বন্দরে ভিড়ে আবার নষ্ট ইঞ্জিনের হাওয়া

জাহান জলেশ্বরী
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

অলঙ্করণ কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

রগড় ইতিহাস

চারপাশের বিস্তৃত বিরতিকে আমি বলি সন্ধ্যের রহস্য
অথবা জিপসী বাদুরের পাখার নিচে গুটিয়ে যাওয়া তীর্থ

দীর্ঘ চূড়া আকাশ মেখে যখন শিকার করে বিদ্যুৎবাণ
ঈশ্বর নিশ্চয় তখন জীবনের চিঠিগুলো
পুনরায় নতুন খামে সাজান।

অদৃশ্য এক পোশাক সময়ের সভা ডাকে
বিরুদ্ধ ছায়ায় পরিহাস করে—রগড় ইতিহাস।

যে নদী জল হয়ে যায়

ওপারের ডাক এলো ফের সাদা আয়নায়
এ ঘর থেকে ও ঘরে যাবার রাস্তায়
ধীরপায়ে
খুব কাছে
অপেক্ষার মৌতাতে সাজে রোজ সাঁঝবাতি
অ্যালবেট্রস চোখে আঁকে স্ট্যাচু আকাশ
মমতার পালক
পড়ে খসে
শান্ত খোঁপায়
শ্যাওলা সন্ধ্যায় নদী তার পাল্টায় পিঠ
টুপ টুপ ঝরে আবার অসময়ের জল!

একান্ত বরষায়

মানুষ বানিয়ে ঈশ্বর চোখের যত্নে বিজলী টানেন—
মনে করিয়ে দেন, বরষা একান্ত মেঘের অভিমান
মানুষ যেখানে থকথকে কাদা কিংবা শহুরে রাস্তার
খুবলে ওঠা অভিসার ছাড়া কিছু নয়।

জলের শরীরে দাগ কেটে গেলে সময়
ঈশ্বরও নগ্নতার ছবি আঁকতে বসেন—চকচকে চোখে।

ঈশ্বর সমীপে

সিংহসূর্য আর মায়াহরিণের কবেকার কোন গোপন আশ্রয়ে বিশাল ছায়ার মতো আছড়ে পড়ে উছল। সুযোগ মেখে অগোচরে ভেল্কি দেখায় শিয়াল, নতুন ক্যানভাসে পরিপাটি এঁকে দেয় থোকা থোকা লাল।

এদিকে অঞ্জন ফুলের মতো ঘুমায় বর্তমান। ওবেলা ফুরোলে সংযমকে করতে হয় ভণিতা। ঈশ্বর উপভোগ করেন এসকল ব্যসঙ্গ; বাঁধাকপি হৃদয়ে আঁকুপাঁকু গদ্য সাজাতে থাকেন পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা।

সবার জানা, সিংহ আর হরিণের চিরকালই আহারের সম্পর্ক, শিয়াল চতুরতার!
ঈশ্বর, তুমি তো অঞ্জন ফুল!

মৃত্যু জীবন অথবা জীবন মৃত্যু

ক্রস কানেকশনে মৃত্যু মুখোমুখি হলে
টিমটিমে আলোর পথে নেমে আসে পর্দা;
শূন্যস্থানের গতিবেগে ভর করে বছর
কিলোগ্রামের নতুন সংজ্ঞা বৃদ্ধি করে সাধন
ষড়শত্রু হেসে রাস্তা মাপে পরিবর্তনে।

অ্যালার্ম বেজে উঠলে পুনরায়—
জীবন দৌড়ায় শিমুল থেকে মান্দার ডালে
সাদাবুকে আঁধার গুনে গুনে প্রার্থনাশেষে—
ঠিক বন্দরে ভিড়ে আবার নষ্ট ইঞ্জিনের হাওয়া।

আপনার মতামত লিখুন :