শ্রীলঙ্কার উদাহরণ বিএনপির জন্য প্যান্ডোরার বাক্স!



ড۔ সেলিম মাহমুদ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গত কয়েকদিন ধরে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে বেশ উল্লাস প্রকাশ করছে। তারা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন কিছু রাজনীতিকদের মতো গণরোষে পড়তে হবে মর্মে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। বিএনপি নেতাদের গত কয়েকদিনের মন্তব্য শুনে একজন গবেষক হিসেবে এদেশের কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার কথা আমার মনে পড়লো। এই ঐতিহাসিক ঘটনা গুলোর প্রেক্ষিতে আমি বিএনপি নেতাদের জিজ্ঞেস করছি - কাকে আপনারা গণঅভ্যুত্থান আর গণরোষের ভয় দেখান? আপনারা কি ভুলে গেছেন দেশের সকল গণঅভ্যুত্থান ও গণ বিস্ফোরণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছিল? আর আপনারাই বার বার গণবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গণরোষের কবলে পড়েছিলেন।

আপনারা একবার আফগানিস্তানের উদাহরণ দেন। আরেকবার পাকিস্তানের উদাহরণ দেন। আবার বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে। যখন সবাই অংক করে দেখালো বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে না, তখন আবার আপনারা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন নেতাদের মতো গণরোষের শিকার হবে। এবার আপনাদের জন্য ইতিহাসের সেই ঘটনা গুলো উপস্থাপন করি:

১) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ১৯৬৯ গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক আইয়ুবের পতন হয়েছিল। বর্তমান বিএনপি'র আগের জেনারেশনের ক্ষমতাসীন অনেকেই তখন পালিয়েছিলো। মুসলিম লীগ জেনেরেশনের পরবর্তী জেনারেশন এবং তাদের সুবিধাভোগিদের নিয়েই সামরিক শাসক জিয়া বিএনপি গঠন করেছিল। বিএনপির পূর্বসূরিরাই উনসত্তুরে গণরোষের শিকার হয়েছিল।

২) ১৯৭১ এর ডিসেম্বরে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী অনেকেই গণরোষের শিকার হয়েছিল। ঐ স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রায় সকলেই পরবর্তীতে বিএনপি'তে যোগ দিয়েছিলো। আর জাতির পিতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগই এদেশের স্বাধীনতা এনেছিল। বিএনপির পূর্বসূরিরা ১৯৭১ সালেও গণরোষের মুখোমুখি হয়েছিল।

৩) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ১৯৯০ এর গণ অভ্যুত্থানে সামরিক শাসক এরশাদের পতন হয়েছিল। মওদুদ- শাহ মোয়াজ্জেম সহ বিএনপি'র অনেক নেতাই তখন স্বৈরশাসকের দোসর হিসেবে গণরোষে পড়েছিল।

৪) অনেক রাজনীতি বিশ্লেষক মনে করেন, চট্টগ্রামে নিহত না হলে সামরিক শাসক এরশাদের মতো জেনারেল জিয়ার পরিণতিও একই হতো। অর্থাৎ পৃথিবীর সকল সামরিক শাসকের মতো গণঅভ্যুত্থানেই অবৈধ জিয়া সরকারের পতন হতো।

৫) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে গণ আন্দোলনে মাত্র এক মাসে ভোট চোর খালেদা সরকারের পতন হয়েছিল। বিএনপির অনেক নেতা রাতের অন্ধকারে মন্ত্রীপাড়া থেকে পালিয়েছিলো। গণরোষ থেকে বাঁচার জন্য অনেকে দেশ ছেড়েছিলো। বিএনপির অনেক নেতাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেদিন মানবিক কারণে জনরোষ থেকে রক্ষা করেছিল। আবার কেউ কেউ গণরোষ থেকে রক্ষা পায়নি l

৬) সীমাহীন দুর্নীতি, অপশাসন আর ভোটচুরির নানা ষড়যন্ত্রের কারণে ২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের দুর্নীতিবাজ নেতাদের জনগণ লগি- বৈঠা নিয়ে ধাওয়া করেছিল। জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য অনেকেই পালিয়েছিলো। অনেককেই সেদিন জনগণ পিটিয়েছিল।

৭) বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোন গণঅভ্যুত্থান কিংবা গণ অসন্তোষ হয়নি। দেশের ইতিহাসে একমাত্র আওয়ামী লীগই সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল ২০০১ সালে। আর রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশ বিরোধী দুস্কৃতিকারীরা স্বপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যা করে ক্ষমতা নিয়েছিল। এতে জনগণের কোন অংশগ্রহণ ছিল না। জাতির পিতার হত্যার পর খুনী মোশতাক- জিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য গণ প্রতিরোধ ও গণ বিক্ষোভ মোকাবেলার জন্যই ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকে সামরিক আইন জারী করেছিল। ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বর থেকে দেশে জরুরী অবস্থা জারী থাকা অবস্থায় খুনীরা সামরিক আইন জারী করেছিল নিজেদের সম্ভাব্য গণপ্রতিরোধ থেকে রক্ষার জন্য।

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, বিএনপি-জামাতের নেতারাই বার বার শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। আর দেশের সকল গণঅভ্যুত্থান ও গণ বিস্ফোরণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই সংগঠিত হয়েছিল। বিএনপির নেতারাই বার বার গণবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গণরোষের কবলে পড়েছিলেন। আপনাদের এই কান্ড জ্ঞানহীন মন্তব্যের কারণে সেই ছবি গুলো এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদের চোখে মুখে তারপরও লজ্জার রেশ দেখতে পাচ্ছি না। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, শ্রীলঙ্কার উদাহরণ আপনাদের জন্য প্যান্ডোরার বাক্স l

ড۔ সেলিম মাহমুদ
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

তেল নিয়ে তেলেসমাতি ও মঈনুদ্দীনের সাথে কথোপকথন



মো. বজলুর রশিদ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মঈনুদ্দীন মিয়া একজন রিকশা চালক। আমার অফিসের সামনে প্রায়ই অপেক্ষা করে যাত্রীর জন্য। গত কয়েক বছর যাবত সে ঢাকা শহরে বসবাস করে পরিবার নিয়ে। ব্যক্তিগত কাজে কোথাও যেতে হলে মঈনুদ্দীনের রিকশাতেই যাতায়াত করি। এবারে ঈদের পরে তার রিকশায় ধানমন্ডি এলাকায় যেতে যেতে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, কেমন আছ মঈনুদ্দীন? দিনকাল চলছে কেমন? ঈদ কেমন কাটল? অত্যন্ত হতাশার সুরে সে জবাব দিল, গরীবের আর থাকা কি স্যার! যা ইনকাম তা দিয়ে তো আর জীবন চলে না। জিনিসপাতির যে দাম তাতে সংসার আর চলে কই? রিকশা টাইন্যা শরীর শ্যাষ; জীবনও শ্যাষ! তার কথায় আক্ষেপের সুর।

আমি আর কথা বাড়াতে পারলাম না। ঝিম ধরে রিকশায় বসে থাকার চেষ্টা করলাম। কিন্তুু পারলাম না। এক সিএনসি এসে মঈনুদ্দীনের রিকশার পিছনে বেমক্কা ধাক্কা দিল। পড়তে পড়তে বেঁচে গেলাম। মঈনুদ্দীন সিএনজি চালককে ‘হালার পুুঁত’ বলে কষে এক গালি দিল। তাতে কোনো কাজ হলো না। সিএনজি চালক নির্বিকার মুখে সিএনজির মুখ অন্যদিকে নিয়ে বেরিয়ে গেল। আমিসহ মঈনুদ্দীনের রিকশা বিশাল এক বাসের পিছনে ও ডানে-বাঁয়ে অন্যান্য যানবাহনের ফাঁকে আটকে পড়লাম। ট্রাফিকের জ্যাম। মিনিম্যাম দশ মিনিটতো লাগবেই জ্যাম ছাড়াতে। বিরক্তি নিয়ে বসে থাকলাম আর চারদিকের অবস্থা দেখতে লাগলাম। মঈনুদ্দীন তার গামছা দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বলল, ঢাকা শহরের অবস্থা কী হইছে দ্যাখছেন স্যার। মানুষ ক্যামনে যে এই শহরে থাকে বুঝবার পারি না। আমি শুধু বললাম উপায় কী? জীবিকার তাগিদে তো থাকতেই হবে। তুমি যেমন আছ, আমি আছি, অন্যরাও আছে।

মঈনুদ্দীন বলল সবাই কিন্তু জীবিকার জন্য নেই স্যার । অনেকেই আছে ধান্ধাবাজি করতে। দেখছেন না ত্যাল নিয়া কী কা-টায় না চলছে। ঈদের আগে কেজি খানেক গরুর মাংস কিনছিলাম। ৭৫০ টাকা দিয়া। আমার একদিনের ইনকাম। ভাবলাম পোলাপানরা অনেকদিন গরুর মাংস খাইতে পাই নাই। আমি নিজেও তার স্বাদ ভুলতে বসছিলাম। রান্ধন করার সময় বউয়ে কইল ত্যাল নাই। দোকান থেকে ত্যাল নিয়ে আস। বোতল হাতে দিয়া ছোট পোলাটারে দোকানে পাঠাইলাম ত্যাল আনবার জন্য। পোলা খালি বোতল নিয়া ফির‌্যা কয় দোকানথো ত্যার নাই। শেষে আমি নিজেই বারাইলাম। ঘটনাতো সত্য। হালার কোনো দোকানে এক ফোটা ত্যাল নাই। শ্যাষম্যাষ ওর মায়ে কথথোন একটু ত্যাল আইনা রান্ধন সারল। আর এহন শুনি গুদাম থেইক্যা খালি ত্যাল বেরাইতেছে। ব্যবসায়ীগো দোকান। এরা তো স্যার জীবিকার তাগিদে নাই। আছে ধান্ধাবাজি কইরা মানুষরে কষ্ট দিয়া পয়সা বানাবার তালে। আমি বললাম সেকথা ঠিক। তবে তাদেরকে তো ধরারও হচ্ছে। জরিমানা করা হচ্ছে অবৈধভাবে তেল মজুদ রাখার জন্য।

মঈনুদ্দীন এবার একটু ক্ষেপে গেল মনে হয়। ঝাজের সাথে বলল জরিমানাতো স্যার এখন যারা করতাছে তাদেরই করন লাগে। এরা আগে আছিল কই। এই কাজটা যদি ঈদের আগে করত- তাহলে তো মানুষগো ত্যাল নিয়া কষ্ট হইত না। আমার পোলাপানও স্বাদ কইরা একটু গরুর মাংস খাইতে পারত। মঈনুদ্দীন আফসোস ভরা কণ্ঠে বলতে লাগল। এরা তো সবই জানে। তয় আগে থেকে অ্যাকশন লইনা ক্যান?

আমি বললাম, অ্যাকশান নিলে সমস্যা আছে মঈনুদ্দীন। যারা তেল আমদানি করে তারা আমদানি বন্ধ করে দিতে পারে। তখন আরো বেশি সমস্যা দেখা দিবে। মানুষ এখন যেটুকু পাচ্ছে তখন তাও পাবে না। সমস্যা আরো প্রকট হবে। মঈনুদ্দীন বলল এরা বন্ধ করবে কিল্লাই? সরকার আছে না? সরকার ব্যবস্থা নিব। আমি বললাম, সরকার ইচ্ছা করলেই ব্যবস্থা নিতে পারে না। কারণ মুক্তবাজার অর্থনীতি। সরকারের একার পক্ষে তেল আমদানি করা সম্ভব না। তাছাড়া যুদ্ধের জন্য এখন অনেক দেশ তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। সামনে অবস্থা আরো খারাপ হবে বলে সবাই বলাবলি করছে। মঈনুদ্দীন এতো কিছু বুঝল কিনা জানি না। হঠাৎ জ্যাম ছুটে যাওয়ায় সে রিকশা চালাতে শুরু করল।

রিকশা চালাতে চালাতেই সে আবার জিজ্ঞাসা করল স্যার হুনছিতো আমাগো দ্যাশ থেইকা অনেক গার্মেন্টস-এর কাপড় বিদেশ যায়। তয় আমাগো দ্যাশ যদি কাপড় দেওন বন্ধ কইরা দেয় তয় ওইসব দেশের কী হইব? পিন্দনের কাপড় পাইব কই? শরমে পড়বতো? মঈনুদ্দীনের এই কথায় আমি একটু অবাক হলেও স্বাভাবিকভাবেই বললাম- মঈনুদ্দীন অনেক দেশ আছে যেখানে আমাদের দেশ থেকে কাপড় না নিলেও সমস্যা নেই। কারণ শীতকাল বাদে গরমের দিনে তাদের কাপড় চোপড় খুব একটা প্রয়োজন হয় না। একটা গেঞ্জি ও হাফ প্যাণ্ট হলেই তাদের চলে যায়। মঈনুদ্দীন বলল মাইয়ারাও কি তাই পরে? আমি বললাম- হ্যাঁ, মেয়েরাও প্রায় একই ড্রেস পরে। সে শুধু বলল- তাজ্জব দেশ! আমি বললাম তাছাড়া আমরা কাপড় না দিলেও তারা অন্য দেশ থেকে নিবে। তাদের সমস্যা হবে না।

মঈনুদ্দীনকে জিজ্ঞাসা করলাম তোমার কাছে কী মনে হয়- আমাদের দেশটা চলছে কেমন? আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশ কেমন চালাচ্ছে? জবাবে সে বলল প্রধানমন্ত্রীতো দেশটা ভালই চালাইতেছে। দেশের অনেক উন্নতি করছে। আমার এক বোনে তার দেওয়া ঘর পাইছে। কিন্তু হের লগে আর যারা সরকার চালাইতেছে তাদের মধ্যে দেশের প্রতি মহব্বত কম। দেশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মতো মায়া এদের মধ্যে নাই। মায়া থাকলে ত্যাল নিয়া সমস্যা হয়ত না। ত্যালের মতো আরো অনেক সমস্যা হইত না। এতো সমস্যা প্রধানমন্ত্রী একা কিভাবে সামলাইব। সবাই যদি প্রধানমন্ত্রীর মতো হইত- মঈনুদ্দীনের গলায় আক্ষেপ উথলে ওঠে। রিকশা চলতে থাকে।

মো. বজলুর রশিদ, সহকারী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা

 

 

;

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা: বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সূচনা



প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

১৯৮১ সালের ১৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ শুরু হয়। পঁচাত্তরের পর বাঙালির জীবনে যে অন্ধকার নেমে এসেছিলো, তার ফেরার মধ্য দিয়ে তা কেটে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। বাংলার মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা তাদের (জনগণ) সঙ্গে নিয়ে মানব—স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। মহামারি করোনা থেকে শুরু করে মানবসৃষ্ট নানা সংকট-বেশ বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করছেন।

সম্প্রতি বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে সমন্বয়ের বিষয়েও তার পদক্ষেপ চলমান। বাঙালির স্বপ্নপূরণের সারথি হিসেবে উন্নত দেশ গড়ে তোলার কাজ করে চলেছেন তিনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয় তার দুই কন্যা— শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যেদিন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, শেখ হাসিনা তখন তার ছোট বোন শেখ রেহানা, স্বামী ও দুই সন্তানসহ তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন। ফলে প্রাণে বেঁচে যান তারা।

পশ্চিম জার্মানি থেকেই স্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছোটবোন শেখ রেহানা এবং শিশু পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও শিশু কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং প্রাণ রক্ষার জন্য ভারত সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া।

সেই কঠিন সময়ে তাদের হাতে যথেষ্ট টাকা-পয়সা ছিলো না। জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার জার্মানি যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে ছিলো মাত্র ২৫ ডলার।

২৪ আগস্ট সকালে ভারতীয় দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা তাদের ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে নিয়ে যান। তবে যাত্রার এ বিষয়টি সে সময় গোপন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিলো।

এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ২৫ আগস্ট সকালে দিল্লি পৌঁছান শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওয়াজেদ মিয়া এবং তাদের দুই সন্তান।

বিমানবন্দর থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় নয়াদিল্লির ডিফেন্স কলোনির একটি বাসায়। প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া লিখেছেন,'... বাসায় ছিল একটি ড্রইং-কাম-ডাইনিং রুম এবং দুটো শয়নকক্ষ।

'ওই বাড়ির বাইরে না যাওয়া, সেখানকার কারো কাছে পরিচয় না দেওয়া এবং দিল্লির কারো সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল তাদের।

জানা যায়, পঁচাত্তরের ওই সময়টায় ভারতে জরুরি অবস্থা চলছিল। বাংলাদেশ সম্পর্কে তেমন কোনো খবরাখবর ভারতের পত্রিকায় ছাপা হতো না। কাজেই তখনকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে এক রকম অন্ধকারে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে।

দিল্লিতে পৌঁছানোর দুই সপ্তাহ পর ওয়াজেদ মিয়া এবং শেখ হাসিনা ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বাসায় যান। সেখানেই শেখ হাসিনা ১৫ আগস্ট ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন।

এরপর শেখ হাসিনাকে ইন্ডিয়া গেটের কাছে পান্ডারা পার্কের ‘সি' ব্লকে একটি ফ্ল্যাট দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হয় দুজন নিরাপত্তারক্ষীও।

ওয়াজেদ মিয়াকে ১৯৭৫ সালের ১ অক্টোবর ভারতের পরমাণু শক্তি বিভাগে ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। ১৯৭৬ সালের ২৪ জুলাই শেখ রেহানার বিয়ে হয় লন্ডনপ্রবাসী শফিক সিদ্দিকের সঙ্গে। কিন্তু শেখ হাসিনা এবং তার স্বামী বিয়ের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।

১৯৭৯ ও ১৯৮০ সালে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা বিভিন্ন সময় দিল্লি যান তাদের খোঁজ-খবর নিতে।

সূত্রমতে, আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক কাবুল যাওয়ার সময় এবং সেখান থেকে ফেরার সময় তাদের সাথে দেখা করেন।

আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান, আব্দুস সামাদ আজাদ, তৎকালীন যুবলীগ নেতা আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীও দিল্লিতে যান।

এম ওয়াজেদ মিয়া এ বিষয়ে লিখেছেন, তাদের সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিতে রাজি করানো।

১৯৮০ সালের ৪ এপ্রিল শেখ হাসিনা নিজের সন্তানদের নিয়ে লন্ডনে যান রেহানার সঙ্গে দেখা করতে। পরের বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে থাকা অবস্থায় তিনি খবর পান, ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। এর এক সপ্তাহ পরে আওয়ামী লীগের সেই সময়ের শীর্ষ নেতারা দিল্লি যান। সেখানে কয়েকটি বৈঠকও করেন তারা।

এরপর জননেত্রী শেখ হাসিনার ঢাকা ফেরার তারিখ চূড়ান্ত হয়। ১৬ মে শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে একটি ফ্লাইটে কলকাতা পৌঁছান। ১৭ মে বিকেলে কলকাতা থেকে ফেরেন ঢাকায়। তাদের সঙ্গে ছিলেন আব্দুস সামাদ আজাদ ও এম কোরবান আলী। (তথ্যসূত্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ; এম এ ওয়াজেদ মিয়া)

১৯৮১ সালের ১৭ মে ছিল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনতার ঢল নেমেছিল তেজগাঁও বিমানবন্দরে। জননেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে আসেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, যুবা-ছাত্র।

শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় তেজগাঁও বিমানবন্দর এলাকা। এছাড়া ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃ হত্যার বদলা নেব, বলেও স্লোগান দেওয়া হয়।

এরপর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আয়োজিত লাখো জনতার উপস্থিতিতে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে শেখ হাসিনা বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেছিলেন, 'সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।

ওই সময় দেশে সামরিক শাসন চলছিল। এর মাঝে শেখ হাসিনার স্বদেশে ফেরা ছিল একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নানা প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করা হয়। এমনকি ১৯৮১ সালে ‘শেখ হাসিনা আগমন প্রতিরোধ কমিটি’ পর্যন্ত করানো হয়েছিল। তবে দেশের মানুষ কখনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ভোলেনি। তিনি যেমন আজীন মানুষকে ভালোবেসেছেন, মানুষও তাকে বুকে ধারণ করে তার আদর্শকে উজ্জ্বীবিত করে চলেছে।

এমন অবস্থায় পিছু হঁটতে বাধ্য হয় কুচক্রীমহল। এমন প্রেক্ষাপটে ১৯৮১ সালের ১৭ মে সকল পত্রিকায় খবর ছাপা হয়েছিল– ‘শেখ হাসিনা আগমন প্রতিরোধ কমিটি আপাতত তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছে’। (সূত্র: শেখ হাসিনার স্বদেশপ্রত্যাবর্তন: তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ আর কয়জন আছেন!; সুভাষ সিংহ রায়)।

১৫ আগস্টের শোকাবহ ঘটনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনে অনেক বড় বেদনাদায়ক ঘটনা, এক গভীরতম ট্রাজেডি। এই শোক তাকে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যেতে শক্তি দিয়েছে, করে তুলেছে আরও দায়িত্বশীল।

শেখ হাসিনা একজন আত্মপ্রত্যয়ী, মানবতাবাদী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের অধিকারী। যার প্রকাশ ঘটেছিল সেই ছাত্রজীবনে। তবে তারুণ্যের সেই দিনগুলো থেকে আজকের শেখ হাসিনা অভিজ্ঞতায় অনেক সমৃদ্ধ।

দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি খুবই ঋদ্ধ। বুদ্ধিমত্তা আগের মতই প্রখর, সহনশীলতা ও দৃঢ়তা, ধৈর্য, যেন তাঁর চরিত্রগত ধর্ম।

ভালোবাসায় ও সহমর্মিতায় তিনি সবার কাছে প্রিয় এবং বাঙলার মানুষের অতি আপনজন। তাই আজ আমাদের কাছে গর্বের বিষয় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে জনগণের কাছে নন্দিত। তিনি জনমানুষের নেতা। সেখান থেকে এখন বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বে দেশ যেমন এগিয়ে চলছে, তেমনি বৈশ্বিক নেতাদের বাহবাও পেয়েছন তিনি। যা বাঙালি হিসেবে আমাদের গর্বিত করে।

বাঙলার মানুষের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী একটা কথা প্রায়ই বলে থাকেন— 'আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, শিশু ছোটভাই রাসেলসহ সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝেই তাদের ফিরে পেতে চাই।'

তাইতো দিন রাত এক করে বাঙলার মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন। দেশকে এনে দিয়েছেন উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের তকমা। তার দেখানো পথেই উন্নত ও সমৃদ্ধ তথা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার দিকে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে বাংলাদেশ।

নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, শিশুমৃত্যুর হার, পরিবেশ, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ইত্যাদিতে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে একটি অনুকরণীয় রাষ্ট্র। মানুষের প্রতি তার মমত্ববোধ আর ভালবাসার কারণে আজ পৃথিবীতে বাংলাদেশ একটি কার্যকর কল্যাণমুখী রাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী প্রবর্তিত সোশ্যাল সেফটি নেট বা সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গোটা উন্নয়নশীল বিশ্বে এক অনন্য ঘটনা।

বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরে দেশি-বিদেশি সকল বিশেষজ্ঞ ও গবেষকের হাইপোথিসিসকে ভুল প্রমাণ করে বাংলাদেশ মিয়ানমার ও ভারতের দাবির বিপক্ষে বিশাল সমুদ্রসীমা জয় করেছে। এটা সম্ভব হয়েছে কেবল প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ ও সাহসী নেতৃত্বে এবং সফল এনার্জি ডিপ্লোমেসির কারণে।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে পৃথিবীর খুব কম দেশই এত সফলভাবে সমুদ্রের উপর তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। এই কৃতিত্ব কেবলই প্রধানমন্ত্রীর।

পাকিস্তানের ২৪ বছরে, জিয়া-এরশাদ ও খালেদা জিয়ার মোট ৩১ বছর শাসনামলে যেখানে ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়নি, সেখানে তার কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারত গ্রহণ করেছে, যার মোট আয়তন ৭ হাজার ১১০ একর ভূমি।

অন্যদিকে, ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশ পেয়েছে, যার মোট আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর ভূমি। ফলে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে ১০ হাজার ৫০ একর বা ৪০.৬৭ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পেয়েছে।

একটি স্বল্পোন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও ১৩ হাজার ৫০০ এর মতো কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আরও ৪ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণাধীন। যুগান্তকারী এই ব্যবস্থাও প্রধানমন্ত্রীর চিন্তার ফসল। ঘরহীনদের দিয়েছেন জায়গাসহ পাকা ঘর।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তার নেতৃত্বে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে। দেশের কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, খেটে খাওয়া তথা স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মানুষকে বাঁচাতে ও অর্থনীতিকে রক্ষা করতে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার অনুদান ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, যা খুব প্রশংসনীয়।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন তার আরেকটি সাহসী সিদ্ধান্ত। যা বাঙালিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। চলতি বছরের জুনের মাঝে এ সেতু খুলে দেওয়া হবে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুর পর বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের আলোকবর্তিকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাত্তরে বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। যা বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন।

আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের কাতারে নাম লেখাবে বাংলাদেশ— এই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক: উপাচার্য, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; জামালপুর।

;

একজন প্রণামখ্যাত নেতা, অনামখ্যাত কবি



মনোয়ার রুবেল
মমতা ব্যানার্জি

মমতা ব্যানার্জি

  • Font increase
  • Font Decrease

একজন কবি রাজনীতিবিদ হতে পারবেন, একজন রাজনীতিবিদ কবি হতে পারবেন না, এমন অলিখিত একটি ফতোয়া বাঙালি কবি সমাজ তৈরি করে রেখেছেন। কোন নেতা যদি কবিতা লিখেন তা নিয়ে বাঙালি সাহিত্য সমাজের প্রথম কাজ তার জাতপাত উদ্ধার করে বুঝিয়ে দেয়া, তুমি রাজনীতি করো, তুমি নিম্নবর্গীয় মস্তকের মানব। কবিতার মতো উচ্চবর্ণের কর্মজগতে প্রবেশ করে তুমি অপরাধ করেছ। তুমি বেড়া ডিঙিয়েছ।

একজন কবির লেখা কখনো সখনো আদৌ কবিতা হয়ে উঠলো কিনা তা নিয়ে কারো চিন্তা কস্মিনকালেও করতে দেখা যায় কি? বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান 'কর্তার পাদে গন্ধ নাই' শিরোনামে যখন কবিতা লিখে ঢাকার প্রথম আলোতে তুমুল ভক্তি ভরে তা ছাপা হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ  যখন লিখেন "তোমার নয়নে নয়ন রাখিয়া/ বলেছিনু এসো প্রিয়া/ তাপিত হৃদয়ে ঝরনা ঝরাও/ প্রেমের অঞ্জলি দিয়া", তা ছাপা হয় না। কবিতা লেখার বিপরীতে এরশাদকে স্বৈরাচার, লুটেরা, চরিত্রহীন এগুলোই শুনতে হয় বেশি। এরশাদ, নিযুক্তিয় কবির কবিতা নিজ নাম চালাচ্ছেন এমন প্রচার এন্তার। কখনো, সুনিল শুভ রায় কখনো কবি আবু বকর সিদ্দিক তার কবিতার মালিক নাম হয়। এত প্রচার কখনোই হতো না যদি তিনি রাজনীতি করতেন।

এবার তালিকায় যুক্ত হলেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁকে কলকাতায় 'অ্যাকাদেমি পুরস্কার' দেয়া হয়েছে, সাহিত্যে অবদানের জন্য।

কি আশ্চর্য ব্যাপার! মমতা কে? রাজনীতির লোক লিখবে কবিতা? তাকেও পুরস্কার দেয়া হয়েছে! ঘোর কলিকাল চলছে। তার বইয়ের সংখ্যা একশরও অধিক!  কী লিখে? অপাং সপাং ঝপাং? এসবই আলোচনা হচ্ছে৷

রাজনীতির লোক কবিতায় অনুপ্রবেশ, অনেক সুধীজন কেন যেন মেনে নিতে পারেনা। পাবলো নেরুদার কথা বাদই দিলাম। বাংলাদেশে কবি নজরুল বা নির্মলেন্দু গুণ যখন জাতীয় নির্বাচনে নেতা নির্বাচিত হতে প্রার্থী হন তখন রাজনীতিবিদরা এসে বলেননা আপনার রাজনীতি রাজনীতি হয়ে উঠে না বা আপনি অমুকের রাজনীতি চুরি করেছেন।

রাজনীতিই পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষনীয় পেশা, রাজনীতিবিদই হচ্ছে চরম অনিরাপদ পেশাজীবী। যে কেউ তাদের পেশায় ঢুকে যেতে পারে, যে কেউ তাদের গালি দিতে পারে। দেখুননা, কবিদের ফোরাম, লেখকদের ফোরাম, নাট্যকারদের কত কত ফোরাম হয়, কিন্তু রাজনীতিবিদদের কোন পেশাজীবী ফোরাম হয় না। তাদের অপদস্থ হওয়ার জন্য কোন সংগঠন, কোন ফোরাম কখনো প্রতিবাদ করেনা, কোন প্রতিবাদলিপি দেয় না। একরাজনীতিবিদের পুরস্কারপ্রাপ্তিতে অন্য রাজনীতিবিদরা আনন্দিত হয় না৷ রাজনীতিবিদ হওয়া যেন বাংলায় আজন্ম পাপ। এটা বাংলাতেই শুধু পাপ। তাদের নিজেদের মধ্যেই অন্তমিল নেই, তাদের অন্তমিল খোজা তাই সার। মমতার কবিতা নিয়ে কবি সমাজে যা হচ্ছে তার চেয়ে বেশি তাচ্ছিল্য হচ্ছে তার স্ব রাজনৈতিক সমাজে। তার জ্ঞাতিগোষ্ঠী দ্বারা তাকে কবি স্বীকৃতি না দিতে কবিসমাজকে উশকে দেয়া হচ্ছে। তার হাম্বা,  থ্যাংকিউ এসব ছড়া আবৃতি হচ্ছে।

রাজনীতি লেখা পাশাপাশি কোনকালে চলেনি, তাতো নয়। চার্চিল লেখালেখি করতেন, বেঞ্জামিন ডিজরেইলি করতেন, আব্রাহাম লিঙ্কনও করতেন। লেখালেখি করতেন বলতে, তারা যৌবনে নাটক গল্প লিখে অত:পর ক্ষান্ত হয়ে রাজনীতিতে নামেন। লেখালেখি তাদের প্রথম পেশা ছিল, কারো শখ ছিল।

মমতা ব্যানার্জি সম্পর্কে জেনেছি তিনি ছবি আঁকেন, কবিতা লিখেন, কীর্তনও লিখেন। একজন মানুষ রাজনীতি করলে মন্দ কবিতা লিখবে তাতো না। তাকে যে বইটির জন্য আকাদেমি পুরস্কার দিয়েছে তাতে ৯৪৬ টি কবিতা আছে! ভাবা যায়? বাংলাদেশের হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মতো তার বেলায় অন্তত কেউ এটা বলেননি এগুলা অন্য কেউ লিখেছেন! এগুলো তিনিই লিখেছেন৷ কিছু অপাং সপাং ঝপাং হয়েছে, কিছু ভালো কবিতাওতো হয়েছে। অনলাইনে অনেক ভালো কিছু কবিতাও পড়ছি। একটি ছোট কবিতা পড়ে মুগ্ধ হয়েছি। কবিতাটির মমতার লিখা।

ছোট্ট একটা সংবাদ

সে আর নেই!

তান্ডব আজ লজ্জিত

জীবন জীবনে নেই।

সভাতার প্রদীপ নিভে গেছে

তেল আর নেই,

মোমবাতির সলতে জ্বলছে

আলো তাতে নেই।

এক গোছা সাদা ফুল

আনন্দধারা নেই।

পড়ে আছে খালি কফিন

সে? আর নেই..

কি চমৎকার বিষয় আর বলার ঢং৷

এদেশে এখনো হুমায়ুন আহমেদকে সাহিত্যিক স্বীকৃতি দিতে অনেকে তেড়ে আসেন। স্বয়ং রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরকে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, পাঁচকড়ি বন্দোপাধ্যায়, সুরেশচন্দ্রসমাজপতি এরা একটা গোষ্ঠী ছিল, রবি ঠাকুরকে লেখা চোরও বলেছেন৷ 'সাহিত্য পত্রিকা'তেই চোখের বালিকে লেখা হয়েছিল চোরের বালি। সোনার তরীর প্যারোডিও হয়েছে। নজরুলের বিদ্রোহীর বেলায়ও হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে রথিমহারথীর এই অবস্থা! ভাবুন তো!

ধরি, কবিতা বিতানে মমতার ৯৪৬ কবিতার মধ্যে ৯৪০টিই কবিতা হয়নি৷ তাতে কি।, ৬টি তো হয়েছে৷ কবি হওয়ার জন্য ৬টিই কম গুরুত্বপূর্ণ?  কবি হেলাল হাফিজের একটি কবিতা লিখেই বিখ্যাত। তার একটি কবিতা (নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়) পড়েই  আহসান হাবিব বলেছিলেন, হেলালের আর কোনো কবিতা না লিখলেও চলবে, অমরত্ব ওর করায়ত্ত হয়ে গেছে। হয়েছেও তাই, হেলাল হাফিজকে 'যে জলে আগুন জ্বলে'র পরে আর কোন বই লিখতে হয় নি৷ কবি হওয়ার জন্য একটি কবিতাই যথেষ্ট।

কবিতা হওয়া না হওয়ার চেয়েও বড় কথা কবিতার প্রতি মমতার প্রবল অনুরাগ। প্রবল অনুরাগ আছে বলেই তিনি লেখার চেষ্টা করেন, শতাধিক বই লিখেছেন। তিনি রাজনীতির মানুষ না হলে অবশ্যই তার চেষ্টাকে মহত্তোম অভিধায় তুলে ধরে তালি দিতো। এদেশে সিনেমার প্রতি গার্মেন্টস ব্যাবসায়ি আব্দুল জলিলের ও হিরো আলম নামে তরুণের প্রবল অনুরাগকে বাঙালি সম্মানের সাথেই দেখেছে, মমতাও রাজনীতিতে যুক্ত না হলে তাই হতো, আমার ধারণা। তার পুরস্কার প্রাপ্তিও সম্মানিত হতো। কাব্যের প্রতি সময়োৎসর্গেরও মূল্যও পেতেন।

মমতার আকাদেমি পুরস্কারের ব্রাত্যবসুকে নিন্দা না করে, বরং কৃতজ্ঞতায় বাঁধা উচিত। আকাদেমি পুরস্কার না পেলে আমরা জানতামই না কবিতার প্রতি মমতার এই আত্মনিবেদন। আকাদেমির কাজ শুধু খ্যাতিমানদের পুরস্কার দিয়ে আরো খ্যাত করা নয়। নিভৃতচারী অখ্যাত সাধকদের পাদ প্রদীপের আলোয় তুলে আনাও এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয় বাদ দিন, কবি হিসেবে মমতার পরিচয় অখ্যাত, আত্মনিবেদক, নিভৃত সাধকও বটে। তাঁকে কবি হিসেবে মানুষের সামনে তুলে আনা হয়েছে। এটা আকাদেমির সাফল্য।

আকাদেমির এ পুরস্কার প্রতিবছর এমন মানুষদের খোঁজেই হোক।

মনোয়ার রুবেল, ফ্রিল্যান্স রাইটার।

;

উত্তেজনা লঙ্কায়, বধেচ্ছা বাংলায়!



কবির য়াহমদ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

একদিকে বাণিজ্য ঘাটতি, অন্যদিকে আর্থিক ঘাটতি; তার ওপর ক্ষমতাসীন রাজাপাকসে পরিবারের স্বজনপ্রীতি-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত শ্রীলঙ্কা যখন দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল তখন দেশটির আর্থিক দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশে রব ওঠেছিল বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার পথে হাঁটছে। অর্থনৈতিক সেই রব চলছে যদিও তবে এর সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মাহেন্দ্র রাজাপাকসের পদত্যাগ ও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার সাথে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিত করে নতুন আরেক আলোচনা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-সাংসদ-নেতাদের পরিণতি নাকি এমনই হবে। এ আলোচনা যে স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

শ্রীলঙ্কা-পরিস্থিতি আর বাংলাদেশ-পরিস্থিতি এক নয়—এমনটা বলে আসছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবু আলোচনা থামে না। অর্থনীতিবিদেরা নানা সূচক ধরে দেখাতে চাইছেন কেন শ্রীলঙ্কার চাইতে কম ঝুঁকিতে দেশ, কিন্তু সবকিছুর মূলে যেখানে রাজনীতি সেখানে এমন কথা কানে তোলবার লোকের সংখ্যা কম, আবার কিছু লোক এমনিতেই যেখানে সন্দেহপ্রবণ সেখানে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল বর্তমান। সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক ঋণ, মেগা প্রকল্পের ব্যয় ও সেখান থেকে রিটার্নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, বলা হচ্ছে এগুলো শ্রীলঙ্কার অনুরূপ নয়। বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলো থেকে যেখানে ইতিবাচক রিটার্ন আসার সম্ভাবনা সেখানে ব্যর্থ হয়েছে ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রটি। করোনাকালীন বিধিনিষেধে পর্যটন খাতে ধস, রপ্তানি আয়ে নিম্নমুখীনতা, রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের স্বল্পতার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক ব্যর্থতা তাদের এমন পরিণতির জন্যে দায়ী বলছেন বিশ্লেষকেরা।

গত সোমবার বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে মাহেন্দ্র রাজাপাকসের পদত্যাগের আগে-পরে যে বিক্ষোভ ও সহিংসতা হয়েছে শ্রীলঙ্কায় এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও, বিশেষত সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের ভাষায়-আশায়। সহিংসতার একটা পর্যায়ে দেশটির একজন সাংসদও মারা যান। একজনকে দিগম্বর করার দৃশ্যও প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে। মন্ত্রী-সাংসদ-নেতা কিংবা সাধারণ মানুষ যে-ই হোক না কেন দিগম্বর করে তার ওপর চালানো নির্যাতন অমানবিক ও বর্বরতা নিঃসন্দেহে, কিন্তু তবু এটা আমাদের সামাজিক মাধ্যমের অনেকের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রকাশের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের মিলিয়ে নেওয়ার যে ইঙ্গিত কিংবা হুমকি এসেছে তা সাধারণভাবে দেখা হলেও এটা রীতিমতো উদ্বেগের।

কেবল সামাজিক মাধ্যমই নয় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও শ্রীলঙ্কা পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের পরিণতি দেখছেন। তিনি বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি থেকে এই সরকারের শিক্ষা নিয়ে লাভ হবে না। কারণ, তারা শিক্ষা নিতে জানে না। শিক্ষা নিলে এই ১০ বছরে নিতে পারত। কিন্তু তারা কোনো শিক্ষা নেয়নি। এদের (সরকার) অবস্থা শ্রীলঙ্কা চেয়েও খারাপ হবে। শ্রীলঙ্কাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে না সব, এরা বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপিয়ে পড়বে।’ জনসমর্থনের দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের মহাসচিবের এমন মন্তব্য সুবিবেচনার ও দায়িত্বশীল কি-না তার কাছেই প্রশ্ন রাখতে চাই। কারণ কোন দেশ খাঁদে পড়লে সবাইকে নিয়েই পড়ে, কেউ রক্ষা পায় না। একটা দায়িত্বশীল দলের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে দেশ ও সরকারের পরিণতি নিয়ে এমন মন্তব্য আমাদেরকে হতাশ করেছে। এখানে সরকারের পরিণতি নিয়ে আগ্রহের চাইতে তিনি দায়িত্বশীল মন্তব্য করতে পারতেন!

কে-না জানে বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ ও দেশের মানুষ। আবার ওদিকে আরেক দুর্ভাগ্য, বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে না শুনলে মন খারাপ করছে দেশের মানুষই। কী অদ্ভুত বৈপরিত্য, কী অদ্ভুত স্বভাব মানুষের! স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হোক এমনটা চায় অনেকেই। এর পেছনে কাজ করছে মূলত বধেচ্ছা! জিঘাংসার লক্ষ্যবস্তু ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী-মন্ত্রী-সাংসদ। বধাভিলাষী লোকজন ভিনদেশ পরিস্থিতিতে দেশকে ডুবিয়ে হলেও জিঘাংসা চরিতার্থ করতে চায়!

এই চরিত্র কি নতুন আমাদের? নিকট অতীতে আমরা দেখেছি আফগানিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্ষমতা দখলের পর একশ্রেণির লোক উৎফুল্ল হয়েছিল। অনাস্থা ভোটে ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পর উপমহাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতে যাচ্ছে বলে আরেকশ্রেণির লোক আশাবাদী হয়েছিল। শ্রীলঙ্কা-পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীনদের দুর্দশা দেখে একটা শ্রেণির লোকজন ফের আশাবাদী হওয়ার পাশাপাশি জিঘাংসাবৃত্তি জেগেছে তাদের। এগুলো অনুচিত, দায়িত্বশীলতা নয়; সুনাগরিকের লক্ষণও নয়। আমাদের দুর্ভাগ্য এই দেশের আলো-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা, এই দেশের পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকা একদল লোক নিজ দেশের সেই করুণ পরিণতির অপেক্ষায় বসে আছে; স্বপ্নও দেখছে কেউ কেউ।

বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হবে না—এ বিশ্বাস আমাদের। তবে হ্যাঁ, শ্রীলঙ্কা-পরিস্থিতি শিক্ষণীয় নিশ্চিত, তবে এমন পরিণতির অপেক্ষা করা উচিত নয়; বরং অসচেতনতায় হলেও এটা দেশবিরোধিতার অন্যতম এককও!

;