রাবি উপাচার্যের ‘কথা রাখা’র সমাবর্তন



হাসান আদিব, স্টাফ করেসপন্ডেট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
সমাবর্তন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সমাবর্তন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৬ সালে। চার বছর পর ১৯৬০ সালে হয় দ্বিতীয় সমাবর্তন। অধ্যাদেশের নিয়ম মেনে ১৯৬১ ও ১৯৬২ সালে হয় তৃতীয় ও চতুর্থ সমাবর্তন।

এরপর অনিয়মিত হয়ে পড়ে সমাবর্তন উৎসব। তিন বছর পর ১৯৬৫ সালে পঞ্চম এবং ১৯৭০ সালে ষষ্ঠ সমাবর্তন পান গ্রাজুয়েটরা। এর দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১৯৯৮ সালে সপ্তম সমাবর্তন করেন উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল খালেকের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। এরপর ফের অপেক্ষা।

অষ্টম সমাবর্তন পেতে গ্রাজুয়েটদের ১৪ বছরের সেই অপেক্ষা শেষ হয় ২০১২ সালে। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রথম মেয়াদে সফলভাবে সমাবর্তন আয়োজন করেন ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। পরের বছরের শুরুতে তার মেয়াদ শেষে দায়িত্ব পান সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন। দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পর ২০১৫ সালে নবম সমাবর্তনের আয়োজন করে অধ্যাপক মিজানউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। পরবর্তীতে দশম সমাবর্তনের আয়োজনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।

২০১৭ সালের শুরুর দিকে তার মেয়াদ শেষ হলে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্যের দায়িত্ব পান অধ্যাপক আব্দুস সোবহান। দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১৮ সালে দশম সমাবর্তন সফলভাবে আয়োজন করে তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। তবে অনিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন নিয়ে তৎকালীন সময়ের গ্রাজুয়েটসহ বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মাঝে হতাশা-ক্ষোভের অন্ত ছিল না। এ নিয়ে অভিযোগ-অনুযোগ যায় উপাচার্যের কাছেও।

সমাবর্তন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

দশম সমাবর্তন পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলন ও সমাবর্তন মঞ্চে বক্তৃতায় উপাচার্য অঙ্গীকার করে ঘোষণা দেন, ‘এখন থেকে প্রতিবছর সমাবর্তন আয়োজন করা হবে।’ ২০১৮ সালে দশম সমাবর্তনের ঠিক একবছর পরই একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান সেই অঙ্গীকার পূরণ করতে চলেছেন আগামী শনিবার (২৯ নভেম্বর)।

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে সমাবর্তনের সব প্রস্তুতি শেষ। শনিবার বিকেল ৩টায় শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। এই সমাবর্তন ইতিহাসের অংশও বটে! ১৯৬০ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত পরপর তিন বছর সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পর দ্বিতীয়বারের মতো পরপর দুই বছর সমাবর্তন করতে যাচ্ছে রাবি প্রশাসন। যা আবার স্বাধীন বাংলাদেশে রাবির ইতিহাসে এই প্রথম। একই সঙ্গে রাবির উপাচার্য হিসেবে রেকর্ড তিনটি সমাবর্তন করতে যাচ্ছেন অধ্যাপক সোবহান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপকরা বলছেন, এটি সম্ভব হয়েছে উপাচার্য আব্দুস সোবহানের দক্ষ প্রশাসনিক নেতৃত্বের কারণে। বিভিন্ন সময়ে সমাবর্তন শিক্ষকদের একটি পক্ষ বর্জনের ঘোষণা করলেও এবার তা ঘটেনি। বড় কোনো ব্যত্যয় না ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অংশীদার হয়ে থাকবে একাদশ সমাবর্তন।

সমাবর্তনে অংশ নিতে ঢাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসা নিবন্ধিত গ্রাজুয়েট নাট্যকলা বিভাগের হৃদয় আল মিরু বলেন, আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তখন দীর্ঘদিন পর সমাবর্তন হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঠাট্টা করতেও ছাড়তো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবর্তন হলেও আমরা তা পেতাম না। এবার নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।

তার মতোই খুশি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের গ্রাজুয়েট রিপন রাসেল। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমি ভাবতেই পারিনি, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে রাবি প্রশাসন আরেকটা সমাবর্তন আয়োজন করবে। আমার ব্যাচমেট অনেকে নিবন্ধন করেনি। তারা ভেবেছিল হয়তো নিবন্ধন করিয়ে রাখলেও সমাবর্তন হবে না। পরে আবার নিবন্ধনের সুযোগ দেয়া হবে। তবে সমাবর্তন হয়ে যাচ্ছে দেখছি!

সমাবর্তন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক রহমান রাজু বলেন, প্রতিবছর সমাবর্তন উৎসব পাওয়াটা গ্রাজুয়েটদের প্রাপ্য। সেটা না করতে পারাটা ব্যর্থতা। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঝেমধ্যে অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে। তার মানে এই নয় যে, দেড়-দুই যুগ ধরে সেটা করা হবে না। বর্তমান প্রশাসন সমাবর্তন নিয়মিত করতে পারছে, এটা প্রশাসনের সফলতা তো বটেই, পাশাপাশি এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করবে। সমাবর্তনের সকল গ্রাজুয়েটকে অমি অভিনন্দন জানাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার বলেন, দশম সমাবর্তনের পরপরই উপাচার্য মহোদয় একাদশ সমাবর্তন আয়োজনে বদ্ধপরিকর ছিলেন। উপাচার্যের দিক-নির্দেশনায় নানা সীমাবদ্ধতা সত্বেও দ্রুত আরও একটি সমাবর্তন আয়োজন করতে পেরে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাই বেশ খুশি। আশা করি- একাদশ সমাবর্তন সকলের সহযোগিতায় সাফল্যের সাথে সমাপ্ত হবে।

জানতে চাইলে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, অধ্যাদেশ অনুসারে প্রতিবছর সমাবর্তন আয়োজনের রীতি রয়েছে। যখনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা শিক্ষকরা প্রশাসনের নেতৃত্বে এসেছেন, তখনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন হয়েছে। বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষকরা প্রশাসনে এসে কখনও সমাবর্তন করতে পারেননি। এটি তাদের সংকীর্ণতা। ফলে সমাবর্তন অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

উপাচার্য বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকা অবস্থায় সবক’টি সমাবর্তন করেছে রাবি। কারণ, প্রশাসনের সদিচ্ছার পাশাপাশি রাজধানীর বাইরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন আয়োজনের জন্য প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন হয়। সেটা সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে আমাদের পক্ষে পরপর দুই বছর সমাবর্তন আয়োজন সম্ভব হয়েছে। আশা করি, এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

   

গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংয়ে আবেদন করতে চায় চবি



চবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংয়ে আবেদন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নিয়ে আসতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত হয় এই সভা। এসময় তিনি টাইমস ও কিউ এস র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান পেতে তাঁর বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এ সময় চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক মান অনুধাবন করা যায় র‍্যাঙ্কিং এর মাধ্যমে। দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে আছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণা, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোসহ সার্বিক বিষয়ের সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে হবে। এরপর বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং এর জন্য আবেদন করলে একটা ফলপ্রসু অবস্থান আশা করা যেতে পারে

এছাড়াও উপাচার্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক নিয়োগ, সেন্টার অফ এক্সিলেন্স গঠন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন পদক্ষেপ, ছাত্রদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে পরিকল্পনা, পরিবেশ-বান্ধব ক্যাম্পাস নিয়ে সামনের দিনগুলোতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। এ লক্ষ্যে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর বেনু কুমার দে, চবি গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক চবি আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ আল ফারুক, চবি আইকিইএসির পরিচালক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মামুন, চবি আইসিটি সেলের পরিচালক কম্পিউটার সায়েন্সেস এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, চবি কলেজ পরিদর্শক পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. শ্যামল রঞ্জন চক্রবর্তী, ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, চবি ফাইন্যান্স বিভাগের প্রফেসর ড. অনুপম দাশগুপ্ত, চবি জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের প্রফেসর ড. আদনান মান্নান ও সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুব হাসান, চবি ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমন গাঙ্গুলী, চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নুর আহমদ, চবি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) চৌধুরী আমীর মোহাম্মদ মুছা, চবি একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এস.এম. আকবর হোছাইন ও চবি গ্রন্থাগার দপ্তরের উপ-গ্রন্থাগারিক দিল রুকসানা বসুনীয়া উপস্থিত ছিলেন।

;

এবার দুই পদ থেকে পদত্যাগ করলেন কুবি শিক্ষক



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষক দুইটি পদ থেকে একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারী শিক্ষক হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল হক। তিনি ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিনিধি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর দেয়া একটি পদত্যাগপত্র তিনি প্রদান করেন।

পদত্যাগপত্রে মোহাম্মদ আইনুল হক উল্লেখ করেন, আমি ২০২২ সালের ০৬ নভেম্বর থেকে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এবং ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের কর্তৃক বিভিন্ন অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরিকৃত সংকটের কোনো সমাধান না করে উপরন্তু নতুন নতুন সংকট তৈরি, অনিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং পেশাগত বিশৃঙ্খলা তৈরির পাশাপাশি বিভিন্নভাবে শিক্ষকদের মর্যাদাহানি করা হচ্ছে। এ সমস্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে আমি উক্ত পদসমূহের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করছি।'

এ বিষয়ে মোহাম্মদ আইনুল হক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তা সমাধান না করে আরও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডিন, বিভাগীয় প্রধান নিয়োগে আইন মানা হচ্ছে না। এমনকি গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকদের সাথে কর্মকর্তাদের যে অসৌজন্যমূলক আচরণ তার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার প্রেক্ষিতে আমার মনে হয়েছে এই পদে আমার থাকা অনুচিত। তাই আমি পদত্যাগ করেছি।

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক তোফায়েল হোসেন মজুমদার, ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম উপদেষ্টা মাহবুবুল হক ভূঁইয়া, ১৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান এবং ২০ ফেব্রুয়ারি সহকারী প্রক্টর মো: কামরুল হাসান ও শেখ হাসিনা হলের আবাসিক শিক্ষক কুলছুম আক্তার স্বপ্না পদত্যাগ করেন। এছাড়াও ১৯ মার্চ সিন্ডিকেট সভায় 'এজেন্ডা বহির্ভূত ও বেআইনীভাবে ডিন নিয়োগ' দেয়ার কারণ দেখিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যর পদ থেকে অধ্যাপক ড. শেখ মকছেদুর রহমান পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ গত ২০ মার্চ চার হলের চার আবাসিক শিক্ষক পদত্যাগ করেছিলেন।

;

৩ বছরেও সমন্বয় হয়নি জবি শিক্ষার্থীদের অবৈতনিক অধ্যয়নের টাকা



জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

মেধাবৃত্তি ও অবৈতনিক অধ্যয়নের সুযোগ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অবৈতনিক অধ্যয়নের টাকা এখনো সমন্বয় হয়নি বলে অভিযোগ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রসায়ন বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট আইডির প্রোফাইলে লগ ইন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

রসায়ন বিভাগ ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মারুফা হাকিমের স্টুডেন্ট আইডির প্রোফাইলে লগ ইন করে দেখা যায়, প্রতিবছর ১ বার করে সেমিস্টার ফি থেকে ৬০০ টাকা মওকুফ করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মেধাবৃত্তি ও অবৈতনিক অধ্যয়নের সুযোগ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি থেকে এক শিক্ষাবর্ষে ২ বার ৬০০ টাকা মওকুফের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি ২০২১ সালে মেধাবৃত্তি এবং ২০২২ ও ২০২৩ সালে অবৈতনিক অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। ফলে বৃত্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতি সেমিস্টার ফি থেকে ৬০০ টাকা মওকুফ হবার কথা। অর্থাৎ ১ বছরে ২ বার এবং ৩ বছরে ৬ বার ৬০০ টাকা করে মওকুফ হবার কথা থাকলে ৩ বছরে মাত্র ৩ বার ৬০০ টাকা মওকুফ করা হয়েছে।

২০২১ সালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "বৃত্তি নীতিমালা-২০১৩" অনুযায়ী প্রত্যেক বিভাগ হতে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ০৩ (তিন) জন শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে ৪০০/- (চারশত) টাকা হারে মেধাবৃত্তি এবং এক শিক্ষাবর্ষের জন্য অবৈতনিক অধ্যয়নের সুযোগ পাবে। মেধাবৃত্তি ছাড়াও প্রত্যেক বিভাগে প্রতি শিক্ষাবর্ষে মোট শিক্ষার্থীর ১০% (শতকরা দশজন) অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে অবৈতনিক অধ্যয়নের সুযোগ প্রদান করা হবে।

২০২২ সালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "বৃত্তি নীতিমালা-২০১৩" অনুযায়ী প্রত্যেক বিভাগ হতে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ০৩ (তিন) জন শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে ৬৫০/- (ছয়শত পঞ্চাশ) টাকা হারে মেধাবৃত্তি এবং এক শিক্ষাবর্ষের জন্য অবৈতনিক অধ্যয়নের সুযোগ পাবে। মেধাবৃত্তি ছাড়াও প্রত্যেক বিভাগে প্রতি শিক্ষাবর্ষে মোট শিক্ষার্থীর ১০% (শতকরা দশজন) অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে অবৈতনিক অধ্যয়নের সুযোগ প্রদান করা হবে।

এ বিষয়ে ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মারুফা হাকিম বলেন, আমি ২০২১ সালে মেধাবৃত্তি পেয়েছি এবং ২০২২ ও ২০২৩ সালে অবৈতনিক অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছি। সে হিসেবে আমার প্রতি সেমিস্টারে ৬০০ টাকা করে মওকুফ হবার কথা। অর্থাৎ এক শিক্ষাবর্ষে দুই সেমিস্টারে ৬০০ করে মোট ১২০০ টাকা মওকুফ হবার কথা কিন্তু প্রতিবছর শুধু একবার করে ৬০০ টাকা মওকুফ করেছে।

রসায়ন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম ২০২১ ও ২০২২ সালে মেধাবৃত্তি এবং ২০২৩ সালে অবৈতনিক অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। মেধাবৃত্তির টাকা পেলেও সমন্বয় হয়নি অবৈতনিক অধ্যয়নের টাকা।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ২০২১ ও ২০২২ সালে মেধাবৃত্তি এবং ২০২৩ সালে অবৈতনিক অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছি। বৃত্তির নোটিশ অনুযায়ী আমার প্রতি সেমিস্টার ফি থেকে ৬০০ টাকা মওকুফ হওয়ার কথা। কিন্তু তা হয় নি। ২০২৩ সালে দুটি সেমিস্টার থেকে ৬০০ টাকা মওকুফ করা হয়েছে। তবে ২০২১ ও ২০২২ সালে একবার করে ৬০০ টাকা মওকুফ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, আমি যখন ছাত্রকল্যাণের পরিচালক ছিলাম তখন এ বিষয়গুলো আপডেট করা হয়েছে। এমন হওয়ার কথা না। এরপরেও যদি হয়ে থাকে তবে সমস্যা আইসিটি সেলের নাকি অন্য কোথাও সেটা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, যদি কোনো শিক্ষার্থীর অনার্স বা মাস্টার্স শেষ হয়ে যাওয়ায় তার টাকা সমন্বয় করার কোনো উপায় না থাকে তবে সে এপ্লিকেশন করলেই তাকে তার প্রাপ্য টাকা দিয়ে দেয়া হবে। কোনো শিক্ষার্থীই বঞ্চিত হবে না।

সশরীরে উপস্থিত হয়ে সমন্বয় করতে হবে-এমন কথা বৃত্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ না থাকলেও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বলেন, যখন শিক্ষার্থীরা দেখলেন যে সমন্বয় হচ্ছে না তখন তাদের উচিত ছিল অভিযোগ জানানো। আমরা নিজেরাও তো ব্যাংকে সরাসরি যোগাযোগ করি যখন কোনো সমস্যা হয়।

এ বিষয়ে আইসিটি সেলের পরিচালক ড. আমিনুল ইসলাম বলেন, এটা আইসিটি সেলের বিষয় না। রেজিস্ট্রার স্যারের সাথে কথা বললে সঠিক তথ্য পাবেন।

;

ঢাবির বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান ইউনিট ও ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের আন্ডারগ্রাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এক লাখ ৯ হাজার ৩৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ হাজার ৭২৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রথম হয়েছেন প্রতীক রসুল।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ৩৪ হাজার ৩৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৮২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাশের হার ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। প্রথম হয়েছেন চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী অথৈ ধর। পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে তিনি ১০৫ দশমিক ৫০ নম্বর পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনস্থ অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল ফল ঘোষণা করেন।

এদিকে বিজ্ঞান ইউনিটে প্রথম হয়েছেন প্রতীক রসুল। তিনি রাজধানীর নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন। পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে তিনি ১১১ দশমিক ২৫ নম্বর পেয়েছেন।

চলতি বছরের ১ মার্চ বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই ইউনিটে মোট ১ হাজার ৮৫১টি আসন রয়েছে। তার মধ্যে বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণদের জন্য ১হাজার ৭৭৫টি, মানবিক শাখা থেকে ৫১টি, ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ২৫টি আসন বরাদ্দ রয়েছে।

আর ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই ইউনিটে মোট ১ হাজার ৫০টি আসন রয়েছে। তার মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা থেকে উত্তীর্ণদের জন্য ৯৩০টি মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণদের জন্য ৯৫টি বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণদের জন্য ২৫টি আসন বরাদ্দ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্মেলনে কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট ও চারুকলা ইউনিটের ফলও প্রকাশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল ফল জানা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের admission.eis.du.ac.bd ওয়েবসাইটে জানা যাবে। এছাড়া মোবাইলে এসএমসএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে। টেলিটক, রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক মোবাইল নম্বর থেকে বিজ্ঞান ইউনিটের জন্য DU SCI <roll no> টাইপ করে ১৬৩২১ নম্বরে send করে ফিরতি SMS-এ ফলাফল জানা যাবে।

;