জাবি যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলপ্রধানের বিরুদ্ধে ‘নিপীড়নের’ অভিযোগ!

জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
অধ্যাপক রাশেদা আখতার। ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক রাশেদা আখতার। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলপ্রধান নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা আখতারের বিরুদ্ধে ‘অযোগ্যতা, পক্ষপাতদুষ্ট ও নিপীড়ককে সহযোগিতার’ অভিযোগ উঠেছে। আর এ অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ ও শাস্তি দাবি করেছেন এক শিক্ষার্থী।

গত বুধবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে লেখা এক অভিযোগপত্রে উক্ত শিক্ষার্থী অধ্যাপক রাশেদা আখতারের শাস্তি ও পদত্যাগ দাবি করেন। যার লিখিত কপি শনিবার (১২ অক্টোবর) গণমাধ্যমের কাছে আসে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত বছরের জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন ছাত্র অশালীন গালাগালি ও ধর্ষণের হুমকি দেয় ওই শিক্ষার্থীকে। একই মাসের ১৫ তারিখে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে সেই পাঁচজন ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ জুলাই অধ্যাপক রাশেদা আখতারের নেতৃত্বে গঠিত সেলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বক্তব্য ও প্রমাণ স্বশরীরে উপস্থাপন করতে বলা হয়। কিন্তু এ সময় অধ্যাপক রাশেদা আখতার শিক্ষার্থীর সঙ্গে ‘সহযোগিতামূলক’ আচরণ না করে ‘নিপীড়নমূলক’ আচরণ করেন।

পরবর্তীতে যৌন হয়রানির সকল বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য আবারো সুযোগ চেয়ে ও তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর শাস্তির দাবি জানিয়ে গত বছরের ১৩ আগস্ট অধ্যাপক রাশেদা আখতারের কাছে একটি চিঠি লিখেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। তবে বারবার ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানানোর পরেও রাশেদা আখতার ‘ধর্ষণের হুমকির’ মতো গুরুতর ঘটনার কোনো তদন্ত করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘গত ১১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগে আয়োজিত এক সেমিনারে অধ্যাপক রাশেদা আখতারের উপস্থিতিতে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের ‘তিক্ত’ অভিজ্ঞতা সকলের সামনে তুলে ধরি। বক্তব্য শেষ হলে রাশেদা আখতার আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ‘বিষোদগারমূলক’ তথ্য পরিবেশন করেন। ফলে আমি তার কাছ থেকে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা হারিয়ে ফেলি।’

এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানোয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে বিভাগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন একই শিক্ষার্থী। যা গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে পাঠান বিভাগীয় সভাপতি।

পূর্বের যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের হুমকির ঘটনা তদন্ত না করে উল্টো ‘নিপীড়ন’ করার অভিযোগ এনে অধ্যাপক রাশেদা আখতারের প্রতি ‘অনাস্থা’ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে লেখা এক চিঠিতে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাশেদা আখতার বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর (সহযোগী অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকারনাইন) দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এক বছর আগে দায়ের করা আমার একটি অভিযোগের কোনো তদন্ত করেননি। উল্টো একটা সেমিনারে সেলের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরার কারণে আমার সম্পর্কে বিষোদগারমূলক তথ্য পরিবেশন করেন। প্রক্টরের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে থাকলে অধ্যাপক রাশেদা আখতারের শাস্তি প্রাপ্য।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যৌন নিপীড়ন সেলের প্রধান অধ্যাপক রাশেদা আখতার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমি কারো কাছে কিছু বলিনি বা প্রভাবিত হইনি। সে তার ইচ্ছামতো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র তার অভিযোগের ব্যাপারে অধ্যাপক আরিফা সুলতানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি বিষয়টি দেখবেন।’

এ ব্যাপারে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘যৌন নিপীড়ন সেলপ্রধানের অপসারণ দাবি করে লেখা একটা চিঠি পেয়েছি। কিন্তু অপসারণ চাইলেই তো করা যায় না। অপসারণ করতে চাইলে যথেষ্ট প্রমাণ দরকার। আমরা আরও তথ্য প্রমাণ চেয়েছি, তথ্য প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আপাতত ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের ব্যাপারে অধ্যাপক আরিফা সুলতানাকে আহ্বায়ক করে একটা কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তিনিই বিষয়টি দেখবেন।’

আপনার মতামত লিখুন :