কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
কুমড়ো বড়ি

কুমড়ো বড়ি

  • Font increase
  • Font Decrease

শীতের উপাদেয় খাবার কুমড়া বড়ি। কুষ্টিয়ায় কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম পড়েছে। মাসকলাই ও কুমড়োর বড়ি তৈরিতে নারীদের ব্যস্ততা দেখা মেলে শীতের সময়ে।

মাসকলাই ভিজিয়ে রাখার পর সেটি দিয়ে ডালের আটা ও পাকা চাল কুমড়ো মিশিয়ে এ সুস্বাদু বড়ি তৈরি করা হয়।

গ্রামীণ এলাকার ৮০ ভাগ মহিলা পালা করে বড়ি দেয়ার কাজটি করে থাকেন।

কুষ্টিয়া অঞ্চলের নারীরা এই বড়ি তৈরি করতে কয়েক মাস পূর্বে থেকে চাহিদা মতো চাল কুমড়ো পাকানোর ব্যবস্থা করে থাকেন। এরপর মাসকলাই দিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু খাবারের অংশবিশেষ কুমড়ো বড়ি।

কুমড়ো বড়ি তৈরিতে মূলত চালকুমড়া এবং মাষকলাইয়ের ডাল প্রয়োজন হয়। মাষকলাইয়ের ডাল ছাড়াও অন্য ডালেও তৈরি হয় এ বড়ি। রোদে মচমচে করে শুকালেই এর ভালো স্বাদ পাওয়া যায়।

কুষ্টিয়ায় কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম পড়েছে

বড়ি তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের ঝর্না বেগম জানান, বড়ি তৈরির আগের দিন ডাল ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর চালকুমড়া ছিলে ভেতরের নরম অংশ ফেলে মিহিকুচি করে রাখতে হবে। তারপর কুমড়ো খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়া হলে পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে বেঁধে সারা রাত ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

পরে ডালের পানি ছেঁকে শিলপাটায় বেটে নিতে হবে। এবার ডালের সঙ্গে কুমড়া মেশাতে হবে। খুব ভালো করে হাত দিয়ে মিশাতে হবে যতক্ষণ না ডাল-কুমড়োর মিশ্রণ হালকা হয়। তারপর কড়া রোদে চাটি বা কাপড় বিছিয়ে বড়ির আকার দিয়ে একটু ফাঁকা ফাঁকা করে বসিয়ে শুকাতে হবে। বড়ি তিন থেকে চার দিন এভাবে রোদে শুকানোর পর তা অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়।

সদর উপজেলার জগতি শাহপাড়ার শাহানুর খাতুন জানান, শীতের সময় মূলত বড়ি তৈরি করা হয়। নিজেরা খাওয়াসহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও পাঠানো হয়। একই এলাকার কুমড়ো বড়ি তৈরির কারিগর আকলিমা খাতুন জানান, কুমড়োর বড়ি তৈরিতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। রাত জেগে শীলপাটায় কেজি কেজি ডাল বাটা সহজ কাজ নয়। তবুও পেটের তাগিদে অনেক কষ্ট করে আমাদের কুমড়ার বড়ি তৈরি করতে হয়। শীত মৌসুমে এ বড়ি তৈরি করে কিছু বাড়তি আয় করা সম্ভব হয়।

মশান বাজারের সাপ্তাহিক হাটে এই কুমড়ো বড়ি বিক্রি করতে আসা আব্বাস উদ্দিন জানান, বাড়িতে বড়ি তৈরি করা হয়। এতে আমার স্ত্রীর পাশাপাশি মেয়েরাও সহযোগিতা করেন। বড়ি শুকিয়ে গেলে সেটি আমি বিভিন্ন হাটেবাজারে বিক্রি করে থাকি।

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর