ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন পূরণে ভর্তি পরীক্ষায় বসবেন ৫৫ বছরের বেলায়েত



আরিফ জাওয়াদ, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন পূরণে ভর্তি পরীক্ষায় বসবেন ৫৫ বছর বয়সী বেলায়েত

ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন পূরণে ভর্তি পরীক্ষায় বসবেন ৫৫ বছর বয়সী বেলায়েত

  • Font increase
  • Font Decrease

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস, সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র দিয়ে দোয়া চেয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী একজন। মুহূর্তের মধ্যে প্রবেশপত্রসহ নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় সেটি। চলতে থাকে নানা গাল-গল্প।

বলছিলাম গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড এলাকার মৃত হাসেন আলী শেখ ও জয়গন বিবির চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান বেলায়েত শেখের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন তিনি।

১৯৬৮ সালে জন্ম নেয়া বেলায়েত, ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি ছিল আগ্রহ। প্রবল আগ্রহ থাকলেও দারিদ্র্যের কারণে কূল পেয়ে উঠেননি তিনি। এত বিপত্তির মাঝে ১৯৮৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা (এসএসসি) যে না মাত্র বসতে যাবে তখনই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা হাসেন আলী। পরীক্ষার জন্য ফর্ম ফিল আপের পুরো টাকা ব্যয় হয় বাবার চিকিৎসার পেছনে। পরবর্তীতে যে-না পরীক্ষায় বসতে যাবেন আবারও বিধি-বাম, ১৯৮৫ সালে বন্যা এসে আবার তা ভণ্ডুল হয়ে যায়। এদিকে ১৯৯১-৯২ তে গিয়ে মা অসুস্থ হয়ে পড়লে আবারও বাঁধ সাধে। মা ভক্ত বেলায়েত মনে করেন, “দুনিয়াতে মা বেঁচে না থাকলে এই লেখাপড়া দিয়ে কি হবে।” লেগে পড়েন মাতৃসেবায়। কাঁধে নেন পুরো সংসারের দায়িত্ব।

এসএসসি দিতে না পারায় মেকানিক্যাল কোর্স করে মোটর গাড়ির ওয়ার্কশপ কাজ শুরু করেন; তা দিয়েই চলে সংসার। সঙ্গে ভাই-বোনদের পড়াশোনার দায়িত্ব পড়ে তাঁর কাঁধে। অভাবের মাঝে ভাই-বোনদের উচ্চ শিক্ষা দিতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে স্বপ্ন বুনেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) উচ্চ শিক্ষা নিয়ে। তিন সন্তানের জনক বেলায়েত শেখ।

বড় ছেলে গাজীপুরের একটি কলেজ থেকে স্নাতকে পড়ছেন, সেই সঙ্গে মাওনা চৌরাস্তায় তাঁকে স্যানেটারির দোকান করে দিয়েছেন বেলায়েত শেখ। সম্প্রতি তাকে বিয়েও করিয়েছেন। একমাত্র মেয়েকে ঘিরে বেলায়েত শেখের ছিল সকল স্বপ্ন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “আমার মায়ের পরে আমি আমার মেয়েকে অনেক ভালবাসতাম। স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে হয় তো মেয়েটি আমার মুখ উজ্জ্বল করবে। হবে বিসিএস ক্যাডার।” সেজন্য রাজধানীর নামকরা কলেজে ভর্তিও করিয়েছেন কিন্তু মেয়ে সেখানে পড়াশোনা না করেই গ্রামে চলে আসে। সেখানে এইচএসসি শেষে একটি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হয়।

মায়ের সঙ্গে বেলায়েত শেখ

সকল স্বপ্ন যেন তখনই শেষ হয়ে যায়, বেলায়েত শেখ বার্তা২৪.কম’কে বলেন। ওই কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়েছে তার মেয়ে। এরপর তাকেও বিয়ে দিয়ে দেন। এদিকে বেলায়েত শেখের সবচেয়ে ছোট ছেলে এ বছর মাধ্যমিক পাস করেছেন, তিনিও পড়ছেন একটি ইঞ্জিনিয়ারিংএ কলেজে।

তিন সন্তানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) না পড়ার যন্ত্রণা জেঁকে বসে বেলায়েতের। সকল অপ্রাপ্তি অপূর্ণতা সন্তান, ভাই-বোনের কাঁধ থেকে নামিয়ে নিজের কাঁধেই তুলে দেন বেলায়েত। শুরু করেন পড়াশোনা। চলতি বছরে ঢাকা মহানগর কারিগরি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি-ভোকেশনাল) জিপিএ ৪.৪৩ নিয়ে পাস করেন। এর আগে ২০১৯ সালে বাসাবোর দারুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসা থেকে জিপিএ ৪.৫৮ পেয়ে মাধ্যমিক সমমান দাখিল (ভোকেশনাল) পাস করেন।

এ বয়সে সংসার সামলে পড়াশোনার অনুপ্রেরণা কার কাছ থেকে পান জানতে চাইলে বেলায়েত শেখ বলেন, “আমার মা, আমার সকল অনুপ্রেরণার উৎস।” এছাড়া শ্রীপুর কারিগরী কলেজের বন্ধু প্রভাষক মো. সিদ্দিক ও উনার স্ত্রী মারুফা ও অধ্যক্ষ সেলিমের কারণে এতদূর আসতে পেরেছেন বলে জানান তিনি। এত কিছুর মাঝে জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে চাওয়া ও স্বপ্নের পানে ছুটে চলা বেলায়েত একটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন টিভিতে সাংবাদিকতাও করেন।

বেলায়েত শেখ আগামী মাসে অংশ নিতে যাচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি যুদ্ধে। নিজের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলছেন স্বপ্নের পানে ছোটা এ যোদ্ধা। বেলায়েত বলেন, “সন্তানরা আপনার স্বপ্নগুলো গুঁড়ে-বালি করে দিয়েছে। তাই নিজের স্বপ্ন নিজেই পূরণ করার যুদ্ধে নেমেছি।” ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে ভর্তি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং এ। ঢাবিতে বয়স নিয়ে কোন জটিলতা থাকলে তিনি আদালতে রীট করতেন বলে জানান। তিনি বলেন “আমি যদি এসএসসি, এইচএসসি পাশ করি চেষ্টা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত অসুবিধা কই? বাকিটা আল্লাহর ভরসা।”

এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের উদ্দেশ্যে বেলায়েত শেখ বলেন, “আজকের ছেলে মেয়েরা অনলাইনে যে সময় ব্যয় করে, তাঁরা যদি লেখাপড়ার পেছনে এ সময় দেয়। বাবা-মার সেবা যত্ন করে, তাঁরা অনেক সফল হবেন। বাবাকে একটু মাকে একটু খুশি করি, কেন যেন সন্তানরা বোঝে না”, বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পরিবারের লোকজন ও সন্তানরা পড়াশোনা করার বিষয়টি কীভাবে দেখেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সময় তাঁরা ভালভাবে নিত না তবে এখন তাঁরা ভাল ভাবে নেয়। তাছাড়া কোচিং যখন তিনি ভর্তি হতে যান তখন অভিভাবকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। বাবা বেঁচে নেই, মা অসুস্থ। তাই তাঁর বড় ছেলেই অভিভাবক হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

এ বয়সে পড়াশোনা মুখস্থ হয় না বলে জানান, বেলায়েত। মুখস্থ না হওয়ায়, পড়ার পাশাপাশি তিনি প্রচুর লিখেন। বেলায়েত শেখ জানান, এমনও হয়েছে যে কোন লিখা ১০০ বারও লিখেছি। মায়ের দোয়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবেন বলে আশাবাদী তিনি। ইচ্ছে থাকলে উপায়, চেষ্টা, পরিশ্রম করলে এর ফসল ভাল হবে, বলে তিনি মনে করেন। কথার শেষ পর্যায়ে বেলায়েত বলেন, “শিক্ষা-দীক্ষার শিক্ষা চাই। শিক্ষার কোন বয়স নাই।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেলে পড়াশোনা ছেড়ে দিবেন কি’না জানতে চাইলে বার্তা২৪.কম’কে বলেন, “কখনোই না! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) আমার স্বপ্ন বটে, তবে পড়াশোনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।” জীবদ্দশায় যতদূর পারা যায় তদ্দূর পর্যন্তই পড়বেন বলে জানান, জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে চাওয়া ও স্বপ্নের পানে ছুটে চলা বেলায়েত শেখ।

শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ সম্মাননা পেলেন ৭ বিশিষ্ট শিল্পী



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ সম্মাননা পেলেন ৭ বিশিষ্ট শিল্পী

শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ সম্মাননা পেলেন ৭ বিশিষ্ট শিল্পী

  • Font increase
  • Font Decrease

শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ ও প্রিন্টমেকিং বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দেশের ৭ জন বিশিষ্ট শিল্পীকে ‘শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ সম্মাননা-২০২২’ প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়টির চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এক অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রাপ্ত শিল্পীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

সম্মাননা প্রাপ্ত শিল্পীরা হলেন- শিল্পী অধ্যাপক মোহাম্মদ কিবরিয়া (মরণোত্তর), শিল্পী অধ্যাপক রফিকুন নবী, শিল্পী মনিরুল ইসলাম, শিল্পী অধ্যাপক মাহমুদুল হক, শিল্পী কালিদাস কর্মকার (মরণোত্তর), শিল্পী শহিদ কবীর এবং শিল্পী অধ্যাপক আবুল বারক্ আলভী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলা জগতের পথিকৃৎ শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তিনি অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান, বিনয়ী, শান্ত ও স্বল্পভাষী মানুষ ছিলেন। সাহসী এই শিল্পী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে অসংখ্য ছবি এঁকেছেন। শিল্পের উৎকর্ষ সাধনে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। তার জীবন, কর্ম, শিল্প ও রুচিবোধ, দেশপ্রেম, ক্সশল্পিক চিন্তা এবং মানবিক মূল্যবোধ বহন করে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রিন্টমেকিং বিভাগের চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, শিল্পী আহমেদ নাজির, দুর্জয় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দুর্জয় রহমান জয়, শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা, সদস্য-সচিব অধ্যাপক মো. আনিসুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, দেশের আধুনিক ছাপচিত্রের জনক শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ। ছাপচিত্রের পাশাপাশি রেখাচিত্র ও তেলচিত্রের ভুবনকেও উৎকর্ষমণ্ডিত করেছেন এই পথিকৃৎ শিল্পী। দেশের শিল্প-আন্দোলন ও প্রয়াসকে নানাভাবে সঞ্জীবিত করেছেন। ১৯২২ সালের সালের ২৩ জুন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এ বরেণ্য শিল্পী।

;

ঢাবি আইবিএ'র বিবিএ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ঢাবি আইবিএ'র বিবিএ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

ঢাবি আইবিএ'র বিবিএ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ)-এর বিবিএ প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুন) সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়টি গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। আইবিএ’র ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০টি আসনের বিপরীতে ৬,৩৩৬ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী, বিবিএ প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ড. রেজওয়ানুল হক খানসহ ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

;

‘স্যার আজকে আমার মন ভালো নেই’ লিখে বিপাকে জবি শিক্ষার্থী



জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
স্যার আজকে আমার মন ভালো নেই

স্যার আজকে আমার মন ভালো নেই

  • Font increase
  • Font Decrease

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থী মিডটার্ম পরীক্ষার খাতায় ‘স্যার আজকে আমার মন ভালো নেই’ লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করায় শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) লেখাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম তানভীর মাহতাব। তিনি ইংরেজী বিভাগের (২০২০-২০২১) শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত। তার দেশের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিডটার্ম পরীক্ষার অতিরিক্ত একটি উত্তরপত্র নিয়ে যান ওই শিক্ষার্থী। পরে বুধবার রাতে সেই উত্তরপত্রে ‘স্যার আজকে আমার মন ভালো নেই’ লিখে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেন তিনি। তারপর লেখাটি ভাইরাল হয়ে যায়। পরে ওই শিক্ষার্থী পোস্টটি ডিলিট করে দেন।

এ বিষয়ে তানভীর মাহতাব বলেন, তিনি এ নিয়ে তার টাইমলাইনে ফানি পোস্ট দিয়েছেন। পরে বুঝতে পেরে তিনি পোস্টটি ডিলিট দিয়ে দেন। তিনি বুঝতে পারেননি বিষয়টি এইরকম ভাইরাল হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর তিনি করেছেন।

ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মমিন উদ্দীন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা পরিষ্কারভাবে এখনও কিছু জানি না। ওই শিক্ষার্থীকে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে দেখা করতে বলা হয়েছে। তখন আমরা বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবো। ভাইরাল হওয়া অতিরিক্ত উত্তরপত্রে ইনভিজিলেটর স্বাক্ষরটি ইংরেজি বিভাগের কোনো শিক্ষকের নয় বলে জানিয়েছেন বিভাগের চেয়ারম্যান।

বিষয়টি গুরুতর অপরাধ হলে ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বহিষ্কার করতে পারি না। এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে রোববার ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত দিবো।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি এখনও কিছু জানি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ কে এম আক্তারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভাগ যা বলবে তা। তাছাড়া উত্তরপত্রটি আমি দেখিনি। তাই এবিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

;

জবিসাস ও ঢাকসাস প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত



জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জবিসাস ও ঢাকসাস প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত

জবিসাস ও ঢাকসাস প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির মধ্যে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বেলা ১১টায় ঢাকা কলেজের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উক্ত ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচে ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতিকে (ঢাকসাস) তিন উইকেটে পরাজিত করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জবিসাস)।

খেলায় টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতি। নির্ধারিত ১০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৬৩ রান সংগ্রহ করে তারা। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে উতরে যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি টিম। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হন জবিসাসের ক্যাপ্টেন আহসান জোবায়ের।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহসান জোবায়ের বলেন, আমরা নিজেরা ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের মধ্যকার সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য এমন আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতেও আমরা এমন সুন্দর আয়োজন অব্যাহত রাখবো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আনাস ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহসান জোবায়ের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ প্রমুখ।

;