ব্যথানাশক টাপেন্টা পরিণত হয়েছে মাদকদ্রব্যে

অনিক চক্রবর্ত্তী, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
টাপেন্টা-১০০, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

টাপেন্টা-১০০, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন ফার্মেসিতে অবৈধভাবে চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে টাপেন্টা-১০০ ঔষধটি। কারণ হটাত করেই মাদক সেবনকারীরা ইয়াবার পরিবর্তে টাপেন্টা নামক ব্যথানাশক ট্যাবলেটটি নেশার জন্য ব্যবহার শুরু করেছে। শহরের বিভিন্ন ফার্মেসির মালিকরা এই সুযোগে চড়া দামে বিক্রি করছে এ ট্যাবলেট। চিকিৎসকেরা বলছে, ব্যথানাশক এই ট্যাবলেটটির কার্যকারিতা ইয়াবার সাথে মিল থাকার কারণে ইয়াবা সেবনকারীরা এর প্রতি আসক্ত হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল রোডের চিহ্নিত কয়েকটি ফার্মেসি, জেলার মুন্সীগঞ্জ ও মোমিনপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি ফার্মেসি ইয়াবা সেবনকারীদের নিকট চড়া মূল্যে এসব ট্যাবলেট বিক্রি করছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিস হতে জানা যায়, দেশের নামকরা ওষুধ কোম্পানি স্কাইফ বাংলাদেশ লিমিটেডের তৈরি টাপেন্টা-১০০ ট্যাবলেট প্রতিটি ফার্মেসিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ২০ টাকা মূল্যের ব্যথানাশক এ ট্যাবলেট সেবনে রোগীর অতিরিক্ত ব্যথা কমাতে কাজ করে। এছাড়া অনেক রোগী অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলেও চিকিৎসক এই ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ এতে রোগীর দুশ্চিন্তা ও নার্ভাসভাব কমে যায়। 

সদর হাসপাতাল রোডের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ওষুধ ফার্মেসির কর্মচারী জানান, হাসপাতাল রোড়ের অনেক ফার্মেসি মালিক টাপেন্টা ট্যাবলেট মাদক সেবনকারীদের নিকট বিক্রি করছে। অনেকে বিক্রি করতে না চাইলেও মাদকসেবীরা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এই ওষুধ নিয়ে যাচ্ছে। ২০ টাকার একটি ট্যাবলেট তারা বিক্রি করছে ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা মূল্যে। এর ফলে ফার্মেসী মালিকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনই ইয়াবা সেবনকারীরা সহজেই জোগাড় করতে পারছে। 

চুয়াডাঙ্গা ওষুধ প্রশাসন তত্ত্বাবধায়ক সুকর্ণ আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে বেশকিছু তথ্য আমাদের নিকট আছে। কেউ যদি লিখিতভাবে অভিযোগ করে তবে সেসব ফার্মেসী মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা.এ.এস.এম মারুফ হাসান বলেন, ‘টাপেন্টা-১০০ মূলত ব্যথানাশক ট্যাবলেট। এই ট্যাবলেট সেবন করলে রিলাক্স ভাব কাজ করে এবং নার্ভাসভাব দূর হয়। তবে অতিমাত্রায় এই ঔষধ সেবন করা ঠিক না। অতিমাত্রায় সেবনে রোগীর ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

আপনার মতামত লিখুন :