৮৭ একরের শেকৃবি ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হতাশা



শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। কৃষি শিক্ষার গুরুত্ব,গবেষণা ও শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য অবস্থান এবং রাজধানীতে অবস্থিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবীদের পদচারণা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কিছু দিক রয়েছে যেগুলো পরিবর্তন হলে হয়তো পরিবর্তন হয়ে যাবে ৮৭ একরের শেকৃবি ক্যাম্পাস।বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী

আমাদের যদি চায়ে চুমুক দিয়ে আড্ডা দেওয়ার একটা সুন্দর জায়গা থাকত

ড. আবুল ফাইজ মো.জামাল উদ্দিন, শেকৃবি গবেষক

৮৭ একরের আমাদের শেকৃবি ক্যাম্পাস।অথচ আমাদের পুরো ক্যাম্পাস খুঁজলে একটা চায়ের স্টল পাওয়া যাবে না।আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসে।ক্লাস গুলো করে আবার আবাসিক হলে ফিরে যায়।পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করে। কিন্তু এই গুলোই কি শুধু আমাদের উদ্দেশ্য।ক্লাস,পরীক্ষা,গবেষণা এগুলোর মাঝে কিন্তু একটু আড্ডা প্রয়োজন,যাতে করে মানসিক প্রসান্তি আসে।কিন্তু আমাদের এক কাপ চা হাতে নিয়ে আড্ডা দিতে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুল-কলেজের মধ্যে কিন্তু বিরাট পার্থক্য রয়েছে। কেন যেন  এই পার্থক্যটা খুঁজে পাচ্ছি না।চায়ের স্টলে আড্ডা দিতে দিতে কিন্তু শিক্ষার্থীরা স্মার্ট হয়ে যায়।কিন্তু আমরা দুঃখিত যে আমাদের শিক্ষার্থীদের আধুনিক করতে পারলাম না।সারাদিন ক্লাসের, পড়াশোনার ক্লান্তি দূর করার একটা সুন্দর জায়গার ব্যাবস্থা করতে পারলাম না।

আমাদের শেকৃবি হতে পারত দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাণকেন্দ্র

সোহেল আহমেদ, শেকৃবি শিক্ষার্থী

ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।গুরুত্বপূর্ণ অবস্তানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারত দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাণকেন্দ্র।কিন্তু হতাশার বিষয় আমরা তা হতে পারিনি।আসলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবথেকে পুরনো কৃষি ইন্সটিটিউট  হওয়ার পরেও অনেক বিষয়ে নিজেদের শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেনি।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ গবেষণা করলেও আমরা কিন্তু গবেষণায় দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে নেই।গবেষণা খাতে ব্যয় এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে কিন্তু আমরা অনেকটা পিছিয়ে।এছাড়াও এমন কিছু রয়েছে যেগুলো পরিবর্তন হওয়ার প্রয়োজন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল সাইন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের ডিগ্রি (কমবাইন্ড ডিগ্রি কোড) নিয়ে এখনো সব চাকরি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারে না।অথচ এই বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের ভারাক্রান্ত করে।আমাদের সেশনজটের ইতিহাস তো দিনে দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে।আসলে আমাদের সঠিক পরিকল্পনা ও গন্তব্য নির্ধারন প্রয়োজন। সঠিক পথে এগোলে অবশ্যই একদিন আমরা দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবো।আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শীর্ষ অবস্থানে দেখতে চাই।

বাঁয়ে শিক্ষার্থী সোহেল আহমেদ, মাঝে গবেষক জামাল উদ্দিন এবং ডানে শিক্ষার্থী হামিদুর রহমান

আমাদের ক্যাফেটেরিয়া কেন আধুনিক মানসম্মত নয়

হামিদুর রহমান, শেকৃবি শিক্ষার্থী

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া কৃষি অনুষদের পিছনে অবস্তিত। ক্যাফেটেরিয়ার অবস্থানের মতোই শিক্ষার্থীরাও বাইরের লোকদের কাছে নিজেদের ক্যাফেটেরিয়ার কথা আড়াল করতেই বোধহয় বেশি পছন্দ করে।আড়াল করে রাখার কারণ অবশ্য পরিবেশ এবং খাবারের মান।ক্যাফেটেরিয়ার পরিবেশ এবং খাবারের মান নিম্নমানের।যা কখনোই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সেন্ট্রাল ক্যাফেটেরিয়ার মতো নয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু নতুন নতুন আবাসিক হল হচ্ছে, দেশের সবথেকে বড় টিএসসি হচ্ছে কিন্তু শিক্ষার্থীদের আড্ডা দেওয়ার মতো একটা সুন্দর জায়গা হচ্ছে না। আমাদের ক্যাফেটেরিয়ায় কখনো কোনো শিক্ষককেও দেখলাম না,আসলে পরিবেশই এমন না যে তারা আসবে।তবে একটা বিষয় বর্তমান প্রশাসন শিক্ষাথীবান্ধব হওয়ায় আশাকরি শিক্ষার্থীদের সমস্যা গুলোর সমাধান হবে।আসলে আমরা আমাদের ক্যাম্পাসকে ভালোবাসি, আমাদের ক্যাম্পাসের সবকিছু সুন্দর হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।