ঢাবি সাংবাদিকতা বিভাগ: নবীনদের বরণ, হৃদমাঝারে বিদায়ীরা!

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সাংবাদিকতা শিক্ষার হাতেখড়ি নিয়ে বের হয় এই বিভাগ থেকে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সাংবাদিকতা শিক্ষার হাতেখড়ি নিয়ে বের হয় এই বিভাগ থেকে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক থেকে শুরু করে অসংখ্য সাংবাদিক উপহার দিয়েছে ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সাংবাদিকতা শিক্ষার হাতেখড়ি নিয়ে বের হয় এই বিভাগ থেকে। কিন্তু তাদের ঠিক বিদায় বলতে নারাজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাই নবীনদের বরণ আর বিদায়ীদের হৃদমাঝারে রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বিভাগটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীন বরণ ও অগ্রায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে।এতে বিভাগের ১২ ও ১৩ তম ব্যাচের নবীন বরণ এবং ৭ম ও ৮ম ব্যাচের অগ্রায়ন ও বিভাগের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমদ, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নাসরীন আহমদ বলেন, এখনও প্রতিটি বাসায় চায়ের কাপে চুমুক আর খবরের কাগজে চোখ বুলিয়ে দিন শুরু হয়। পত্রিকা না থাকলে ফাঁকা ফাঁকা লাগে। শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন দুপুরে অংক করার পরে আমি বাবার নির্দেশে খবরের কাগজ পড়তাম। সেখান থেকে আমার শব্দ ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। ১৯৭১ সালে সংবাদপত্র এবং রেডিও’র খবরের গুরুত্ব আমাদের কাছে আরও বেড়ে গেল। আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো স্বাধীন বাংলা বেতারে সংবাদ পাঠ। সেসময় সাতদিন-১০দিনের খবরও আমরা গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করতাম।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) বলেন, অগ্রায়ন কথাটি বিদায় শব্দের থেকে ভালো। শব্দটি নতুন শিখলাম। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তোমাদের কাজ হচ্ছে জ্ঞান অর্জন করা এবং ভালো ক্যারিয়ার গড়া। তোমাদের অবশ্যই মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন অসাম্প্রদায়িক হতে হবে। তুমি কেমন পৃথিবী দেখতে চাও সে রকম একটি দর্শন থাকতে হবে। তাহলেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব, তোমার বিভাগের গৌরব।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন বলেন, ‘যাদের বরণ করা হচ্ছে এবং যারা অগ্রায়িত হচ্ছে তারা কেউই আমাদের হৃদয়ের বাহিরে যাবে না। তারা আমাদের মনেই থাকবে।’

অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান, অধ্যাপক শেখ আব্দুস সালাম, অধ্যাপক আবুল মনসুর, অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক মফিজুর রহমান, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক আফরোজা বুলবুল, শাওন্তী হায়দার, শবনম আযীম, সহকারী অধ্যাপক কাজলী সেহরীন ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার সকাল থেকে বিভাগের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শবনম আযীম। এরপর নবীন ও ‘অগ্রায়িত’ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :