পাদক। ফি-বছরের ওই সব অভিযোগ যে উনি ধর্তব্য জ্ঞান করেননি, তার প্রমাণ মেলে একই অভিযোগ একাধিকবার উচ্চারিত হওয়ায়। আবুল হাসনাতের সম্পাদকীয়তার সৌন্দর্য এখানেই। গল্প কবিতা প্রবন্ধ সেটা যাই-ই হোক না কেন নির্বাচনের ক্ষেত্রে কখনোই দ্বিধান্বিত কিংবা সংশয়িত ছিলেন না। বরং যারা এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং মান্যতা দেন, উভয়ই বিষয়টা গুলিয়ে ফেলেন এবং আবেগবশত একটা অভিযোগ হাজির করেন।

আবুল হাসনাত সাহিত্য পাতা ও সাহিত্য ম্যাগাজিন সম্পাদনার ক্ষেত্রে নিজেকে কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। উনার অবর্তমানে এসময়ে এসে ওরকম তুলনীয় দ্বিতীয়জন কোথায়? সংবাদ এর সাহিত্য সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন আড়াশ দশক। কালি ও কলমের দায়িত্বে ছিলেন দেড় যুগ। এসবেরও আগে যুক্ত ছিলেন গণসাহিত্য সম্পাদনার সঙ্গে। সাংবাদিকতা-সম্পাদকীয়তায় আবুল হাসনাত নানা কারণে বিশেষভাবে স্মরণীয় ও বরণীয়। আমাদের সংবাদপত্র জগতে এরকম কীর্তিমানের সংখ্যা অপ্রতুল, কিন্তু অনুপস্থিত নয়। তিনি যে কারণে ব্যতিক্রম ও বিরলপ্রজদের অন্তর্ভুক্ত, তার দৃশ্যমান উপস্থিতি মিলেছে খুব কম প্রতিভাধরদের মধ্যেই।

আবুল হাসনাত প্রতিষ্ঠানপ্রেমী ছিলেন। এই প্রেম ছিল তার সাধনার মন্ত্রতুল্য। তিনি প্রতিষ্ঠানকে বড় করতে চেয়েছেন। সারা জীবন বুঁদ হয়ে ছিলেন প্রতিষ্ঠানকে বড় করার সাধনায়। মনে প্রাণে চাইতেন প্রতিষ্ঠান বড় হোক। এবং এই প্রত্যয় বাস্তবায়নে নিজের নিবেদন যতটা দেওয়া সম্ভব, তার পুরোটা পূরণে তিনি সচেষ্ট ছিলেন। নিজের কাজ দিয়ে স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হেঁটেছেন নিরলস এক যোদ্ধার ভূমিকা। নিজেকে ছাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানকে বড় করার গুণ আবুল হাসনাতকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র সত্তায় দাঁড় করিয়েছে।

বাঙালির প্রতিষ্ঠান ভাবনায় একটা সংকটের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। এ কারণে আমাদের শতায়ু প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। অথচ প্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠলে ব্যক্তির বিকাশ দুরূহ হয়। প্রতিষ্ঠানের বাইরে যখন কারও বিকাশ ও নির্মিতি সম্ভব হয় তখন সেটা সন্দেহাতীতভাবে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বিশেষ। একারণে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং ন্যায্যতার সঙ্গে পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিষ্ঠান যদি দাঁড়িয়ে যায় এবং নিয়ম কানুনে, নৈতিকতার পরিচয় দেয়, তাহলে ব্যক্তির বিকাশ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে যায় এবং সেটা নিশ্চিতও হয়। আমেরিকায় ট্রাম্পের বিদায়ের আগে নানামুখী সংকট হাজির হলেও শেষাবধি যে গণতন্ত্রের বিজয় সুনিশ্চিত হল, তার পেছনে মুখ্য কারণ দেশটিতে প্রবলভাবে প্রাতিষ্ঠানিকতার চর্চা জারি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শক্তিই তার গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছে।

প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি কেবল গণতন্ত্রকে সংহত করে না, ব্যক্তি-সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করে। মানুষের মৌলিক অধিকার পুরণের পাশাপাশি জীবনমানেও স্বস্তি ও স্বাধীনতা এনে দেয়। বেদনা ও পরিহাসের বিষয় হল, আমাদের এখানে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভ্যাস নেই। আঙুলের কড়ে গুণে এক প্রজন্মের কাছাকাছি কিংবা তার চেয়ে একটু বেশি বয়সী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে আশা জাগানিয়া সেসব প্রতিষ্ঠানেও প্রাতিষ্ঠানিকতার চর্চা প্রত্যাশিত মাত্রার নয়। ভক্তিবাদও সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় বাধা। আবুল হাসনাতের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সাধনাকে আমরা যদি গভীরভাবে অবলোকন করি, তাহলে স্পষ্টরূপে ধরা দেয় প্রতিষ্ঠানের শক্তির ওপর তার আস্থা ও প্রতীতী। খুব বড় পরিসরে বিকশিত করার মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উনার যোগসূত্রতা ছিল না। এই সত্যকে মান্যতা দিয়েই বলতে হয়, প্রতিষ্ঠান ছোট কিংবা বড়’র চেয়ে উনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল কাজ। সেই কাজকে তিনি এমনভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন যার মধ্যে দিয়ে প্রকৃতার্থে প্রতিষ্ঠানই বিকশিত হয়েছে। সময় পরিক্রমায় হয়েছে দিবালোকের মতো সত্য। প্রতিষ্ঠান বড়ো হয়েছে, আবুল হাসনাতও কীর্তিমান হয়েছেন।

সংবাদ দৈনিক পত্রিকা হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে পালন করেছে উজ্জ্বল ভূমিকা, যা সর্বজনকর্তৃক স্বীকৃত ও প্রশংসিত। কিন্তু একথা তো সত্যি, সংবাদ এর ‘সাহিত্য সাময়িকী’ মূল পত্রিকার চেয়েও গুন-মান ও জনপ্রিয়তা বিচারে এগিয়ে ছিল। সংবাদ ‘সাহিত্য সাময়িকী’র এই যে অর্জন এর পেছনে মালিক পক্ষ, সম্পাদক-প্রকাশক ও সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ সকলেরই ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। যা আমলে নেয়ার পরও এই সত্য সর্বজনবিদিত যে, এই অর্জন সম্ভব হয়েছে আবুল হাসনাতের সাহিত্য সম্পাদকীয়তার বিরল নিষ্ঠা- প্রেম ও প্রতিভার মিশেলে। উনার সাধনার শক্তি এতটাই উচ্চকিত ছিল যে, নির্দিষ্ট একটা কক্ষের দায়িত্বে থেকেও পুরো স্থাপনাকেই করেছেন আলোকিত। সাহিত্য সাময়িকীর কারণেই সংবাদ এর গ্রহণযোগ্যতা ও পাঠকপ্রিয়তা ক্রম বর্ধিষ্ণু হয়েছে।

ড. কাজল রশীদ শাহীন 

সাহিত্য সাময়িকীর মতো করে একই অভিমত কালি ও কলম পত্রিকার ক্ষেত্রেও উচ্চারণ করা যায়। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন নানা কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষণা করে আসছে। কালি ও কলম উনাদের অনেকগুলো কার্যক্রমের একটি। আবুল হাসনাতের সম্পাদকীয়তার প্রসাদ গুণে কালি ও কলম হয়ে উঠেছিল বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম। দেশে শুধু নয় পাশের দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় এবং বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষি মানুষের মাঝেও পত্রিকাটি বিশেষ সমীহ ও প্রশংসার জায়গা করে নিয়েছিল।

আবুল হাসনাতের অভিভাবকত্বে উপর্যুক্ত অর্জন সম্ভব হওয়ার এষণায় প্রধানত একটা কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি প্রতিষ্ঠানকে কখনোই নিজের কিংবা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে কাজে লাগাননি। প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত লাভালাভের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেননি। উনি যখন সংবাদ এর সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে খ্যাতির মধ্যগগণে তখন দেশে পত্রিকার সংখ্যায় তুলনামূলকভাবে কম। সংবাদ ‘সাহিত্য সাময়িকী’ অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক প্লাটফর্ম। বিভিন্ন ক্ষেত্রের পেশাজীবীরা উন্মুখ হয়ে থাকতেন লেখা প্রকাশের জন্য। চাহিবামাত্রতো বটেই, উপঢৌকন দিয়েও সুযোগ খোঁজা ব্যক্তির অভাব ছিল না। কিন্তু তিনি সেসবের পথে হাঁটেননি। লেখা নির্বাচনে পালন করেছেন সত্যপুত্র যুধিষ্ঠিরের ভূমিকা। প্রকৃত লেখকদের সঙ্গে উনার ছিল হার্দিক সম্পর্ক। প্রয়োজনীয় লেখাটি যোগ্য লেখক দিয়ে লিখিয়ে নিতে উনার জুড়ি ছিল না। পাশাপাশি এটাও জানতেন এবং সর্বদায় মেনে চলতেন লেখক-সম্পাদক সম্পর্ক আদৌ কতটুকু হওয়ার আর কতোটা হওয়ার নয়। লেখক-সম্পাদক সম্পর্কে সেতুবন্ধ থাকা জরুরি আবার দূরত্ব থাকাটাও অপরিহার্য। আবুল হাসনাত এই জায়গাটাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। লেখক, তা তিনি যতই জনপ্রিয় কিংবা ক্ষমতাধরই হন না কেন, উনি যেন সাহিত্য সম্পাদককে পরিচালিত করার ধৃষ্টতা কিংবা বাঞ্ছা প্রকাশ না করেন, সেই সাহস- যোগ্যতা- নৈতিকতা ও অপ্রিয় হওয়ার ঝুঁকে নেয়ার ক্ষমতায় পারঙ্গম ছিলেন তিনি।

এ কারণে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে সিকান্দার আবু জাফর, আহসান হাবীবের সমতুল্য ও কিংবদন্তি খ্যাতি অর্জন করলেও উনার ওপর গোস্বা করার লেখক-কবি-সাহিত্যিকের সংখ্যাও কম ছিল না। নন্দিত হলেও নিন্দিতও ছিলেন, যা জ্যেষ্ঠ দুই কিংবদন্তির ক্ষেত্রে তেমন নেই।

আবুল হাসনাতের সাধনা, প্রতিষ্ঠান প্রেম, ও সম্পাদকীয়তার সাহস ও সৌন্দর্যকে আবিষ্কার ও অন্বেষণ করতে হলে ‘গোস্বা’ ও ‘নিন্দিত’ হওয়ার কার্যকারণ বিশ্লেষণ করতে হবে। ওরকম ‘গোস্বা’ ও ‘নিন্দিত’ হওয়াকে উপেক্ষা করতে পেরেছেন বলেই আবুল হাসনাত স্বাধীন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য সাময়িকী, সাহিত্য ম্যাগাজিনের একজন সার্থক সম্পাদক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।

আবুল হাসনাত কবিতা লিখতেন। কবি নাম ছিল মাহমুদ আল জামান। ‘জ্যোৎস্না ও দুর্বিপাক’, ‘কোনো একদিন ভুবনডাঙায়’, ‘ভুবনডাঙার মেঘ ও নধর কালো বিড়াল’ উনার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। শিশু-কিশোরদের জন্য লিখেছেন, ‘ইস্টিমার সিটি দিয়ে যায়’, ‘টুকু ও সমুদ্রের গল্প’, ‘যুদ্ধদিনের ধূসর দুপুরে’, ‘রানুর দুঃখ-ভালোবাসা’ প্রভৃতি গ্রন্থ। ‘টুকু ও সমুদ্রের গল্প’র জন্য ১৯৮২ সালে পান অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার। শিল্প সমালোচনা ও প্রবন্ধ সাহিত্যে অর্জন করেছিলেন নিজস্ব এক শৈলী। ‘সতীনাথ, মানিক, রবিশঙ্কর ও অন্যান্য’ এবং জয়নুল, কামরুল, সফিউদ্দীন ও অন্যান্য’ গ্রন্থ যার উজ্জ্বল প্রতিভূ।

আবুল হাসনাতের বেড়ে ওঠা ঢাকায়। ১৯৪৫ সালের ১৭ জুলাই এই শহরেই জন্মগ্রহণ করেন। আয়ুষ্কাল ছিল ৭৫ বছর। ২০২০ সালের ১ নভেম্বর মারা যান। বামপন্থা ও প্রগতির প্রতি নিবেদিত ছিলেন আমৃত্যু। সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ছায়ানট’ এর সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেষ পর্যন্ত উচ্চকিত ছিল উনার কবি ও সম্পাদক জীবন। এ ক্ষেত্রেও এগিয়ে রেখেছিলেন সম্পাদকীয় সত্তাকে, যার মধ্যে দিয়ে তিনি মূলত বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। বিশ্বাস করতেন যে জাতির বড় বড় প্রতিষ্ঠান নেই সেই জাতি- সেই দেশ বিশ্বসভায় মাথা তুলে দাঁড়াতেও পারেন না।

আবুল হাসনাত ওরফে মাহমুদ আল জামান কবি ও লেখক জীবনকে সম্পাদকের জীবনের সঙ্গে জড়াননি কখনোই। দুটোকে আলাদা রেখেই মিটিয়েছেন যার যার প্রেম ও প্রত্যাশা। সাধন করেছেন ব্যক্তির দায়িত্ব ও কর্তব্য। পূরণ করেছেন জীবনের লক্ষ্য। পূর্ণতা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের চাওয়া পাওয়া। যার মধ্যে দিয়ে দেশ ও জাতি পেয়েছে দিশা। প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছে নতুন প্রজন্ম।

ড. কাজল রশীদ শাহীন: সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও গবেষক।
[email protected]

হাসান হাফিজের কবিতাগুচ্ছ



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে তুমি আত্মপরিচয়

তুমি এক অগ্নিক্ষরা ইতিহাস আবেগের দিন
নক্ষত্রস্পর্ধায় তুমি জ্বলজ্বলে উদার আকাশ
তুমি শুধু বাঙালিরই নও, এই ঋদ্ধি রক্তঋণ
মাতৃভাষা ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের প্রকাশ
আজ তুমি বিশ্বমানবের, গোটা বিশ্বসভ্যতার
তারুণ্যের দুঃসাহসে অহঙ্কৃত প্রাণ বলিদান
একুশে তোমার পুণ্য শাশ্বত সুরেলা গান
নয় মাত্র বাঙালির সম্পত্তি ও ঐতিহ্য একার-
ব্রহ্মা-ের কোন্ দূরে প্রান্তদেশ সিয়েরা লিওনে
রাষ্ট্রভাষা হয়েছো তুমিও ছন্দে নূপুরে নিক্কণে
বাংলাভাষা তোমার ধ্রুপদী লয় সুছন্দিত তান
নতুন সংস্কৃতিগর্ব বহুমূল্য জাগৃতি ও জয়গান
অক্ষয় অপরাজেয় উপেক্ষিত ভাষার সম্মান
আন্দোলনে অভ্যুদয়ে মুক্তিযুদ্ধে স্বয়ম্ভু সোপান
দোতারা শাপলা ফুল দোয়েলের চঞ্চলতা শিস
বাঘের হুঙ্কারে দর্পী স্বৈরাচার ভয়ে নিরুদ্দিশ।

একুশ প্রকৃত অর্থে মুক্তছন্দা বহতা নদীর নাম
এই সত্য বিশ্ববুকে আমরাই এঁকে রাখলাম।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাষা যতো পায় যেন সপ্রীতি লালন
বিকাশেরও সমান সুযোগ শ্রদ্ধা স্থিতি সংরক্ষণ
একুশে অমূল্য এক পাথেয় প্রেরণা উৎসভূমি
আত্মপরিচয় পেতে দুর্বিনীত বিদ্রোহও তুমি॥

পোড়ানো ও নিমজ্জন

ভুল করে ভালোবাসলে
দণ্ড ও লাঞ্ছনা
প্রাপ্য হবে, হোক।
তোমাকে পুড়িয়ে দিক
আমার দু’চোখ।
নদী যদি হতে পারো
ডুবে মরবো আনন্দেই-
সুতরাং নদী হতে
কোনো বাধা বিপত্তি তো নেই!

মেরুদণ্ড

হাতড়ে দেখি, নেই।
আমারও নেই, তোমারও নেই,
রাজ্যব্যাপী কারোরই নেই।
কোথায় গেল? কোথায় গেল
রিমান্ড চেয়ে তলব করো,
ফায়দা যে কী, তাও বুঝি না।

তত্ত্ব তালাশ করতে গিয়ে
হদ্দ বেকুব বনছি রে ভাই
এই শরমের শুমার যে নাই
কোন্ বনে যাই দুঃখ শুকাই
লজ্জা পেয়ে কোন্ঠে লুকাই
ক্ষতস্থানের নাই প্রশমন
বুঝলি সোনা ও পোড়া মন
ধুঁকছি জাড়ে শীতকামড়ে
কিন্তু আগুন? কোথায় মেলে?
ছুটছি আশার স্বপ্ন ফেলে
নাহ কিছু নাই বুঝলি রে ভাই
ফায়দা তোলার মওকাও নাই
হাতড়ে দেখি সাঁতরে দেখি
আজব কাণ্ড হচ্ছে এ কি
ভীরুতার স্বগত সংলাপ

ভয় পাই নিজেকেই।
কীভাবে যে মুখোমুখি হবো!
কতো পাপ প্রস্তরের ঋণ
জমা হয়ে আছে।
এই কষ্ট বলি কার কাছে?
নিজের ভুবনই ক্রমে
অনাত্মীয় অচেনা হয়েছে
এই দ্বন্দ্ব সংশয়ের কাঁটা
মনে ও মগজে বেঁধে
নীরবে ঝরায় রক্ত
শক্ত কোনো প্রতিরোধ
গড়বার সামর্থ্য যে নেই
নিঃস্বতার সঙ্গে বসবাস
করে করে বাকি আয়ু
শেষ হবে হোক!

আকুল আর্তি

রঙধনু রঙ
যায় মিলিয়ে
তোমার স্মৃতি
জাগনা থাকে
মিলায় না সে
খুঁড়তে থাকে
ছুঁড়তে থাকে
পাথর নুড়ি
ভুলবো তোমায়?
কেমন করে
নাই যে তেমন
হ্যাডম কিংবা সিনাজুরি!

রঙধনু রঙ
হবেই ফিকে
তোমার ছোঁড়া
তীর নিশানা
আসবে ফিরে
আমার দিকে,
এফোঁড় ওফোঁড়
হলেম যদি
কার কি কিছু
যায় বা আসে?
দিন রজনী
কাঁপছে ত্রাসে
চাইছে যেতে
বনের বাসে
কিন্তু সাহস
হচ্ছে না তার
তোমার বিজয়
অঙ্কিত রয়
সাঁঝ সকালের
দূর্বাঘাসে

রঙধনু গো
তোমার সঙ্গী
করবে আমায়
এ পোড়ামুখ
কোথায় রাখি?
আঁধার নেমে
এই চরাচর
সন্ধ্যাতারায়
বিষণœ স্বর
কোথায় পাখি
কোথায় পালক
যাচ্ছে বেড়ে
দহন ও ধক্
ও রঙধনু
তোমার মতোন
হতেম যদি
স্মৃতির ছোবল
এড়িয়ে যাবার
সুযোগ হতো
দিন প্রতিদিন
মরার কষ্ট
আর হতো না!

চরাচরে প্রশ্নই প্রবল

বসন্ত আসবে বলে
অপেক্ষায় ছিলে তুমি
শীতকাল বড়ো বেশি প্রলম্বিত
সব গাছ রুক্ষ শীর্ণ
ঝরাপাতা ধুলোর সংসারে
অপেক্ষার বন্দিশে বেজেছে
বিচ্ছেদী বেহাগ...
কোনোদিন উঠবে না রোদ?
গাছ কবে ফিরে পাবে পাতা
প্রতীক্ষার পালা হবে শেষ
আয়ু সলতে নিভে নিভে যায়
গাঙপাড়ে স্তব্ধতার এলানো চাদর
নৌকা আছে মাঝি নাই
ওম খুঁজছে তালি তাপ্পি সংবলিত
গরিবি কাঁথায়
পারাপার কবে শুরু ফের?
এ প্রশ্নের বিশদ উত্তর
ধরাধামে কারো জানা নেই
---

;

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজে



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

  • Font increase
  • Font Decrease

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শুরু থেকেই প্রশাসন বা আমলাতন্ত্রের সদস্যগণ জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মৌলিক ও সৃজনশীল লেখালেখিতে লিপ্ত রয়েছেন। অনেকের লেখা কালজয়ী সাহিত্যের অংশেও পরিণত হয়েছে। বিশেষত, তাদের স্মৃতি, বিশ্লেষণ, তথ্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের স্বচ্ছ ও সচল ধারাভাষ্য রূপে গৃহীত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে এমন বইয়ের সংখ্যা কম নয়, যা পাঠকপ্রিয়তা ও বৈশিষ্ট্যময়তায় মৌলিক সম্পদ রূপে বিবেচিত।

কাজী হাবিবুল আউয়াল (জন্ম: ২১ জানুয়ারি ১৯৫৬) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। পেশাগত জীবনের গুরু দায়িত্ব সামাল দিয়েও তিনি রচনা করেছেন বেশ কয়েকটি গ্রন্থ।

কাজী হাবিবুল আউয়ালের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'জীবন পাতার জলছাপ' (আত্ম-চরিত), 'ট্রাজেকটরি অব এ জুডিশিয়াল অফিসার' এবং 'মেমোরিজ অফ আরলি লাইফ'। এবারের একুশের বইমেলায় অভিজাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'স্টুডেন্ট ওয়েজ' কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে জীবনস্মৃতি ভিত্তিক গ্রন্থ 'জীবন খাতার কয়েক পাতা'।

কাজী হাবিবুল আউয়াল ১৯৫৬ সালের ২১ জানুয়ারি পিতার কর্মস্থল কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের সারিকাইত গ্রামে। তার পিতা কাজী আবদুল আউয়াল কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) ও জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার বাদী ছিলেন। তার মাতা বেগম নাফিসা খাতুন।

১৯৭২ সালে খুলনার সেন্ট জোসেফ’স হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এল এল.বি (অনার্স) ও ১৯৭৮ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পান ১৯৮০ সালে এবং সে বছর ঢাকা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের বিচার ক্যাডারে যোগদান করেন। কর্মজীবন শুরু করেন উপজেলা মুন্সেফ হিসেবে। তিনি প্রেষণে সহকারী সচিব ও উপ সচিব হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৭ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০০ সালে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ২০০৪ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০৭ সালের ২৮ জুন তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। সেখান থেকে তাকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৮ জুন তার চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ায় সরকার।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল হাবিবুল আউয়ালের। কিন্তু ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি পিআরএল বাতিল করে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে সেই চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়। তিনি ২০১৭ সালে জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। সরকারি চাকরি থেকে পরিপূর্ণ অবসরে যাওয়ার পর তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শহরের পরিবেশে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও পৈত্রিক জনপদ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সন্দ্বীপের গ্রামীণ জীবন ও পরিবেশকে বিস্মৃত হন নি। গ্রন্থে তিনি বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকে নগরজীবন আর গ্রামীণ বাস্তবতাকে উপস্থাপন করেছেন।

প্রকাশক মাশফিকউল্লাহ তন্ময় বার্তা২৪.কমকে জানান, পিতার সরকারি চাকরির বদলিজনিত কারণে লেখক দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন। বইতে তিনি পরিবার ও নিকটজনদের পরিচয় দিয়েছেন। পাশাপাশি শৈশব ও কৈশোরে দেখা সমাজ, পারির্পাশ্বিকতা, অভাব, দারিদ্র এবং প্রার্চুযহীন অবিলাসী, নিরাভরণ, সাধারণ ও সরল জীবনাচরণের চিত্র তুলে ধরেছেন। শিকড়ের টানে তিনি পিতৃপুরুষদের জন্মস্থান সন্দ্বীপের গ্রামের বাড়িতে একাধিকবার বেড়াতে গেছেন এবং গ্রামের বাড়ি, গ্রাম ও সন্দ্বীপের বিবিধ বিবরণ তুলে ধরেছেন গভীর মমতায়। তিনি নিজের দেখা ইতিহাসের উপজীব্য রাজনীতির বির্বতন এবং বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেছেন বস্তুনিষ্ঠ ও উপভোগ্য ভাষায়।

লেখক স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিদের কথা বলতে গিয়ে সমকালীন নগরজীবন, পারির্পাশ্বিকতা ও অনেক ঘটনার রসালো বিবরণ দিয়েছেন, যা পাঠকের বিনোদনের খোরাক হতে পারে।

প্রকাশক আরও জানান, এটি লেখকের আত্মজীবনী নয়, শৈশব ও কৈশোরের খানিকটা স্মৃতিচারণ। নিজ জীবনের বিগত একটি সময়ের দৃশ্যপট তিনি সময়ান্তরে অনাগত আরেকটি সময়ে তুলনায় উপস্থাপন করেছেন। ফলে বইটি গ্রামীণ ও শহরের বিন্যাস, সাংস্কৃতিক পালাবদল ও ঘটমান রাজনৈতিক রূপান্তরকে কাঠামোবদ্ধ করেছে এবং সাম্প্রতিক অতীতের প্রাণবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে। এবারের একুশের বইমেলার প্রথম দিন থেকেই বইটি পাওয়া যাবে স্টুডেন্ট ওয়েজ-এর ২৬ নম্বর প্যাভিলিয়নে।

;

যারা পেলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০২২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২২ ঘোষণা করা হয়েছে। সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় এ বছর ১১টি ক্যাটাগরিতে ১৫ জন এই পুরস্কার পাচ্ছেন।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।


বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ প্রাপ্তরা হলেন— কবিতায় ফারুক মাহমুদ ও তারিক সুজাত, কথাসাহিত্যে তাপস মজুমদার ও পারভেজ হোসেন, প্রবন্ধ বা গবেষণায় মাসুদুজ্জামান, অনুবাদে আলম খোরশেদ, নাটকে মিলন কান্তি দে ও ফরিদ আহমদ দুলাল, শিশুসাহিত্যে ধ্রুব এষ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় মুহাম্মদ শামসুল হক, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় সুভাষ সিংহ রায়, বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে মোকারম হোসেন, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনীতে ইকতিয়ার চৌধুরী, ফোকলোরে আবদুল খালেক ও মুহম্মদ আবদুল জলিল।

;

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

  • Font increase
  • Font Decrease

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৯তম জন্মবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। মাইকেল মদুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোরের কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে বিখ্যাত দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

মহাকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মভূমি যশোরের সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলার আয়োজন করা হয়েছে। সকালে মহাকবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাগরদাঁড়ির মধুমঞ্চে কবির জীবনীর ওপর আলোচনা সভা। এছাড়া রয়েছে কবিতা আবৃত্তি।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে মেলা উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। দুই বছর পর মেলা ঘিরে মধুপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়াও মধুসূদন দত্তের নামে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করছে যশোরবাসী।

মধুসূদনের পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন জমিদার। মা ছিলেন জাহ্নবী দেবী। তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় মা জাহ্নবী দেবীর কাছে। তেরো বছর বয়সে মদুসূদন দত্ত কলকাতা যান এবং স্থানীয় একটি স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনার পর তিনি সেসময়কার হিন্দু কলেজে (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন।

তিনি বাংলা, ফরাসি ও সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষালাভ করেন। এরপর তিনি কলকাতার বিশপস কলেজে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি গ্রিক, ল্যাটিন ও সংস্কৃত ভাষা শেখেন। পরবর্তীতে আইনশাস্ত্রে পড়ার জন্য তিনি ইংল্যান্ড যান।

মাইকেল মদুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক ছিলেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি ইংরেজি সাহিত্যেও অসামান্য অবদান রাখায় বিশ্ববাসী এ ধীমান কবিকে মনে রেখেছে কৃতজ্ঞচিত্তে। তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।

তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি হলো দ্য ক্যাপটিভ লেডি, শর্মিষ্ঠা, কৃষ্ণকুমারী (নাটক), পদ্মাবতী (নাটক), বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, চতুর্দশপদী কবিতাবলী, হেকটর বধ ইত্যাদি।

এ মহাকবির জন্মের কারণেই সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ নদ জগৎবিখ্যাত। কালের প্রবাহে কপোতাক্ষ নদের যৌবন বিলীন হলেও মাইকেলের কবিতার কপোতাক্ষ নদ যুগে যুগে বয়ে চলেছে।

১৮৭৩ সালে ২৯ জুন কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ মহাকবি। কলকাতায় তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

;