ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন পূরণে ভর্তি পরীক্ষায় বসবেন ৫৫ বছরের বেলায়েত



আরিফ জাওয়াদ, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন পূরণে ভর্তি পরীক্ষায় বসবেন ৫৫ বছর বয়সী বেলায়েত

ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন পূরণে ভর্তি পরীক্ষায় বসবেন ৫৫ বছর বয়সী বেলায়েত

  • Font increase
  • Font Decrease

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস, সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র দিয়ে দোয়া চেয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী একজন। মুহূর্তের মধ্যে প্রবেশপত্রসহ নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় সেটি। চলতে থাকে নানা গাল-গল্প।

বলছিলাম গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড এলাকার মৃত হাসেন আলী শেখ ও জয়গন বিবির চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান বেলায়েত শেখের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন তিনি।

১৯৬৮ সালে জন্ম নেয়া বেলায়েত, ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি ছিল আগ্রহ। প্রবল আগ্রহ থাকলেও দারিদ্র্যের কারণে কূল পেয়ে উঠেননি তিনি। এত বিপত্তির মাঝে ১৯৮৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা (এসএসসি) যে না মাত্র বসতে যাবে তখনই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা হাসেন আলী। পরীক্ষার জন্য ফর্ম ফিল আপের পুরো টাকা ব্যয় হয় বাবার চিকিৎসার পেছনে। পরবর্তীতে যে-না পরীক্ষায় বসতে যাবেন আবারও বিধি-বাম, ১৯৮৫ সালে বন্যা এসে আবার তা ভণ্ডুল হয়ে যায়। এদিকে ১৯৯১-৯২ তে গিয়ে মা অসুস্থ হয়ে পড়লে আবারও বাঁধ সাধে। মা ভক্ত বেলায়েত মনে করেন, “দুনিয়াতে মা বেঁচে না থাকলে এই লেখাপড়া দিয়ে কি হবে।” লেগে পড়েন মাতৃসেবায়। কাঁধে নেন পুরো সংসারের দায়িত্ব।

এসএসসি দিতে না পারায় মেকানিক্যাল কোর্স করে মোটর গাড়ির ওয়ার্কশপ কাজ শুরু করেন; তা দিয়েই চলে সংসার। সঙ্গে ভাই-বোনদের পড়াশোনার দায়িত্ব পড়ে তাঁর কাঁধে। অভাবের মাঝে ভাই-বোনদের উচ্চ শিক্ষা দিতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে স্বপ্ন বুনেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) উচ্চ শিক্ষা নিয়ে। তিন সন্তানের জনক বেলায়েত শেখ।

বড় ছেলে গাজীপুরের একটি কলেজ থেকে স্নাতকে পড়ছেন, সেই সঙ্গে মাওনা চৌরাস্তায় তাঁকে স্যানেটারির দোকান করে দিয়েছেন বেলায়েত শেখ। সম্প্রতি তাকে বিয়েও করিয়েছেন। একমাত্র মেয়েকে ঘিরে বেলায়েত শেখের ছিল সকল স্বপ্ন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “আমার মায়ের পরে আমি আমার মেয়েকে অনেক ভালবাসতাম। স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে হয় তো মেয়েটি আমার মুখ উজ্জ্বল করবে। হবে বিসিএস ক্যাডার।” সেজন্য রাজধানীর নামকরা কলেজে ভর্তিও করিয়েছেন কিন্তু মেয়ে সেখানে পড়াশোনা না করেই গ্রামে চলে আসে। সেখানে এইচএসসি শেষে একটি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হয়।

মায়ের সঙ্গে বেলায়েত শেখ

সকল স্বপ্ন যেন তখনই শেষ হয়ে যায়, বেলায়েত শেখ বার্তা২৪.কম’কে বলেন। ওই কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়েছে তার মেয়ে। এরপর তাকেও বিয়ে দিয়ে দেন। এদিকে বেলায়েত শেখের সবচেয়ে ছোট ছেলে এ বছর মাধ্যমিক পাস করেছেন, তিনিও পড়ছেন একটি ইঞ্জিনিয়ারিংএ কলেজে।

তিন সন্তানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) না পড়ার যন্ত্রণা জেঁকে বসে বেলায়েতের। সকল অপ্রাপ্তি অপূর্ণতা সন্তান, ভাই-বোনের কাঁধ থেকে নামিয়ে নিজের কাঁধেই তুলে দেন বেলায়েত। শুরু করেন পড়াশোনা। চলতি বছরে ঢাকা মহানগর কারিগরি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি-ভোকেশনাল) জিপিএ ৪.৪৩ নিয়ে পাস করেন। এর আগে ২০১৯ সালে বাসাবোর দারুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসা থেকে জিপিএ ৪.৫৮ পেয়ে মাধ্যমিক সমমান দাখিল (ভোকেশনাল) পাস করেন।

এ বয়সে সংসার সামলে পড়াশোনার অনুপ্রেরণা কার কাছ থেকে পান জানতে চাইলে বেলায়েত শেখ বলেন, “আমার মা, আমার সকল অনুপ্রেরণার উৎস।” এছাড়া শ্রীপুর কারিগরী কলেজের বন্ধু প্রভাষক মো. সিদ্দিক ও উনার স্ত্রী মারুফা ও অধ্যক্ষ সেলিমের কারণে এতদূর আসতে পেরেছেন বলে জানান তিনি। এত কিছুর মাঝে জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে চাওয়া ও স্বপ্নের পানে ছুটে চলা বেলায়েত একটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন টিভিতে সাংবাদিকতাও করেন।

বেলায়েত শেখ আগামী মাসে অংশ নিতে যাচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি যুদ্ধে। নিজের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলছেন স্বপ্নের পানে ছোটা এ যোদ্ধা। বেলায়েত বলেন, “সন্তানরা আপনার স্বপ্নগুলো গুঁড়ে-বালি করে দিয়েছে। তাই নিজের স্বপ্ন নিজেই পূরণ করার যুদ্ধে নেমেছি।” ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে ভর্তি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং এ। ঢাবিতে বয়স নিয়ে কোন জটিলতা থাকলে তিনি আদালতে রীট করতেন বলে জানান। তিনি বলেন “আমি যদি এসএসসি, এইচএসসি পাশ করি চেষ্টা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত অসুবিধা কই? বাকিটা আল্লাহর ভরসা।”

এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের উদ্দেশ্যে বেলায়েত শেখ বলেন, “আজকের ছেলে মেয়েরা অনলাইনে যে সময় ব্যয় করে, তাঁরা যদি লেখাপড়ার পেছনে এ সময় দেয়। বাবা-মার সেবা যত্ন করে, তাঁরা অনেক সফল হবেন। বাবাকে একটু মাকে একটু খুশি করি, কেন যেন সন্তানরা বোঝে না”, বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পরিবারের লোকজন ও সন্তানরা পড়াশোনা করার বিষয়টি কীভাবে দেখেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সময় তাঁরা ভালভাবে নিত না তবে এখন তাঁরা ভাল ভাবে নেয়। তাছাড়া কোচিং যখন তিনি ভর্তি হতে যান তখন অভিভাবকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। বাবা বেঁচে নেই, মা অসুস্থ। তাই তাঁর বড় ছেলেই অভিভাবক হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

এ বয়সে পড়াশোনা মুখস্থ হয় না বলে জানান, বেলায়েত। মুখস্থ না হওয়ায়, পড়ার পাশাপাশি তিনি প্রচুর লিখেন। বেলায়েত শেখ জানান, এমনও হয়েছে যে কোন লিখা ১০০ বারও লিখেছি। মায়ের দোয়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবেন বলে আশাবাদী তিনি। ইচ্ছে থাকলে উপায়, চেষ্টা, পরিশ্রম করলে এর ফসল ভাল হবে, বলে তিনি মনে করেন। কথার শেষ পর্যায়ে বেলায়েত বলেন, “শিক্ষা-দীক্ষার শিক্ষা চাই। শিক্ষার কোন বয়স নাই।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেলে পড়াশোনা ছেড়ে দিবেন কি’না জানতে চাইলে বার্তা২৪.কম’কে বলেন, “কখনোই না! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) আমার স্বপ্ন বটে, তবে পড়াশোনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।” জীবদ্দশায় যতদূর পারা যায় তদ্দূর পর্যন্তই পড়বেন বলে জানান, জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে চাওয়া ও স্বপ্নের পানে ছুটে চলা বেলায়েত শেখ।

মানসিক রোগের ডাক্তার থাকার কথা জানেনই না শিক্ষার্থীরা



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত একবছরে যার সংখ্যা একশো ছাড়িয়েছে, যার ৩৯ শতাংশই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের। এর পেছনে মানসিক চাপ ও হতাশাকে বেশি দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ থেকে পরিত্রাণে মানসিক কাউন্সিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের দরকার বলে মনে করেন তারা।

২০০৯ সাল থেকে শুরু করা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে আছেন একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। অথচ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানেনই না। অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীর সাথে এ বিষয়ে কথা বললে ১৪ জনই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থাকার বিষয়ে কোন কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আছেন কি না- এমন প্রশ্নে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুপন সূত্রধর বলেন, 'সম্ভবত নেই।' তিনি আরও বলেন, মেডিকেল সেন্টারে কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আছে কি না সেটা আমার জানা নেই। যদি থেকে থাকে, অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিটা ডিপার্টমেন্টে সেমিনার করে সচেতন করা।

