পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির স্বপ্নভঙ্গ!



লুৎফে আলি মহব্বত, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির স্বপ্নভঙ্গ!

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির স্বপ্নভঙ্গ!

  • Font increase
  • Font Decrease

তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার গঠনের বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ভোট গণনার অর্ধেক সময় অতিবাহিত হতেই দৃশ্যমান প্রবণতায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে তৃণমূল। ক্ষমতা দখলে মরিয়া ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর যাবতীয় তৎপরতা বস্তুতপক্ষে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের সমুদয় প্রচেষ্টা, পরিশ্রম ও তর্জন-গর্জন নস্যাৎ করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে।

বিজেপির হুঙ্কার ছিল, 'এ বার, ২০০ পার।' গণনার প্রথম পর্বে সেই স্লোগানের বদলে রাজ্য বিজেপি কার্যত ১০০ আসন টপকানোর বিষয়েই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।  আর এমন পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকে আঙুল তোলা শুরু করে দিয়েছেন রাজ্য নেতাদের একাংশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহদের দিকে নাম করে আঙুল না তুললেও তাদের ইঙ্গিত স্পষ্ট। রাজ্যের এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘সেনাপতি হয়েছিলেন যাঁরা জিতলে তাঁরা কৃতিত্ব নিতেন। এখন হারের দায়ও নিতে হবে।’

প্রথম থেকেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্ব রাজ্যের হাত থেকে নিয়ে নেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কোন এলাকায় দল কেমন অবস্থায় রয়েছে তা দেখতে ৫ কেন্দ্রীয় নেতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর পরে কী কী না করেছে বিজেপি! ৫টি পরিবর্তন রথ থেকে ২৯৪ কেন্দ্রে আলাদা আলাদা রথযাত্রা। কৃষক সুরক্ষা যাত্রা থেকে কৃষকদের সঙ্গে ‘সহভোজ’ কর্মসূচির পর কর্মসূচি ঠিক করেছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই সব কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে রাজ্যে সাংগঠনিক কাজে জোর দেওয়া যায়নি বলে সেই সময়েই বাংলা বিজেপি-র অনেক নেতা অভিযোগ তুলেছিলেন। বলেছিলেন, 'আমরা জিতলে রাজ্যের সংগঠনেই জিতব। আর হারতে হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তামঝামের জন্য।’

২ মে রোববার ফলের প্রাথমিক ধারণা মেলার পরেই সেই নেতারা আরও স্পষ্ট করে সেই অভিযোগ তুলছেন। রাজ্য বিজেপি-র এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘জেলায় জেলায় অন্য রাজ্য থেকে আসা পর্যবেক্ষকরা স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি অবিশ্বাস দেখিয়েছেন। বাংলার রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা না থাকলেও নিজেদের রাজ্যের অভিজ্ঞতা বাংলায় প্রয়োগ করতে চেয়েছেন। বারবার বলেও কাজ হয়নি। যে ফল হতে চলেছে তাতে এটা স্পষ্ট যে, সেটা ঠিক হয়নি।’

'বাংলার সচেতন নাগরিকরা বিজেপি-র ঘৃণার রাজনীতিকে হারিয়েছেন। মানুষের সেবায় ব্রতী পরিশ্রমী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের নেতাদের শুভেচ্ছা’ টুইটারে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ অখিলেশ যাদবের। 'একজন মহিলাকে বিজেপি যেভাবে ‘দিদি ও দিদি’ বলে কটাক্ষ করছিল, তার যোগ্য জবাব দিয়েছে বাংলার জনগণ’ টুইটারে লিখেছেন অখিলেশ যাদব। হ্যাশট্যাগে লিখলেন ‘দিদি জিও দিদি’।

'মোদী+ অমিত শাহ+ বিজেপি+ সিবিআই+ ইডি+ নির্বাচন কমিশন+ গদি মিডিয়া+ বিশ্বাসঘাতক এই সবকিছু দিদি+ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়+ তৃণণূল কর্মী এবং বাংলার কাছে হেরে গেল’ টুইট তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের।

পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকলেই, দলভাঙিয়ে নেতা-নেত্রীদের কিনে নিলেই জেতা যায় না। বাঙালিকে জাতের হাওয়া দিয়ে, উগ্র ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে ভোলানো যায় না।  সারাদেশে করোনায় মৃত্যু মিছিল চলছে, অক্সিজেনের অভাব, ভ্যাকসিন পান নি অধিকাংশ মানুষ। জিনিস পত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া, পাঞ্জাবে কৃষক মরছে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেহাল। বিজেপির হেরে যাওয়ার পিছনে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক কাজে অনীহা আর ঔদ্ধত্যের পাশাপাশি জনগণকে বিভাজন করার ভুল রাজনীতি দায়ী।