বঙ্গমাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও আমাদের এগিয়ে চলা



প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ
বঙ্গমাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও আমাদের এগিয়ে চলা

বঙ্গমাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও আমাদের এগিয়ে চলা

  • Font increase
  • Font Decrease

 

২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০১৭’ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এরপর ২০১৮ সালে নবগঠিত বিভাগ ময়মনসিংহ সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি উদ্বোধন করেন। একই সময়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ বশেফমুবিপ্রবির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসেবে আমাকে নিয়োগ দেন।

এরপর স্বল্প লোকবল নিয়েই ‘শূন্যে’ থাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আকৃতি দেয়ার কাজ শুরু হয়। এতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন ইউজিসিসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর-বিভাগের কর্মকর্তারা। ভবিষ্যতে মেলান্দহের সবুজ-শ্যামল প্রাকৃতিক পরিবেশে বশেফমুবিপ্রবির একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন বলে আশা করি।

২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিই। এরপর থেকে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে পাঠদান চলে জেলা শহরের দেওয়ানপাড়ার বঙ্গবন্ধু আইডিয়াল কলেজের একটি ভাড়া ভবনে। তবে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মেলান্দহে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হই আমরা। বর্তমানে সেখানে সীমিত সম্পদের মধ্যেও সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সেখানকার শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়।

স্থাপন করা হয় আধুনিক সুবিধাসহ ল্যাব। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা যাতে ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ কানেক্ট হতে পারেন সেজন্য উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে। লাইব্রেরি একটা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্তম্ভ। তা বিবেচনায় নিয়ে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে; যেখানে রেফারেন্স বই ছাড়াও দেশি-বিদেশি জার্নালসহ বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে পারেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষণীয় বিভিন্ন প্লাটফর্মে যুক্ত করতে বিতর্ক ক্লাব, রোবটিক্স ক্লাব, কম্পিউটার ক্লাব গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলারও আয়োজন করা হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ব্যাচ অধ্যয়ন করছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়াধীন। ২০২০ সালের ১৮ মার্চ থেকে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) থাবায় থমকে যায় পুরো শিক্ষাকার্যক্রম। তবে এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা ছয়টি বিভাগের প্রতিটিতেই অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করি। সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরপরই শিক্ষার্থীদের আটকে যাওয়া পরীক্ষাগুলো নেয়া হয়। এখন পুরোদমে ক্লাস চলছে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়। পাশাপাশি গরিব অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেয়া হয় বৃত্তি। এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ প্রথম ব্যাচে চারটি অনুষদের অধীনে চারটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এগুলো হচ্ছে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, সমাজকর্ম, গণিত ও ব্যবস্থাপনা। আর দ্বিতীয় বছরে যুক্ত করা হয়েছে নতুন বিভাগ ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং। বর্তমানে ফিশারিজসহ ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, জীব ও কৃষিবিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ছয়টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী, মানসম্মত শিক্ষাদান ও বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে উচ্চতর ডিগ্রিধারী ও মেধাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জামালপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মির্জা আজম, এমপি। এখনও সার্বিকভাবে নানা সহযোগিতা করে চলেছেন জনমানুষের এ নেতা। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছরই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উদযাপন ছাড়াও জাতীয় দিবসসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন ও পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নানা জনকল্যাণমূলক কাজেও অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। করোনাকালে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ সুরক্ষাসামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেয়া হয়েছে।

এদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বশেফমুবিপ্রবির পক্ষ থেকেও নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। তবে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর কারণে এসব অনুষ্ঠানমালা সীমিত আকারে উদযাপন করা হচ্ছে। ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে’ নবীন এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে। এ কর্নারে আমাদের শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে।

এছাড়া ‘অবিনাশী জনক তুমি’ শীর্ষক একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ দেশবরেণ্য লেখক ও গবেষকদের মূল্যবান লেখা স্থান পেয়েছে।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় মানেই চ্যালেঞ্জ, এক নতুন অভিজ্ঞতা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের প্রেক্ষিতে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারিজ কলেজকে বশেফমুবিপ্রবি-তে আত্তীকরণ করা হয়। জননেতা আলহাজ মির্জা আজম, এমপি কর্তৃক ২০০০ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করা হতো।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের দাবি, এ কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হোক, যা নিয়ে অনেক আগে থেকেই আলোচনা চলে আসছিল। কিন্তু ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৭’-তে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ফলে এ নিয়ে একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়।

এক পর্যায়ে আমি যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সংসদ সদস্য আলহাজ মির্জা আজম এ বিষয়ে সহযোগিতা করেন। পরে মন্ত্রণালয় এ কলেজটির বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যায়-এ সংক্রান্ত করণীয় ঠিক করতে একটি কমিটি গঠন করে দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি থাকে। কমিটি কয়েকবার সভা এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করে কলেজটি আত্তীকরণের সুপারিশ করে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন ফিশারিজ কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে আত্তীকরণ করা হয়। একই সঙ্গে তিনটি শিক্ষাবর্ষের ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি কলেজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানে ৫০ কক্ষবিশিষ্ট একটি অ্যাকাডেমিক ভবন, দুটি হল, প্রশাসনিক ভবনসহ স্থাপনা নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। রয়েছে প্রশস্ত খেলার মাঠ।

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের একটি ফ্রেমওয়ার্ক করে দিয়েছেন। তা হচ্ছে ভিশন ২০২১, ২০৩০, ২০৪১ এবং শতবর্ষী ডেল্টা প্ল্যান। এসব ভিশন বাস্তবায়ন করতে পারলেই বাংলাদেশ একটি উন্নত ও আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পাবে। এক্ষেত্রে আমাদের যে বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।

এ বিষয়টি মাথায় রেখেই বশেফমুবিপ্রবির শিক্ষা-কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানোর মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কেননা একাডেমিক গবেষণাকে সমৃদ্ধ করার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়াও মহাকাশ বিষয়ে গবেষণা, পরিবেশ-প্রতিবেশ বিষয়ে পঠন-পাঠন ও ব্যবস্থাপনার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। থাকছে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতামূলক সমঝোতার বিষয়টিও।

আমরা এখন রোবটিক্স, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা অদৃশ্য প্রযুক্তির কথা বলছি। এসব বিষয় মাথায় নিয়ে বশেফমুবিপ্রবি ভবিষ্যতে রোবটিক্স ও মেকাট্রনিক্সের মতো বিভাগ চালু করবে। আমরা স্বপ্ন দেখি একদিন বশেফমুবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে নেতৃত্ব দেবে। সমৃদ্ধ করবে দেশের ভবিষ্যৎ, উজ্জ্বল করবে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের মুখ। সীমিত সম্পদের মধ্যে তাদের সেভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

গবেষণা ছাড়া নতুন জ্ঞান সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। গবেষণার কাজটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা একাডেমিক আদলে প্রচলিত। এ জ্ঞান আহরণের কাজটি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে ভবিষ্যতে সমানতালে চলে সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও চলছে।

গবেষণাগারের উন্নয়নের কাজটি খুবই ব্যয়বহুল। এ জন্য যেসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, সেগুলোর মূল্য কোটি কোটি টাকা। তাই এগুলো সংগ্রহ ও স্থাপন কীভাবে সম্ভব হবে- সে উপায় নিয়ে এরই মধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্ফুটিত হওয়ার জন্য প্রকাশনা প্রয়োজন। প্রতিটি অনুষদে জার্নাল প্রকাশ করা হবে। প্রকাশনার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে এমন গবেষণা এবং আর্টিকেলের দিকেও নজর দেয়া হবে। এজন্য জনসংযোগ, প্রকাশনা ও তথ্য অধিকার দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

মুক্তবুদ্ধির চর্চা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ, প্রগতিশীল চিন্তাচেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কেন্দ্র হিসেবে আমরা বাঙালির স্বপ্নজয়ের সারথি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টিকে গড়ে তুলতে চাই। সেভাবেই এগিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। এভাবে দিনে দিনে বশেফমুবিপ্রবির একটা নিজস্ব সংস্কৃতি সৃষ্টি হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণের পথে ধাবিত হচ্ছে। আরও অধিকতর মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য যেসব শর্তের প্রয়োজন, আমরা শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং শিক্ষার্থী- সবাই মিলে তা পূরণে সচেষ্ট রয়েছি। এক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণ, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ-দপ্তর আমাদের যথেষ্ট সাহায্য ও সহযোগিতা করছে।

