বিশ্ব শিক্ষক দিবস: স্মৃতির স্কুল, মহতীপ্রাণ শিক্ষক



ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম
স্মৃতির স্কুল, মহতীপ্রাণ  শিক্ষক

স্মৃতির স্কুল, মহতীপ্রাণ শিক্ষক

  • Font increase
  • Font Decrease

বাবার বদলির চাকরির সুবাদে অনেক স্কুল কলেজে পড়েছি। ফলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো অনেক শিক্ষককে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। আজ শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষকের কথাই মনে পড়ছে। সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে আজ শিক্ষক দিবসে আমি আমার শৈশবের বিদ্যালয় ভেড়ামারা উচ্চ বিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার শিক্ষকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমার শৈশবের এই মহান শিক্ষকদের স্মৃতি আমাকে এখনো প্রবলভাবে নাড়া দেয়।

আমার ছেলেবেলা কেটেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ সাল পযন্ত ভেড়ামারা জিকে ২নং কলোনীর ব্যারাকে থাকতাম। পড়তাম ভেড়ামারা হাইস্কুলে। ১৯৮৪ সালে এস এস সি পরীক্ষা দেয়া পর্যন্ত যেসকল শিক্ষককে পেয়েছি তাঁরা হলেন: রুহুল ইসলাম স্যার ( প্রধান শিক্ষক), হাফেজ আবদুর রশীদ স্যার (সহকারী প্রধান শিক্ষক), আনোয়ারুল আজিম স্যার ; বিনোদ কুমার স্যার, মতিউর রহমান খান স্যার; মো. সিরাজুল ইসলাম স্যার; দাউদ আলী খান স্যার; মশিউর রহমান স্যার, এনামুল হক স্যার, আবদুল হাই স্যার, জিনাত আলী স্যার, আবদুল করিম স্যার, আবদুস সালাম স্যার, মকবুল হোসেন ভি এম স্যার , আজিজুল হক চাঁদু স্যার, গিয়াস স্যার এবং আবদুর রব স্যারকে।

আমার নিজ স্কুলের ( ভেড়ামারা হাইস্কুল) বাইরে বাল্যকালে আরেকজন শিক্ষক যিনি আমার পড়াশোনার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তিনি হলেন আব্দুল্লাহ স্যার। তিনি ধরমপুর স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। আব্দুল্লাহ স্যার আমাকে বাসায় পড়াতেন। স্যার আমাকে গনিত, পদার্থ এবং রসায়ন পড়াতেন। স্যারের পড়াগুলো আজও মনে পড়ে। ২০১১ সালের দিকে স্যারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ হয়েছিল। স্যার প্রায়ই ফোন দিতেন। ইচ্ছে ছিল স্যার আমায় দেখবেন, কিন্তু আর দেখা হয়নি। স্যার মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে গেছেন। স্যারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

দায়িত্ব ও পরিশ্রম কাকে বলে সেটা সেই স্কুল জীবনেই দেখেছি হেড স্যার রুহুল ইসলামকে। তুলনাবিহীন এই শিক্ষককে জ্ঞান গরিমায় আদর্শ ছিলেন। সক্রেটিস হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমাদের জীবনে লেখাপড়ার পাশাপাশি, আদব কায়দা, ভদ্রতা রুহুল স্যারকে দেখেই রপ্ত করেছিল ওই সময়ের ছাত্ররা। ছাত্ররা তাঁকে যেমন ভয় করত, তেমন শ্রদ্ধাও করত। স্যার আমাদের দশম শ্রেণীতে ইংরেজী পড়াতেন। আমাদের সময় ইংরেজীতে লিও তলস্তয় এর লেখা থ্রি কোশ্চেন নামে একটি প্রবন্ধ ছিল। কী গম্ভীরভাবে দরাজ গলায় স্পষ্ট উচ্চারণে স্যার পড়াতেন। তখন কেউ না বুঝলেও ক্লাসে পিন পতন নীরবতা থাকতো। স্যার ক্লাসে বেত নিয়ে ঠুকতেন। বেতের ভয়ে আমি প্রবন্ধটা মুখস্ত করে ফেলেছিলাম প্রবন্ধের শুরুটা ছিল The thought came to a certain king that he would never fail if he knew three things. These three things were: What is the right time to begin something? Which people should he listen to? What is the most important thing for him to do?

স্যারের কারণে আমি সহ বন্ধুরা এই দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে ওস্তাদ ছিলাম। আমার ধারণা এখনো আমি ও আমার সহপাঠীরা চোখ বন্ধ করে এই দুটি প্রশ্নের উত্তর অনর্গল বলতে পারবো।

আর আরেকটি হলো What is the summary of the three questions? বাপরে বাপ এখনো ওই প্রবন্ধের কথা মনে হলে ভাবি তলস্তয়ের চেয়ে বোধ হয় আমাদের রুহুল স্যার এই তিন প্রশ্নের উত্তর বেশি জানেন।

আমার স্কুলের আরেক শিক্ষক ছিলেন হাফেজ স্যার। সকল বিষয়ে পারদর্শী এই স্যারকে কে ভুলতে পারে? স্যার পড়াতেন ইংরেজী দ্বিতীয় পত্র। হাফেজ স্যারের ক্লাস হতো টিফিন পিরিয়ডের পর। সাধারণত টিফিনের পরের ক্লাসগুলিতে ক্লাস নেয়া খুব কঠিন। ছাত্ররা অমনোযোগী হয়ে উঠে। কিংবা বেঞ্চে মাথা রেখে ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু হাফেজ স্যার জাদুমন্ত্র জানতেন। ক্লাসকে সচল করে তুলতেন তাও ইংরেজী দ্বিতীয় পত্রের ক্লাস দিয়ে। হয়তো কোন ছাত্রকে দাঁড় করিয়ে বলতেন বলতো দেখি আমি একজন গাধা ছাত্র। ওমনি ক্লাসের সবাই হো হো করে হেসে উঠল। ঝিম ধরা ক্লাসে শুরু হয় আনন্দের বন্যা। ট্রান্সলেশন কাকে বলে স্যার শেখাতেন। ক্লাসে ঢুকেই বলতেন ট্রান্সলেশন কর- ভজহরি চা সিঙ্গারা খেয়ে রসগোল্লা খাচ্ছে। কিংবা ছাগলটি ভরভর করিয়া লাদিয়া দিল। স্কুলের মাঠের পাশেই ছিল পশু চিকিৎসালয় । স্যার ওই সকল দৃশ্য দেখতেন আর ট্রান্সলেশন করতে দিতেন।

আমাদের টিফিনের পর প্রায় সময় একটা প্লেন চক্কর দিত। তখন ভেড়ামারার কেউ একজন পাইলট হয়েছিল সেই নাকি প্লেন নিয়ে ভেড়ামারার উপর দিয়ে চক্কর দিত।( এটা অবশ্য শোনা কথা)। আমরা জানালার বাইরে আকাশের দিকে প্লেন খুঁজতাম। কিশোর বয়সের ছেলেরা প্লেন দেখবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কতটা দক্ষ শিক্ষক হলে শ্রেণি কক্ষের ডিসিপ্লিন নষ্ট হতে দেননি। বরং সেটাকেই পড়ানোর সাবজেক্ট বানাতেন। হাফেজ স্যার একধাপ এগিয়ে গিয়ে আরেকটি ট্রান্সলেশন দিতেন- উড়োজাহাজটি ভো ভো শব্দ করিয়া আসিতেছে। স্যারের পান্ডিত্য ছিল সর্বজনবিদিত। স্মরণশক্তি ছিল অসাধারণ।

করিম স্যার অষ্টম শ্রেণীতে ভূগোল এবং নবম শ্রেণীতে বাংলা ব্যাকরণ পড়াতেন। আমার আব্বার সঙ্গে স্যারের হ্নদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। স্যার আমাকে প্রাইভেট পড়াতেন। অন্য কাউকে পড়াতেন না। আমি স্যারের বাসায় যেতাম। যদিও ওই দুই বিষয়ে আমার আগ্রহ ছিল খুবই কম। কিন্তু আব্বার কারণে যেতাম। স্যারের ছেলে শাকিল আমাদের জুনিয়র ছিল। বাসায় গেলে ওর সাথেই গল্প গুজব বেশি হতো। তবে স্যার এতো সুন্দরভাবে ব্যাকরণ বোঝাতেন তা কখনো ভোলার নয়। আমি কারক কিছুতেই বুঝতাম না। বিশেষ করে অপাদান আর অধিকরণ এই দুই কারকে জড়িয়ে ফেলতাম। স্যার একদিন আমাকে গাছের নীচে নিয়ে বোঝালেন, গাছ থেকে পাতা পড়েছে এটাই অপাদান কারক । মানে কোন কিছু থেকে বিচ্যুত হওয়া। পাতা ডালে ছিল সেখান থেকে ছিড়ে পড়ল। ঠিক একইভাবে তিল থেকে বের হয়ে তেল হল। খেজুর রসে গুড় হল। দুধ থেকে দই হল। আবার স্টেশনের উদাহরণ দিয়ে বোঝাতেন ঈশ্বরদী থেকে ট্রেন ভেড়ামারা আসলো। এ রকমের কত উদাহরণ দিতেন।

অষ্টম শ্রেণির ক শাখার ক্লাস টিচার ছিলেন মতিউর রহমান স্যার। স্যারের বাসা ছিল বামুনপাড়ায়। জিকে ২ নং কলোনি থেকে বামুন পাড়ার দূরত্ব ৫ কিলোমিটার এর মতো হবে। স্যারের বাসায় সকাল ৭টায় প্রাইভেট পড়তে যেতাম। আমার একটা সাইকেল ছিল। বন্ধু মুজিবুল আসতো ষোলদাগ থেকে। ১৯৮১ সালের শীতের দিনগুলোতে মতিউর স্যারের বাসায় যেতে খেজুর রস, আলুর দম, কলাইয়ের রুটি কত কিছু যে খেয়েছি। স্যার আমার উচ্চারণ নিয়ে রসিকতা করতেন, বলতেন তুমি তো পাবনার ছাওয়াল। তোমরা স্ব্ররধ্বনির ব্যবহার জানো না। তোমরা দুইটা স্বরধ্বনির মাঝে কিছু থাকলেই ঝামেলা বাধিয়ে ফেল। বলেই স্যার বলতো ট্যাহা লিয়া আইছ্যাও তো। তখন কিছুই বুঝতাম না। স্যারের ধুতি পড়ার দিকে চেয়ে থাকতাম। বন্ধু মুজিবুল সহ সকলে হো হো করে হেসে দিত। স্যারের অসাধারণ পান্ডিত্য স্বীকার করতেই হবে।

ভেড়ামারা হাইস্কুলের একজন শিক্ষক এসেম্বলীর সময় খুব প্রাণোচ্ছল থাকতেন। তিনি সকলের প্রিয় ভি এম স্যার। স্যারের আসল নাম ছিল মকবুল হোসেন স্যার। সপ্তম শ্রেণীতে ক শাখায় স্যার আমাদের শ্রেণী শিক্ষক ছিলেন। কী পড়াতেন মনে পড়ে না। তবে বেশীরভাগ সময়ে স্যার রামায়ণ এবং মহাভারতের গল্প শোনাতেন।আজিজুল হক স্যারকে সকলে চাঁদু স্যার নামে ডাকতেন। স্যার আমাদের নবম দশম শ্রেণীতে রসায়ন পড়াতেন।

