আবার করোনার ঢেউ ও দেশের নাজুক পরিস্থিতি



আবুল খায়ের মোহাম্মদ, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত,

ছবি: সংগৃহীত,

  • Font increase
  • Font Decrease

আবার করোনার ঢেউ উঠতে শুরু করেছে বলে সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু। বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) হু-র প্রধান বললেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমরা ইতিমধ্যেই তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক স্তরে পৌঁছে গিয়েছি।’’

ডেল্টা রূপ নিয়ে ইতিমধ্যেই দুশ্চিন্তায় বিশ্বের ১১১টি দেশ। হু-র প্রধান টেড্রস অ্যাডহানম গেব্রেইয়েসুস জানিয়েছেন, ডেল্টার বিস্তার আর তার সঙ্গে করোনা বিধি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতায় বিশ্বের অধিকাংশ দেশে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে সংক্রমণ। বাড়ছে মৃত্যুও।

করোনা সংক্রমণের দৈনিক শনাক্তের হার বিবেচনায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ এবং এশিয়াতে প্রথম। গত ৭ জুলাই বিশ্বের মধ্যে নামিবিয়া, মেক্সিকো এবং তিউনিশিয়ার পরেই ছিল বাংলাদেশের অবস্থান। 

গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে রেকর্ড ভেঙে বেড়েছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। বাংলাদেশে মৃত্যু ১৭ হাজারের সংখ্যা ছাড়িয়েছে আর আক্রান্ত এগারো লাখের কাছাকাছি। সারা দেশেই করোনার সংক্রমণ অব্যাহত ভাবে বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যু। সংক্রমণ ঠেকাতে ১৪ দিনের শাটডাউন ঘোষণা করেছিল সরকার। তা শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি পুরনো অবস্থায় ফিরে এসেছে। হাট-বাজার, গরু কেনা, বাড়ি যাওয়া ইত্যাদিতে জনস্রোত বইছে। মাস্ক পরিধান আর সামাজিক দূরত্বকে কাঁচকলা দেখিয়ে বল্গাহীন মানব প্রবাহ যে করোনাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

এর পরিণতি কেমন হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতে নির্বাচন ও কুম্ভমেলার জনসমাগমের পরিণাম চাক্ষুষ করেছে বিশ্ববাসী। ভারতে গণকবর, গণচিতা, নদীতে ভাসমান লাশের বহরের স্মৃতি এখনও তরতাজা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লকডাউনের শিথিলতার কারণে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিছুদিন আরও কড়াকড়ি আরোপ করার দরকার ছিল, সেখানে শিথিলতা দেয়া হলো। বিশেষত গত ঈদে মানুষ যেভাবে গাদাগাদি করে বাড়ি গিয়েছে তার ফল ছিল ভয়ঙ্কর। এবারও সামনে ঈদ। ফলে ব্যাপক জনসমাগম ও জনচলাচলের কারণে সংক্রমণ গ্রাম থেকে শহরে বা শহর থেকে গ্রামে ছড়াবে- এটা সহজেই বলা যাচ্ছে। 

বিশ্বের অবনতিশীল করোনা পরিস্থিতিতে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশ যদি স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রে সতর্ক না হয়, তাহল আরও সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়বে, যা ভয় ও উদ্বেগের কারণ। তাছাড়া মানুষকে মাস্ক পরাতে ব্যর্থতা বাংলাদেশের জন্য অশনি সংকেত। সেই সঙ্গে শিথিলতার সুযোগে প্লাবনের মতো যে জনস্রোত চলছে, তা সামাল দিতে না পারার বিষয়টিও মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবুল খায়ের মোহাম্মদ, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম