সে আমার প্রেমিকা কিন্তু তার আরো প্রেমিক আছে

আবু মুস্তাফিজ
অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

ফুল ছেঁড়ার লড়াই

শেষ দেখতে চেয়েছিলাম
বন্দুকের জবাব কেবল বন্দুকই হতে পারে
ফুল ছিঁড়বার আগে কণ্টকাকীর্ণ হইবার খোয়াব
কেবল তুমিই দেখেছো
এমন তো নয়
অনেকেই দেখে
দেখতে দেখতে বুড়ো হয়ে যায়
তারপর একদিন মরে গেলে
ফুলেরা কাঁদে এমন তো নয়
তাই রাজপথ রক্তাক্ত হলে
তোমার আমার ফুল ছিঁড়বার বাসনা তৈরি হয়
কণ্টকে আকীর্ণ আঙ্গুল রক্তাক্ত হইলে
চুমুর প্রয়োজন দেখা দেয়
যা তুমি খাইতেও পারো
নাও খাইতে পারো
কিন্তু এ কথা মিছে নয় যে
বন্দুকের জবাব ফুল কিংবা ফসলের মাঠ হতে পারে
পাখি কিংবা প্রজাপতি
যদিও প্রজার সনে প্রজাপতির লড়াই রক্তাক্তই হয়
বন্দুকের জবাব কেবল বন্দুকই দেয়

 

মানুষ

মেরাদিয়ার শেষ প্রান্তে ঝুলে আছে
গোলাকার মিষ্টি আকাশ
মাধবীলতার ঝাড়ে কোনো মাধবীলতা নেই
এমন একটা বাড়িতে ম্যালা মানুষ থাকার কথা
কিন্তু সেখানে কোনো মানুষ নেই
তবু কোলাহল জমে আছে
অলিন্দে
গলিন্দে
মৃদু কাশফুল জমে আছে মানুষের মনে
আমি তাই গলাখাকারি দিয়া ডাকি, বাড়িতে কেউ আছেন
বাড়িতে কেউ আছেন বাড়িতে কেউ আছেন
কেউ কি বাড়িতে আছেন?
যদি না থাকেন তবু কথা বলেন
ভূত হয়ে
প্রেত হয়ে
তবু কথা বলেন
মানুষের কণ্ঠস্বর বড় সমধুর লাগে
মেরাদিয়ার গোলাকার মিষ্টি আকাশ
শূন্য মাধবীলতার ঝাড়
মনের কাশফুল
বনের কাশফুল
নদীপাড়ের কাশফুল
সব ছাপিয়ে মানুষের সমধুর সুর
বড় ভালো লাগে

 

অপেক্ষা

সে আমার প্রেমিকা
কিন্তু তার আরো প্রেমিক আছে
আমি তার জন্য দিনের পর দিন
মাসের পর মাস
বছরের পর বছর
অপেক্ষা করি
প্যান্টের পকেটে বেলী
বুক পকেটে বকুল
আর হৃদয়কে রক্তাক্ত গোলাপ বানিয়ে
সে আসবে
আমিও জানি সে আসবে
তাকে আসতেই হবে

 

ফুলকে কাছে পাইবার তরে

ফুলকে কাছে পাইবার তরে
একবার আমি বাগান হইয়া ছিলাম
সারা রাত নিহত ঘোড়ার কাছে ঘাস চিবানোর গল্প করেছিলাম
এমন তো নয় সেইসব কচি কচি ঘাস শিশিরে ভেজা
মুক্তার মালার ন্যায় জড়াইয়া ছিল ভোর বেলা
ফুলের সুবাস উড়িয়া আসিবে বলে
রাত জাগিয়া ছিলাম
সে রাতে ফুল ফুটিল না কোনো
সুবাসিত পবন তাই দুর্লভ হইয়া উঠিল
সেই রাতে আমি বাগানের ব্যথা অনুভব করিয়া ছিলাম
যেইরূপ ফুলের বেদনা
শিশিরে
ঘাসে
মুক্তার দানায় দানায়
আমি যেন এক নিহত বাগানের ছবি হইয়া উঠিলাম

 

