দাওয়াত পাননি তাই অনুষ্ঠান বানচালের চেষ্টা 'ক্ষুব্ধ' জাবি উপাচার্যের

জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, পুরনো ছবি

জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, পুরনো ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়ায় 'ক্ষুব্ধ' হয়ে অনুষ্ঠান বানচালের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে।

রোববার (২০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ক্লাব আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের শেষ দিনে অনুষ্ঠান 'বানচাল' চেষ্টার অভিযোগ উঠে।

অনুষ্ঠানের শেষ দিনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শাহাব উদ্দীন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও বিশেষ অতিথি হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের 'অনুরোধে' তারা কেউই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ করছেন গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজকরা।

ক্লাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে আন্দোলনে নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ। এ অবস্থায় বিতর্ক এড়াতে উপাচার্যকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাবের সদস্যরা। এর প্রেক্ষিতে উপাচার্য মন্ত্রণালয়ে ফোন দিয়ে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত দু'জন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীকে অনুষ্ঠানে না আসার জন্য অনুরোধ করেন।

আয়োজক কমিটি বলছেন, উপাচার্যকে দাওয়াত দিতে ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ক্লাবের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা উপাচার্যপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ এ মামুন ও বর্তমান উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক ড. তাজউদ্দিন শিকদার।

কিন্তু ক্লাবের সদস্যরা উপাচার্যকে দাওয়াত দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে উপাচার্য ছাড়া তাদের অনুষ্ঠান করতে দেবেন না বলে ক্লাব সদস্যদের জানিয়ে দেন অধ্যাপক ড. এ এ মামুন ।

এ নিয়ে গত শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত উপাচার্যের বাসায় মিটিং করেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা। মন্ত্রীরা যাতে অনুষ্ঠানে না আসেন সেজন্য উপাচার্যকে অনুরোধ করেন তারা।

পরবর্তীতে উপাচার্যের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রতিনিধিকে অনুষ্ঠানে না আসতে অনুরোধ করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ঐ মিটিংয়ে উপস্থিত এক শিক্ষক।

এদিকে উপাচার্যের এ ধরনের আচরণে ক্ষুব্ধ হন ক্লাবের সদস্যরা। তারা অভিযোগ করছেন, উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম অনুষ্ঠান 'বানচালের' চেষ্টা করেছেন।

এর আগে সায়েন্স ক্লাবের একাধিক অনুষ্ঠানে উপাচার্যকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানালে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তিনি উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ ক্লাবের নেতাদের। ফলে এ অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

তবে উপাচার্যের অনুরোধে আমন্ত্রিত অতিথিরা না আসলেও রোববার (২০ অক্টোবর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে গণিত অলিম্পিয়াডে দেশের প্রায় ২০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

এ বিষয়ে জাবি বিজ্ঞান ক্লাবের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, 'আমরা পূর্বে টানা পাঁচটা অনুষ্ঠানে উপাচার্যকে আমন্ত্রণ জানালেও তিনি বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে উপস্থিত হননি। সেই জায়গা থেকে আমরা তাকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করিনি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভিত্তিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। আমরা তেমনই একটি সামাজিক সংগঠন। তাই সংগঠন হিসেবে আমাদের একটি সামষ্টিক সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারি না। আমরা শুধু উপাচার্যকেই দাওয়াত দেইনি। কিন্তু প্রশাসনের বাকি সকল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে আমরা দাওয়াত দিয়েছি।'

অনুষ্ঠান না করতে দেওয়ার বিষয়ে অধ্যাপক এ এ মামুন বলেন, 'আমি ক্লাবের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ছিলাম। আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। তবে আমি বলেছিলাম, উপাচার্যকে দাওয়াত না দিলে আমি অনুষ্ঠানে যাব না।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জরুরি মিটিং থাকায় আমি যেতে পারিনি। তবে আমার এপিএস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেছে।'

মন্ত্রণালয়ের অপর এক সূত্র জানায়, উপাচার্য দাওয়াত না পাওয়ায় ফোন করে অনুষ্ঠানে মন্ত্রীকে না আসতে অনুরোধ করেছেন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, 'আমি এমনকি আমার অফিস এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে অবগত ছিলাম না।'

তবে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, 'অনুষ্ঠানের বিষয়ে মন্ত্রী আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি তাকে শুধু ফ্যাক্ট তুলে ধরেছি।'

আপনার মতামত লিখুন :