অনলাইন শিক্ষা: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) পটভূমিতে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক গতি ও মানুষের জীবন-যাপনের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। কিছু কিছু জরুরি প্রতিষ্ঠান ও বিভাগ খুললেও এখনই খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা সরকারিভাবে ৬ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির যে অবস্থা তার পরিপ্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে—অচিরেই তা শেষ হচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার বিষয়ে এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷

তিনি বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাস মহামারির বিস্তার কমার পরই কেবল সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ভাববে৷ স্কুল এখন আমরা খুলব না৷ স্কুল কেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটাও খুলব না৷...অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্কুল-কলেজ সবই বন্ধ থাকবে৷ যদি তখনও করোনা ভাইরাসের প্রকোপ না কমে তবে যখন এটা থামবে আমরা তখনই খুলব৷’

এমন প্রেক্ষাপটে মার্চের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত—প্রায় সাড়ে ছয় মাস যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে, তাহলে লেখাপড়ার কী অবস্থা হবে, তা সহজেই অনুমেয়। তাই বিষয়টি অনুধাবন করে শিক্ষা বিষয়ে বিকল্প প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

উদ্যোগ নেওয়া হয়েছেও। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে কার্যক্রম শুরু করেছে। বিশেষত, গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার পর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’র সুবিধা গ্রহণ করে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেফমুবিপ্রবি) অনলাইন পদ্ধতিতে ক্লাস শুরু হয়।

আরো কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও চলছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষাদান। বৃহৎ আকারে ৯ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ সুযোগ ব্যবহার করে এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ডিজিটাল শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে এই দুর্যোগ মুহূর্তে অনলাইন প্ল্যাটফর্মই হতে পারে শিক্ষার প্রধান মাধ্যম।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অনলাইন শিক্ষা বা ই-লার্নিং বা ডিসট্যান্স লার্নিং এখন বেশ প্রয়োজনীয়। ইউরোপ-আমেরিকা ছাড়াও অনেক উন্নত দেশেই এখন এটা জনপ্রিয় মাধ্যম।

এর সুবিধা হচ্ছে—একটি র্স্মাটফোনের মাধ্যমে যে কোনো স্থান থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা যায়। ই-লার্নিংয়র ৮০ শতাংশের বেশি পাঠ কার্যক্রম ইন্টারনেটনির্ভর। তাই শিক্ষার্থীদের কোথাও গিয়ে পড়াশোনা করতে হয় না। ঘরে বসেই তা সম্ভব।

এছাড়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে এখন অনলাইনে শিক্ষাকে আরো ‘কমিউনিকেটিভ’ করা সম্ভব। বিস্তারিত বললে, একজন শিক্ষার্থীর যতটা প্রয়োজন, এ অবস্থায় ঠিক ততটাই তাকে শিক্ষাদান করা সম্ভব।

এর ফলে একজন শিক্ষার্থী নিজের গতিতে শিখতে পারবে, যা কিনা তার জন্য অধিকতর ফলপ্রসূ হবে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় ৫০-৬০ জনের ক্লাসে প্রতি ছাত্র ধরে ধরে শিক্ষকের দেখিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় না।

কিন্তু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আর মেশিন লার্নিং শিক্ষার্থীভেদে যথোপযুক্ত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। নিত্যনতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথিবী-বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউটগুলোও এখন অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে ডিগ্রি প্রদান করছে। বাংলাদেশ থেকেও অংশ নিয়ে অনেকেই দক্ষতানির্ভর সনদও অর্জন করছেন।

শিক্ষার ক্ষেত্রে এটা বেশ অগ্রসর ধাপ। তবে এই করোনা সঙ্কটে আমাদের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় যুক্ত রাখতে এবং তাদের মানসিক সাপোর্টের জন্য অনলাইন ক্লাসই হতে পারে একটা কার্যকর পদ্ধতি। কেননা মজার ছলে আনন্দ নিয়ে নিজের পড়াটা শিখতে পারবে তারা।

কোভিড-১৯-এর কারণে বেশ বিলম্বে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। তবে ওই পরীক্ষার পর কলেজে ভর্তিচ্ছু লাখ লাখ শিক্ষার্থীর অপেক্ষা রয়েই গেছে। আটকে গেছে প্রায় ১৩ লাখ পরীক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের (এইসএসসি ও সমমান) পরীক্ষাও।

গত ১ এপ্রিল থেকে এ পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার কথা ছিল। এখন কবে নাগাদ হয় তা অনিশ্চিত।

বছরের শেষে আছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা। মাধ্যমিক পরীক্ষা, কলেজে ভর্তি, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ও উচ্চশিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি—সবই সময়ের ছকে বাঁধা। করোনায় এসব কার্যক্রমে দেখা দেবে ‘হ-য-ব-র-ল’ অবস্থা।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর পরীক্ষা হয়তো নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও জানাশোনার কী হবে? এ বিষয়টি তো গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জন্য অবশ্যই পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায়, অনুচ্ছেদ রপ্ত করা জরুরি। তা না হলে জ্ঞানের এই শূন্যতা জীবনভর রয়ে যাবে!