বশেফমুবিপ্রবি আইনটি যেহেতু ২৮ নভেম্বর গেজেট আকারে প্রকাশ হয়, তাই ওই দিনটিই ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’’ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ সোনালি দিনটি হলো বয়সে নবীন বশেফমুবিপ্রবির অর্জনকে আরও বেগবান, সফলতার পথে বাধা দূরীকরণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা পুনর্নির্ধারণ করে সামনে এগিয়ে চলার প্রত্যয় গ্রহণের দিন। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তা, অভিভাবকবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

লেখক: উপাচার্য, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাবির ১৮ হলের ১৫০ গণরুম ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা মহামারীর কারণে প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর গত বছরের ৫ অক্টোবর বন্ধ আবাসিক হলগুলো খোলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। শুরুতে ঢাবি কর্তৃপক্ষ গণরুম সংস্কৃতি বন্ধ করবে বলে আশ্বস্থ করে কিন্তু গত বুধবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজয় একাত্তর হলে গণরুমে থাকা এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এ থেকে বোঝা যায়, আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরে এসেছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৮ টি হলের দেড় শতাধিক গণরুম ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে। রুমগুলোতে যেখানে আটজনের কম থাকতে পারে সেখানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংঘঠনের বেধে দেয়া নিয়মে মেঝেতে প্রায় ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী’কে থাকতে হয়। যার বিনিময়ে গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং রাতে হলের ছাত্ররাই গেস্টরুমের ‘গেস্ট’ বনে যায়, যেখানে কি’না শেখানো হয় নানান ধরনের ‘শিষ্টাচার’। শিষ্টাচার যে অত্যাচারে রূপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজয় একাত্তরে হলের অপ্রীতিকর ঘটনাটি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

গণরুম সম্পর্কে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম বলেন, ছাত্রলীগ এ ধরনের কক্ষ চায় না। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যেন ভর্তির প্রথম বর্ষ থেকেই তার একটি বৈধ সীট পেয়ে যায়। গণরুম বাতিলের সিদ্ধান্তকে আমরা প্রশাসনকে স্বাগত জানাই।

এ দিকে ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সহায়তায় ছাত্রলীগ এসব দখল করেছে। অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাবি শাখার আহ্বায়ক রকিবুল ইসলাম রকিব বলছে, পেশি শক্তি দিয়ে হলগুলো দখল করেছে ছাত্রলীগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, গণরুম বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিছুটা সময় প্রয়োজন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

;

করোনায় আবারো দীর্ঘায়িত হচ্ছে ঢাবির সেশনজট



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়াতে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হল খোলা রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) তে সশরীরে ক্লাশ-পরীক্ষা বন্ধ রাখে। এদিকে সেশনজট কমানোর নানা পরিকল্পনা হাতে নিলেও আবারো দীর্ঘ সেশনজটে পড়তে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। 

সেশনজট কমাতে ঢাবি ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শরৎকালীন ও শীতকালীন ছুটি বাতিল করে দ্রুততার সহিত পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের পরিকল্পনা হাতে নিলেও অনেক অনুষদ ও ইন্সটিটিউট সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে নি। টেলিভিশন, ফিল্ম এ্যান্ড ফটোগ্রাফি, ফিন্যান্স, আরবি এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এদের মধ্যে অন্যতম।

টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান হাবিবা রহমান জানান, অন্যান্য বিভাগের চেয়ে টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অনেক ভিন্নতা রয়েছে। এখানে নির্দিষ্ট করে অনেক বিষয়ের উপর ব্যবহারিক ও ল্যাব রয়েছে। তাছাড়া এখানে হাতে-কলমে শেখার অনেক ব্যাপারই থেকে যায়। তাছাড়া বিভাগের পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজনই করোনা আক্রান্ত।

তিনি আরো জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখ থেকে সব সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হবে। ফাইনাল ইয়ার ছাড়াও চতুর্থ সেমিস্টার, ষষ্ঠ সেমিস্টার ও অষ্টম সেমিস্টারসহ যাদেরই পরীক্ষা নেয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে অনুষদের ডীন এবং বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলা হবে। আমরা কোনভাবেই চাই না কেউ ক্ষতির সম্মুখীন হোক।

এ দিকে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল জানায়, বিষয়টি তদারকি’র মধ্যে রয়েছে ; ইতিমধ্যে যেসব বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়নি তাদের তালিকা দিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে বলেছি। 

জানা যায়, টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া আরবি এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ তাদের সপ্তম এবং অষ্টম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করেনি। এদিকে ফিন্যান্স বিভাগও তাদের ফাইনাল পরীক্ষা সময়মত নিলেও তারা এখন পর্যন্ত সপ্তম সেমিস্টারের ফলাফলই প্রকাশ করতে পারেনি।

;

ঢাবিতে শিক্ষার্থীকে গেস্টরুমে ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলে আখতার হোসেন (১৯) নামের এক শিক্ষার্থীকে গেস্টরুমে ঢেকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের ৬ কর্মীর বিরুদ্ধে। নির্যাতিত শিক্ষার্থী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আখতার আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে হল প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

জানা যায়, গত বুধবার রাতে আকতার গেস্টরুমে গেলে সে অসুস্থতার কথা বললে ১ ঘণ্টা তাঁকে বৈদ্যুতিক বাল্বের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলা হলে, ১০ মিনিট তাকিয়ে থাকার পর তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় আহমেদ কাজল, সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়ামিন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান রাজু, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ, লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রোহান। এরা প্রত্যেকে ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রলীগে পদপ্রত্যাশী আবু ইউনুস ও রবিউল ইসলাম রানার অনুসারী।

অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁদের কাউকেই পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে হল ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী আবু ইউনুস বলেন, তারা যে গেস্টরুম নিচ্ছে সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। হল প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান থাকবে যে দোষীদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

এ ব্যাপারে বিজয় একাত্তর হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল বাছির বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ইতিমধ্যে আমরা তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।

;

প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ঢাবি টিএসসিতে হবে হল সম্মেলন



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ঢাবি টিএসসিতে হবে হল সম্মেলন

প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ঢাবি টিএসসিতে হবে হল সম্মেলন

  • Font increase
  • Font Decrease

দীর্ঘ ৫ বছর পর আগামী ৩০ জানুয়ারিতে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ বেড়ে চলায় গত ২১ জানুয়ারি থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।

এর আগে ২১ জানুয়ারিতে ক্যাম্পাসে সভা, সমাবেশ ও জনসমাগম না করার জন্য ঢাবির জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মাহমুদ আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনুরোধ জানায়। এখন পর্যন্ত অনুমতি না নিলেও শীঘ্রই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেবেন বলে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য বিধি মেনে প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই পদপ্রত্যাশী নেতৃবৃন্দ সহ সর্বোচ্চ ৫০০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে সম্মেলনটি, বলে জানান তিনি।

ওই দিন সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে ঢাবির ১৮ টি হলের হল সম্মেলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা সভাপতি বরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন  সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ও  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ ওবায়দুল কাদের।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য।

হল সম্মেলনটি উদ্বোধন করবেন ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়টি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বহুল প্রত্যাশিত হল সম্মেলন উপহার দিতে পারবেন বলে মনে করেন হল সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, করোনাকালীন নিষেধাজ্ঞার মাঝে আমরা যেকোনো সভা-সমাবেশ উৎসাহিত করছি না। আপাতত না করতে পরামর্শ দিচ্ছি এবং সহযোগিতা কামনা করছি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জানুয়ারি রাতে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য হল সম্মেলনের তারিখ জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৮টি হলের ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী ৩৩০ জন। প্রতি পদের বিপরীতে প্রত্যাশী প্রায় ১০ জন করে। সংগঠনটির কর্মীরা বলছেন, নিয়মিত সম্মেলন না হাওয়ায় কারণে এবার পদ প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি।

২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বরে হলগুলোতে ছাত্রলীগের সবশেষ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। সে হিসেবে ওই কমিটির মেয়াদ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলে, নতুন কমিটির মুখ দেখিনি হলগুলো।

;