ভিসি পদত্যাগের দাবিতে অনড় শাবির শিক্ষার্থী, আন্দোলন চলছে



শাবিপ্রবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ভিসি পদত্যাগের দাবিতে অনড় শাবির শিক্ষার্থী, আন্দোলন চলছে

ভিসি পদত্যাগের দাবিতে অনড় শাবির শিক্ষার্থী, আন্দোলন চলছে

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ৬ষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বাসভবন ঘেরাও করে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীদের এক দফা এক দাবির আন্দোলনেই  অনড় দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্লবার  সকাল ১০ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে সাড়ে ১০ টার দিকে পুরো ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এরপর সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপাচার্যের অপসারণের জন্য  রাষ্ট্রপতির কাছে ডাকযোগে একটি চিঠি পাঠান তারা।  এর আগে সকাল  বিক্ষোভ মিছিল শেষে  সকাল ১১ টায় সকল শিক্ষার্থী একসাথে বসে মঙ্গলবারের কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

এসময় আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী শাহেরিয়ার আবেদীন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো চিঠিটা সকলের উদ্দেশ্যে পাঠ করে শোনান। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা  বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের অবস্থান করছিলেন।

আওয়ামী লীগের একাত্মতা

এরপর বেলা ১টার দিকে দলের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক  সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের সঙ্গে সিলেটের নেতারা ক্যাম্পাসে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও দাবির বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবহিত হন। সবকিছু শোনার পর তিনি জানান শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন যৌক্তিক।

এসময় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা প্রমুখ।

এ সময় তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ধৈর্য ধারণের আহবান জানান। পরে তারা হল পরিদর্শন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন।

বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরাও উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানেই অবস্থান নিচ্ছেন।

রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে এক দফা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি ফটক বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দিয়েছে। সোমবার প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস

এদিকে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলায় উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী শুরু হওয়া প্রতিবাদী আন্দোলনের পর অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

সোমবার রাত পৌনে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখ্য তিন প্রতিনিধি সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন।  শিক্ষার্থীদের তিন প্রতিনিধির মধ্যে ছিলেন ইয়াসির সরকার, লোক প্রশাসন বিভাগের ১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ, ইংরেজী বিভাগের ১৬ সেশনের শিক্ষার্থী তানহা তাহসীন ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) শফিউল আলম জুয়েলের উপস্থিতিতে  ও তার মাধ্যমে মুঠোফোনে শিক্ষার্থীদের ওই প্রতিনিধিরা কথা বলেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী সাব্বির বলেন,  গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ফোনে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি আমাদের দাবি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে দ্রুতই কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথ কি কথা হয়েছে জানতে চাইলে সাব্বির বলেন,পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের সব কথা শুনেছেন। তার কাছে আমরা উপাচার্যের পদত্যাগের যে দাবি সেটি উল্লেখ করেছি এবং বর্তমান উপাচার্যের অধীনে আমরা আর একদিনও পড়াশোনা করতে চাই না সেটিও উল্লেখ করি। তিনি আন্দোলনকে আমি সমর্থন করেন বলে জানিয়েছেন।  যদি শান্তিপূর্ণভাবে আমরা  আন্দোলন করতে থাকি , আমাদের উপর কোনো পুলিশি হামলা হবে না। আমাদের এ দাবি নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন।

বর্তমান উপাচার্যের ফরিদ উদ্দিন আহমেদের  পদত্যাগের পূর্ব  পর্যন্ত প্রতিবাদী  কর্মসূচি চালিয়ে যাবার বিষয়টি জোড়ালো ভাবে জানানো হয়ছে বলে সাব্বির জানান।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েল তিন প্রতিনিধিকে কি বলেছেন জানতে চাইলে সাব্বির বলেন ,  "পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। "

সাব্বির বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা আমাদেরকে বলেছেন  "আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব তিনি নেবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া শাবি শিক্ষার্থীদের সহিংসতার পথে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রবিবারের ঘটনায় পুলিশের মামলা, আসামি অজ্ঞাত ৩০০ শিক্ষার্থী

রবিবার উপাচার্যকে উদ্ধারের সময় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘গুলিবর্ষণ ও হত্যার উদ্দেশে মারধরের’ অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ।

ওই দিন শিক্ষার্থীরা ককটেল ও বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছে মামলায় এমন অভিযোগও এনে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জালালাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল হান্নান মামলাটি করেন।

এসময় মামলাটি গ্রহণ করেন জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু খালেদ মামুন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, "বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটে। "

গত রবিবার বেলা সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশের কর্তব্যকাজে শিক্ষার্থীরা বাধা দেয় এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া এজহারে দেখা যায়,  ‘২০০ থেকে ৩০০ উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী হঠাৎ কর্তব্যরত পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন এমন অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।  কর্তব্যরত পুলিশের সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ধরে টানাটানি করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করাসহ পুলিশকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ৩১টি শটগানের গুলি এবং ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। "

মামলাটি তদন্তের জন্য জালালাবাদ থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিষয়ে জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) মো. আবু খালেদ মামুন বলেন, উদ্ভত পরিস্থিতি নিয়ে অজ্ঞাত ২০০/৩০০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল এই মামলাটি করা হয়।

১৬ পেরিয়ে ১৭-তে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ষোলো পেরিয়ে সতেরো বছরে পা রাখছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৬ সালের এই দিনে দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের এই বিদ্যাপীঠটির যাত্রা শুরু হয়। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নানা আয়োজন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় আনন্দ র‍্যালির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন।

র‍্যালিটি বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের সামনে থেকে শুরু হয়ে ময়নামতি জাদুঘর ঘুরে এসে মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এরপর সাড়ে দশটায় জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। তারপর সাদা পায়রা উড়িয়ে ও কেক কেটে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আব্দুল মঈন বলেন, ভবিষ্যতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের হিসেবে দেখাতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রধান উদ্দেশ্য শিক্ষা, গবেষণা ও কম্যুনিটি এনগেজমেন্টের ক্ষেত্রে যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের গড়ে তুলতে পারে সে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাবো।

;

ঢাবিতে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৬০ জনকে আসামি করে ছাত্রলীগের মামলা



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঢাবিতে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৬০ জনকে আসামি করে ছাত্রলীগের মামলা

ঢাবিতে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৬০ জনকে আসামি করে ছাত্রলীগের মামলা

  • Font increase
  • Font Decrease

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কার্জন এলাকা ও হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে গত মঙ্গলবার (২৪ মে) ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে ছাত্রলীগ।

শুক্রবার (২৭ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ্ হল ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বাদী হয়ে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে শাহবাগ থানায় মামলাটি করে।

মামলায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সিনিয়র সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ঢাবি ছাত্রদলের আহবায়ক আক্তার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আমানুল্লাহ আমানসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজহারে বলা হয়, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা, লোহার রডসহ আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ জন সাধারণ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হোন। এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী আহত হোন। সাধারণ উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে স্বেচ্ছায় মারাত্মকভাবে আমাদের ওপর হামলা করে।

মামলার বাদী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ২৪ মে শহীদুল্লাহ্ হল ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিলে মধুর ক্যান্টিন থেকে স্লোগান দিতে দিতে যখন হলের দিকে ফিরছিলাম তখন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের নেতৃত্বে লাঠিসোটা ও লোহার রড নিয়ে আমাদের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। এতে আমাদের শহীদুল্লাহ হলের ৮ জনসহ ফজলুল হক ও জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আমাদের ওপর এরকম হামলার বিচার চেয়ে আজকে আমি বাদী হয়ে মামলাটি করেছি।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদূদ হাওলাদার বলেন, ২৪ তারিখের ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা অভিযোগে ৫০-৬০ জনকে আসামি করে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ মামলা করেছে। আমরা মামলাটি গ্রহণ করেছি।

;

নিরাপদ ক্যাম্পাস, গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ সৃষ্টিতে ডাকসু নির্বাচনের দাবি



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নিরাপদ ক্যাম্পাস, গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ সৃষ্টিতে ডাকসু নির্বাচনের দাবি

নিরাপদ ক্যাম্পাস, গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ সৃষ্টিতে ডাকসু নির্বাচনের দাবি

  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস, গণতান্ত্রিক চর্চা ও সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টিতে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন দাবি করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব দল ও মতের কিছুটা সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছিল। কিন্তু অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার সেই ধারাকে নস্যাৎ করতে পেশিশক্তি-কালোটাকানির্ভর দখলদার বাহিনী ধারাবাহিকভাবে শিক্ষাঙ্গনকে ভয়ের অভয়ারণ্যে পরিণত করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত। শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি চললেও প্রশাসনের ভূমিকা পুরোপুরি নির্বিকার। দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানায় ছাত্র অধিকার পরিষদ।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ছাত্রসংগঠনগুলো হবে শিক্ষার্থীবান্ধব। কিন্তু দলীয় লেজুড়বৃত্তিসহ ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে দলীয় রাজনীতির ক্রীড়নক হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পবিত্র শিক্ষাঙ্গন হয়ে উঠেছে ভয়ের অভয়ারণ্য। এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস, গণতান্ত্রিক চর্চা ও সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টিতে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানায় ছাত্র অধিকার পরিষদ। একই সঙ্গে তারা অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানায়।

কয়েক দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উত্তপ্ত। ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের ভেতরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ছাত্রলীগ। এতে ছাত্রদলের অন্তত ৪৭ নেতা-কর্মী আহত হন। এর আগে গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের মিছিলে বেপরোয়া হামলা চালায় ছাত্রলীগ। তিন দিনের সংঘাতে দুই সংগঠনের অন্তত ১৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছরের অচলায়তন ভেঙে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচনের তিন বছর পূর্ণ হলেও পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নেই কোন পদক্ষেপ। অনেকে বলছে, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্রদের আগ্রহ থাকলেও প্রশাসনের অনীহা রয়েছে।

;

১৬৮ টি আসন কমালো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
১৬৮ টি আসন কমালো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

১৬৮ টি আসন কমালো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষা ও গবেষণার মান সমুন্নত রাখতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৬৮টি আসন কমানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গবেষণা ও শিক্ষার মান সুষ্ঠুভাবে ধরে রাখা এবং পাঠদান দ্বিমুখী করতে বিভাগগুলো থেকে আসন কমানোর সুপারিশ করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫টি বিভাগে মোট ১৬৮টি আসন কমানো হয়েছে। গতবার কোটা বাদে মোট আসন ছিল ৪ হাজার ১৭৩টি। কিন্তু এবছর তা কমে মোট আসন হয়েছে ৪ হাজার ৫টি।

অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ইতিহাস বিভাগে আসন কমেছে ১০টি, বাংলা বিভাগে ২০টি ও নাট্যকলাতে ৫টি আসন কমেছে। সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি বিভাগে আসন কমেছে ১০টি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কমেছে ১০টি, সমাজকর্ম বিভাগে ২০টি, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ২০টি, লোকপ্রশাসনে ১০টি, নৃবিজ্ঞানে ৬টি ও ফোকলোরে কমেছে ৬টি আসন।

এ ছাড়া জীববিজ্ঞান অনুষদের মনোবিজ্ঞান বিভাগে কমেছে ৫টি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে কমেছে ১৫টি আসন। প্রকৌশল অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১০টি এবং ভূ-বিদ্যা অনুষদের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগে আসন কমেছে ৬টি। চারুকলা অনুষদের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগে আসন কমেছে ১৫টি।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা থেকে রাবির ২০২১-২২ সেশনে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৯ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত। প্রাথমিকভাবে আবেদনকারীদের এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতি ইউনিটে ৭২ হাজার ভর্তিচ্ছু চূড়ান্ত আবেদনের জন্য নির্বাচিত হবেন।

;