বিজয় দিবসে ‘মেডট্রনিক বাংলাদেশ’র আলোচনা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
‘মেডট্রনিক বাংলাদেশ’র আলোচনা।

‘মেডট্রনিক বাংলাদেশ’র আলোচনা।

  • Font increase
  • Font Decrease

‘বিজয়ের পথে, মেডট্রনিক এর সাথে’ শ্লোগানে বিজয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হল কার্ডিয়াক ও ডায়াবেটিক বিষয়ক অনলাইন স্বাস্থ্য আলোচনা। বিশ্বের অন্যতম মেডটেক প্রতিষ্ঠান ‘মেডট্রনিক বাংলাদেশ’ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে, কালারস এফ এম ১০১ দশমিক ৬ এর সহযোগী হয়ে, বিজয়ের আনন্দঘন দিনটাকে উদযাপন করল এক অনন্য মাত্রায়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার পথ পরিক্রমা শীর্ষক রেডিও আলাপনে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশের প্রথিতযশা চিকিৎসক জাতীয় অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন বিগ্রেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর একে আজাদ খান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এর মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং মেডট্রনিক এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারুখ আলম।

সম্প্রতি আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তুলে ধরা হয়। এরপর জাতীয় অধ্যাপক বিগ্রেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিকের নিকট থেকে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. আব্দুল মালিক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং পাশাপাশি যাদের আত্মত্যাগে ও রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে সেসকল বীরদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন এবং তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সার্বিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন সবখাতেই পূর্ব পাকিস্তান ছিলো অনেক পিছিয়ে কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত অনেক দেশের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের কার্ডিওলজি সেবা বর্তমানে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। আর কার্ডিওলজি সেবার এ অগ্রগতির সূচনা হয় বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ৮টি করোনারী কেয়ার ইউনিট চালুর মাধ্যমে আধুনিক কার্ডিওলজি সেবার সূত্রপাত ঘটে। পাকিস্তান আমলে কার্ডিওলজি সেবা স্টেথোস্কোপ, ইসিজি ও রেডিওলজি পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো। ডা. আব্দুল মালিকের প্রচেষ্টায় এবং বঙ্গবন্ধুর তত্ত্বাবধানে কার্ডিওলজি সেবার নতুন দ্বার উন্মোচন করা হয়। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব ইভারকেশনের এনজিওপ্লাস্টি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দল প্রথম স্থান অধিকার বলে উল্লেখ করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. আব্দুল মালিক।

ডা. আব্দুল মালিক আরও উল্লেখ করেন, মেডট্রনিক বিশ্বজুড়ে কার্ডিওলজি ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন যন্ত্রের উদ্ভাবন করে মানব সেবার জন্য বিশাল অবদান রেখে যাচ্ছে। বিশেষত কার্ডিওলজি সেবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র তৈরী এবং যন্ত্রের ব্যবহারের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চিকিৎসকদের। তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরির এই উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় এখনও সেবা প্রাপ্তির অপ্রতুলতা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্ডিওলজি সেবার সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়াও হৃদরোগের বিষয়ে আরও জনসচেতনা তৈরি করতে হবে কেননা এই রোগগুলো বেশিরভাগই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনাচারের সাথে সম্পৃক্ত।

ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি প্রফেসর এ কে আজাদ খান বলেন, বারডেমই পৃথিবীর একমাত্র ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন যারা এত বৃহত্তর পরিবেশে ডায়াবেটিস সেবা প্রদান করে আসছে। বর্তমানে বারডেম টাইপ-১ ডেডিকেটেড ইনসুলিন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি বলেন, ইনসুলিন বাঁচার জন্য অপরিহার্য উপাদান। কোন প্রাণিই ইনসুলিন ছাড়া বাঁচতে পারে না। তিনি জানান, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাইপ-১ ডায়বেটিস এর জন্য বিনা মূল্যে ইনসুলিন সরবরাহ করার ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি জানান টাইপ-১ ইনসুলিন প্রয়োগের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করার জন্যই মূলত এই সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

ডা. আজাদ খান বাংলাদেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় মেডট্রনিক এর অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, মেডট্রনিক সর্বপ্রথম ইনসুলিন পাম্প উদ্ভাবন করে। বর্তমানে অনেক কোম্পানি এই পাম্প উৎপাদন করছে। কিন্তু পৃথিবীতে মেডট্রনিক কর্তৃক উদ্ভাবিত পাম্পটিই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী এবং সবচেয়ে আনন্দের খবর হলো মেডট্রনিক বাংলাদেশে বিশেষ দামে এই পাম্পের সরবরাহ করে আসছে। বিজয়ের ৪৯তম লগ্নে এসে মেডট্রনিক ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বাংলাদেশের পাশে থেকে এদেশের অগ্রগতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। ডায়বেটিস চিকিৎসায় বারডেমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি জানান সকল রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্যে বারডেম কাজ করছে। বর্তমানে ৭০ শতাংশ রোগী বারডেমের চিকিৎসা সেবার আওতায় রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে এই হার মাত্র ৫০ শতাংশ। সেদিক থেকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। আর এক্ষেত্রে বারডেম প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের জনগনের প্রত্যক্ষ ভূমিকা এবং মেডট্রনিক এর কারিগরি সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এছাড়াও মেডট্রনিক এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারুখ আলম লাইভ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে মেডট্রনিক এর অবদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেডট্রনিক পৃথিবীর বড় বড় মেডিকেল মেশিনারীজ উৎপাদকের মধ্যে প্রথম সারির একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৩ সাল থেকেই মেডট্রনিক বাংলাদেশে বিভিন্ন মেডিকেল যন্ত্র সাপ্লাই করে আসছে। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে সরাসরি কাজ করছে। শুরুতেই ফারুখ আলম উল্লেখ করেনÑ কার্ডিওলজি, ডায়াবেটিস, নিউরোসার্জারির মত অসংক্রামক রোগের কারণে ৬৭ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। দিনে দিনে এর সংখ্যা বাড়ছে। সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকলে এর প্রভাব দিন দিন বাড়তেই থাকবে। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মেডট্রনিক সবসময় থাকবে বাংলাদেশের পাশে।

তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে মেশিন এবং দক্ষ জনবল খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেডট্রনিক বিশ্বমানের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট তৈরি করছে। ইউরোপ, আমেরিকা তথা উন্নত বিশ্বে যে মানের মেশিনারিজ সরবরাহ করা হয় বাংলাদেশেও ঠিক একই মানের মেশিন সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এই মেশিনগুলোর সর্বোচ্চ কার্যকারিতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল, যারা যন্ত্রগুলোর সঠিক ও কার্যকর প্রয়োগ করতে পারে। আর এ লক্ষ্যে মেডট্রনিক একটি ডেডিকেটেড ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে যেখানে ডাক্তারদের বিনামূল্যে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানুষজন কাজ করছে। যার ফলে বাংলাদেশেও আজ বিশ্বমানের কার্ডিওলজি সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই চিকিৎসার জন্য বিদেশ যায়। কিন্তু বর্তমান হার্ট ফাউন্ডেশন ও বারডেমে যে বিশ্বমানের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে তা এখনও অনেকের কাছেই অজানা। মানুষের কাছে এই তথ্যগুলো পৌছাঁনো দরকার। আর এইক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে বিভিন্ন গনমাধ্যম। তিনি গনমাধ্যমগুলোকে আহ্বান জানান চিকিৎসা সেবার এই সাফল্যগুলো তুলে ধরতে এবং জনগনের নিকট প্রচার করতে।

‘বিজয়ের পথে, মেডট্রনিক এর সাথে’ স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক এই অনুষ্ঠানে ধারনকৃত বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। শুরুতেই বিজয়ের ৪৯ তম বছরের শুভেচ্ছা জানান তিনি। মেয়র করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিদ্যমান কার্যক্রমগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক করোনা বিশ্ববাসীর জন্য প্রতিকূল। করোনা বিস্তারের সময়কালীন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ যাতে না বাড়ে সেজন্য দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কঠোর পদেক্ষপগুলো তিনি উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও করোনা মোকাবেলায় তিনি জনগনকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। মেডট্রনিক এর কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনে মেডট্রনিক এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। করপোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটির আওতায় স্বাস্থ্যখাতে মেডট্রনিক এর কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটি কালারস এফ এম- এর ফেসবুক পেইজ এ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আর জে আশা আমান এবং পরিকল্পনা সহায়ক ছিলেন, ব্র্যান্ড কনসালটেন্সী প্রতিষ্ঠান রূপ আর সামগ্রিক অনুষ্ঠানের সমন্বয় করেন মেডট্রনিক এর কম্যুনিকেশন স্পেশালিস্ট তুহিনূর সুলতানা। মেডট্রনিক বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড এর সৌজন্যে এ অনুষ্ঠানটিতে অফলাইন ও অনলাইন শ্রোতাকে, রূপান্তরিত স্বাস্থ্যসেবার পালাবদলের চিত্র পরিবেশন করা হয়।