কুবি মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, প্রত্যেক বিভাগ ও দফতরে শুরুতেই এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এটা নতুন করে জানানোর কিছু নেই। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের এ ব্যাপারে ধারণা দেয় তাহলে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা আরও বাড়বে। প্রচারণা করার চেয়ে বড় জায়গা আর হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে শিক্ষার্থীরা কোনো মানসিক চিকিৎসা নিতে আসলে তারা সম্পূর্ণ চিকিৎসাই নিতে পারবে। অন্য কোনো ডাক্তারের দ্বারস্থ হতে হবে না।

এদিকে কুবির মেডিকেল সেন্টারে নেই পর্যাপ্ত লোকবল, রুম, যন্ত্রপাতি, ঔষধ। একটি রুমকে কাঁচের দেয়াল দিয়ে ভাগ করে বানানো হয়েছে ডাক্তার বসার রুম, ঔষধ রাখার রুম ও রোগী দেখার রুম। দুইটি অ্যাম্বুলেন্সের একটি নষ্ট, আরেকটিতে নেই নির্দিষ্ট চালক।

এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা যতটুকু সম্ভব শিক্ষার্থীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের চাহিদা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ইউজিসি থেকে মেডিকেল সেন্টারের জন্য ৫টি পদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল আগে। সামনে আমরা নতুন পদ চাইব ইউজিসির কাছে।

এছাড়া বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা খুবই কম। তবুও আমরা জায়গা বাড়ানোর চেষ্টা করবো। সামনের প্লানিং কমিটির মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

;

পহেলা জুলাই থেকে বিমার আওতায় আসছেন রাবি শিক্ষার্থীরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পহেলা জুলাই থেকে বিমার আওতায় আসছেন রাবি শিক্ষার্থীরা

পহেলা জুলাই থেকে বিমার আওতায় আসছেন রাবি শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা প্রকল্পের আওতায় আসছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সকল শিক্ষার্থী। এতে বাৎসরিক দুইশত পঞ্চাশ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে মৃত্যুজনিত দাবি বাবদ ২ লক্ষ ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা পাবেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত উন্মুক্ত আলোচনা সভায় এসব কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সভা সূত্রে জানা যায়, ২ বছর মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনবীমা চালু হচ্ছে। ফলে নিজ নিজ বিভাগে ভর্তিকালীন সময়ে বাৎসরিক ২৫০ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে এ বীমার অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য এ বীমা বাধ্যতামূলক। অধ্যয়নরত অবস্থায় কোন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে অথবা ছাত্রত্ব শেষ হলে এ বীমা পরিসমাপ্ত হবে।

বীমাকৃত শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক প্রিমিয়াম ও প্রাপ্ত সুবিধাসমূহের মধ্যে রয়েছে- বাৎসরিক প্রিমিয়াম,  বীমাকৃত শিক্ষার্থীদের জনপ্রতি মৃত্যুজনিত দাবী বাবদ  ২ লক্ষ টাকা, হাসপাতালে ভর্তিকালীন চিকিৎসার ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা। যা প্রতি ৩ মাস পরপর বছরে ৪ বার পেতে পারে। তবে বহির্বিভাগে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বছরে ২০ হাজার টাকা পাবেন শিক্ষার্থীরা। যেখানে তাদের প্রতিমাসে একাধিকবার কনসালটেন্সি ফি, মেডিকেল ফি, প্যাথলজি ফি ইত্যাদি বাবদও এ অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বীমা চালু হলে সকল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ডাচ- বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং রকেট এ্যাকাউন্টে একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলতে হবে।

সভায় জেনিথ ইন্স্যুরেন্সের ডেপুটি ভাইস-প্রেসিডেন্ট আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, শিক্ষার্থীরা প্লে স্টোর থেকে ‘জনিথ ইসরামী লাইফ ইনসুরেন্স লিমিটেড’ আ্যাপ ডাউনলোড অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইডে গিয়ে সম্পুর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। প্রিমিয়াম পরিশোধ করে বিনিময়ে জীবন বীমার আওতায় থাকা কোনো শিক্ষার্থী মারা গেলে তার পরিবার এককালীন সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পাবেন। আর স্বাস্থ্যবীমার আওতায় কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিলে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা পাবেন। আবার বীমার আওতায় থাকা অসুস্থ হওয়া কোনো শিক্ষার্থী যদি হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চিকিৎসা নেয় সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা পাবেন। এক্ষেত্রে এক দিনের চিকিৎসা ব্যয় ২০ হাজার হলেও ক্লেইম করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। তবে এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, হাসপাতালের বিলের কাগজপত্র অথবা ভাউচার জমা দিতে হবে।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরসনে ২ বছর মেয়াদী এই বীমা প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে অর্থের অভাবে সে খারাপ কোন পরিণতির শিকার না হয়। কেননা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক দরিদ্র পরিবার থেকেও পড়াশোনার জন্য আসে শিক্ষার্থীরা। তাই আমরা চাই না আমাদের কোন শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাক। তবে এটাও চাইনা আমার কোন শিক্ষার্থীর এমন কোন অবস্থা হোক, আমি চাই  আমার সকল শিক্ষার্থী সুস্থ থাক। সুন্দর ভাবে পড়াশোনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করুক।

