সমন্বয়হীনতা ও অসহযোগিতায় বাঁধাগ্রস্ত উন্নয়ন!

আব্দুস সালাম আরিফ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, পটুয়াখালী
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ছবি: বার্তা২৪.কম

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আধুনিক নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করাসহ আগামী এক দশকের জনসংখ্যা এবং অবকাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয় মাথায় রেখে পটুয়াখালী পৌর শহর জুড়ে চলছে নানা ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম। এরই অংশ হিসেবে কোথাও নির্মিত হচ্ছে প্রশস্ত রাস্তা আবার কোথাও উন্নত করা হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এছাড়া পৌর শহরের যে সকল সড়কের পাশে এখনও সরকারি জমি রয়েছে সেসব সড়কগুলো প্রশস্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। সবকিছুর সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত নগরায়ণের পথে হাঁটছে পটুয়াখালী।

তবে এসব উন্নয়নে সব থেকে বড় বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের বিভিন্ন সংস্কার সাথে সমন্বয়হীনতা এবং অসহযোগিতা। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যক্তি কেন্দ্রিক বিবাদের বিষয়গুলো-তো রয়েছেই। এ কারণে অনেক এলাকায় পৌর সভার পরিকল্পিত উন্নয়ন থেমে যাচ্ছে বলে দাবি পৌর কর্তৃপক্ষের।

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় নির্মিত হচ্ছে দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্র বন্দর। পাশাপাশি এই জেলায় একাধিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে। এসব কারণে শহরের স্বাভাবিক উন্নয়নের পাশাপাশি এই শহরটি হবে একটি পোর্ট সিটি। ফলে শহরের দেশি বিদেশি মানুষের আনাগোনা যেমন বাড়বে তেমনি সড়কে বাড়বে যানবাহনের চাপ। এসব বিষয় মাথায় রেখেই শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রশস্ত করা হচ্ছে। তবে সড়কের পাশের অধিকাংশ জমি গণপূর্ত বিভাগ এবং জেলা পরিষদের হওয়ায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

সড়কের পাশে ফুটপাত কিংবা পাকা ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানান পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ফলে বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতায় এসব উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় দাতা সংস্থাগুলো নতুন নতুন প্রকল্প অনুমোদনে অনীহা প্রকাশ করছে।

পটুয়াখালী শহরের মহিলা কলেজ রোড এলাকায় সড়ক প্রশস্ত করার পাশপাশি নির্মিত হচ্ছে প্রশস্ত ড্রেন

পটুয়াখালী পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, 'আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরই দেশি বিদেশি একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে পটুয়াখালী পৌরসভার জন্য একটি মাস্টার প্লান তৈরির কাজ শুরু করি। এতে আগামী কয়েক দশকে শহরের জনসংখ্যার ঘনত্ব, বাড়তি যানবাহনের চাপ এবং শহরের ময়লা আবর্জনা ও পরিবেশ প্রকৃতি ঠিক রাখা সহ কিভাবে একটি পরিচ্ছন্ন শহর করা যাবে সে বিষয়গুলোকে পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে কিছু কিছু কাজ শুরু করেছি। এতেই নানান ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পৌর এলাকার জমি সরকারের এক নম্বর খাস খতিয়ানে থাকার পাশাপাশি সড়কের পাশের কিছু জমির মালিকানা গণপূর্ত বিভাগ এবং জেলা পরিষদের। এসব এলাকায় উন্নয়ন করেতে গিয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া অনেক সময় জেলা পরিষদ এসব জমিতে উন্নয়ন কাজ করতে বাঁধা প্রদান করছে। সম্প্রতি শহরের কাঠপট্টি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন নির্মাণের কাজ জেলা পরিষদের কারণে বন্ধ রাখতে হয়েছে। ওই ড্রেনটি নির্মিত হলে ওই এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব হতো। অপরদিকে শহরের সরকারী মহিলা কলেজ থেকে দুই নং বাঁধঘাট পর্যন্ত সড়কটি দুই লেনে রূপান্তর করার পাশাপাশি সড়কের দুই পাশেই ড্রেন এবং ফুটপাত নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ সম্পন্ন করতেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে নানা ধরনের বাঁধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।'

মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ আরও বলেন, 'গণপূর্ত বিভাগ কিংবা জেলা পরিষদের জমির মালিকানা থাকলেও পৌর শহরের মধ্যে তারা কোনো সড়ক নির্মাণ কিংবা ড্রেন নির্মাণের কাজ করে না। আবার মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও তাদেরকে জবাবদিহিতা করতে হয়না। এ ক্ষেত্রে এসব জমির মালিকানা পৌরসভার অধীনে থাকলে আরও দ্রুত পরিকল্পিত উন্নয়ন করা সম্ভব হতো।'

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর