মাইক পেন্স কি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট?



শাকিল রিয়াজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পদত্যাগ করে মাইক পেন্সের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পেন্স হবেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট। আর জো বাইডেন হবেন ৪৭তম।

ট্রাম্প এখনো পরাজয় মানেননি। মানবেন না বলেই মনে হচ্ছে। উল্টো কারচুপির অভিযোগ এনে আদালতে নালিশ করেছেন। ট্র্যাডিশনও ভেঙেছেন তিনি। বিজয়ী বাইডেনকে ফোন করে এখনো অভিনন্দন জানাননি। সারাজীবন যে করেই হোক জিতে আসা এই লোকটি পরাজয় শব্দটিকে ঘৃণা করেন। আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা হস্তান্তরের দিন তিনি তাকে হারানো বাইডেনের পাশে পরাজিতের মতো দাঁড়িয়ে থাকবেন কিনা সেই প্রশ্ন এখন উঠেছে। এই অপমান থেকে বাঁচার জন্য তিনি মাইক পেন্সের হাতে ক্ষমতা দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন।

আরও একটি কারণে তিনি বাইডেনের অভিষেকের আগে পেন্সকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দিতে পারেন। আর তা হলো, ট্রাম্প নিজে, তার আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের যাবতীয় অনিয়ম, কুকীর্তি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়া। অল্প সময়ের মধ্যে পেন্স একটি ইনডেমনিটি জাতীয় আইন করে ট্রাম্প ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিচার চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দিতে পারেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। নতুন সরকার যে তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ধূর্ত ট্রাম্প তাই আগেভাগেই হয়তো এ ধরনের কিছু একটা করার চিন্তা করছেন।

তাছাড়া আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাউকে কোন রকম জবাবদিহি ছাড়াই মাফ করে দেবার এখতিয়ার আছে। সে ক্ষেত্রে পেন্স প্রেসিডেন্সির দায়িত্ব পেয়েই ট্রাম্প এন্ড কোম্পানিকে মাফ করে দিতে পারেন। এ কারণেও মনে হচ্ছে ট্রাম্প হয়তো পেন্সের হাতে রাষ্ট্রভার তুলে দিয়ে “পারডন” এর সুবিধা নিতে চাইবেন।

বিষয়টা মাথায় এসেছে ২০১৮ সালে ট্রাম্পেরই করা একটি টুইট থেকে। সেখানে তিনি নিজে থেকে “পারডন” কথাটা উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, “আইন অনুযায়ী আমার নিজেকে নিজে ক্ষমা করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু কেন করবো? আমি তো কোনো অন্যায় করিনি”। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজেকে নিজে মাফ করে দেয়ার ক্ষমতাভোগী কিনা সে বিষয়টি সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ নেই। তবু ট্রাম্প তার নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট নিজেকে নিজে মাফ করতে পারবেন। যে বিষয়টা এই টুইট থেকে বুঝা যায় তা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট নিজেই মাফের বিষয়ে সন্দিহান। না হলে নিজে থেকে পারডন প্রসঙ্গে এখতিয়ারের কথা বলবেন কেন? এবং এভাবে জোর গলায়?

এটাতো সবাই জানে যে, যে কোনো বিষয়কে জোর খাটিয়ে, গলা উঁচিয়ে, বারবার বলে নিজের পক্ষে নিয়ে যেতে তিনি কতটা পারঙ্গম। মিথ্যাকে সত্য, সত্যকে মিথ্যা, ন্যায়কে অন্যায়, অন্যায়কে ন্যায়, আইনকে বেআইন, বেআইনকে আইন বানাতে তার জুড়ি নেই। এই ধারাতেই পারডন বিষয়ে তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ টুইট। তিনি নিজে জানেন, তার এই মনগড়া ব্যাখ্যার ভিত্তি নেই এবং নিজেকে মাফ করে অধ্যাদেশ জারি করলে পরবর্তী সরকার তা বাতিল করে তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। এই রিস্ক তিনি নিবেন না। বরং মাইক পেন্সকে দিয়ে মাফের আদেশ করাবেন অথবা ইনডেমনিটির ব্যবস্থা করাবেন যা সংবিধানসম্মত।

এ কারণে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন না হয়ে মাইক পেন্স হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

শাকিল রিয়াজ: সুইডেন প্রবাসী, কবি ও সাংবাদিক।