তাই সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অন্ততপক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতে পারে। আর সে মাধ্যম হতে পারে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার।

পৃথিবীব্যাপী দিনে দিনে শিক্ষায় প্রযুক্তি বা এডুটেক-এর প্রসার ঘটে চলেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় উদঘাটিত হচ্ছে অভূতপূর্ব কিছু ধারণা, তৈরি হচ্ছে নতুন কৌশল। যা জ্ঞানের ভাণ্ডার তথা বিশ্বকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

বন্ধের এই সময়ে বশেফমুবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যুক্ত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত, ব্যবস্থাপনা, সমাজকর্ম ও ফিশারিজ) বিভাগেই অনলাইনে বিভিন্ন কোর্সের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এ উদ্যোগের কথা শুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রিয় সহকর্মী শিক্ষকবৃন্দের একাগ্রতা এবং আগ্রহ আমায় মুগ্ধ করেছে। আর শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উপস্থিতি বেশ লক্ষণীয়।

কিছু সীমাবদ্ধতা থাকার পরও কোনো কোনো ক্লাসে তাদের উপস্থিতির হার ৯০ শতাংশ। এরই মধ্যে প্রতিটি কোর্সেরই ৯০-৯৫ শতাংশ ক্লাস সম্পন্ন হয়েছে।

শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আমি ভার্চুয়ালি সভা করছি। কথা বলেছি আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গেও। অনলাইনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তারা জানিয়েছেন ভার্চুয়ালি ক্লাস করার অভিজ্ঞতার কথা। তারা এই সময়ে আতঙ্কিত কিংবা হতাশ না হয়ে বরং নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত রেখেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় খুললে তাদের সেমিস্টার পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া হবে। এতে তাদের সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা থাকবে না। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়- অবকাঠামোসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় একটা মাইলফলক গড়ে তোলার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই অভিজ্ঞতা অদূর ভবিষ্যতে বশেফমুবিপ্রবিকে ‘স্মার্ট ক্যাম্পাস’ তৈরি করতে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে পূর্ব এশিয়ার দেশ চীনের সমুদ্র উপকূলীয় শহর উহানে প্রথম শনাক্ত হয় নভেল করোনাভাইরাস। সেখান থেকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ভয়ানক এই ভাইরাস, এরপর সারা বিশ্বে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১৮৮ দেশে হানা দিয়েছে কোভিড-১৯।

ডিসেম্বরে কোভিড-১৯ দেখা দিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখে চীন। উই চ্যাট বা কিউকিউয়ের মাধ্যমে এসব ক্লাসে যুক্ত হন শিক্ষার্থীরা। প্রায় আড়াই হাজার মাইল দূর থেকেও এসব ক্লাসে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশি অনেক শিক্ষার্থীও।

ডিসট্যান্স লার্নিংয়ের ক্ষেত্রে একেবারে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে দেশটির ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় (জেডজেইউ)। করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার দু’সপ্তাহের মাঝেই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচ হাজারেরও বেশি কোর্স অনলাইনে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। (সূত্র:yju.edu.cn/english)। ফলে এই ই-লার্নিং পদ্ধতির আওতায় চলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সব শিক্ষার্থী।

কিছু কোর্স বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও এ সুযোগ পান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘কোর্স হাব’র ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি ই-কমার্স কোম্পানি ‘আলিবাবা’র সঙ্গে চুক্তি করে তৈরি করে ‘Ding Talk ZJU’ নামে একটি অ্যাপ; যা প্রায় ৩ লাখ মানুষের মধ্যে দ্রুত পৌঁছে যায়।

একই সঙ্গে ৩ হাজার ৬৭০ জন শিক্ষককে এ বিষয়ে দক্ষ করে তোলা হয়। এমনকি এক হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীকে এই ডিসট্যান্স এডুকেশনের অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কমমূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারেরও সুযোগ করে দেয় জেডজেইউ।

করোনাকালে আমাদের দেশেও গুগল ক্লাসরুম কিংবা অন্যান্য অনেক কোলাবোরেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকেরা একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ইন্টারেকটিভ ক্লাস নিচ্ছেন। বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপ বা ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ খুলে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করেছে।

গত ৭ মে বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

এছাড়া গত ২৫ জুন দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করে ইউজিসি। এতে অনলাইনে শ্রেণী কার্যক্রম চালানোর ক্ষেত্রে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন তারা।

অনলাইনে ক্লাস করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় ডিভাইস বা স্মার্টফোন না থাকার কথা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় এখনো কাঙ্ক্ষিত ইন্টারনেটের স্পিড পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ইউজিসি।

বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাক্ষরতার হার ৬৩.০৮ শতাংশ। এর মাঝে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ শতাংশের বেশি। সব মিলিয়ে দেশে এখন ১৫ থেকে ৩৫ বছরের যুব শ্রেণীর সংখ্যা ৮০ মিলিয়ন (৮ কোটি)। কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠী আগামী দুই দশক ধরে কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে পারবেন।

করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক স্থবিরতা নেমে এসেছে, তা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও তাদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল দুনিয়ায় শেষ সীমা বলে কিছু নেই। এখানে সর্বদা নতুন চিন্তা, উদ্ভাবন ও সম্পাদন চক্র চলমান থাকে। প্রয়োজনে যে কোনো সময়ে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম দ্বারাই আমাদের মতো চিরাচরিত সমাজকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশিক্ষণযোগ্য যুবগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা এবং অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি মাথা রেখে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশিরা ঐক্যবদ্ধভাবে অনাগত ভবিষ্যতের মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচবে। গড়ে তুলবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।

করোনাকালেই উপকূলে আঘাত হানে শক্তিশালী সাইক্লোন। এরই মধ্যে কোনো কোনো অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা নাজুক। নাভিশ্বাস উঠেছে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর।

তবুও স্বপ্ন বুনছে মানুষ। আবার প্রকৃতি শান্ত হবে, আঁধার চলে যাবে। জেগে উঠবে অর্থনীতি, কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে জীবন। আবারও হাসবে সবাই। উৎসবে-আনন্দে একে-অন্যকে জড়িয়ে নেবে বুকে। কারণ এ জাতি তো চিরকালই হাল না ছাড়ার দলে।

অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ
শিক্ষাবিদ; উপাচার্য, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর।