জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী ও খালের বাঁধ অপসারণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নাটোর
নদী দখল করে নির্মিত পুকুর কেটে পদ্মবিলের স্থায়ী জলাবদ্ধ পানি প্রবাহের পথ তৈরি করা হচ্ছে

নদী দখল করে নির্মিত পুকুর কেটে পদ্মবিলের স্থায়ী জলাবদ্ধ পানি প্রবাহের পথ তৈরি করা হচ্ছে

  • Font increase
  • Font Decrease

নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের বলদ খাল ও মরা আত্রাই নদী দখল করে পদ্মবিলের সংযোগ স্থলে নির্মিত বাঁধসমূহ অপসারণ শুরু হয়েছে। এতে পদ্মবিলের প্রায় দুই হাজার বিঘা তিন ফসলি জমির স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন হতে চলেছে।

গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) থেকে বাঁধ অপসারণের এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর বাঁধ অপসারণ শুরু হওয়ায় খুশি এখানকার হাজারো কৃষক।

দিঘাপতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার ওমর শরীফ চৌহান বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে পদ্মবিল সংলগ্ন গাঙ্গইল, কাকবাড়িয়া, বলদ খাল, ধরাইল, ডাঙ্গাপাড়া, গোয়ালদিঘী ও বামন গাঙ্গইল গ্রামের তিন ফসলি জমি অনাবাদী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের কর্মহীন করে তোলে। বাঁধ অপসারণের মাধ্যমে জলাবদ্ধ জমিগুলো ধীরে ধীরে চাষ উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হলো।’

ভুক্তোভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বলদ খাল ও মরা আত্রাই নদী দখল করে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ করে আসছিল গোবিন্দপুর গ্রামের আজম আলী ও নিজাম উদ্দিনসহ এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের দেখে আরও কয়েকজন ব্যক্তি উৎসাহিত হয়ে খাল ও নদীসংলগ্ন নিজেদের জমিসহ খাল-নদীতে সম্প্রসারিত করে পুকুর তৈরি করেন। এতে বিলের পানি বিলে আটকেই তৈরি হয় স্থায়ী জলাবদ্ধতা।

এমন এক দখলদার সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিন জানান, তিনি ১৯৭৪ সালে কবুলিয়ত দলিল সম্পাদন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে রাজস্ব বিভাগের মাধ্যমে নদীর শ্রেণীকে মাছ চাষের জন্য পুকুর শ্রেণীতে পরিবর্তন করা হয়েছে।

একই এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আজম আলী জানান, তিনিও একইভাবে দেড় একর জমি কবুলিয়ত দলিল সম্পাদন করেছেন।

দিঘাপতিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বাগবাড়িয়া এবং বলদ খালের দু’টি মৌজায় মরা আত্রাই নদী ও বলদ খাল বহু বছর আগে অবৈধভাবে পত্তন দিয়েছিল রাজস্ব বিভাগ। সম্প্রতি কৃষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই অবৈধ পত্তন বাতিলের জন্য প্রতিবেদন দাখিল করা হয় যার ফলশ্রুতিতে বাঁধ অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।’

নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে নদীসংলগ্ন পদ্মবিলসহ আশপাশের কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রশাসন বরাবর আবেদন করলে বিষয়টি আমলে নিয়ে দখলকারীদের নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে স্ব স্ব উদ্যোগে বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। দখলকারীরা সাড়া না দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের নিয়ে বাঁধ অপসারণ করে জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনের পথ তৈরি করা হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, ‘যেসব খাল বা নদী মাছ চাষের নামে দখল করে পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে, পদ্মবিল বাঁধ অপসারণের মাধ্যমে এর উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

আপনার মতামত লিখুন :