নাটোরে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, নাটোর
নাটোর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নাটোর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারকে ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নাটোরে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরের জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এক কোটি ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি ৮১ শতাংশ জমির জন্য বিক্রেতাকে সমুদয় টাকা পরিশোধের পর সম্পাদিত দলিলে জমির মূল্য লেখা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। দলিলমূল্যের হিসেবে রেজিস্ট্রি খরচ প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা হলেও জমির ক্রেতা দিয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রকৃত বিক্রয়মূল্যে রাজস্বের পরিমাণ পৌরসভা নির্ধারিত পুকুরের জমির মূল্যের ১৯.১৫% বা প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

জমিটির বিক্রেতা শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মল্লিকহাটি এলাকার আব্দুস সালাম ও ক্রেতা শহরের বিসমিল্লাহ বস্ত্রালয়ের মালিক শাহজাহান সরকার। নাটোর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির একটি সিন্ডিকেট সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এই জমির প্রকৃত স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্রয়মূল্য কমিয়ে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছে। এতে জমির ক্রেতা ভবিষ্যতে আয়কর নির্ধারণে করদায় হ্রাসের সুযোগ সৃষ্টি করে নিলেও কম মূল্যে রেজিস্ট্রি দেখানোয় দাখিলের সময় বিক্রেতা তার আয়কর বিবরণী প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে আশংকা করছেন। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বিক্রেতা আব্দুস সালাম জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ সালের ১লা এপ্রিল শাহজাহান সরকারের আত্মীয় মতিউর রহমান আব্দুস সালামের মালিকানাধীন তৎকালীন নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের আমহাটি মৌজার ৮১ শতকের একটি জমি বায়নানামা করেন। প্রায় ৯ বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর নাটোর সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমিটি শাহজাহান সরকারের নামে রেজিস্ট্রি করা হয় যার দলিল নং ৭৯৭৪/১৯। কয়েক বছর আগে নাটোর পৌর এলাকার সীমানা নির্ধারণজনিত কারণে আমহাটি মৌজাটি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে নাটোর পৌরসভাধীন প্রতি শতক পুকুরের জমির সরকারি মূল্য এক লাখ ৫৬ হাজার ৯০৫ টাকা এবং এই দামেই জমিটি ক্রয় করেন শাহজাহান সরকার। রেজিস্ট্রি শেষে জমি বিক্রির এক কোটি ৩০ লাখ টাকা বুঝে পেয়ে দলিলে স্বাক্ষর করেন বিক্রেতা আব্দুস সালাম। কিছুদিন পর দলিলের নকল তুলে আব্দুস সালাম দেখতে পান কোটি টাকার জমিটি ক্রেতা শাহজাহান সরদারের কাছে মাত্র ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। মূল্যের স্বপক্ষে উল্লেখ করা হয়েছে জমিটি নাটোর পৌর এলাকায় নয়, ছাতনী ইউনিয়নে অবস্থিত। তাই দাম কম।

জমি বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, ‘রেজিস্ট্রি, ভূমি অফিস ও দলিল লেখকদের একটি সিন্ডিকেটের প্রতারণার শিকার আমি। আমি টাকা বুঝে নিয়ে যে দলিলে স্বাক্ষর করেছি, সেখানে এমনটা ছিলো না। দলিলে জমির প্রকৃত ও বাস্তবসম্মত মূল্য প্রদর্শিত না হওয়ায় আয়কর রিটার্ন দাখিলকালে আমাকে বিড়ম্বনা পোহাতে হবে। জমির ক্রেতার অসৎ উদ্দেশ্য আছে। তিনি সরকারকে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছেন। পাশাপাশি প্রতারণা করে আমার সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে জমির বর্তমান মালিক শাহজাহান সরদার বলেন, ‘নিয়ম মেনেই জমিটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। জমিটির অবস্থান ইউনিয়ন থেকে পৌর এলাকায় উন্নীত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলিল লেখক এবং বিক্রেতা আব্দুস সালামের সঙ্গে আলোচনা করেই জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এখন কেন তিনি অভিযোগ করছেন, বুঝতে পারছি না।’

নাটোর সদর সাব-রেজিস্ট্রার অসীম বণিক বলেন, ‘রাজস্ব ফাঁকি রোধে আমরা তৎপর রয়েছি। জমি বিক্রেতাকে দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দেখা করার পরামর্শ দিচ্ছি। দলিল না দেখে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শরীফুন নেছা বলেন, জমি কেনা-বেচায় বড় ধরণের রাজস্ব ফাঁকির একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :