বরাদ্দের ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, তদন্তের দায়িত্বে জড়িত কর্মকর্তারা



আমিনুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পীরগাছা (রংপুর)
ক্লাস সজ্জিত করণের নামে দেয়ালে পতাকা আঁকা হয়েছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

ক্লাস সজ্জিত করণের নামে দেয়ালে পতাকা আঁকা হয়েছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাথমিক স্কুলের ক্লাস সজ্জিতকরণের জন্য বরাদ্দের ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পীরগাছা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। শিক্ষা কর্মকর্তা রফিক-উজ-জামান স্থানীয় কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে যোগসাজশে কোনো কাজ না করেই ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করেন।

ইতোমধ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এই শিক্ষা কর্মকর্তাকে একই জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

গত তিন মাসে বরাদ্দের অর্থ দিয়ে কাজ না করে আত্মসাতের বিষয়ে একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয় সংশ্লিষ্ট দফতরে। অবাক করা বিষয় হলো, অভিযোগের ভিত্তিতে ওঠা অনিয়মের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের। ফলে কাজ না করে টাকা আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া গেলেও নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক ও কতিপয় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে যোগসাজশে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা বরাদ্দের টাকা হরিলুট করেছেন। বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে কাজ না করেই বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। কিছু বিদ্যালয়ে শুধু সড়কের পাশের দেয়ালে লাল-সবুজ রঙ করে লোক দেখানো জাতীয় পতাকা আঁকা হয়েছে। ক্লাস সজ্জিত করণ তো দূরের কথা বরাদ্দের টাকা দিয়ে দৃশ্যত কোনো কাজই করা হয়নি।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয় পাঁচ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে সংস্কার কাজের জন্য তিন কোটি ৪৬ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেয় চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)। গত অর্থবছরের ১৮ জুন অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও ৩০ জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। কিন্তু মাত্র ১২ দিনের মধ্যে স্টিমেট তৈরি ও কাজ সম্পন্ন করা যেহেতু সম্ভব না, তাই টাকা ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এদিকে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলে রাতারাতি প্রতিটি বিদ্যালয়ের বিপরীতে ক্লাস সজ্জিতকরণের অতিরিক্ত ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ওই বরাদ্দের অর্থ তোলেন। পরে ওই টাকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে স্লিপ ফান্ডে এক কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার, প্রাক প্রাথমিকে ১৭ লাখ ৮০ হাজার, রুটিন মেরামতের জন্য ৪১ লাখ ৬০ হাজার ও ওয়াশ ব্লকের জন্য তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরকার মাসুদুর রহমান ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বিদ্যালয়টির উন্নয়নে সংস্কার কাজের জন্য দুই লাখ টাকা, ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ৪০ হাজার টাকা, স্লিপ ফান্ডের ৭০ হাজার টাকা, প্রাক-প্রাথমিকের ১০ হাজার টাকা, ওয়াশ ব্লকের জন্য ২০ হাজার টাকা কাজ না করেই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে আত্মসাৎ করেছেন। অপরদিকে উপজেলার অন্নদানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিন্নাত রেহানা নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই দুই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল মাজেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক যোগসাজশে বরাদ্দের অর্থ তুলে নিয়েছেন। অথচ বিদ্যালয়ের কোনো কাজই করা হয়নি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না’

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে সদ্য বিদায়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিক-উজ-জামান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করা সম্ভব না হওয়ায় টাকা তোলা হয়। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকগণ কাজ করার বিল-ভাউচার জমা দিয়ে টাকা নিয়েছেন।’

এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিকের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি ফোনে মেসেজ পাঠিয়েও কোনো কাজ হয়নি।’

রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক আব্দুল ওয়াহাব বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ওই শিক্ষা কর্মকর্তার দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

   

গড়াই নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি প্রতীকী

ছবি প্রতীকী

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার খোকসায় গড়াই নদীতে ডুবে সুমন (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে খোকসা উপজেলার গনেশপুর অংশে গড়াই নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত সুমন কুমারখালী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

খোকসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, সকালের দিকে গড়াই নদীতে মাছ ধরতে যান সুমন। মাছ ধরার এক পর্যায়ে নদীতে ডুবে যান তিনি। বিকেলের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

;

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে সাফায়েত হোসেন (১৯) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সালাউদ্দিন (২২) নামের আরেক যুবক গুরুতর আহত হন।

রোববার (৫ এপ্রিল) এই বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাকসামের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ি দক্ষিণপাড়া স্কুল বাড়ির আবদুল আউয়ালের ছেলে সাফায়াত হোসেন এদিন বিকেলে সহপাঠীদের সাথে পার্শ্ববর্তী ঘোড়াময়দান গ্রামের একটি মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। বিকাল ৫টার দিকে খেলা চলা অবস্থায় আকস্মিক বজ্রপাতে সাফায়েতের পুরো শরীর ঝলসে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে উদ্ধার করে লাকসামের একটি ক্লিনিকে নেয়া হলে সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া বজ্রপাতে ওই ঘোড়াময়দান গ্রামের নুরুল হকের ছেলে সালাউদ্দিন (২২) গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব ঘটনার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

;

লক্ষ্মী ভাইয়েরা বাসায় যান, নিজেসহ দেশকে বাঁচান



নাহিদ রেজা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ওসি তানভিরুল ইসলাম।

ওসি তানভিরুল ইসলাম।

  • Font increase
  • Font Decrease

আমার লক্ষ্মী ভাইয়েরা দয়া করে বাইরে ঘোরাঘুরি না করে বাসায় যান। নিজে বাঁচেন, পরিবারকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান। সচেতন হোন।

ঠিক এসব কথা বলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে এভাবে সচেতন করায় সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমি ওষুধ কেনার জন্য স্থানীয় বাজারে এসেছিলাম। কিছুক্ষণ পর থানার একটি গাড়ি বাজারের সামনে এসে দাঁড়ায় এবং ওসি তানভিরুল সবাইকে বাসায় থাকার জন্য অনুরোধ করেন। এর আগে কখনো জনগণের সঙ্গে পুলিশের এমন ভালো আচরণ দেখি নাই।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চৌড়াস্তা মোড়ে কথা হয় জয়নাল নামে এক পথচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জেলার পুলিশ সাধারণ জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে। তাদের ভাই বলে বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে। ওসিসহ পুলিশের সদস্যরা নিজেদের কথা চিন্তা না করে আমাদের জন্য এ কাজটি করে যাচ্ছেন। তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

স্থানীয় সাহাদত হোসেন নামে একজন বলেন,‘তানভিরুল ভাই একজন মানবিক পুলিশ অফিসার। তার জন্য শুভকামনা ও দোয়া রইল।’

ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকার যেসব দিক নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো মেনে চলতে হবে। জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করে তাদের সচেতন করা হচ্ছে। এতে কাজও হচ্ছে।’

;

ডিবি পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই, যুবক গ্রেফতার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
গ্রেফতার আবেদ আলী।

গ্রেফতার আবেদ আলী।

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার অপরাধে আবেদ আলী (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবেদ আলী সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া গ্রামের খয়রাত হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলা সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামে মোকছেদুল ইসলামসহ কয়েক যুবক মোবাইলে ভিডিও গেম খেলছিলেন। এ সময় আবেদ আলী নিজেকে সৈয়দপুর থানার ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক পরিচয় দিয়ে ওই যুবকদের কাছ থেকে মোবাইলটি নিয়ে যান। পরে এ বিষয়ে মোবাইলের মালিক মোকছেদুল ইসলাম সদর থানায় অভিযোগ করেন।

এরপর রোববার ভোরে আবেদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি খেলনা পিস্তল ও ওয়্যারলেস সেট, একাধিক মোবাইল সিম এবং দুটি পরিচয়পত্র জব্দ করে পুলিশ।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার সত্যতা স্বীকার করেছেন আবেদ আলী। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

;