রাবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অপসারণে ৭ দিনের আল্টিমেটাম



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সংবাদ সম্মেলন। ছবি: বার্তা২৪.কম

সংবাদ সম্মেলন। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য জাকারিয়াসহ ‘দুর্নীতিবাজ’ ব্যক্তিদের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অপসারণ চেয়ে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। দাবি না মানা হলে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাঁচাও’ ব্যানারে লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পিছনে আমতলায় ‘সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বিরোধী’ মঞ্চের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো কয়েকটি দাবি উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হলো- দুনীতিবাজদের অপসারণ না করা পর্যন্ত সকল প্রকার নিয়োগ স্থগিত করতে হবে, গণতান্ত্রিক উপায়ে ভিসি, প্রো-ভিসি নির্বাচন করতে হবে। রাকসু ও রেজিস্টার গ্রাজুয়েট নির্বাচনের মাধ্যমে সিনেট পূর্ণাঙ্গ করে গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থানীয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মলনে রাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মহব্বত হোসেন মিলন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের প্রশাসনের যেকোনও দায়িত্বে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় আর একদিনেও চলতে পারে না। এত বড় অপরাধ করার পর তাদের শিক্ষকতা করারও কোনও নৈতিক অধিকার নেই। তাই দ্রুত ভিসি, প্রো-ভিসিসহ দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অপসারণ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, আমরা ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ভিসি, প্রো-ভিসিসহ বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যক্তির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছি। শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ইউজিসিকে তদন্ত করার ভার দেয়। ইউজিসির তদন্ত কমিটি সরেজমিনে দু’দফা তদন্ত করে ভিসি, প্রো-ভিসি ও রেজিস্টারসহ বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২৫ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পায়। তদন্ত কমিটি ২০ ও ২১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, শিক্ষামন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রতিবেদনটি জমা দেয়। যা আমরা বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তদন্ত প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের জন্য তিন ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে। তারা হলেন ভিসি, প্রো-ভিসি ও রেজিস্টার।’

সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মহোদয় দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু প্রমানিত দুর্নীতিবাজ ভিসি ও প্রো-ভিসি কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে এখনো স্বপদে বহাল আছে তা আমরা বুঝে উঠতে পারছিনা। আমরা মনে করি অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারেনা। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে। ফলে আমরা আচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মুর্শেদুল আলম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য আজিজুল মানিক প্রমুখ।