উপাচার্য বলেন, এ প্রকল্পের সকল কার্যক্রম হবে অনলাইন প্রক্রিয়ায়। ফলে শতভাগ নিরাপদ ও জবাবদিহিতা জায়গা রয়েছে। এখানে কোন ধরণের দুর্নীতির সুযোগ নেই। তাই সকল শিক্ষার্থীকে এ বীমার অন্তর্গত হয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সহায়তায় করার আহ্বান করেন উপাচার্য।

এসময় সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক (অব.) মো. অবায়দুর রহমান প্রামানিক, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডেসহ অনুষদ অধিকর্তা, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় সভাপতি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

;

প্রভাষক উৎপল হত্যার বিচার দাবিতে চবিতে মানববন্ধন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
প্রভাষক উৎপল হত্যার বিচার দাবিতে চবিতে মানববন্ধন। বার্তা২৪.কম

প্রভাষক উৎপল হত্যার বিচার দাবিতে চবিতে মানববন্ধন। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ৪১ তম ব্যাচের মেধাবী ছাত্র, ঢাকা আশুলিয়াস্থ হাজী ইউনুস  আলী স্কুল এন্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক উৎপল কুমার সরকারের নির্মম ও বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার (২৮ জুন) দুপুরে চবি ক্যাম্পাসে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ৪১ তম ব্যাচ কর্তৃক আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্রভাষক উৎপল হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, "নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালনের কারণে আর যেন কোনও শিক্ষক নির্যাতন ও মৃত্যুর মুখোমুখি না হন। এজন্য আমরা এহেন ঘৃণ্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি করছি।"

প্রভাষক উৎপলের সহপাঠী ও চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ৪১ তম ব্যাচের পক্ষে মো. সুমন মামুন বার্তা২৪.কম'কে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের উপযুক্ত শান্তির দাবিতে প্রতিবাদ আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানান।

এদিকে প্রভাষক উৎপল কুমার সরকার হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের পক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে। বিভাগের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি প্রতীকী প্রতিবাদস্বরূপ মঙ্গলবার দুপুরের পর বিভাগের সকল ক্লাস স্থগিত করা হয়।

;

চবিতে সাংবাদিক হেনস্তায় অভিযুক্ত ৯ ছাত্রলীগ কর্মীকে শোকজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ৯ ছাত্রলীগ কর্মীকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ ঘটনার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে তাদের।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

শোকজ করা ৯ ছাত্রলীগ কর্মী হলেন- লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের (নিলয়), অর্থনীতি বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের রানা আহমেদ, একই সেশনের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ওয়ায়দুল হক লিমন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ২০১৬-১৭ সেশনের আশিষ দাস, দর্শন বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের সাজ্জাদুর রহমান, সংস্কৃত বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের তুষার তালুকদার বাপ্পা, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের আহম্মদ উল্লাহ রাব্বি ও একই বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের জাহিদুল ইসলাম এবং সংস্কৃত বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের রুদ্র তালুকদার।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন গভীর রাতে সাংবাদিকদের রুমে এসে হেনস্তা ও হুমকি দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলে থাকা ৯ জন ছাত্রলীগ কর্মী। তখন তারা অকথ্য ভাষা সাংবাদিকদের গালিগালজ করেন এবং মারতে তেড়ে আসেন।

জানা গেছে, হুমকি দেওয়া সবাই শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয়ের একাংশের নেতা মোহাম্মদ ইলিয়াসের অনুসারী। পরে এ ঘটনায় গত ১৯ জুন প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)।

এ বিষয়ে চবি প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, গত ১৬ জুন রাতে সাংবাদিকদের হুমকির ঘটনায় ১৯ জুন চবি সাংবাদিক সমিতি একটি অভিযোগ দায়ের করেছিল। এর প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আজ ৯ জনকে শোকজ করেছি। সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ ঘটনার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে তাদেরকে। তাদের জবাবের প্রেক্ষিতে পরাবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

;