বেতন পান‌নি খু‌বির ৩ শিক্ষক, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মশাল মি‌ছিল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বেতন পান‌নি খু‌বির ৩ শিক্ষক, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মশাল মি‌ছিল

বেতন পান‌নি খু‌বির ৩ শিক্ষক, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মশাল মি‌ছিল

  • Font increase
  • Font Decrease

পাঁচ দফা দা‌বিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা পোষণকারী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং দুইজনকে অপসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও তাদের বেতন দেয়া হয়‌নি।

বৃহস্প‌তিবার (০৪ মার্চ) সকাল পর্যন্ত তাদের বেতন দেয়া হয়‌নি বলে বার্তা২৪.কম’কে জানান, বরখাস্ত হওয়া বাংলা ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল ফজল।

তি‌নি জানান,  গত ৪ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন তিন শিক্ষক। ৯ ফেব্রুয়ারি রিটের শুনানি শেষে আদালত ওই তিন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কেন তাঁদের চাকরিচ্যুতির আদেশ অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। আদালতের নির্দেশনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। গত ১৭ ফেব্রুয়া‌রি অ‌াদালতের নির্দেশ কথা বিশ্ব‌বিদ‌্যালয়কে জা‌নিয়ে‌ছি। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন শিটে তাঁদের স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁরা আদালতের নির্দেশনার কথা জানিয়ে রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেন। মাস শেষে দেখতে পেয়েছেন, তাঁদের ব্যাংক হিসাবে বেতন যায়নি। এখন অ‌া‌মি মানবেতর জীবন যাপন কর‌ছি। কাজ কর‌ছি কিন্তু বেতন পা‌চ্ছিনা, এটাও একটা নির্যাতন। রেজিস্ট্রার মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের বেতন দেওয়া হবে না।

 

বেতন পান‌নি খু‌বির এই  ৩ শিক্ষক

এর আগে শনিবার (২৩ জানুয়া‌রি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১২তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকা‌নি দেয়ার অ‌ভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল ফজলকে বরখাস্ত, একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক শাকিলা আলম এবং ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের প্রভাষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরীকে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার খান গোলাম কুদ্দুস বলেন, বরখাস্ত ও অপসারণ হওয়া ৩ শিক্ষক আদালত থেকে স্থিতাদেশ নিয়ে এসেছেন, তবে স্থিতাদেশটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁদের যে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, সেটির স্থিতাদেশ। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি বলবৎ আছে। তবে ওই শূন্য পদে আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো শিক্ষক নেওয়া যাবে না।

৩ শিক্ষকের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশনার ভুল ব্যাখ্যা করছেন। আদালত শুনানির সময় স্পষ্ট করেই বলেছেন, যেহেতু ওই তিন শিক্ষক তখনো দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি, তাই তাঁদের নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার কিছু নেই। তাঁরা আগের মতোই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন। তাঁদের বেতন না দেওয়া হলে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হবে।

এ‌দিকে, ৩ শিক্ষককে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে ক‌্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৩ মার্চ) রাতে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন।

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতি হলে ভবিষ‌্যতে অন্য কোনো শিক্ষক সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়াবে না। শিক্ষার্থীদের দুর্বল ভাববেন না। আমরা গত ২৪ দিন ধরে মাঠে আছি, এর আগে ৯ দিন অনশন করেছি। দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে জীবন দেব।