ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পাতা নিষ্ক্রিয় কেন?



শেখ শাকিল হোসেন
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমানে ফেসবুক অনলাইন দুনিয়ায় নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেবার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও ফেসবুকের উপযোগিতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। জার্মানির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্টাটিস্টা’ এর তথ্য বলছে সারাবিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২.৮ বিলিয়ন! বাংলাদেশে ফেসবুকের সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে প্রায় ৪১ মিলিয়ন! অর্থ্যাৎ, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ মানুষ সক্রিয়ভাবে ফেসবুক ব্যবহার করে।

এবার আসি মূল প্রসঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ। পৃথিবীর একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেটি একটা স্বাধীন দেশের উত্থানে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির যশ ও খ্যাতির কারণে একসময় এটিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তুলনা করে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলা হতো। বর্তমানে সময়ের প্রতিযোগিতা ও নানা জানা-অজানা কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তলানিতে এসে ঠেকেছে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে বিশ্ববিদ্যালয়টি খুব একটা তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম থেকে শুরু করে সমাবর্তন পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ে নজর দিলে আমরা এর সত্যতা অনুধাবন করতে পারি।

শুরুতে ফেসবুকের কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম। পৃথিবীর সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও একটি ভ্যারিফাইড পাতা রয়েছে। পাতাটি ৭ লাখেরও বেশি মানুষ অনুসরণ করে। ভ্যারিফাইড পাতাটি ২.৮ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর কমিউনিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে ধরছে। কিন্তু, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বিগত প্রায় ২ বছর ধরে ভ্যারিফাইড পাতাটি নিষ্ক্রিয় রয়েছে। এবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শত বছরে পদার্পন করবে। শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ বিভিন্ন কার্মসূচী গ্রহণ করেছে। নিয়মিত আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন সেমিনার-ওয়েবিনার হচ্ছে। অথচ, বিশ্ববিদ্যালয়টির ভ্যারিফাইড পাতায় এগুলোর ছিটেফোঁটাও প্রকাশ করা হচ্ছে না।

আমি জানি, যারা এই লেখাটি পড়ছেন তাদের অনেকেই ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যারিফাইড পাতা রয়েছে- এটাই জানেন না কিংবা সন্দিহান আছে। নিশ্চিত হবার জন্য আপনারা লিংকটি (www.facebook.com/univdhaka.ac.bd) ভিজিট করে দেখতে পারেন। দেশের সর্বোচ্চ এবং শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পাতা আপনাকে খুব একটা স্বস্তি দিতে পারবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, ফেসবুক পাতাটিতে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেই। আমার প্রশ্ন, কেন নেই? পাতাটি ভ্যারিফাইড, নিয়ন্ত্রণ না থাকাটা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের চরম অপেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়। অনেকেই দাবি করেন, পাতাটি শিক্ষার্থীদের তৈরি করা। সেক্ষেত্রে পাতাটি কতৃপক্ষের কোনরকম সহযোগিতা ছাড়া ভ্যারিফাইড কিভাবে হলো?

যাহোক, পাতাটির সৃষ্টি রহস্য নিয়ে আলোচনা না করি। ছাত্র প্রতিনিধিদের অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা কতৃপক্ষকে এব্যাপারে অবগত করুন। তারা হয়ত পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না কিংবা উদাসীন। অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভ্যারিফাইড পাতাটি নিয়ন্ত্রণে আনুক এবং নিয়মিত আপডেট রাখুক। এটি শতবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইমেইল: [email protected]