সামাজিক সমস্যাগুলোর সমাধান জরুরি



ড. মতিউর রহমান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

২০২০-২০২১ মেয়াদে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী ‘মুজিব শতবর্ষ’ পালিত হয়। গত বছর (২০২১) একই সাথে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবও উদযাপিত হয়েছে। মুজিব শতবর্ষ, স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে প্রায় দুই বছর ধরে বিরাজমান করোনা মহামারি সত্ত্বেও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকার কারণে মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ২০২১ এর ৬ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ করে, যা ওই বছর ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশেও উর্ত্তীণ হয়েছে।

২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অন্যান্য অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করে। যার অনেকগুলোই আজ দৃশ্যমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এইসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার পথে ধাবিত হবে। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা এ সরকারের ব্যর্থতার চেয়ে সাফল্য অনেক। স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বড় একটি স্বীকৃতি।

অন্যদিকে গত বছর দেশে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশব্যাপী সংক্রমণ এবং মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় বছরের প্রায় অর্ধেক সময় জুড়ে ধারাবাহিক লকডাউনের কারণে জনজীবনে সঙ্কট নেমে আসে। করোনাকালীন এই সঙ্কটের মধ্যেও দেশে অনেকগুলো বৃহৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হয়েছে। পদ্মা সেতু এখন আর কোন কল্পনা নয়, এটি দৃশ্যমান। এবছরেই পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। পদ্মা সেতু এখন  বাংলাদেশের সম্মান এবং মর্যাদার প্রতীক। কর্ণফুলী টানেলের কাজও এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে। এবছর এই টানেলের উদ্বোধন করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মেট্রোরেল ইতিমধ্যে ট্রায়াল দেওয়া শুরু করেছে। এই বছরেই মেট্রোরেলও চালু হবে। এছাড়াও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ২০০৮ এ প্রণীত নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিন বদলের সনদ’ এর ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেয়া ‘রূপকল্প ২০২১’, ‘রূপকল্প ২০৪১’, ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা’, বিভিন্ন পঞ্চ-বাষির্কী পরিকল্পনা গ্রহণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। জাতিসংঘ ঘোষিত “সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা” সফলভাবে অর্জিত হয়েছে। “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা”র বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। উন্নয়নের প্রধান শক্তি বিদ্যুৎ  উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত দেশের নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা যেমন, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদনের ক্ষেত্রে গত একযুগে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিভিন্ন আন্তজার্তিক সংস্থার হিসেবেও বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক সূচকের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে।

খাদ্য ও টেকসই কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে কৃষিখাতে ঘটেছে বিপ্লব। মৎস্য ও পশু সম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ইলিশ মাছ আহরণে বিশে^ প্রথম অবস্থানে আছে। জাতীয় মহাসড়কসহ গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় আয় বেড়েছে, দারিদ্য্রের হারও কমেছিল উল্লেখযোগ্যভাবে; যদিও করোনা মহামারিতে তা ফের বেড়েছে। বাংলাদেশ রপ্তানি বৃদ্ধি ও রেমিটেন্স অর্জনেও সাফল্য অর্জন করেছে।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে সমাজের দুর্গত মানুষের অভিগম্যতা বৃদ্ধি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দূর্যোগ মোকাবেলা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন, নারীর ক্ষমতায়ন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আশ্রয় প্রদান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীনদের ঘর প্রদান, বস্তিবাসীদের জন্য স্বল্পভাড়ায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ফ্ল্যাট নির্মাণ, করোনা মহামারি মোকাবেলায় সরকারের সাফল্য অনেক। সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এদেশের আপামর জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ ঘুচিয়ে ‘উন্নয়নের রোল মডেলে’পরিণত করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকার এত বেশি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কিন্তু এই গর্বের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো যখন চলছে তখন কিছু অস্বস্তি এবং সামাজিক সমস্যা এই বড় বড় উন্নয়নগুলোকে ম্লান করে দিচ্ছে। এসবের মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। লাফিয়ে লাফিয়ে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। আয়ের সাথে ব্যয়ের সংকুলান করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ক্রমাগত বাড়ছে অসন্তোষ।

গণপরিবহনে বিশৃংখলা সাধারণ মানুষের জন্য বিশাল এক দুভোর্গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনার কারণে একটা দীর্ঘসময় গণপরিবহন বন্ধ ছিলো। তারপর যখন গণপরিবহন অর্ধেক আসন রেখে চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তখন এর ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তারপর এই ভাড়া আর কমানো হয়নি। এর মধ্যে ডিজেল এবং কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি করার সাথে সাথে আবার গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ে এবং এই ভাড়া বাড়ার পর এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলেছে। গণপরিবহন নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা এবং অস্বস্তি ছিলো এবং এখনও রয়ে গেছে। গণপরিবহনকর্মীদের বিশেষ করে চালক ও সুপারভাইজারদের দুর্ব্যবহার, নারী যাত্রীদের হেনস্থা ও সম্ভ্রমহানির মত ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যা সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে আলোড়িত করেছে।

