চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধে মেঘনার ভাঙন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, চাঁদপুর
শহর রক্ষা বাঁধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

শহর রক্ষা বাঁধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মেঘনা নদীর তীব্র স্রোতে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। শহরের পুরানবাজার অংশে প্রায় ১০০ মিটার এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধের সিসি ব্লক তলিয়ে গেছে। সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাতে ওই এলাকার প্রায় ১৫টি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) থেকে শহর রক্ষা বাঁধের ভাঙন রোধে বালু ভর্তি তিন হাজার বস্তা জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল রায়, দুখু ঘোষ, ভুলু ঋষি, সুভাষ ঋষি, নারায়ণ ঘোষের বসত ঘর ও সাহাদাত পাটওয়ারীর টং দোকান, বাপ্পি বণিক, শিশির বণিক, বিষু বণিক, দুলাল বণিক, দেবু বণিক, সত্য বনিক, তমাল সাহা, গোপাল সাহার বসতঘর তলিয়ে গেছে।

নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পূর্বেই ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়। এছাড়া নারায়ণ ঘোষের বসতঘর জুড়ে ভাঙনের বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে। জগদীশ ও রাখাল বণিকের বাড়ির পেছনে ভাঙন শুরু হয়েছে। তাদের ঘরগুলো ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা খায়ের মিজি জানান, হরিসভা সড়ক ভাঙনের মুখে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে পৌরসভার সড়কটি ভেঙে গেলে হরিসভা ও মধ্য শ্রীরামদীর বিশাল এলাকা মেঘনায় বিলীন হয়ে যাবে।

জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান ,পুলিশ সুপার মাহাবুবুর রহমান (পিপিএম বার), জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. জামাল হোসেন, পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নদী ভাঙনের বিষয়টি তাৎক্ষণিক পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে অবগত করা হয়েছে। আতঙ্কিত হবেন না। জরুরি ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাঁদপুর পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, ‘প্রায় ১০০ মিটার জায়গা শহর রক্ষা বাঁধের ব্লক দেবে গেছে। আমাদের স্টকে থাকা বালু ভর্তি জিও ব্যাগ এনে ভাঙন স্থানে ফেলা শুরু করেছি।’

উল্লেখ্য, এর আগেও কয়েক দফা ভাঙনের শিকার হয় হরিসভা এলাকা। প্রতিবারই পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন ঠেকাতে কাজ করেছে। আবারও সেখানে ভাঙন শুরু হওয়ায় হরিসভা, মধ্য শ্রীরামদী ও পশ্চিম শ্রীরামদী এলাকাটি এখন মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন।

আপনার মতামত লিখুন :