অসাধারণ বাংলা পড়াতেন আজিম স্যার। স্যারকে কোনদিনই চেয়ারে বসতে দেখিনি। ক্লাস নাইনে উঠেই স্যারকে পেলাম। কথা বিচিত্রা নামে বাংলা সহায়ক পাঠ্য ছিল । স্যার সেখান থেকে পড়াতেন পোস্ট মাস্টার, আদরিণী, মামলার ফল এসকল গল্প গুলো। স্যারের পড়ানো দেখে গল্পের নায়ক গুলোকে যেন পথে ঘাটে দেখতাম।

আমাদের সময়ে ধর্মীয় শিক্ষক ছিলেন দুইজন। একজন হলেন সিরাজ স্যার আর অপরজন হাই স্যার। ওই সময়ে নীল ডাউন বলে স্কুলে একটা প্রচলিত শাস্তির বিধান ছিল। ধর্ম শিক্ষক হাই স্যার আমাদের প্রায় সময়েই নীল ডাউন করতেন। পড়ার কারণে নয়, নামাজ না পড়ার কারনে। জোহরের নামাজের সময় কে কে মসজিদে যাইনি সেটা স্যার মনে রাখতেন। আর তার শাস্তি ছিল নীল ডাউন কিংবা মসজিদে বদনা কিনে দেয়া। হাই স্যার আমাদের নীল ডাউনের শাস্তি দিলেও স্যার কে কেন জানি নিষ্পাপ একজন মানুষ মনে হতো। নোয়াখালীর মানুষ ছিলেন। স্যার নোয়াখালির আঞ্চলিকতায় কথা বলতেন। ধর্মপরায়ণ, ন্যায়নিষ্ঠ স্যারকে সবাই ভালবাসতেন।

আমাদের আরেকজন হাই স্যার ছিলেন । তিনি কৃষি বিজ্ঞান পড়াতেন। স্যার স্টুডেন্টদের অনেক পছন্দ করতেন। সেই সুবাদে আমি ও আমার বন্ধুরা হাই স্যার এর ১৬ দাগের বাড়ীতে অনেকবার গেছি। যতদূর মনে পরে হাই স্যার এর অনেক লেখা কৃষি কথা নামে পত্রিকায় ছাপা হত।

ক্লাস টেনে আমাদের ক্লাস টিচার ছিলেন রব স্যার। খুবই ভাল একজন টিচার ছিলেন। আজও মনে পড়ে এস এস সি পরীক্ষার আগে টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল দিয়েছিলেন রব স্যার। ১৯৮৩ সালে রব স্যার আমাদের পিকনিকে নিয়ে গিয়েছিলেন হার্ডিঞ্জ ব্রীজের নীচে। সেবারই স্যার একটা গান গেয়েছিলেন হৈমন্তী শুক্লার তুমি চলে গেলে, চেয়ে চেয়ে দেখলাম। এরপর যতদুর জেনেছিলাম স্যারও কান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইহজগত ছেড়ে চলে গেছেন। এখনো কোন কারণে হার্ডিঞ্জ ব্রীজের কাছে গেলে ১৯৮৩ সালের পিকনিক আর স্যারের গানের কথা মনে পড়ে।

আমার জীবনে দেখা সুদর্শন স্যার ছিলেন এনামুল হক স্যার। স্যারের গ্রামের বাড়ি ছিল চাঁদগ্রাম। ১৯৮০ সালে আমরাও চাঁদগ্রামে থাকতাম। স্যার প্রতি শুক্রবার চাঁদগ্রাম চাষীক্লাবে মিটিং করতেন। অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন স্যার। গ্রাম্য সালিশ মিটিংয়ে স্যার যে সমাধান দিতেন, সেটাই সবাই মানতেন। স্কুলেও স্যার আমাদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতেন। এসেম্বলীর সময় দেখতেন কেউ নোংরা কাপড়ে এসেছি কি না, কিংবা কারো চুল বড় হয়েছে কি না, কেউ নখ কেটেছে কি না। স্যারের শাস্তি ছিল স্কুল মাঠের ঘাস পরিস্কার করা। কিন্তু কখনো এগুলো শাস্তি মনে হয় নি। স্কুলের পুরস্কার বিতরণী কিংবা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় স্যারকে খুবই প্রানবন্ত দেখেছি। স্যার মাঝে মাঝে আমাদের দিয়ে কবিতা আবৃত্তি করাতেন।

পেশাগত জীবনে আমিও একজন শিক্ষক। কিন্তু এটি এখন আর সম্মানীয় স্থানে নেই। আশির দশকে আমার দেখা ভেড়ামারা হাই স্কুল এর সেই সময়কার শিক্ষকদের তুলনা হয় না। ছাত্র হিসেবে আমার শৈশব ও কৈশোরের এই সকল শিক্ষকেরা হ্নদয়ের মণিকোঠায় চির জাগরুক হয়ে আছে । তাঁদের স্মৃতি আমি বহন করতে চাই অন্তহীন কাল ধরে। আমি যখন স্কুলের ছাত্র ছিলাম তখন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতন ও ভাতাদি সবচেয়ে অবহেলিত ছিল। তবুও আমার শিক্ষকদের কখনো স্কুলে বা অন্য কোন আলাপচারিতায় কখনো আফসোস করতে দেখিনি! তবে একটা জিনিসের স্যারদের অভাব ছিল না, সেটা হলো সম্মান!

আজ শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষকদের জানাই শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন।

(ডঃ মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাক্তন প্রো ভাইস চ্যান্সেলর, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।)

সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ফুল ‘গ্লোরিওসা’



সিফাতুল্লাহ আমিন, শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ফুল ‘গ্লোরিওসা’

সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ফুল ‘গ্লোরিওসা’

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমানে দেশের কৃষিক্ষেত্রে ফুলের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপক হারে। ঘর সাজানো থেকে যেকোনো অনুষ্ঠানে বিদেশি ফুলের ( cut flower) পাশাপাশি দেশি ফুলের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে ক্রেতাদের। সে লক্ষ্যে গোলাপ-রজনীগন্ধার পাশাপাশি সুদৃশ্য ও দৃষ্টিনন্দন দেশিও গ্লোরিওসা লিলি ফুলের বাণিজ্যিকভাবে সংযোজনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড আ ফ ম জামাল উদ্দিন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ৩২ হাজার টনের বেশি ফুল উৎপাদিত হচ্ছে। যার বর্তমান বাজার দর দেড় হাজার কোটি টাকা। আর ফুল প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত সহশিল্পের (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ) ব্যবসা ধরলে এই বাজার প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার। আরও নতুন ফুল বাজারে সংযোজন হওয়ায় বাজারও কিছুটা বড় হবে বলে আশা করেন এই গবেষক।


বিভিন্ন ধাপে রঙ পরিবর্তন হওয়া ফুলটি কমলা থেকে ধীরে ধীরে রক্তিম বর্ণ ধারণ করে। সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত ফুলটি দেখতে অনেকটা অগ্নিশিখার মত হওয়ায় বাংলাদেশে অগ্নিশিখা নামেই পরিচিত এই গ্লোরিওসা।

আদি উৎপত্তিস্থল এশিয়া ও আফ্রিকার জঙ্গলে হলেও বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারে ফুলটি বেশি পাওয়া যায়। ঔষধি গুন সম্পন্ন এ গাছের ফুলের গঠন ও উজ্জ্বল রঙের কারণ বিভিন্ন দেশেই বাণিজ্যিক ভাবে শোভাবর্ধক ফুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে গ্লোরিওসা।

অধ্যাপক জামালের মতে, উষ্ণ আর্দ্র অঞ্চলে জন্মানো ফুলটি বিভিন্ন দেশে কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে জনপ্রিয়তা থাকলেও আমাদের দেশে এখনো তেমনভাবে শুরু হয়নি এর প্রচলন।


 

গ্লোরিওসা বীজ বা কন্দের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। তবে টিস্যু কালচার করেও চারা তৈরি করা যেতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য কন্দ লাগানোই সুবিধাজনক বলে মনে করেন এই গবেষক।

বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো জন্মানো গাছটির ভালো বৃদ্ধির জন্য ৫.৫-৫.৭ পিএইচ সর্বাপেক্ষা ভালো। লাঙলের ফলার মত দেখতে ভালো এবং ওজনে বেশি এমন কন্দ লাগালে এক বছরেই ফুল পাওয়া যাবে বলেও জানান অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। তবে ভালো ফলন পেতে তিন বছরে এক বার কন্দ বিভাজন করতে হবে।

গ্লোরিওসা ফুল ও ফলের সংখ্যা কন্দের ওপর নির্ভরশীল। প্রথম বছরে উৎপাদন কম হলেও পরবর্তী বছর থেকে প্রতি হেক্টরে ৮-১০ লক্ষ ফুল পাওয়া যাবে। তবে বাণিজ্যিক ভাবে গ্লোরিওসা উৎপাদনে অন্যান্য বিদেশি কাট ফ্লাওয়ারের তুলনায় সহজেই অধিক পরিমানে ফুল উৎপাদনের সক্ষম হতে পারবেন কৃষকরা।


উৎপাদন কৌশল অপেক্ষাকৃত সহজ এবং সুদর্শন হওয়াই দেশীয় ফুলের বাজারে এ ফুলের অন্তর্ভুক্তি কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়ই লাভবান করবে বলে মনে করেন গবেষক জামাল উদ্দিন।

;

কাজ শেষ হলেও ফাঁকা পড়ে আছে শেকৃবির দুই আবাসিক হল



শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কাজ শেষ হলেও ফাঁকা পড়ে আছে শেকৃবির দুই আবাসিক হল

কাজ শেষ হলেও ফাঁকা পড়ে আছে শেকৃবির দুই আবাসিক হল

  • Font increase
  • Font Decrease

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার আসন বিশিষ্ট শেখ লুৎফর রহমান এবং শেখ সায়েরা খাতুন নামের দুইটি আবাসিক হলের কাজ শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। জনবলের অভাবে আবাসিক হল গুলো উন্মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিহিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শহীদুর রশিদ ভুঁইয়া বার্তা২৪ কে বলেন, 'আমাদের শেখ লুৎফর রহমান হল এবং শেখ সায়েরা খাতুন আবাসিক হলের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় আমরা এবছর শিক্ষার্থীদের হলে তুলতে পারি নি। আসলে লোকবলের নিয়োগ এবং সামগ্রিক ব্যাবস্থাপনা আগের অর্গানোগ্রামে ছিল না যখন হলের কাজ শুরু হয়। আগের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গের ভুলের কারণে আমাদের এই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। তবে আমরা নতুন অর্গানোগ্রামে লোকবল নিয়োগের বিষয় সংযুক্ত করেছি। আশাকরি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব।'

হলে সিট বিহীন গণরুমে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, 'আমাদের আবাসিক হলগুলোতে গণরুমে থাকতে হয়। নবাব সিরাজুদ্দৌলা হলে এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা টিভি রুমে মেঝেতে থাকে। অনন্য হলগুলোও সিট বিহীন গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে ইতিমধ্যে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০০ সিট বিশিষ্ট দুইটি আবাসিক হল খালি পড়ে আছে। জনবল কিংবা অন্য যে কোনো সমস্যা যদি থেকেও থাকে আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় সেই সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম। আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল গুলোর সিট সমস্যার সমাধান চাই।'

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মিজানুল হক বলেন,' হলগুলোর কাজ শুরুর সময় অর্গানোগ্রামে লোকবলের বিষয় উল্লেখ না থাকা এবং নিয়োগ জনিত সমস্যার জন্য শিক্ষার্থীদের তুলতে পারছি না।তবে আমরা বিকল্প পরিকল্পনা করতেছি। যদি সাময়িক লোকবল নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে উন্মুক্ত করা যায় আমরা করব ।আমরা শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে দ্রুত পরিকল্পনা করছি।'

উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালে এক হাজার আসন বিশিষ্ট ছেলেদের জন্য শেখ লুৎফর রহমান হল এবং মেয়েদের জন্য শেখ সায়েরা খাতুন নামের দুইটি আবাসিক হলের কাজ শুরু হয় যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের চতুর্থ এবং মেয়েদের তৃতীয় আবাসিক হল। এবছর ২০২২ সালের জুন মাসে হল গুলোর কাজ শেষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থী কিংবা কোনো পুরোনো শিক্ষার্থীদের হলে এটাসমেন্ট দেওয়া হয় নি। হল গুলোতে সিট জনিত সমস্যা থাকায় বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

;

আর্জেন্টিনার জয়ে রাত জুড়ে কুবিতে আনন্দ মিছিল



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
আর্জেন্টিনার জয়ে রাত জুড়ে কুবিতে আনন্দ মিছিল

আর্জেন্টিনার জয়ে রাত জুড়ে কুবিতে আনন্দ মিছিল

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর সাথে ২-০ গোলে জয়ের পর রাত জুড়ে আনন্দ মিছিল করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্জেন্টিনার সমর্থকরা।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) রাত ৩টার দিকে খেলা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে এই আনন্দ মিছিল করেন তারা ।

খেলার শেষ পর্যায়ে রেফারির বাঁশির সাথে সাথে উল্লাসে ফেটে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্জেন্টাইন সমর্থক শিক্ষার্থীরা 'মেসি, মেসি' স্লোগানে মিছিলে নেমে পড়েন।

এই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ৩টি আবাসিক হলের আর্জেন্টাইন সাপোর্টাররা পর পর আনন্দ মিছিল নিয়ে একসাথে প্রধান ফটকে মিলিত হয়।

জয়ের পর বঙ্গবন্ধু হলের আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাকিব হোসেন বলেন, আমরা আর্জেন্টিনা সমর্থকরা একবারের জন্যও আশা হারাইনি। আমাদের বিশ্বাস ছিল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ভালো কিছুই করবে । মেক্সিকোর রক্ষণ ভাঙ্গা যখন দুঃসাধ্য মনে হচ্ছিল, তখন দুর্দান্ত এক গোল করলেন মেসি। পরে আরও একটা গোল করলেন এনজো ফার্নান্দেস। ফুটবলের জাদুকর মেসির শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় খুব করে চাই আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হোক।

এর আগে ২২ নভেম্বর গ্রুপ পর্বের ১ম ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দূর্বল দল কাতারের সাথে ২-১ গোলের পরাজয়ে টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডের ইতি হয় আলবিসেলেস্তেদের।

;

নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক পিস অ্যাওয়ার্ড পেলেন রাবির অধ্যাপক



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
অধ্যাপক ড. হীরা সোবাহান

অধ্যাপক ড. হীরা সোবাহান

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের শিক্ষা ও চারুকলায় বিশেষ অবদান রাখায় ‘নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক পিস অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হীরা সোবাহান।

গত ২৩ নভেম্বর বিকাল ৩টায় ভারতের কলকাতায় "মহাবোধি সোসাইটি" মিলনায়তনের অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার পান তিনি।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন ও সাউথ এশিয়া বিজনেস পার্টনারশিপ এর যৌথ আয়োজনে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে নেপাল ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "নেতাজী সুভাষ বসু পুরস্কারের মধ্য দিয়ে আমি চারু শিক্ষার মান সমুন্নত এবং চারচর্চায় নিজেকে নিমগ্ন করতে আরো সচেষ্ট হবো। আমাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করায় কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।"

;