নৌপরিবহনেও স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন সময়ে লঞ্চ ডুবি এবং সর্বশেষ লঞ্চে অগ্নিকা-ের ঘটনা সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। গত বছর ও এ বছরের শুরুতে স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন, বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষকে এক ধরনের অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করেন। অসৎ কিছু নেতা. পাতি নেতা, কর্মীদের ক্ষমতার প্রর্দশন সাধারণ মানুষকে তটস্থ করে ফেলেছ্। ক্ষমতা প্রর্দশনের এই সংস্কৃতি সাধারণ জনগণ বাদে সবার মধ্যেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। ক্ষমতা প্রর্দশনের এই সংষ্কৃতি বিপদজনক বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কারণ সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে ক্ষমতা দেখালে তার পরিণতি অশুভ হতে পারে। কাজেই এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে করণীয় ঠিক করতে হবে।

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের সামাজিক ব্যাধি এবং অন্যান্য সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে যা জনগণকে কিছুটা হলেও আতঙ্কের মধ্যে ফেলেছে। বেকারত্ব, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, অসমতা বৃদ্ধি, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, নারীর প্রতি সহিংসতা আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয়। বিশেষ করে ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা, যৌন হয়রানি, পারিবারিক নির্যাতন এবং নারী পাচার এর মত ঘটনার ভয়াবহতা লক্ষ্য করা গেছে। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষও দেখা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ক্ষোভ ও বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। এসব সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেয়া দরকার বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রায় বৃহৎ প্রকল্প  যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি সামাজিক জীবনে স্থিরতা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র দূরীকরণ, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি কমানো, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, কর্মসংস্থান, গণপরিবহণে শৃংখলা ফেরানো এবং বৈষম্য ও অসমতা দূর করা। সেই সাথে ক্ষমতা প্রদর্শনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা। আর এইসব যদি বন্ধ করা সম্ভব না হয় তাহলে বড় বড় উন্নয়নগুলোর সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

সে কারণেই এসব সামাজিক সমস্যা ও সঙ্কটগুলোর দিকে সবার আগে নজর দেয়া উচিত। ছোট ছোট সমস্যাগুলো যদি জিইয়ে রাখা হয় তাহলে বড় বড় উন্নয়নগুলো ম্লান হয়ে যেতে পারে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করেন। এসব সামাজিক সমস্যা যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তাহলে ভবিষ্যতে জনগণ বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দিকে মনোযোগ দেবে না বলে বিশেষজ্ঞরা বার বার সর্তক করে আসছেন। সুতরাং সরকারের এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ, সমাজবিজ্ঞানী ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সহায়তা নিয়ে ‘সামাজিক শৃংখলা উন্নয়ন কর্মসূচি’ পরিচালনা করতে হবে।

লেখক: গবেষক ও উন্নয়ন কর্মী

মহামারী ও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ঝূঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের করণীয়



ড. মতিউর রহমান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম সম্প্রতি 'দ্য গ্লোবাল রিস্কস রিপোর্ট ২০২২' প্রকাশ করেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে এই প্রতিবেদনটি সারা বিশ্বের ব্যবসায়িক নেতা, রাজনীতিবিদ, সরকার প্রধান, ঝুঁকি বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্বের সুশীল সমাজের নেতাদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। এ বছর সংস্থাটি অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, ভূ-রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রযুক্তিগত পাঁচটি বিভাগে ঝুঁকি পরীক্ষা করে। প্রতিবেদনের মূল অনুসন্ধানগুলি দেখায় যে কোভিড-১৯ মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে সামাজিক এবং পরিবেশগত ঝুঁকিগুলি সবচেয়ে  বেড়েছে। “জলবায়ুর চ্যালেজ্ঞ মোকাবিলায় ব্যর্থতা”, "সামাজিক সংহতি ক্ষয়" এবং "জীবিকার সংকট" ঝুঁকি তালিকার শীর্ষে রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হিসাবে চিহ্নিত অন্যান্য ঝুঁকিগুলি হল "ঋণ সংকট", "সাইবার নিরাপত্তা ব্যর্থতা", "ডিজিটাল অসমতা" এবং "বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া"।

চরম আবহাওয়া, জীবিকা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যর্থতা, সংক্রামক রোগ, সামাজিক সংহতির অবনতি, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, সাইবার নিরাপত্তায় ব্যর্থতা, ঋণ সংকট, ডিজিটাল অসমতা, মুদ্রার অবমূল্যায়নসহ অনিচ্ছাকৃত মাইগ্রেশনকেও স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সমীক্ষার উত্তরদাতাদের মধ্যে, মাত্র ১১ শতাংশ উল্লেখ করেছেন যে ২০২৪ সালের দিকে বিশ্ব একটি দ্রুত পুনরুদ্ধারের পথে চালিত হবে।  কিন্তু উত্তরদাতাদের একটি বৃহৎ অংশই (৮৯ শতাংশ)  মনে করেন যে সামনের দিনগুলো ক্রমশ অস্থির, ভঙ্গুর বা ক্রমবর্ধমান বিপর্যয়মূলক বলে তাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে । অন্যদকে  ৮৪ শতাংশ উত্তরদাতা  দীর্ঘমেয়াদে  ভবিষ্যত সম্পর্কে নেতিবাচক অনুভূতি প্রকাশ করেছেন যার অর্থ বিশ্বের ভবিষ্যত নিয়ে তারা "উদ্বিগ্ন" বা "চিন্তিত" । তারা মনে করেন এই পরিস্থিতি ব্যাপক হতাশা ও মোহভঙ্গের একটি চক্র তৈরি করতে পারে যা কোভিড-১৯ এর ক্ষত পুনরুদ্ধার আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে।

"সামাজিক সংহতির ক্ষতি", "জীবিকার সংকট" এবং "মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি" আগামী দুই বছরে বিশ্বের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক হুমকি হিসেবে দেখা দিবে বলে তারা মনে করেন। এই সামাজিক ক্ষতগুলো জাতীয় নীতি-নির্ধারণকে চ্যালেঞ্জ করে, রাজনৈতিক পুঁজিকে সীমিত করে, বৈশ্বিক নেতাদের উপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে তারা মনে করেন বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জগুলোতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য জনসাধারণের সমর্থন প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু ঝুঁকি একটি বড় বৈশ্বিক উদ্বেগ। স্বল্পমেয়াদী উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে সামাজিক বিভাজন, জীবিকার সংকট এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি। করোনার কারণে এসব ঝুঁকি বেড়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার স্থিতিশীল হবে না এবং এই ধরনের অসম পুনরুদ্ধার আগামী তিন বছর অব্যাহত থাকতে পারে। দশ জনের মধ্যে একজন উত্তরদাতা মনে করেন অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে, বেশিরভাগ উত্তরদাতা মনে করেন যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকিই প্রধান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ৩.১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে৷। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম অনুমান করেছে যে ২০২১ সালে, বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫.১ শতাংশ যা ২০২২ সালে ৪.৯ শতাংশে  নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারী না ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতি যেখানে থাকত তার তুলনায় ২০২৪ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ২.৩ শতাংশ সংকুচিত হয়ে যাবে।

কোভিড-১৯ মহামারীর শুরু থেকেই সরবরাহ সংকট একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। ২০২০ সালের তুলনায়, পণ্যের দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি সংকট নিয়ে ইউরোপ, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে দ্বন্দ্ব পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে। তবে সারা বিশ্বে এখন যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা যাচ্ছে তার প্রধান কারণ সরবরাহ সংকট। অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতি চাহিদা-চালিত নয়, সরবরাহ-চালিত। অনেক দেশই পণ্য মজুদ শুরু করেছে এবং বৈশ্বিক রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালেও সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকবে। মহামারীর কারণে বেশিরভাগ দেশই রাজস্ব হারিয়েছে। উন্নত দেশগুলো অনেক প্রণোদনা দিয়েছে। ২০২২ সালে, বিভিন্ন দেশে সরকারি ঋণ ১৩ শতাংশ বেড়ে জিডিপির ৯৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ডলারের বিপরীতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মুদ্রার অবমূল্যায়ন হতে পারে। এবং এইসব দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংকট ও মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রধান ঝুঁকি হল জীবিকা ও কর্মসংস্থান। প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক ঝুঁকির পাশাপাশি সামাজিক-রাজনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসংস্থান ও জীবিকা ছাড়াও বাংলাদেশকে কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে চিহ্নিত অন্যান্য ঝুঁকিগুলি হল পরিবেশ, সাইবার দুর্বলতা, ডিজিটাল অসমতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি ও কৌশলগত উপদেষ্টা সংস্থা ভেরিস্ক ম্যাপলেক্রফট ১৩২টি দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আগামী ছয় মাসের জন্য নাগরিক অস্থিরতা সূচক প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। মধ্যম আয়ের দেশগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের সূচকে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের দুই-তৃতীয়াংশকে নিম্ন-মধ্যম বা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক তালিকাভুক্ত করেছে।

অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে জনরোষের মুখে প্রধানমন্ত্রীসহ শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। পাকিস্তানে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কাজাখস্তানে কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। এ বছর এমন অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশসহ ১০টি উদীয়মান অর্থনীতির  দেশ তালিকায় রয়েছে।  যে ১০টি দেশকে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে সেগুলো হলো আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মিশর, তিউনিসিয়া, লেবানন, সেনেগাল, কেনিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং ফিলিপাইন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারী চলাকালীন এই দেশগুলো তাদের জনগণকে সামাজিক নিরাপত্তা দিয়েছে। কিন্তু তারা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে।

রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকে বিশ্ব খাদ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে। জ্বালানির দামও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলো। ম্যাপেলক্রফ্ট উল্লেখ করেছে যে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকট ২০২৩ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, কারণ এই মুহূর্তে কোনও সমাধান নেই।

সংস্থাটির মতে, নাগরিক অস্থিরতা দেশগুলোর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে এসব দেশে বিনিয়োগ করবে কিনা তাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় উদ্ভূত সামাজিক বিভাজন প্রকাশ পাচ্ছে। এটি উদ্বেগে বাড়াচ্ছে। কারণ করোনার প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য, বিশ্ব নেতাদের একসাথে কাজ করতে হবে এবং একটি বহুপাক্ষিক পদ্ধতির সন্ধান করতে হবে।

তবে প্রতিকূল ভবিষ্যদ্বাণী সত্ত্বেও কিছু ইতিবাচক ফলাফল আশা করার কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ মহামারী  মোকাবিলার শিক্ষা নিয়ে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলা, সাইবার অপরাধ দমন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নিরসনে বৃহত্তর সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা। সেইসাথে সরকারি উদ্যোগে অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

কোভিড-১৯ ও রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সাম্প্রতিককালে আমাদের দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতি, তেলসহ অন্যান্য পণ্য সামগ্রীর অবৈধ মজুত, সড়ক দুর্ঘটনা, আমদানি ও রপ্তানিতে ঘাটতি, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে আসা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ, হাওড় অঞ্চলে ফসল হানি, অকাল বন্যা, ডেঙ্গুসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রার্দুভাব, বেকারত্ব, অবৈধ অভিবাসন সহ সামাজিক অস্থিরতাও অনেক বেড়ে গেছে। একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে এসব বিষয় মারাত্মক ঝুঁকি হিসেবে কাজ করতে পারে।

সুতরাং, একথা বলা যায়, এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সমাজে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে। এমনকি রাজনৈতিক ব্যবস্থারও পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। যেমনটি আমরা আমাদের পাশ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং, এখনই এসব বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

লেখক: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী।

;

‘রাতের ভোট’: আত্মসমালোচনা ইসির



কবির য়াহমদ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা আছে। ওই ভোট দিনের বেলার পাশাপাশি রাতেও হয়েছে বলে সরকারবিরোধী অংশের জোর প্রচার। বর্তমান সরকারকে ‘রাতের ভোটের অবৈধ সরকার’ বলে অভিযুক্ত করে আসছে বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলো। আওয়ামী লীগ বরাবরের মতো সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জনগণ তাদের সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে ফের ক্ষমতায় এনেছে এমনই দাবি তাদের। আওয়ামী লীগের দাবি বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে বিপুল বিজয় উপহার দিয়েছে।

ভোট নিয়ে নানা অভিযোগ মাথায় নিয়েই বিদায় নিয়েছে সাবেক ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নুরুল হুদা বারবার রাতের বেলায় ভোটের অভিযোগ অস্বীকার করলেও আবার আকারে ইঙ্গিতে সেটা কবুলও করেছেন একাধিকবার। তবে এনিয়ে তার মধ্যে অনুশোচনা লক্ষ্য করা যায়নি, বরং নিজেকে সফল দাবিও করে গেছেন শেষ পর্যন্ত। যদিও তার নেতৃত্বাধীন কমিশনের অন্য কমিশনার মাহবুব তালুকদার তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন একাধিকবার এবং সিইসির সঙ্গে তার বিরোধ ছিল প্রকাশ্য। সিইসির সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধের কারণে হোক আবার অনুশোচনার কারণেই হোক ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে তিনি তার খেদের কথা বারবার বলেছেন। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যর্থতার কথা বললেও ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ করার সাহস দেখাতে পারেননি। তিনিও অন্যদের মতো সাংবিধানিক সকল সুযোগসুবিধা গ্রহণ করে মেয়াদ পূরণ করেই বিদায় নিয়েছেন।

আগের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ‘রাতের ভোট’ নিয়ে নানা কথা বলেছে, বর্তমান ইসিও। মঙ্গলবার (২৪ মে) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, নির্বাচনকে প্রহসনে রূপান্তর করার কোনো ইচ্ছে আমাদের নেই। এটা আমরা অন্তর থেকে বলছি। সুন্দর নির্বাচন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে সুস্থ ধারা অব্যাহত থাকুক। ভোট নিয়মানুযায়ী হবে, দিনের ভোট দিনেই হবে। ভোট রাতে হবে না—এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই। সিইসির এই বক্তব্য চলমান নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের নানা আলোচনার বিপরীতে আস্থা ফেরানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখতে চাই।

আগের ভোট রাতে হয়েছে কি-না এনিয়ে প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি, কোন আদালতও এটা বলেনি। বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলোসহ দেশের অনেকের ধারণা এমনই। এই ধারণার বাইরে যেতে পারেনি সাবেক ও বর্তমান নির্বাচন কমিশন। ভোট রাতে কি দিনে হয়েছে এটা এখন পর্যন্ত অমীমাংসিত বিষয়, এনিয়ে নির্বাচন কমিশন যখন কথা বলে তখন মানুষের মধ্যে প্রশ্ন জাগে। তবে সন্দেহ ও অনাস্থা থেকে আস্থা ফেরানোর যে পদক্ষেপ সেটা বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিচ্ছে বলে ধারণা করা যায় ইঙ্গিতবহ স্বীকারোক্তি কিংবা আত্মসমালোচনা থেকে। এটাকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখতে বরং আগ্রহী।

বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যর্থতা একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের অভিযোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারেনি। গত নির্বাচনে বিপুল পরাজয়ের পর তারা সেই নির্বাচন নিয়ে কোন কাজ করেছে বলে দৃশ্যমান হয়নি। নির্বাচনের ফলাফলের বিপর্যয় কী কারণে ঘটল তা নিয়ে কিছু মেঠো-বক্তৃতা দেওয়া ছাড়া আর কোন কাজ করেনি তারা। নির্বাচনের পর আসনভিত্তিক ফলাফল নিয়ে আগের নির্বাচনগুলোর সঙ্গে সবশেষ নির্বাচনের ভোটের সংখ্যা নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে সেগুলো দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করলে ওখান থেকে তারা অনেক কিছু পেতে পারত। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করাতে পারত না ঠিক তবে মানুষের কাছাকাছি যেতে পারত। লড়াইটা হতে পারত বুদ্ধিবৃত্তিক, কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে শক্তিহীন বিএনপি যে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রেও শক্তিহীন একটা দল সেটাই প্রমাণ করেছে তারা।

বিএনপির এই ব্যর্থতা রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক। এর সুযোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারপরেও ‘রাতের ভোট’ নিয়ে আলোচনা আছে। সরকার দল আওয়ামী লীগ যতই এটা অস্বীকার করুক না কেন মানুষের মনে বিভ্রান্তি আছে, নানা মত আছে ইসিতেও। নির্বাচন কমিশন এনিয়ে কথা বলার মধ্যে আত্মসমালোচনার যে পথ দেখাচ্ছে এটাকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখতে চাই। আগের ‘ভুল’ শুধরে নিয়মানুযায়ী ভোটগ্রহণের যে প্রত্যয় বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দেখা যাচ্ছে এটা দেখে আশাবাদী হতে পারে দেশের মানুষ, আশাবাদী হতে পারে রাজনৈতিক দলগুলো; নির্বাচন হতে পারে অংশগ্রহণমূলক। বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে অস্বীকার তত্ত্ব এই নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে আমাদের।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কি-না এনিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে, কারণ বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা আছে বিএনপির। আবার বিলুপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবে না আওয়ামী লীগ সরকার। আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক কিংবা জাতীয় সরকারের দাবি আদায়ের মাঠের শক্তিও নেই বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলোর। ফলে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের চ্যালেঞ্জ আছে নির্বাচন কমিশনের। তারা পারবে কি-না এটা সময়ই বলে দেবে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের যে অবস্থান তাতে অন্তত আশাবাদী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে।

নিয়মানুযায়ী দিনের ভোট, অনিয়মের রাতের ভোট—এ আলোচনা চলতেই থাকবে। তবু মানুষকে আস্থা রাখতে হবে নির্বাচন কমিশনের ওপর। বর্তমান নির্বাচন কমিশন কতটুকু কী করতে পারবে এনিয়ে এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছার সময় হয়নি দেশবাসীর। তারা মানুষের আস্থা ফেরাতে কাজ করছে, আপাতত এটাই স্বস্তির। কাজের আগে কাজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নয়, তাদেরকে সমর্থনের পাশাপাশি দিতে হবে প্রয়োজনীয় সময়। দেশবাসীর সমর্থন পেলে তারা তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার ব্যবহার করতে পারবে বলে বিশ্বাস রাখতে চাই।

কবির য়াহমদ: সাংবাদিক, কলাম লেখক।

;

রবীন্দ্রনাথ কোনদিন আমাকে কল করেননি!



ডা. রাজীব দে সরকার
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঘুম ভাঙলো একা একাই।

একটু ঘেমে গিয়েছি।

চোখ খুলে একবার মনে হলো, নিজের ঘরটাকেও চিনতে পারছি না।

মোবাইলটা বাজছে। সম্ভবত: এ কারনেই ঘুম ভেঙেছে।

- হ্যালো, কে? (ঘুম এখনো কাটেনি আমার কন্ঠে)

- আমি শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জোড়াসাঁকোর। তুমি এক সময় আমার কবিতা পড়েছো।

- ও, কি চাই? আমি ভ্যাকসিন সংক্রান্ত কাজে জড়িত নই।

- আমার ভ্যাকসিন লাগবে না, বাবা।

("বাবা" বলায় একটু ঘুম কাটিয়ে কথা বলা চেষ্টা করলাম। কারন রোগীদেরকে 'বাবা' বলে সম্বোধন করতেন আমার সার্জারীর গুরু)

- ও, কেন ফোন দিয়েছেন, কেউ কি অসুস্থ?

- হ্যাঁ অসুস্থ। সেটা বলতেই ফোন দেওয়া।

- জ্বী, বলুন। আমি শুনছি।

- বৈদ্য রাজীব, তোমার সমাজের একদল পুরুষ খুব অসুস্থ।

- আচ্ছা কাল হসপিটালে পাঠিয়ে দেবেন, দেখে দেবো।

- পারবে তো দেখে দিতে? আচ্ছা, একটা প্রশ্নের উত্তর দাও তো। তোমরা কবিতা পড়া ছেড়ে দিলে কেন?

- কবিতা পড়া ছাড়িনি তো।

- মিথ্যা কথা। তোমরা এখন কবিতা পড়ো না। আগের পড়া কবিতাগুলো কোটেশন অভ্র দিয়ে লিখে ফেইসবুকে পোস্ট করো। শেয়ার করো। ব্লগে লেখো। কিন্তু কবিতা আর পড়ো না।

- ও, তাহলে বোধহয় ভালো লাগে না। আপনি লেখেন এখনো?

- না। লেখার প্রয়োজন পড়ে না। কবিতা-গল্প কিছুই লিখি না

- কেন?

- তোমাদের সমাজে নিরুপমা, কেটি, বিনোদিনী, গোড়া কিংবা হৈমন্তী এরা আজো কেউ ভালো নেই। অপু সেদিনও ওরা বাবার করা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে নি, আজো একজন মেয়ে লাঞ্ছিত হলে তোমরা প্রতিবাদ করো না। তোমাদের চোখের সামনে জলজ্যান্ত মেয়েদের সম্ভ্রমহানি হয়। তোমরা প্রতিবাদ করো না।

- নাহ। প্রতিবাদ তো করি।

- দৌড়ে গিয়ে ফেইসবুকে বসে টিপাটিপি শুরু করলে তাকে কি প্রতিবাদ বলে? প্রোফাইল পিকচার টা কালো রঙের করে দিলেই বুঝি প্রতিবাদ হয়? গান্ধী - মুজিবরা এই শিখিয়েছিলো তোমাদের?

- না, আমরা বীরের জাতি, আমরা অন্যায় সহ্য করি না।

- এজন্যই আমি গল্প-কবিতা লেখা ছেড়েছি।

- মানে?

- নিজেকে বীরের জাতি ভেবেই লেখালেখি করতাম। কিন্তু তোমাদের নির্বুদ্ধিতায় আমারই লেখা নারী চরিত্ররা আমাকে অপমান করে। আমারই লেখা ধর্মান্ধ চরিত্র গুলো আমাকে দেখে হাসে।

- পহেলা বৈশাখের কথা বলছেন? নাকি বাউলের চুল কেটে দেওয়া? নাকি মৌলবাদীদের ফতোয়া? আমি বুঝতে পারছি না।

- কুষ্টিয়ায় ছিলাম কিছুদিন। বাংলাদেশ গেছি বহুবার। এমন বাংলাদেশ আমরা রেখে আসিনি। হানাদার নেই যে দেশে, সে দেশে আমাদের কন্যাদের ধর্ষণ করে কারা? কেন আজো আমার দেশের বাতাস একজন অত্যাচারিত মেয়ের চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে, বলতে পারো?

- আপনি রাজনৈতিক কথা বলছেন।

- "মনে হয় অজস্র মৃত্যুরে... পার হয়ে আসিলাম... আজি নব প্রভাতের শিখর চুড়ায়; রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়, আমার পুরানো নাম, ..ফিরিবার পথ নাহি"

- থামেন, মাঝরাতে কবিতা ভালো লাগছে না

- থামলাম, কিন্তু মানুষের চিকিৎসার পাশাপাশি সমাজের চিকিতসা শুরু করো বৈদ্য।

- সে দায় কি আমার একার নাকি?

- দায় আমাদের সবার। হৈমন্তীর গা থেকে কাপড় খুলে নেওয়া হলে, ওর আগে তোমার সমাজ ল্যাংটা হবে, তুমি ল্যাংটা হবে - সাদা পাঞ্জাবী পড়ে শরীরের কালো লুকানো যায়, মনের কালি না। তাই সমাজের চিকিৎসা করার দায় বৈদ্য-বণিক-শিক্ষক-ছাত্র-সাহিত্যিক-ব্লগার সবার!

- কি করবো?

- তোমার যতোটুকু করার আছে।

- যদি আমার ক্ষতি হয়?

- তোমার ঘরের সামনে তোমারই প্রেয়সীর কাপড় ধরে টানা হলো। এর থেকে আর কি ক্ষতিই বা হতে পারে। এটা তো ১৯৭১ না। নাকি তোমরা মনে করো, মরে যাওয়া পাকিস্তানি হানাদার গুলো, তোমাদের শরীরে আবার জন্ম নিয়েছে?

- ছিঃ ছিঃ এসব কি বলেন?

- আমার লেখা গানটাকে এবার ছেড়ে দাও। ওটা নিয়েও তোমাদের জাতের রশি ঢিলে হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া এক মালাউন কবির গান দিয়ে কেন তোমরা দেশের সব শুভ কাজ শুরু করবে?

- আমার ঘুম পাচ্ছে, কাল সকালে হসপিটালে যাবো

- বেশ, বাঙ্গালী। জাতি হিসেবে তুমি ঘুমিয়ে যাও। ঘুমিয়ে থাকো। ঠিক যেমন করে আমার নোবেলটি চুরি গেলো, তোমার-তোমাদের প্রতিবাদ করার শক্তিটুকুও নিঃশব্দে চুরি গেছে তা তোমরা জানো না।

- আচ্ছা আপনি আমাকে এসব বলছেন কেন, হ্যালো... ... শুনছেন...

- টু... টু... ... টুট...টু

আমি ঘুমিয়ে গেলাম, অনেক গভীর সে ঘুম...

আমার সামনে আমার সমাজের মেয়েরা আক্রান্ত হলেও ভাঙে না সেই ঘুম...

আমার সামনে রেল স্টেশনে কয়েকজন মিলে একজন নারীর কাপড় ধরে টানলেও ভাঙে না সেই ঘুম। যে দেশে হানাদার নেই, চরিত্রহীন জমিদার নেই, তারপরো মেয়েদের সম্ভ্রম হানি হলে ভাঙে না সেই ঘুম... সেই ঘুম পাচ্ছে আমার...

পুনশ্চ:

আজ নারী দিবস না। এটা নারী দিবসের লেখা না। যে দেশে বাঁধাহীন ভাবে পথে ঘাটে একজন নারী কিংবা একজন পুরুষের সম্মান ক্ষুন্ন হতে পারে, এটা সেই 'প্রতিবাদ করতে ভুলে যাওয়া' মানুষের দেশের জন্য লেখা। ভাগ্যিস আমরা সেই দেশে থাকি না!

লেখক: ডা. রাজীব দে সরকার, চিকিৎসক, সার্জারী বিভাগ (৩৩ বিসিএস), শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

;

'স্টকহোম সিনড্রোম' নাকি আবহমান প্রতিবাদহীন নারী নির্যাতন?



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

১৯৭৩ সালে সুইডেনে একটা মজার ঘটনা ঘটেছিলো। সে বছর ২৩ শে আগস্টের সকালবেলা সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের স্পেরিকাস ক্রেডিট ব্যাংকে একটা ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময়ে ডাকাত দল অনেক জনকেই ব্যাংকের মধ্যে জিম্মী করে রাখেন এবং সেটা টানা ৬ দিন ধরে। তাদের মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তো ছিলেনই।

ছয় দিন পর পুলিশ যখন ডাকাত দলের উপরে অ্যাকশনে যায়, তখন ব্যাংকে জিম্মী থাকা মানুষগুলো উলটো ডাকাতদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলো। এই ঘটনায় সবাই অবাক হয়ে পরেন।

যারা আটকে রাখলো, তাদের প্রতিই এই ভালোবাসা কিভাবে তৈরী হলো! এমনকি দেশের প্রেসিডেন্ট মহোদয় যখন অপহৃত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, তখন ডাকাতদের প্রতি সহমর্মিতার ব্যাপারেও আবেদন জানিয়েছিলেন অপহৃত ব্যক্তিরা। এই ঘটনা তখন ঘটা করে রেডিওতে প্রচার পেয়েছিলো।

এই ঘটনা থেকেই "স্টকহোম সিনড্রোম" কথাটার জন্ম। আমাদের দেশেও এমন ঘটনা ঘটে।

দেখা যায়, একজন স্বামী তার স্ত্রীর উপর নির্যাতন করলেন, এমনকি নির্যাতনের এক পর্যায়ে হত্যা চেষ্টাও করলেন। পরবর্তীতে স্ত্রীর বাপ-ভাই যখন তার স্বামীর নামে মামলা করলো, স্ত্রী আদালতে গিয়ে স্বাক্ষ্য দিলেন যে, এই অত্যাচার তার স্বামী করেন নাই বা তার স্বামী একজন আপাদমস্তক ভালো মানুষ।

এটাকেও 'স্টকহোম সিনড্রোম' বলা যায়।

দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচারিত হতে হতে অত্যাচারকারীর প্রতি এক সময় একটি অসুস্থ আবেগ বা অস্বাভাবিক দুর্বলতার জন্ম হয়।

অত্যাচার সহ্য করে হলেও তাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছা করে না। এভাবেই একটি জনপদে শিশু নির্যাতন, পারিবারিক নির্যাতনগুলো আলো বা বিচারের মুখ দেখে না।

২০০২ সালে মাত্র স্টন হর্ণব্যাক নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়। তাকে প্রায় ২ বছর পরে অপহরণকারীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে অত্যাচারের চিহ্ণ ছিলো। তদন্তে দেখা যায়, অনেক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সে পালানোর কোনো চেষ্টা করেনি। এমনকি স্টন হর্ণব্যাকের কাছে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পর্যন্ত ছিলো!

২০২২ সালে একটি জেলার একটি লোকারণ্য রেলস্টেশনে একজন নারী অন্য একজন নারীর উপরে আক্রমনাত্নক হয়ে ওঠেন। প্রথন নারীর অভিযোগ এই যে, দ্বিতীয় নারী একটি স্লিভলেস পোশাক পরিধান করেছেন যা মোটেও সেই দেশে কোন ফৌজদারী বা দেওয়ানী অপরাধ না।

কিন্তু সারা জীবন একটি মহলের দ্বারা শাসিত ও পদদলিত হয়ে থাকতে থাকতে প্রথম নারী তার ব্যক্তিসত্ত্বাকে সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছেন। পোশাকের মতো একটি সাধারণ নাগরিক 'অধিকার' তার কাছে অনৈতিক, বেমানান ও অসামাজিক মনে হচ্ছে।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একটি অসুস্থ অংশের এই নোংরা শোষণের প্রতি তার গভীর আবেগ ও ভালোবাসা তৈরী হয়েছে। তাই সেই দিন একজন নারী হয়েও অন্য একজন নারীকে আক্রমণ করতে, শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করতে এবং দ্বিতীয় নারীর গায়ের পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলতেও তার খারাপ লাগছিলো না। অথচ 'স্বল্প' পোশাক পরিধান নিয়েই তার অভিযোগ ছিলো। কিন্তু তিনি নিজেই আবার অন্য নারীটির পোশাক ছিঁড়ে ফেলছেন নির্দ্বিধায়। আবার এই কাজে তিনি সেই সমাজের গুটিকয়েক পুরুষের সাহায্য নিচ্ছেন!

সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থা একদিনে তৈরী হয় না। মানসিক দৈন্যতার এই স্তরে যেতে কয়েক মাস, কয়েক বছর এমনকি কয়েক প্রজন্ম লেগে যেতে পারে।

অত্যাচারকারীর প্রতি এই স্নেহ বা আবেগ অনেক সময় বিপদজনক পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এমনকি এ সময় কেউ উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাকেও আক্রমণ করে বসতে পারেন স্টকহোম সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তি। অবশ্য ক্রিমিনোলজিস্টরা অনেকে স্টকহোম সিনড্রোমে বিশ্বাস করে না।

যাই হোক, চোখের সামনে প্রতিনিয়ত একটি অন্যায় দেখছেন, অথচ সেই অন্যায়ে আপনি কোন বাঁধা দিচ্ছেন না। বরং সেই অন্যায় আপনার ভালো লাগছে, মজা লাগছে। সেই অন্যায়কে আপনি যত্নে এবং খুব গর্বে লালন করছেন, পৃষ্ঠপোষকতা করছেন -

এরকম উদাহরণ এই দেশে কি খুব বেশি অপ্রতুল?

লেখক: ডা. রাজীব দে সরকার, চিকিৎসক, সার্জারী বিভাগ (৩৩ বিসিএস), শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

;