সম্প্রীতির বাংলাদেশ



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সম্প্রীতির বাংলাদেশকে বিভ্রান্ত করা কিংবা দমানো অসম্ভব।

সম্প্রীতির বাংলাদেশকে বিভ্রান্ত করা কিংবা দমানো অসম্ভব।

  • Font increase
  • Font Decrease

বিচ্ছিন্ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিকে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। সরকার, প্রশাসন, জনতার সম্মিলিত উর্মিমালায় জাগ্রত ও শক্তিশালী হয়েছে সম্প্রীতির বাংলাদেশ। কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে উস্কানির অবসান ঘটিয়ে বিজয়ী হয়েছে শান্তি ও সৌহার্দ্য। হটকারিতার দায়ে ৭১ মামলায় ৪৫০ জন আটক হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য বিশ্বে বিখ্যাত বাংলাদেশের অর্জন দৃষ্টান্তরূপে সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে আবারও।

সহসা, আকস্মিকভাবে স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহলের ইন্ধন ও উস্কানিতে দেশে যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির মতলব করা হয়েছিল, তা নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য। বাংলাদেশের আপামর জনতার কাছে এ ধরনের ঘটনা কখনওই  কাম্য  নয়। ফলে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে এই অপশক্তিকে প্রতিহত করেছে।

দুঃখজনক সত্যি এটাই যে, মহল বিশেষের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে অনেকই পা দিয়েছে বুঝে কিংবা না-বুঝে। অনেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে বা উত্তেজিত হয়েছে। স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তের আগুনে এইসব উত্তেজনা ঘি ঢেলে দেওয়ার শামিল। উত্তেজনাকে ঠাণ্ডা মাথায় আইনের মাধ্যমে প্রশমন করা যখন মূল কর্তব্য, তখন নানা পক্ষের উত্তেজনাকর অবস্থাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও নাজুক করেছে। এতে স্বার্থান্বেষী মহলেরই ফায়দা হয়েছে।

এমনও দেখা গেছে যে,  এসব নিন্দনীয় ঘটনা ঘটলে তদন্তের আগেই স্বপ্রণোদিত হয়ে বা উদ্দেশ্যমূলক মনোভাবে অপরাধীকে চিহ্নিত করা হয়। একপক্ষ অপর পক্ষকে দোষারোপ করতে শুরু করে। এইসব অবিবেচনাপ্রসূত

পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে সৃষ্ট ঘোলা পানিতে প্রকৃত অপরাধী আড়াল হয়ে যায়। আসল অপরাধী ধরা পড়ে না। অপরাধকে আরও উৎসাহ দেয়া হয়।

ফলে এসব ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া জরুরি। প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা কর্তব্য। প্রকৃত তদন্ত ও প্রকৃত বিচার হলেই প্রকৃত অপরাধী চিহ্নিত ও শান্তির আওতায় আসবে। নচেৎ এক উত্তেজনা থেকে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের বিপদই বাড়বে এবং প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে। তাদের অসৎ উদ্দেশ্যমূলক অপকর্মই সফল হবে।

এজন্য প্রয়োজন ঐক্য ও ধৈর্য্য।  বরং ঘটনার সূত্রপাত যেখান থেকে শুরু তার প্রকৃত তদন্তও শুরু করতে হবে সেখান থেকেই। কারা পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে গেল। কেন তারা এমন কাজ করলো। কিংবা কি তাদের অভিপ্রায় ছিল। কারা এটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলো, তার কারণ আগে খুঁজে বের করতে হবে। গোয়েন্দাদের তো জানার কথা এটা কারা করেছে। তবে, সাধারণ মানুষ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, কোনও ধর্মপ্রাণ মুসলমানের পক্ষেই এমন গর্হিত কাজ করা সম্ভব নয়। আবার হিন্দুদের পক্ষেও এটি সম্ভব না। কুমিল্লার ঘটনার রেশ ধরেই পরবর্তী সহিংসতাগুলো হয়েছে। তাহলে কী সহিংসতা ছড়াতেই এমন  ঘটনা ঘটিয়েছে দুষ্টচক্র। যারা এ কাজ করেছে তারা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই এমন জঘন্যতম কাজ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ, সংখ্যালঘিষ্ঠ উভয় সম্প্রদায়কেই বিপদে ফেলতে ও উত্তেজিত করতে চেয়েছে মতলববাজ মহল।

বাংলাদেশকে যারা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত দেখতে চায় না, এ কাজ তাদের। বাংলাদেশে যারা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ চায় না, এ কাজ তাদের। ফলে এ ঘটনা যত না, ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক, তারচেয়ে বেশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুরভিসন্ধিমূলক। এ কাজ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গুপ্ত ও প্রকাশ্য শত্রুদের ঘৃণ্যতম অপকর্মের অংশ।

আশার কথা হলো, বৃহত্তর বাঙালি এমন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতন ও সতর্ক। যারা ধর্মীয় হিংসার নামে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চায়, বাঙালির ঐতিহাসিক অবস্থান তাদের বিরুদ্ধে। বাঙালি তাদেরও বিরুদ্ধে, যারা এসব ঘৃণ্যতাকে এবং মানুষের বিপদকে পুঁজি করে ও আবেগকে বিপথগামী করে উত্তেজনা ছড়িয়ে ফায়দা নেওয়ার বদ-মতলব করে। বাঙালি সব ধরণের বিভেদ ও বিভক্তির বিরুদ্ধে, হিংসা-উগ্রতা-সহিংসতার বিরুদ্ধে।   

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বাঙালির ঐক্যের মাধ্যমে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাঙালি ও বাংলাদেশ বিরোধী সকল শাঠ্য-ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে সামনের দিকে ঐক্যবদ্ধ পদভারে এগিয়ে চলেছে এ দেশ ও দেশের মানুষ। ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাঙালি আবারও প্রমাণ করেছে, সম্প্রীতির বাংলাদেশকে বিভ্রান্ত করা কিংবা দমানো অসম্ভব।