জাবি আন্দোলনকারীদের শাহবাগে সমাবেশ করার ঘোষণা

জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক রায়হান রাইন

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক রায়হান রাইন

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতে হল খুলে দিয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাসহ তিন দফা দাবিতে শনিবার (২৩ নভেম্বর) শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচী ঘোষণা দেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারের সমন্বয়ক দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছাত্রফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান।

লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, ‘যৌক্তিক দাবিতে চলমান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষার্থী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আর শিক্ষার্থীদের এ গণ-বিস্ফোরণকে ভয় পেয়ে শুধু নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভোগান্তির কথা বিবেচনায় না নিয়ে সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ও হল ভ্যাকেন্ট করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ববিহীন অপূর্ণাঙ্গ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিন্ডিকেটে নেওয়া হল ভ্যাকেন্টের মতো অন্যায্য সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করলে স্বৈরাচারী কায়দায় বল প্রয়োগ করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলাফেরা, সভা-সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনকি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবেতর জীবন-যাপন করা শিক্ষার্থীদের কথা ন্যূনতম বিবেচনায় না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার চা-নাস্তা-স্টেশনারি দোকান বন্ধ করতেও নানান কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের প্রত্যাশা ছিলো শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে সমস্ত অবিবেচক সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আশু উদ্যোগ গ্রহণ করে অগণিত শিক্ষার্থীর ভোগান্তি দূর করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২১ নভেম্বরের মধ্যে হল খুলে দিয়ে অগণিত শিক্ষার্থীর ভোগান্তি দূর করার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। কিন্তু আলটিমেটামের শেষ দিনে এসে আমরা পরিতাপের সাথে খেয়াল করলাম, যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় সচল করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়নি। উপরন্তু ফাঁকা ক্যাম্পাসের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাস্টাররোল ও দৈনিক ভিত্তিতে একের পর এক কর্মচারী নিয়োগ এবং দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হামলাকারী ও মামলাবাজ উপাচার্যের ঢাল হয়ে যারা দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের আপগ্রেডেশন, স্বজনদের নিয়োগের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে, কিন্তু বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যে বিপর্যস্ত হতে চলেছে, সে ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।'

লিখিত বক্তব্য শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে অনতিবিলম্বে হল ভ্যাকেন্টের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আগামী শনিবার (২৩ নভেম্বর) বিকেল তিনটায় বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও গুণীজনদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

এছাড়া আন্দোলনকারীদের অন্য দাবি সমূহ হলো- উপাচার্যের প্রত্যক্ষ মদদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার ও মামলাবাজ উপাচার্যের অপসারণ, হল ভ্যাকেন্টের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের দেশীয় আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা।’

উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার পর জরুরি এক সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। এ বন্ধের মধ্যেই উপাচার্যের অপসারণ ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয় আন্দোলনকারীরা।

আপনার মতামত লিখুন :