আবরার হত্যায় মেফতাহুলের স্বীকারোক্তি



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
আবরার হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি মেফতাহুল | ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

আবরার হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি মেফতাহুল | ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন।

মেফতাহুলকে গত ৮ অক্টোবর ৫ দিনের রিমান্ড মঞজুর করেন আদালত। রিমান্ডে থাকাকালীন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

ডিবির আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাফুজ্জামান আনসারী মেফতাহুলের জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: বুয়েটে নিষিদ্ধ হলো ছাত্র রাজনীতি

এর আগে বৃহস্পতিবার আরেক আসামি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল আদালতে স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি জবানবন্দিতে আবরার ফাহাদকে হত্যায় মেফতাহুলের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন।

শুক্রবার মেফতাহুল দোষ স্বীকার করায় এ পর্যন্ত আবরার হত্যার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন।

একই দিনে এজাহারের বাইরে থাকা অমিত সাহা ও এজাহারভুক্ত আসামি হোসেন মোহাম্মদ তোহার পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন একই আদালত।

শুক্রবার তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাফুজ্জামান আনসারী প্রত্যেকের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অমিত সাহা বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন: সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো উপাচার্য-শিক্ষার্থীদের বৈঠক

এর আগে বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছিলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অমিত সাহাকে মামলার এজাহার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে সেই সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেছিলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনে অমিত সাহাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের জেরে আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার সহপাঠিরা।

এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার রাজধানীর চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত আবরার হত্যা মামলায় মোট ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামিরা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।