রক্ত ও রাজনীতির উত্তরাধিকার

লুৎফে আলি মহব্বত
শেখ ফজলে শামস পরশ

শেখ ফজলে শামস পরশ

  • Font increase
  • Font Decrease

দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশের চলমান রাজনৈতিক ঐতিহ্যের স্পর্শ পেয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। রক্ত ও রাজনীতির ধারাবাহিকতা সম্প্রসারিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন যুবলীগেও।

ক্রান্তিকালের সঙ্কুল পরিস্থিতিতে উপমহাদেশের রাজনীতিতে এসেছেন রক্ত ও রাজনীতির উত্তরাধিকারীরা। ইন্দিরা গান্ধি, শেখ হাসিনা, বেনজির ভুট্টো, খালেদা জিয়া এমন অসংখ্য নাম ভিড় করে আছে ইতিহাসের পাতায়। রাজনীতির গগণচুম্বী ঐতিহ্য বহন করেছেন তারা।

শেখ ফজলে শামস পরশও অবশেষে পেলেন সেই স্পর্শ। নেতৃত্বের ব্যর্থতায় আকীর্ণ ও দুনীর্তির অভিযোগে বিদ্ধ যুবলীগের ইমেজ ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব বর্তেছে তার ওপর। তিনি দায়িত্ব পেলেন এমন এক সংগঠনের মূল কাণ্ডারীর, যে সংগঠনের অস্তিত্বে মিশে আছে তার পিতা শেখ মণির সারা জীবনের শ্রম, রক্ত ও রাজনীতি।

রক্ত ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ধারা শেখ পরশ পেয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কাছ থেকে। পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। যে রক্ত, রাজনীতি, ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার অবশেষে তাকে নিয়ে এসেছে প্রত্যক্ষ রাজনীতির ময়দানে, যুবলীগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের আসনে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শেখ পরশ পেশায় ছিলেন শিক্ষক। কিন্তু অবশ্যই তিনি ছিলেন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে রাজনীতি ঘনিষ্ট। যে কারণে যুবলীগের নেতৃত্বের কঠিন দায়িত্ব নিতে তিনি সাহসের সঙ্গে এগিয়ে এসেছেন। এসেছেন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালিত যুবলীগকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে।

যুবলীগ ও যুবলীগের প্রাণপুরুষ, তার পিতা শেখ মণি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাহস ও শক্তি। জীবন দিয়ে তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেখ পরশ পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে রক্ত ও উত্তরাধিকারের রাজনীতিকে আরও মহীয়ান করবেন। শেখ মুজিবের ছায়ায় বেড়ে ওঠা শেখ মণির মতো শেখ হাসিনার ছায়ায় বেড়ে ওঠা শেখ পরশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর ভাবাদর্শকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরও শক্তিশালী ও মজবুত করবেন।

স্বাধীনতার স্বপ্নবীজ বুকে নিয়ে যে বাংলাদেশের জন্ম, তাকে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অব্যবস্থার রাহু গ্রাস থেকে মুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার সার্থক রূপায়নে তিনি পালন করবেন অগ্রসর ভূমিকা।

একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে যুবলীগের দায়িত্ব তিনি পেয়েছেন এবং নিজস্ব যোগ্যতায় সেটা তিনি সফলতার সঙ্গে পাড়ি দিতে পারবেন বলে হাজার হাজার নেতাকর্মীর প্রত্যাশা। সন্মেলনে তাকে ঘিরে যে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা সকলের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে, তাতে শেখ পরশের প্রতি সকলের আস্থা ও সমর্থনের প্রতিফলন স্পষ্ট।

রাজনীতিতে শেখ পরশের আনুষ্ঠানিক অভিষেক কেবল উত্তরাধিকারের স্মারকচিহ্ন নয়, নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক বিজয়ও বটে। আওয়ামী লীগ যে ক্রমশ নতুন প্রজন্মের নেতাদের প্রস্তুত করে রাজনীতির মাঠে নামাচ্ছে, যুবলীগের নেতৃত্বে শেখ পরশের আগমন সে বার্তাই জানাচ্ছে।

যুবলীগের নেতৃত্বে শেখ পরশের আগমন বাংলাদেশের রাজনীতির নবতর উত্তরণ ও আওয়ামী রাজনীতির নতুন প্রজন্মের উত্থানের আগামধ্বনি হয়ে বেজেছে। তার প্রতি এবং তার মতো নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রতি সকলের এই আস্থা ও সমর্থন রয়েছে যে, বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির ধারাবাহিকতা জননেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে আরও বিকশিত ও সজীব হয়ে প্রজন্ম প্রজন্মান্তরে বিজয় রথের সুতীব্র গতিতে প্রবহমান থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :