স্টামফোর্ডে নদী দিবসের আলোচনা সভা

সেন্ট্রাল ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
স্টামফোর্ডে নদী দিবসের আলোচনা সভা ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

স্টামফোর্ডে নদী দিবসের আলোচনা সভা ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আলোচনা সভা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ধানমন্ডি ক্যাম্পাসে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলান (বাপা) এবং ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য শারমিন মুর্শিদ। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অ্যাকাডেমিক অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা, বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন, ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ-এর সমন্বয়কারী ও বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান সারাহ বাশনীন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য শারমিন মুর্শিদ।

তিনি বলেন, নদীকে ধ্বংস করা শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নদী রক্ষার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি, আশা করি সবার সহযোগিতায় আমরা সফল হবো। নদী সুরক্ষার জন্য নদী কমিশনের পক্ষ থেকে একটি খতিয়ান বানানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এসময় তিনি নদী রক্ষায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা নিয়ে প্রতি বছর একটি প্রদর্শনী করার ইচ্ছা পোষণ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, জাতিসংঘের ঘোষণা অনুয়ায়ী নদীর গতি পথে কোন প্রকার বাধা দেওয়া যাবে না। কেননা নদীর গতিপথে বাধা দিলে তার স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হয়। তাই নদীকে বাঁচাতে দখল হয়ে যাওয়া নদীগুলোকে যে কোনো মূল্যে উদ্ধার করতে হবে।

ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ-এর সমন্বয়কারী ও বাপা’র যুগ্ম-সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ, ১৫ শতাব্দীতে বাংলাদেশ অঞ্চলে নদী ছিল এক হাজার ৫০০টি। কমতে কমতে ২০০৬ সালে মাত্র ২৩০টি নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। নদী পুনরুদ্ধারে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে হালাদা নদীর গুরুত্ব অনেক বেশি, আর এই নদীকে রক্ষা করার এখনই উপযুক্ত সময়।

সভাপতির বক্তব্যে স্টামফোর্ডের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অ্যাকাডেমিক অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা বলেন, ‘নদী রক্ষায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গুলোর ভূমিকা বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার হওয়া জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হালদা নদী হচ্ছে মৎস্য প্রজননের জন্য পৃথিবীর অন্যতম একটি অভয়ারণ্য। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট নানা কারণে এই নদীটি আজ ধ্বংসের পথে, সঠিক গবেষণা ও নীতি প্রনয়ণের মাধ্যমে হালদাকে তার অতীতরুপ ফিরিয়ে দিতে হবে।’

আলোচনার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানিয়া তাবাসসুম ঝুমুর এবং তার গবেষণা দলের সদস্যরা। এই সময় তিনি হালদা নদীর দখল-দূষণের ওপর বিভিন্ন প্রসঙ্গ বিশ্লেষণ এবং অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রমের ফলাফল তুলে ধরেন।

আপনার মতামত লিখুন :