মানুষ এক প্রকার ফুল কিংবা ফুল এক প্রকার মানুষ

প্রতিটা ফুলের জীবনই কী করুণ
যেমন প্রতিটা মানুষের জীবন
নয়নাভিরাম মনে হলেও
আসলে তা নয়নাভিরাম না
কিংবা কে জানে
হয়তো নয়নাভিরাম কিংবা নয়নাভিরাম না
তারপরও কথা থাকে
মানুষ তার জীবনের কারুণ্য মুছে ফেলতে চায়
ফুলেরা তা চায় না
ফুলেদের সে সাধ্য নাই কিংবা সাধ
কিংবা কে জানে, তারাও হয়তো চায়
সমস্ত কারুণ্য মুছে ফেলে কেবলই সৌরভ ছড়ায়
মানুষের ছড়াবার মতো কোনো সৌরভ নাই
কিংবা আছে, কে জানে?

 

ফরিদা

ফরিদাকে আমার ভালো লাগে
তার রুটির মতো শুকনো ঠোঁট
বল্লার কামড় মেরে ফুলিয়ে দিতে ইচ্ছা করে
এমন তো নয়
বরং তার মৃদুমন্দ কথাসমূহ
ফুক ফুকিয়ে বিড়ি টানা
ধূমায় কথাদের জড়িয়ে যাওয়া
দেখতে ভালো লাগে
চুমু খাওয়া যায়
চাইলেই
ঈষৎ জড়িয়ে ধরা
কখনো সখনো
অথচ সঙ্গমে না
আরো সময় লাগবে তার
বলে চিক্কন খাটে শুয়ে পড়ে
একটা ডেকি মুরগির মতো
আমি তারে জড়িয়ে ধরি
শুয়ে থাকি শিঁয়ালের মতো করে
ফোকর খুঁজি
খাব বলে
সে দেয় না
খেতে
নাক ডেকে ঘুমিয়ে পড়ে
অপেক্ষা করতে করতে করতে করতে
করতে করতে করতে করতে
আমিও ঘুমিয়ে পড়ি।
ঘুম ভেঙে যায় ফরিদার আর্ত চিৎকারে
পৃথিবী মরে যাচ্ছে
পৃথিবী মরে যাচ্ছে
ধড়মড় করে জেগে উঠি
মরে যাওয়া পৃথিবীকে বাঁচিয়ে তুলতে যাই
আর তখনই কে যেন আমার পিঠে ছুরি মারে
আমারই ভাই আমারই বন্ধু আমারই প্রেমিকা যত
আমি মরে পড়ে থাকি
ফরিদার কোলে
রক্তাক্ত
ফরিদা আমারে সারিয়ে তোলে
তার সমস্ত বেদনা দিয়ে
বেঁচে ওঠে দেখি
একটা সবুজ পেঁয়ারা দুলিতেছে
পৃথিবীর আকাশে

 

ভুল ফুল

কেউ কেউ ফুলের গন্ধ শুঁকে দিশেহারা হয়
কেউ কেউ নিশ্চুপ রয়
এই যে নীরবতা
ফুলের গন্ধ শুঁকিয়া
এই যে দিশেহারা
ফুলের গন্ধ শুঁকিয়া
বাগানে
গৃহকোণে
ফুলের দোকানে
আমি তো তোমার কাছে গিয়াছিলাম
দিশেহারা হইবার তরে
নীরব রহিব ভেবে
গন্ধ যে পাই নাই!
তবে কি আমার নাসারন্ধ্র বন্ধ হইয়া গিয়াছে?
নাকি তুমি ফুল নও?

 

আমি ও আমি - ৩

গতকাল বাসে ছিলাম
মহাখালী যাইবার পথে
আজ একা একা হাঁটিতেছি আদাবরে
আগামীকাল বসিলা যাইবার বাসনা রাখি
নদী পাড় হইয়া কেরানীগঞ্জ
আরো দূরে কলাতিয়া
অতিদূর মৈনট ঘাট, পদ্মানদী
তারও দূরে আনো কোনো পদ্মাতর নদী
যাইবার মন চায়
সেও কি আমি?
আমি তবে কে হই আমার?
কী লাগি?
জানা আছে কি?

আপনার মতামত লিখুন :