আমরা কি পারব সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে?

সোহেল মিয়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সারা বিশ্বে একটি শব্দই শুধু ঘুরপাক খাচ্ছে। শব্দটি নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ, চলছে গবেষণা। কিন্তু কিছুতেই কিছু করতে পারছেন না রথী-মহারথীরা। তাদের সব গবেষণাকে স্তব্ধ করে দিয়ে দাপটেই বিস্তার ছড়াচ্ছে তার।

সুপ্রিয় পাঠক, বুঝতেই পারছেন বলছি করোনাভাইরাসের কথা। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রভাবে আজ সারা বিশ্ব থমকে দাঁড়িয়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনৈতিক বাজার। মানুষের বেঁচে থাকাটাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত যুদ্ধ চলছে করোনাভাইরাসের সঙ্গে।

এভাবে আর কতদিন এ মহামারির সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে বেঁচে থাকার জন্য। করোনার হিংস্র থাবায় মানুষের জীবন এখন তুচ্ছ। পৃথিবীর সৃষ্টির পর এতটা দাপট আগে কখনো কোনো ভাইরাস দেখিয়েছে বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে না। ঘণ্টায় ঘণ্টায় রং বদল করা এই ভাইরাসটির কাছে আজ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও হার মানছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাভাইরাসটিকে প্রাণঘাতী বলে আখ্যায়িত করেছে। সর্বশেষ ১ জুন (সোমবার) এই সংস্থাটির একজন ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস শিগগিরই দুর্বল হয়ে পড়ছে না, এটি এখনো শক্তিশালী।’

বর্তমান ভাইরাসটি বিশ্বে ৬১ লাখেরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করতে পেরেছে। আর বাংলাদেশে সে সংখ্যা ছাড়ল অর্ধ লাখ। কিন্তু এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে তাদের ঘোষিত লকডাউন অনেকটাই শিথিল করেছে। আবার অনেক দেশ শিথিলের চিন্তা ভাবনা করছে।

জীবনে বেঁচে থাকার তাগিদেই অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনযাত্রার কথা চিন্তা করেই শিথিল করা হচ্ছে লকডাউন। কিন্তু প্রশ্ন হলো- আমরা কি পারব করোনাকে মোকাবিলা করতে। ছোট আয়তনের এই বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষ কি পারবে তাদের সীমাবদ্ধতা রুখে অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে?

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দেখেছি মানুষ কতটা অসহায়ত্ব নিয়ে অবরুদ্ধ জীবন থেকে ফিরছে স্বাভাবিক জীবনে। পেটের তাগিদে তারা বের হচ্ছে ঘর থেকে। করোনার থেকেও তাদের কাছে অনেক বেশি ভয়াবহতা ক্ষুধা। ক্ষুধার জ্বালা মেটাতেই তারা তুচ্ছ ভাবছে করোনাকে। কিন্তু এতটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ভাবার পরিণতি কি হতে পারে সেটা কি ভাবার সময় এখনো আসেনি?

ঘনবসতি এই বাংলাদেশে করোনার হিংস্র থাবা কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা এখনি ভেবে দেখতে হবে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখাটা যেমন জরুরি তেমনি করোনা থেকে মুক্তির বিকল্প উপায়টাও খুঁজে বের করাটা অতিব জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে সময় চলে গেলে কিন্তু সাধন মিলবে না...!!!

সোহেল মিয়া: স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী

আপনার মতামত লিখুন :