দাবি আদায়ের অপর নাম সন্ত্রাস রাজু ভাস্কর্য



আরিফ জাওয়াদ, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
দাবি আদায়ের অপর নাম সন্ত্রাস রাজু ভাস্কর্য

দাবি আদায়ের অপর নাম সন্ত্রাস রাজু ভাস্কর্য

  • Font increase
  • Font Decrease

ন্যায়ের সঙ্গে আপোস না, নিজেদের অধিকার কিংবা দাবি আদায়ে একটি ভাস্কর্যের পাদদেশ নির্ভরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ যেখানে দাঁড়িয়ে নিজের অধিকারের কথা বলে, ন্যায্য দাবির কথা বলে, কেউবা অনশনেও বসে তাঁদের দাবি আদায়ের আগ মুহূর্তে।

বলছিলাম দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস রাজু ভাস্কর্যের কথা। আন্দোলন সংগ্রামের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেমনটা জড়িত, তেমনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ১৯৯৭ পরবর্তী একটি নতুন নাম যুক্ত হয়েছে সন্ত্রাস রাজু ভাস্কর্য। ১৯৯৭ এর শেষভাগে তৈরি হওয়ার পর এ ভাস্কর্য যেম প্রতি নিপিড়ীত মানুষের কথা বলার এক আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

আজকের এ সন্ত্রাস রাজু ভাস্কর্যের পেছনে রয়েছে একটি লম্বা গল্প। যার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মঈন হোসেন রাজুর নাম। জানা যায়, ১৯৬৮ সালের ২৯ শে জুলাই মঈন হোসেন রাজুর জন্ম। জন্ম বরিশালে হলেও বেড়ে ওঠেন চট্টগ্রাম ও ঢাকায়। ১৯৮৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মইন হোসেন রাজু ছিলন তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। রাজুর নিয়মানুবর্তিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্লাস-পড়া-সংগঠনের কাজ সব কিছুতেই সে ছিল কর্তব্যনিষ্ঠ। সবার চেয়ে শান্ত রাজু ছিলেন বেশ দৃঢ় মনোবলের।

রাজধানীর শ্যামলীতে, যেখানে তার মা, বড়ভাই ও বোন থাকতেন। এই পরিবারের স্নেহধন্য জেদি ছেলে রাজুকে তাই পরিবারের টানে ও মায়ের অনুরোধে নিয়মিত বাসায় যেতে হতো। রাজু বাসায় যেত ঠিক, কিন্তু আবার ফিরেও আসত। বাসার চেয়ে ক্যাম্পাসে শহীদুল্লাহ হলের ১২২ নম্বর রুমে। রাজুর মন জুড়ে ছিল ক্যাম্পাস, বন্ধু-বান্ধব, সংগঠন, ছাত্রদের দাবি-দাওয়া-আন্দোলন। কিন্তু এ ক্যাম্পাস দাবি-দাওয়াই যেন তাঁর জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায় ; উৎসর্গ করতে হয় জীবন।

সালটি ১৯৯২, দেশে স্বৈরতন্ত্রের অবসানের পর কেবল এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শুরু হয়ে গেছে তথাকথিত গণতান্ত্রিক দলগুলোর ক্ষমতা প্রদর্শন ও দখলদারিত্বের রাজনীতি। ১৯৯২ সালের ১৩ই মার্চ সকালে ছাত্রদল কর্মী, মতান্তরে ছাত্রশিবির কর্মীকে পেটাই করার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাস উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশের সাথে সাধারণ ছাত্রদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। দুপুরে সংঘর্ষ চলাকালীন কনুইয়ে ব্যথা অনুভব করলে চলে যান শহিদুল্লাহ হলের হলের ১২২ নাম্বার রুমে। সেদিন পড়ন্ত বিকেলে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের অস্ত্রধারীরা টিএসসিতে বন্দুকযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, সঙ্গে পুলিশও জড়িয়ে পড়ে। পুরোপুরি বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখা যায় পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে।

এর প্রতিবাদে রাজুর নেতৃত্বে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রঐক্য ভুক্ত’ বাম ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিলটি টিএসসির সড়কদ্বীপ প্রদক্ষিণ করার সময় ডাসের সামনে ‘অস্ত্র শিক্ষা একসাথে চলবে না’, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ এক হও’ এ স্লোগানে হাকিম চত্বরের দিকে এগোতে থাকলে একঝাঁক বুলেট মিছিল লক্ষ্য করে ছুটে আসে। এর একটি গুলি কপালে লাগে মিছিলের সামনে থাকা রাজুর। স্লোগান মুখে নিয়েই সে লুটিয়ে পড়ে টিএসসির স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যের সামনে সড়ক দ্বীপের পাশের রাস্তায়।

১৯৯২ সালের ১৩ই মার্চের রাজুর আত্মত্যাগ স্মরণে এবং সন্ত্রাসবিরোধী চেতনা ধরে রাখার প্রত্যয়ে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

নানামুখী বাধা-বিপত্তির চড়াই-উৎরাই পেড়িয়ে অবশেষে ভাস্কর শ্যামল চৌধুরীর নকশায় ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এতে সহযোগী হিসেবে কাজ করেন গোপাল পাল। আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক আতাউদ্দিন খান (আতা খান) ও মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির সভাপতি লায়ন নজরুল ইসলাম খান বাদল। নির্মাণ কাজ শেষে ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখে ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য এ. কে. আজাদ চৌধুরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র টিএসসি’র মোড়ে ভাস্কর্যটি নির্মিত এ ভাস্কর্য ১৬ ফুট দীর্ঘ, ১৪ ফুট প্রশস্ত এবং ১০ ফুট উঁচু। এই ভাস্কর্যে ৮ জনের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যাদের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে তারা হলেন মুনীম হোসেন রানা, শাহানা আক্তার শিলু, সাঈদ হাসান তুহিন, আবদুল্লাহ মাহমুদ খান, তাসফির সিদ্দিক, হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, উৎপল চন্দ্র রায় ও গোলাম কিবরিয়া রনি।

মঈন হোসেন রাজু নেই, নেই তার দরাজ কণ্ঠ কিন্তু হাজারো প্রতিবাদী নিপিড়ীত কণ্ঠের ধ্বনি ধ্বনিত হওয়ার মাধ্যমে মুখরিত থাকবে সন্ত্রাস রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ, হাজারো প্রতিবাদীর ভিড়ে এভাবেই আজীবন বেঁচে থাকবে রাজু।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ওয়াটার পোলোতে চ্যাম্পিয়ন ঢাবি



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ওয়াটার পোলোতে চ্যাম্পিয়ন ঢাবি

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ওয়াটার পোলোতে চ্যাম্পিয়ন ঢাবি

  • Font increase
  • Font Decrease

‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়াঙ্গণে বন্ধুত্ব’ স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ২ দিনব্যাপী ওয়াটার পোলো ও সাঁতার প্রতিযোগিতা ২০২২-২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ও সাঁতার প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয়েছে।

প্রতিযোগিতা শেষে গত শুক্রবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটার পোলো কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজের সভাপতিত্বে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. অসীম সরকার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক মো. শাহজাহান আলীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলসহ অংশগ্রহণকারী দলসমূহকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

উল্লেখ্য, এই প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল অংশগ্রহণ করে।

;

জাবিতে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে চার শিক্ষার্থীকে শোকজ



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল হলের গণরুমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে চার শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

বেগম সুফিয়া কামাল হলের ১ম বর্ষের (৫০ তম ব্যাচ) ছাত্রীদের ২৯ আগস্ট করা এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২৭ আগস্ট বেগম সুফিয়া কামাল হলের ৪৯তম ব্যাচের কয়েকজন ছাত্রী রাত ১১টায় গণরুমে এসে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন ভাষায় কথা বলেন ও তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে মানসিক নির্যাতন করেন। পরদিন তাদের অনেকের টিউটোরিয়াল পরীক্ষা আছে বলা সত্ত্বেও রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত তাদের র‍্যাগ দেওয়া হয়। এছাড়া ৪৯তম ব্যাচ (২য় বর্ষ) ব্যতীত অন্য কোনো সিনিয়র শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথাবার্তা না বলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে ঘটনার সঙ্গে মুখ্যভাবে যুক্ত হিসেবে ৪৯তম ব্যাচের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের আশা, পরিসংখ্যান বিভাগের লাভলী, দর্শন বিভাগের রিফা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শাহরিন সহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয় ।

র‍্যাগিংয়ের সময় অভিযুক্তরা প্রশাসনের কাছে এগুলো বলে কিছুই হবে না, আমরাই প্রশাসন চালাই বলে ভুক্তভোগীদের হুমকি দেয় বলে জানা যায়। পরবর্তীতে আইআইটি ৩য় বর্ষের (৪৮তম ব্যাচ) সাবরিনা সিদ্দিকী অদিতি গণরুমে যেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের বিষয়টা বাইরে না জানানোর পুনরায় হুমকি দিয়ে যায় বলে উল্লেখ করা হয় অভিযোগপত্রে।

র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে অভিযুক্ত ৪৯তম ব্যাচের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের আশার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আর এটার জবাবদিহিতা আপনার কাছে করতে বাধ্য নয়। এ ব্যাপারে প্রশাসন কথা বলবে। এরপর আপনি নিউজ করার থাকলে কইরেন।

দর্শন বিভাগের রিফার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এরকম কিছুই করিনি এবং সম্পৃক্ত নই। আমাকে মিথ্যে অভিযোগে অভিযুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বেগম সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে দিয়েছে। আপনি তদন্ত কমিটির কোন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন।

তদন্ত কমিটির সদস্য বেগম সুফিয়া কামাল হলের হাউজ টিউটর সহকারী অধ্যাপক তাজউদ্দীন বলেন, তদন্ত চলমান আছে। কিছু প্রক্রিয়াগত সমস্যা রয়েছে যার কারণে দেরি হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে শিগগিরই রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ না হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,যেদিন মিটিংয়ে বসার কথা ছিল ওই দিন আমাদের দুইজন সহকর্মী ব্যস্ত থাকায় মিটিংটা হয়নি।

;

ফেসবুকে হাহা রিয়েক্টকে কেন্দ্র করে শেকৃবিতে মারামারি, আহত ৫



শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ফেসবুকে হাহা রিয়েক্টকে কেন্দ্র করে শেকৃবিতে মারামারি, আহত ৫

ফেসবুকে হাহা রিয়েক্টকে কেন্দ্র করে শেকৃবিতে মারামারি, আহত ৫

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গনীতি এবং জুনিয়র তোলা নিয়ে ফেসবুক পোস্টে হাহা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাতজুড়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সিরাজউদ্দৌলা আবাসিক হলের ঢাকা অঞ্চল এবং কুমিল্লা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি হয়। এসময় ঢাকা অঞ্চলের ২১ ব্যাচের রাকিব, ওয়ালিদ সহ চারজন এবং কুমিল্লা অঞ্চলের রোফি ওসমানি নামের একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

২০ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাতজুড়ে এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা এবং কুমিল্লা অঞ্চলের মারামারি এবং ঝামেলার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা একে অপরকে অভিযুক্ত করে এবং শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে বলে উল্লেখ করে।

শেরেবাংলা নগর থানার এসআই সাব্বির আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘মধ্যরাতে গণরুমে মারামারির ঘটনায় দুইপক্ষেরই লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ঘটনা, সেখানকার প্রক্টর ঘটনাটি জানেন। তিনিই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘটনা স্থলে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘জুনিয়র তোলা নিয়ে মূলত ঢাকা এবং কুমিল্লা অঞ্চলের মধ্যে ঝামেলা অনেক আগে থেকে। জুনিয়র তোলা নিয়ে ফেসবুকে কুমিল্লা অঞ্চলের ২১ ব্যাচের কয়েকজন পোস্ট দিলে সেই পোস্টে হাহা রিয়েক্ট দেয় ঢাকা অঞ্চলের ২১ ব্যাচের মুশফিক, এনামুল হাসনাত সহ অনেকে। পরে দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে জেলা বন্টন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির সময় সিনিয়র জুনিয়রদের মধ্যে হাতাহাতি পর্যায়ে চলে যায়। এসময়ে দুই অঞ্চলের পাঁচজনের অধিক মারাত্মক ভাবে আহত হয়।’

পরিস্থিতি খারাপ অবস্থায় গেলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলের সহকারী প্রোভোস্ট, হলের ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর হারুন উর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘নবাব সিরাজুদ্দৌলা হলে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। এই বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবগত আছি, রাতে হলের প্রোভোস্ট, সহকারী প্রোভোস্ট ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। আমরা আজ রাতে বসব যদি তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রয়োজন হয় করব এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিব। তবে দুই পক্ষের কেউই লিখিত কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে দেয় নি।থানায় তারা অভিযোগ দিয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমরা অবগত না’।

;

'শিল্পিত জীবনের জন্য মহৎ সাহিত্য প্রাণসঞ্চারক'



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
চবি আবৃত্তি মঞ্চের দ্বাবিংশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বার্তা২৪.কম

চবি আবৃত্তি মঞ্চের দ্বাবিংশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সাবেক ডিন, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, ড. মহীবুল আজিজ বলেছেন, "শিল্পিত জীবনের জন্য মহৎ সাহিত্য প্রাণসঞ্চারক আর আবৃত্তি মানুষকে দীপিত করে।"

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির জয়নুল আর্ট গ্যালারি মিলনায়তনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) আবৃত্তি মঞ্চের দ্বাবিংশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং চতুর্বিংশ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, "জীবনকে ভালোবাসে বলেই মানুষ জীবনের সৌন্দর্যের জন্য প্রাণিত হয় সাহিত্যের নানা শাখার স্পর্শে। তরুণ প্রজন্মকে নৈরাশ্য থেকে আলোর পথে চালিত করতে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে জীবনচেতনার অপরিহার্য অংশে পরিণত করা অপরিহার্য।"

চবি আবৃত্তি মঞ্চের সভাপতি সোহান আল মাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চের প্রধান উপদেষ্টা মাছুম আহমেদ, উপদেষ্টা জেবুন নাহার শারমিন, সম্মিলিত আবৃত্তি জোট ও জোটভুক্ত সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ।

আবৃত্তি মঞ্চের অনুষ্ঠান সম্পাদক শাকিল আহমেদের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর চতুর্বিংশ প্রমিত উচ্চারণ, উপস্থাপনা ও আবৃত্তি কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থীদের বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। কথামালা পর্বে অনুভূতি ব্যক্ত করেন আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি, আবৃত্তি মঞ্চের উপদেষ্টাবৃন্দ, বন্ধু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও চবি আবৃত্তি মঞ্চের সদস্যরা।

আমন্ত্রিত অতিথি ও বন্ধু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ্বের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীত গবেষক গীতা দত্ত, মো. মুজাহিদুল ইসলাম, প্রণব চৌধুরী, মিলি চৌধুরী, বনকুসুম বড়ুয়া, আলী প্র‍য়াস, পুনম দত্ত, ইকবাল হোসেন জুয়েল সহ অনেকে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চতুর্বিংশ কর্মশালার সম্মানিত প্রশিক্ষকবৃন্দের হাতে প্রশিক্ষক সম্মাননা তুলে দেন। প্রশিক্ষক সম্মাননা গ্রহণ করেন সঙ্গীত ভবন চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ কাবেরী সেনগুপ্তা, চবি দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাছুম আহমেদ, চবি বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শারমিন মুস্তারী, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান, শিক্ষক ও সংবাদ উপস্থাপিকা রেখা নাজনীন ও আবৃত্তিশিল্পী প্রবীর পাল, আবৃত্তিশিল্পী ও উপস্থাপক জেবুন নাহার শারমিন।

পরে চতুর্বিংশ প্রমিত উচ্চারণ, উপস্থাপনা ও আবৃত্তি কর্মশালা'র মূল্যায়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চের সভাপতি সোহান আল মাফি'র সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সমাপ্তি ঘটে।

;