ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে হয়নি সিদ্ধান্ত, তোপের মুখে ২ নেতা



আরিফ জাওয়াদ, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে হয়নি সিদ্ধান্ত, তোপের মুখে ২ নেতা

ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে হয়নি সিদ্ধান্ত, তোপের মুখে ২ নেতা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। এ নিয়ে পড়েছেন তোপের মুখে পড়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতা।

শনিবার (১৪ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে উপস্থিত হলে প্রত্যাশীদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

কেন্দ্রীয় শীর্ষ এ দুই নেতা সাংবাদিলদের বলেন, সম্মেলনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হলে নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা) জানাবেন। যখন সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হবে, আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতি নেবো, সেসব কার্যক্রম শুরুর আগেই অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেব।

এ বিষেয়ে জানতে চাইলে সম্মেলন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন বলেন, আমরা তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সম্মেলনের নির্দেশনা দিয়েছেন। আপনারা সম্মেলন আয়োজনে কতটা কাজ করছেন। তারা প্রথমে বলেন- এটা নেত্রীর কোন নির্দেশনা না। ওবায়দুল কাদের নিজের মন গড়া বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, জয়-লেখক ছাত্রলীগের সম্মেলনকে মন গড়া বলার পর আমরা তাদের প্রশ্ন করি যে, যদি মন গড়াই হয় তাহলে যুব মহিলা লীগ ও মহিলা লীগ প্রেস দিল কীভাবে যে তারা আওয়ামীলীগের নির্দেশে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই কথা বলার পর জয়-লেখক বলেন, কাদের ভাই নিজেই তো আমাদের ব্যাপারে কনফিউজড।

এ সময় আরিফ আরো বলেন, ‘আমাদের প্রশ্নের এক পর্যায়ে জয়-লেখক বলেন, আমাদের দুই দিনের ভেতর তারিখ নিতে বলেছিলেন নিতে পারি নাই। দেখি আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে আপার (শেখ হাসিনার) সঙ্গে কথা বলে তারিখ নির্ধারণ করব।’

জানা যায়, এর আগে ৭ মে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সহযোগী সদস্যগুলোকে সম্মেলন করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

গত মঙ্গলবার (১০ মে) সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সম্মেলন করার নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওই সভায় উপস্থিত থাকা ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে দু-এক দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দপ্তর সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারিখ নির্ধারণের জন্য নির্দেশনা দেন কাদের। তবে, আওয়ামী লীগের দপ্তর সেলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জয়-লেখক এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।

উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে। ২৯তম ওই জাতীয় সম্মেলনের প্রায় দুই মাসের মাথায় ৩১ জুলাই কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে সভাপতি হন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম রাব্বানী। দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের কারণে পরের বছরের অর্থাৎ ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পদচ্যুত হন শোভন-রাব্বানী। তখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় যথাক্রমে সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে। পরের বছর ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি তারা পূর্ণ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

সমালোচনার মুখে বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতাকারীর নামে ট্রাস্ট ফান্ড বাতিল



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সমালোচনার মুখে বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতাকারীর নামে ট্রাস্ট ফান্ড বাতিল

সমালোচনার মুখে বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতাকারীর নামে ট্রাস্ট ফান্ড বাতিল

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সমালোচনার মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের জন্য সাপ্তাহিক ‘হলিডে’র প্রয়াত সাংবাদিক এ জেড এম এনায়েতুল্লাহ্ খানের নামে সম্প্রতি গঠিত ট্রাস্ট ফান্ড বাতিল করা হয়েছে।

ঢাবি প্রো-ভিসি (প্রশাসন) ডক্টর মোহাম্মদ সামাদ বলেন, এনায়েতুল্লাহ খান সম্পাদিত ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘হলিডে’তে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকা-ের পর নিয়াজ জামানের লেখা “দি মেজরস কিলড দি সার্পেন্ট এন্ড মোস্ট অব ইটস এগস একসেপ্ট দি ডটারস হু ওয়্যার এব্রোড” শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, আমি বিস্মিত ও মর্মাহত যে, ওই সাংবাদিকের নামে স্বাধীনতার জন্মস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এ ট্রাস্ট ফান্ডের আর কোন কার্যকারিতা এবং গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। কারণ তথ্য বিকৃত করেছেন এবং বিভিন্নভাবে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করেছেন এমন ব্যক্তির নামে ট্রাস্ট ফান্ড পরিচালনা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শ ও মূল্যবোধের সাথে যায় না।

এর আগে এজেডএম এনায়েতুল্লাাহ খানের কন্যা নাসরীন জামান ১০ মে উপাচার্যের লাউঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদের কাছে ‘এনায়েতুল্লাহ খান স্মৃতি ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠনের জন্য ২৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন। ঢাবি ভিসি ড. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি ছিলেন।

এসময় রাশেদ খান মেনন, রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. জিয়া রহমান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবুল মনসুর আহমেদ এবং দাতা পরিবারের সদস্য আবু সালেহ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

;

ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

  • Font increase
  • Font Decrease

নিউমার্কেট দোকান কর্মীদের সাথে সংঘর্ষের এক মাস পার না হতেই ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এবার আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। ঘটেছে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত তা এখনো জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে।

শনিবার (১৪ মে) সায়েন্সল্যাব মোড়ের পাশে এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষকরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সরিয়ে এনেছি। তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। আইডিয়াল কলেজের শিক্ষকরা তাদের ছাত্রদের সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

সংঘর্ষের বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এ টি এম মইনুল হোসেন বার্তা২৪.কম’কে বলেন, দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। আমি শিক্ষকদের পাঠিয়েছি। শিক্ষার্থীরা সরে এসেছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ চন্দ্র বার্তা২৪.কম’কে বলেন, দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এখন পরিবেশ শান্ত।

;

শতবর্ষের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শতবর্ষের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান হল প্রাঙ্গণে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শতবর্ষের মিলনমেলার আনন্দ ভাগাভাগি করতে হলের সকল শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি দর্শন। তিনি সকলকে নিয়েই আনন্দ উদযাপন করতেন, শুধু কষ্ট ভোগ করতেন নিজে এককভাবে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় এবং তাদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসার জন্য বৃত্তি প্রদানসহ কিছু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করতে উপাচার্য হল অ্যালামনাইদের প্রতি আহ্বান জানান।

রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও স্বনির্ভর দেশে পরিণত করেছেন। দক্ষ, যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে আগামী দিনে হলের প্রতিটি শিক্ষার্থী দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শহীদ উল্লা খন্দকারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও হলের প্রাক্তন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার, হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাবেদ হোসেন এবং হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর বেপারী উপস্থিত ছিলেন।

;

ঢাবির ফার্মেসি অনুষদের সাবেক দুই ডিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফার্মেসি অনুষদ

ফার্মেসি অনুষদ

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদের সাবেক দুই ডিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি কে করেছেন, চিঠিতে তার পূর্ণ নাম লেখা নেই।

১৫ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর পাঠানো অভিযোগের চিঠিটি ১১ মে গ্রহণ করে দুদক। অভিযোগের অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাতীয় প্রেসক্লাবেও পাঠানো হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের তহবিল থেকে টাকা আত্মসাতের মামলায় গত ২২ মার্চ শাহবাগ থানা পুলিশ অনুষদের অফিস সহকারী সাজ্জাদ হোসেন ও পিয়ন সুজনকে গ্রেফতার করে। দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় শাহবাগ থানার পক্ষ থেকে তা দুদককে অবহিত করে চিঠি পাঠানো হলে গ্রেফতারকৃত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় পরিচালিত ফার্মেসি অনুষদের উন্নয়ন তহবিল ও ফার্মেসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ব্যাংক হিসাব থেকে অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আব্দুর রহমানের সইয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা সরানো হয়। টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নজরে আসার পর গত ১০ জানুয়ারি ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় নিয়মিত মামলার সুপারিশ করলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া ডিনের দায়িত্ব শেষ হওয়ার দুদিন পরও ব্যাকডেট দিয়ে অধ্যাপক আবদুর রহমান ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। সাবেক ডিন অধ্যাপক এস এম আব্দুর রহমান ২০২০ সালে করোনা শুরু হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির নামে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান বাবদ পাওয়া ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ সংক্রান্ত তথ্য জানেন গ্রেফতার হওয়া কর্মচারীরা।

গত চার বছরে অধ্যাপক রহমান ঢাকার বাড্ডায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ঢাকার উত্তরার একটি অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন। রয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি। তার স্ত্রী একজন গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও তার নামে রয়েছে ঢাকায় ফ্ল্যাট ও কোটি কোটি টাকার এফডিআর। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি-ফ্ল্যাট, নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার এফডিআরসহ এসবের উৎস কী, তা এনবিআরের মাধ্যমে তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে। অনুষদের সদ্য সাবেক ডিন এস এম আব্দুর রহমানের সইয়ে টাকা উত্তোলন করা হলেও তাকে এখনও গ্রেফতার না করায় দুদকের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।

গ্রেফতারকৃত দুই কর্মচারী অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের নিকট আত্মীয় হওয়ায় তিনি ডিন থাকাকালীন তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতে নিয়োগের আবেদনের রেফারি হিসেবে অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের সুপারিশ রয়েছে। এদের মধ্যে পিয়ন সুজন তার স্ত্রীর ভাগ্নে হওয়ায় তার মাধ্যমে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ঘুষ নিয়েছেন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ও অধ্যাপক আব্দুর রহমান। পিয়ন সুজনের কোটি টাকার সম্পদের হিসাব নিলেই এর সত্যতা মিলবে।

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ডিন থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। ঢাকা শহরে তার ও তার আত্মীয়-স্বজনদের নামে-বেনামে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গাড়ি ও বাড়ি রয়েছে। এমনকি তার দুই মেয়ে বিদেশে থেকে পড়াশোনা করছেন, যা কোনোভাবেই তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কয়েক বছর আগে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানীর বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সদস্য থাকার কারণে বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্সপেকশনের নামে অনৈতিকভাবে লাখ লাখ টাকার আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন এবং তাদের নানাভাবে হয়রানি করেছেন।

তাছাড়া ২০১৫ সালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির অধীনে সারাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর উৎপাদনের সার্বিক বিষয় তদারকির টিম লিডার থাকাকালীন অনেকগুলো কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে নেগেটিভ রিপোর্ট দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার অনৈতিক সুবিধা ও ঘুষ নিয়েছেন। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জিঘাংসা চরিতার্থ করার ঘৃণ্য মানসে খোঁড়া অজুহাতে অনেক কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ করার সুপারিশ করেছেন। যদিও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে কোম্পানিগুলো আবার উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।

অন্যদিকে অনুষদের সদ্য সাবেক ডিন অধ্যাপক আবদুর রহমান অধ্যাপক ফারুকের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে দুই কর্মচারীকে বিভিন্ন সময়ে এসব কাজে ব্যবহার করেছেন। সাবেক এ দুই ডিনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও রমনা থানায় ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে জিডিও রয়েছে। তাই দুই কর্মচারীকে রক্ষার্থে এবং অর্থ আত্মসাতের পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরে নানাভাবে তদবির করে চালিয়েছেন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর একে আজাদ চৌধুরী। আদালতে সাক্ষ্য দিলে অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ও অধ্যাপক আব্দুর রহমানসহ অনেকে ফেঁসে যেতে পারেন। এজন্য তারা অনুষদের বর্তমান ডিনকে বিষয়টি সুরাহা করতে এবং মামলা প্রত্যাহারে চাপ দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

এ ছাড়া ছয় মাস কিংবা এক বছর পর পর অডিট করার প্রয়োজন থাকলেও ফার্মেসি অনুষদে বিগত কয়েক বছরেও কোনো অডিট করা হয়নি বিধায় বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। অতএব শিগগিরই অধ্যাপক রহমান ও অধ্যাপক আ ব ম ফারুককে গ্রেফতার করে ফরেনসিক রিপোর্টসহ তদন্ত করা হলে অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত সব দুর্নীতি বের হয়ে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. এস এম আবদুর রহমান বলেন, এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরাই আত্মসাতের ব্যাপারে অভিযোগ করলাম, তদন্ত কমিটি গঠন করলাম। সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে বললাম, এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হলো। আমরাই আবার এদের মুক্ত করতে চাইছি- এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও হাস্যকর অভিযোগ।

তিনি আরও বলেন, এ অভিযোগ শুনে আমি রীতিমতো অবাক হচ্ছি। যারা এ ধরনের অভিযোগ দিয়েছে, তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। আমি সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি এবং আমি ১১ মে নির্বাচনের জন্য নমিনেটেড হয়েছি, আর সেদিনই এ অভিযোগপত্র দুদকে দেওয়া হয়েছে। এতেই বুঝা যাচ্ছে আমার ক্ষতি করতেই এসব প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।

এ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী বলেন, আমি তো এসব ব্যাপারে কিছুই জানি না। এসবের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

এ বিষয়ে জানতে ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু তারা কল রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, অনুষদটির সদ্য সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. এস এম আবদুর রহমানের সই জালিয়াতি করে ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত, অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার A/C 0200009379565 এবং A/C 0200000947674 একাউন্ট থেকে আনুমানিক ২০টি চেকের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে অনুষদের ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে ৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং ফার্মেসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ছয় মাস কিংবা এক বছর পর পর অডিট করার প্রয়োজন থাকলেও অনুষদে প্রায় দুই বছরেও তা করা হয়নি।

পরবর্তীতে গত ১০ জানুয়ারি ফার্মাসি বিভাগের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন তৎকালীন ডিন আবদুর রহমান। কমিটির প্রতিবেদনে দুজনকে সন্দেহ করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি এই ঘটনায় নিয়মিত মামলার সুপারিশ করা হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির সিন্ডিকেটে মামলা করার সিদ্ধান্তটিও অনুমোদিত হয়।

পরবর্তীতে ফার্মাসি অনুষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন ও অফিস সহায়ক মো. সুজনের সংশ্লিষ্টতা পেলে বিভাগ তাদের আটক করে। পরে তাদের আদালত পাঠানো প্রেরণ করা হয়।

;