প্রযুক্তিখাতে বশেফমুবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দেবে: উপাচার্য



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সংবাদ সম্মেনে উপাচার্য। ছবি: বার্তা২৪.কম

সংবাদ সম্মেনে উপাচার্য। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও মানবিকগুণ সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে তৈরি করা হবে। আসন্ন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে আমাদের দেশের তরুণেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমি আশা করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রযুক্তিখাতে নেতৃত্ব দেবে। সেভাবেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং মাননীয় উপাচার্য এর দায়িত্বগ্রহণের দুইবছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

উপাচার্য বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং একটি দেশের সামগ্রিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য যুগোপযোগী উচ্চশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানসম্মত শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি দেশজুড়ে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এ উদ্যোগেরই ফল।

ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তিই দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে পারে। আমরাও সেই ব্রত নিয়ে বশেফমুবিপ্রবি-কে একটি গবেষণাভিত্তিক আন্তর্জাতিকমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় এই বিশ্ববিদ্যালয় হবে দেশ সেরা, অন্যদের জন্য উদহারণ।

তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জনমানুষের নেতা, জামালপুরের কৃতিসন্তান আলহাজ্ব মির্জা আজম এমপি-র গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সার্বক্ষণিক তিনি নানাভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় মানুষজনও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন। আমি তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বশেফমুবিপ্রবিকে একটি আন্তর্জাতিকমানের গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ পাস হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের স্বনামধন্য শিক্ষক প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদকে ২০১৮ সালের নভেম্বরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জনাব মো. আবদুল হামিদ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। ওই বছরের ১৯ নভেম্বর উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন তিনি। এরপরই ‍মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।

শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নিই চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই (২০১৮-১৯) শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করা হবে। অল্প লোকবল দিয়ে শুরু হয় কার্যক্রম। প্রথম দিকে জামালপুর শহরের দেওয়ানপাড়ায় বঙ্গবন্ধু আইডিয়াল স্কুলের একটি ভবন ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে চারটি অনুষদের অধীনে চারটি বিভাগ যথা- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত, ব্যবস্থাপনা ও সমাজকর্মে শিক্ষার্থী ভর্তি করি। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ইলেক্ট্রনিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু করা হয়।
‘পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের প্রেক্ষিতে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে ফিশারিজ কলেজকে (সাবেক শেখ ফজিলাতুন্নেছা ফিশারিজ কলেজ) বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্তীকরণ করা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে ফিশারিজসহ মোট ছয়টি বিভাগে শিক্ষাদান করা হচ্ছে। এর মাঝে তৎকালীন ফিশারিজ কলেজে কিছু অবকাঠামো ও স্থাপনা রয়েছে। আমরা সেগুলো সংস্কার করেছি। সেখানে অস্থায়ীভাবে অ্যাকাডেমিক ভবনও নির্মাণ করেছি। আশা করছি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই আমাদের মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হতে পারবো। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়নের পূর্বশর্ত তার অ্যাকাডেমিক উন্নয়ন। তাই শুরু থেকেই যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অধিক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, আধুনিক সুবিধাসহ ক্লাসরুম ও ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা খেলা-ধুলা, বিতর্কসহ এক্সট্রা-কারিকুলারে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় সে ব্যবস্থাও করা হয়।

করোনাকালে শিক্ষাকার্যক্রম চালানোর বিষয়ে উপাচার্য বলেন, মহামারির কারণে বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুতর প্রভাব পড়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ও গত সাত মাস ধরে বন্ধ। এ অবস্থায় তাদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতে আমরা অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করছি। এতে তাদের ক্ষতি কিছুটা কম হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলে রিভিউ ক্লাসসহ অন্যান্য তদারকির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

‘করোনার সময় পরিচালিত ভার্চুয়াল ক্লাসে যারা ডিভাইস সঙ্কটে অংশ নিতে পারছে না তাদের আমরা স্মার্টফোন কেনার বিষয়ে সহযোগিতা করছি। এছাড়া গরিব অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এদিকে করোনাকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তৈরি হ্যান্ডস্যানিটাইজারসহ সুরক্ষা সামগ্রী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিলে আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের দেওয়া একদিনের বেতনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষকমণ্ডলী জাতির বিবেক এবং মানুষ গড়ার কারিগর। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার গুণগত মান সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলীর। আমাদের শিক্ষকেরা যাতে সকলপ্রকার প্রভাব ও সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে থেকে এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে উচ্চশিক্ষা ও উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত জ্ঞানের নব নব দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে সে ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। তাদের গবেষণা ও একাগ্রতার মাধ্যই বশেফমুবিপ্রবি দেশে দ্রুত বিকশমান বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জায়গা করে নেবে এটা আমার বিশ্বাস।

মুজিববর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগের বিষয়ে মাননীয় উপাচার্য বলেন, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছরজুড়ে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। তবে করোনার কারণে এসব অনুষ্ঠানমালা সীমিত ও স্থগিত করা হয়েছে। এর মাঝে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, মুজিববর্ষের ইতিহাস বিষয়ক বইপ্রকাশ ও বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ উল্লেখযোগ্য। স্থাপন করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’; যেখানে প্রাচীনকাল থেকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই, পোস্টার ও সচিত্র প্রতিবেদন স্থান পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে মাননীয় উপাচার্যয বলেন, সবার পরিশ্রমের ফলেই বশেফমুবিপ্রবি। আপনাদের এ সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সবার কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার মাধ্যমেই এগিয়ে যাবে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এএইচএম মাহবুবুর রহমান, ফিশারিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব রায়হানা রহমান, সেকশন অফিসার জনাব এসএম মোদাব্বির হোসেন, জনসংযোগ কর্মকর্তা কাম ফটোগ্রাফার জনাব মুহাম্মদ হিজবুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।