বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি মূল্যায়নে তিন ধাপ পেছাল জবি



জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) মূল্যায়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এই মূল্যায়নে চুক্তির আওতায় আসা ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ষষ্ঠ হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

এর আগে (২০২১-২২ অর্থবছরে) বিশ্ববিদ্যালয়টি তৃতীয় অবস্থানে ছিল। বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

ইউজিসি সূত্রমতে, চুক্তির আওতায় আসা ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মূল্যায়নে ষষ্ঠ হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ৯৪ দশমিক ৫৮ নম্বর পেয়েছে। তবে গতবার ৯৩ দশমিক ৭৫ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রথম হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১০০ নম্বর, দ্বিতীয় হওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯৭ দশমিক ৯১ নম্বর এবং তৃতীয় হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে ৯৫ দশমিক ৯৭ নম্বর।

প্রসঙ্গত, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে দেশে এপিএ ব্যবস্থা চালু করা হয়। এতে সরকারি দফতরগুলো কী কী করবে, তার কথা উল্লেখ থাকে। এরপর সেগুলো কতটুকু অর্জিত হলো, তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়নটি করা হয়।

পরীক্ষায় ছাত্রলীগ নেতার প্রক্সি দিতে এসে আটক 'প্রক্সি ব্যবসায়ী'



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আটক অভিযুক্ত কাউছার/ছবি: বার্তা২৪.কম

আটক অভিযুক্ত কাউছার/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক রেজার জন্য ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এসে শিক্ষার্থীদের হাতে ধরা পড়েন কাউছার আলী নামের এক 'প্রক্সি' ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাউছার আলীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে রাত ৩টার দিকে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।

ঢাবি সাংবাদিক সমিতিতে কাউছার আলী জানিয়েছেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার কথা। প্রায় ১০ বছর ধরে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার একটি ‘প্রক্সি’ চক্রের সাথে তিনি জড়িত। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের তথ্যপ্রমাণ তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া গেছে। 

বিভিন্ন গ্রেডের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রার্থীদের হয়ে ‘প্রক্সি’ দেন কাউছার আলী। কোনো চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রক্সি হিসেবে বিশেষ কোনো বিষয়ে দক্ষ কাউকে প্রয়োজন হলে তাদের খুঁজে দিতেও সহায়তা করেন। শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছাড়াও রেলওয়ের বিভিন্ন পদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ও পল্লি বিদ্যুৎ সমিতিসহ বিভিন্ন সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি ও তার সহযোগীরা ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী সরবরাহ করেন।

কাউছার জানান, নিজে অন্তত তিনটি পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী হয়েছেন। ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী খুঁজে দিতে সহায়তা করেছেন আরও ১৪-১৫টি পরীক্ষায়।

এবার জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজার হয়ে যে প্রক্সি পরীক্ষার্থী খুঁজতে এসেছিলেন বলে দাবি করেছেন। সে দাবির সপক্ষে রেজার সঙ্গে এ বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে আলাপচারিতার প্রমাণও দেখিয়েছেন কাউছার।

কাউছার তার প্রক্সি ব্যবসার ব্যাপারে জানান, মূলত পরীক্ষায় বসার জন্যই তিনি ২০ হাজার টাকা করে নেন। নিজে পরীক্ষা না দিতে পারলে ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী জোগাড় করে দেন। আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর পাস করলে চাকরিভেদে এক থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে থাকেন। সে ক্ষেত্রে ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী জোগাড় করে দিলে তার সঙ্গেও এই টাকা ভাগাভাগি হয়।

ঢাবিতে ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী পেলে পরীক্ষায় বসার জন্য ২০ হাজার টাকা এবং পাস করলে এক-দেড় লাখ টাকার ‘চুক্তি’ আবু বকর সিদ্দিক রেজার সঙ্গেও হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

জানা যায়, পরীক্ষায় প্রক্সি প্রার্থীর খোঁজে ‘রবিন’ নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন কাউছার আলী। ঢাবির এক শিক্ষার্থী ছদ্মনাম ‘রবিন’ নামটি ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন কাউছার আলীকে। পরে তিনি ক্যাম্পাসে এলে তাকে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে নিয়ে যান।

কাউছার আলী জানান, শনিবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠেয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পরীক্ষায় প্রক্সি যোগাড় করতে এসে ‘রবিন’ ছদ্মনামে পরিচয় দিয়ে জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক রেজার সঙ্গে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ‘প্রক্সি’ প্রার্থী ঠিক করে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হয় তার। এ তথ্যের প্রমাণ হিসেবে তিনি আবু বকর সিদ্দিক রেজার সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপ কথপোকথন দেখান। সেখানে কাউছার আলীকে প্রবেশপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য আবু বকর সিদ্দিক রেজা দিয়েছেন বলে দেখা যায়।

কাউছার আলী আরও জানান, শনিবার অনুষ্ঠেয় এনটিআরটিসির লিখিত পরীক্ষায় ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে দক্ষ, এমন প্রার্থীর খোঁজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন তিনি। প্রার্থী পেলে রাজশাহী লোকনাথ হাই স্কুলে রাতের মধ্যে পাঠিয়ে সকালে পরীক্ষায় বসতে সহায়তা করার কথা ছিল তার।

কাউছার আলী চক্রের সাথে জড়িত আরও বেশ কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন, যারা এই প্রক্সি চক্রের সদস্য হিসেবে তাকে সহায়তা করেন। এর মধ্যে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের আজিজুল, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের রায়হান, ভুগোল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শিমুল, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আবু জর গিফারির নাম উঠে এসেছে। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের রাকিব হাসান নামের একজনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এই চক্রের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীর নাম জানিয়েছেন কাউছার আলী। এদের মধ্যে বিজয় একাত্তর হলের ইকবাল হোসেন, মুহসীন হলের ইফরাত ও আব্বাসের নাম বলেছেন তিনি। তবে তাদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট তথ্য নেই তার কাছে।

তিনি জানান, রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান, খালাসি ও ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২-এর মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার পদে ভিন্ন তিনজনের পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ প্রার্থী হিসেবে নিজেই অংশ নিয়েছেন তিনি। গত ২৮ জুন রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান পদের পরীক্ষা ছিল। ওই পরীক্ষায় সাগর কুমার দেবনাথ নামের একজন প্রার্থীর হয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলাম।’ ১৭০২৬২৭১ রোল নম্বরধারী ওই প্রার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ঢাকার তেজগাঁও আদর্শ কলেজ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য সাগরের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন তিনি। গত নভেম্বরে রেলওয়ের খালাসি পদে পরীক্ষা একজন প্রার্থীর হয়ে পরীক্ষায় বসার কথাও জানান কাউছার।

এ ছাড়াও বগুড়া আজিজুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমিনুলের মাধ্যমে মুহাম্মদ বুলবুল ইসলাম নামের একজন প্রার্থীর পরীক্ষায় বসেছিলেন কাউছার আলী। গত ৪ মে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার পদের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। সে পরীক্ষায় প্রিলিতে পাসও করেন বলে জানান কাউছার আলী।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক রেজার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

প্রসঙ্গত, কাউছার আলীর বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবির কুয়াতপুরে। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ সেশনে ফলিত পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে পরিচয় দেন। ২০১৪ সালে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন।

;

শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে জাবিতে মশাল মিছিল



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: জাবিতে মশাল মিছিল

ছবি: জাবিতে মশাল মিছিল

  • Font increase
  • Font Decrease

সারাদেশে কোটা সংস্কারের ১ দফা দাবিতে চলমান 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচিতে আন্দোলনরত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ও জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা৷ এছাড়া মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের সাথে সমর্থন জানিয়ে সাভারের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন৷

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত পৌনে ৮টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বসে 'বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন' -এর ব্যানারে একটি মশাল মিছিল বের করে ছাত্রদের হল হয়ে নতুন রেজিস্ট্রার ভবন, চৌরঙ্গী দিয়ে ছাত্রী হল হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে রাত সোয়া ৯টায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়৷

এসময় মশাল মিছিলে শিক্ষার্থীরা- ‘কুবি/চবি/শেকৃবিতে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘পুলিশ/হামলা/মামলা করে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না-যাবে না’, '৭১ এর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই', '১৮ এর হাতিয়ার গর্জে উঠো আরেকবার', 'জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে', লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লোগেছে', ‘সংবিধানের মূলকথা, সুযোগের সমতা’,'মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, 'আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি কোটা সংস্কারপন্থী স্লোগান দেন।

মশাল মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রশিদ জিতুর সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কোনো অন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য দাঁড়াইনি৷ তবুও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সহযোদ্ধা ভাই-বোনদেরকে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এর যথাযথ বিচার দাবি করছি৷ আমরা আমাদের এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পড়ার টেবিলে ফিরে যাব না।

এসময় সমাবেশে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে সকল ধরনের অযৌক্তিক কোটা বাতিলের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে।এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন আন্দোলন নয়৷ আমাদের যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ হামলা করেছে। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই হামলা-মামলা করে আমাদের আন্দোলনকে থামানো যাবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এই যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে। পুলিশ আমাদের দমন করতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম কোটা রেখে সংসদে অবিলম্বে আইন পাশ না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, গতকালকের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় গুণ্ডা বাহিনীর হামলার নিন্দার প্রতিবাদে আমাদের এই মশাল মিছিল। আমাদের যে ভাইদের ধরে নেওয়া হয়েছে তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে শুরু থেকেই কোটা বিরোধী হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই আমরা চাই কোটার সংস্কার। যৌক্তিক সংস্কার করে সংসদে আইন পাশ করতে হবে। সরকারের কাছে আহ্বান আমাদের দাবি মেনে নিন এবং দ্রুত পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে দিন।

'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' -এর জাবি শাখার সদস্য সচিব মাহফুজুল ইসলাম মেঘ বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের রক্তের বিনিময়ে হলেও আমরা দাবি আদায় করে নিব। আমাদের যে ভাইদের রক্ত ঝরেছে তার বিচার করতে হবে। একজনকে আঘাত করা হলে লাখোজন দাঁড়াবে। আন্দোলনকারী ভাইরা আমরা আমাদের সফলতার দ্বারপ্রান্তে। আপনাদের নিরাশ হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, এছাড়া গত ৭ জুলাই থেকে সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ৫ শতাংশে এনে সংসদে আইন পাশ করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কারের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা৷


'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) কোটা সংস্কারের ১ দফা দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধা প্রদানসহ হামলা ও মামলা করা হয়েছে৷ এ ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আহত হয়েছেন অনেকেই৷

;

বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাকৃবিতে বিক্ষোভ



বাকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে ওই সমাবেশের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মিছিলটি বাকৃবির কে.আর মার্কেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে শহীদ মতিউল-কাদের স্মৃতিসম্ভের সামনে অবস্থান নেয়।

এসময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। 'আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবার চাই। নায্য আন্দোলনে হামলা কেন? প্রশাসন জবাব চাই। হামলা করে আন্দোলন,বন্ধ করা যাবে না' সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা তাদের এক দফা দাবি আদায়ে অনড় রয়েছেন বলে জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও শিক্ষার্থীরা।

এ সময় বাকৃবির জব্বারের মোড়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়ায় প্রায় ১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে ময়মনসিংহ-গফরগাঁও আঞ্চলিক যোগাযোগ।

;

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা

কুবিতে বিক্ষোভ মিছিল, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: কুবিতে বিক্ষোভ মিছিল/বার্তা২৪.কম

ছবি: কুবিতে বিক্ষোভ মিছিল/বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সকল চাকরির সকল গ্রেডে ও সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক কোটা নিরসনের দাবিতে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পঞ্চম দিনের মত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) পুলিশি হামলার শিকার হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এই হামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি প্রশাসনিক অদক্ষতার কারনে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাংলো হয়ে আনসার ক্যাম্প ঘুরে গোল চত্বরে এসে শেষ হয়।

মিছিল আনসার ক্যাম্প পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা সেখানে এক যোগে জাতীয় সংগীত গায় এবং পুলিশি হামলার শিকার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করে। নীরবতা পালন শেষে শিক্ষার্থীরা আনসার ক্যাম্প মোড়কে 'ছাত্র আন্দোলন চত্বর' ঘোষণা করা হয়। এরপর চত্বরটিতে আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহকালে আহত দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাভেদ রায়হান ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা মিলে নামফলক লাগান।

এরপর এই চত্বরের স্মৃতিস্বরূপ দুইটি গাছ লাগান শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষার্থীরা সদ্য নাম দেয়া 'ছাত্র আন্দোলন চত্বরে বক্তব্য রাখেন। তারা সেখানে এই হামলায় জড়িতদের বিচার চান এবং সেদিনের ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। এছাড়া ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তার পদত্যাগও চান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে গোলচত্বরে স্লোগান দিতে থাকেন।

এই পুরোটা সময় আন্দোলনকারীরা 'লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই, আমার সোনার বাংলায়, বৈষ্যমের ঠাই নাই, লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে, একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার, সারা বাংলা খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে ইত্যাদি বলে স্লোগান দেন।

এ ব্যাপারে আন্দোলনকারীদের মধ্যে অন্যতম আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাকিব হোসাইন বলেন, "আমাদের এ আন্দোলন যৌক্তিক ছিল, আমরা বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলাম অবরোধ করতে। তখন আমাদের ওপর হামলা করা হয়, লাঠিচার্জ করা হয় এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। আজকে আমরা দেখিয়ে দিবো শিক্ষার্থীরা কী করতে পারে। আমরা এই আন্দোলন আরো জোরদার করবো।"

উল্লেখ্য, গতকাল (১১ জুলাই) বিকাল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনসার ক্যাম্পের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি চার্জ করে পুলিশ। এর জবাবে শিক্ষার্থীরাও ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস, টিয়ারশেল, ফাঁকা গুলি ছুড়েন। ফলে তিন সাংবাদিক সহ অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা৷

;