ই-কমার্স খাতে আস্থার সংকট



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

কিছু প্রতিষ্ঠানের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে সম্ভাবনাময় ই-কমার্স খাতে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। গ্রাহকদেরও অভ্যাস পরিবর্তন হয়ে গেছে। তারা বড় ডিসকাউন্ট ছাড়া পণ্যের অর্ডার করতে চান না। যারা পণ্যও পাননি, টাকাও ফেরত পাননি তাদের ই-কমার্স সম্পর্কে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। এতে সবারই ব্যাবসায়িক প্রবৃদ্ধি কমেছে।

সম্প্রতি ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ই-ক্যাব নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চারটি প্রতিষ্ঠানের সদস্য পদ স্থগিত করেছে। এর আগে ইভ্যালি, ধামাকা, আলেশা মার্টসহ ১০টি ই-কমার্স কম্পানির সঙ্গে গত জুন মাসেই লেনদেন স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছিল দেশের চারটি বেসরকারি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলকে সস্ত্রীক গ্রেপ্তারের পর আরো ৯টি প্রতিষ্ঠানকে নজরদারিতে রেখেছে সরকার। এগুলো হচ্ছে আলেশা মার্ট, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, সিরাজগঞ্জ শপিং, আলাদীনের প্রদীপ, বুম বুম, কিউকম, আদিয়ান মার্ট ও নিডস ডটকম বিডি।

ই-ক্যাব সূত্র জানায়, ক্রেতাদের পণ্য বা মূল্য ফেরত না দেওয়া, ই-ক্যাবকে নতুন মালিকদের পূর্ণ তথ্য না দেওয়ায় ই-অরেঞ্জের সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে। অর্থ আত্মসাৎ, ইক্যাবের চিঠির জবাব না দেওয়া, অফিস বন্ধ পাওয়ায় টোয়েন্টিফোর টিকেটির সদস্য পদ স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া আর গ্রীণবাংলা ই-কমার্স ও এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড কনজ্যুমার লিমিটেডের বিরুদ্ধে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ পাওয়ায় তাদের সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৯টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে ই-ক্যাব। এগুলো হচ্ছে ইভ্যালি ডট কম লিমিটেড, ফাল্গুনি শপ ডট কম, আলেশা মার্ট, ধামাকা শপিং, আদিয়ান মার্ট, সিরাজগঞ্জ শপ, আমার বাজার লিমিটেড, গ্লিটার্স আরএসটি ওয়ার্ল্ড ও অ্যানেক্স ওয়ার্ল্ড ওয়াইড লিমিটেড।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা ৯টি কম্পানির অপারেশন ও আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তথ্য চেয়েছি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেছেন, ই-কমার্সের মাধ্যমে প্রতারণার বিষয়ে তদন্ত চলছে। এতে কারো কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যারা প্রতারণা করবে তাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী খুঁজে বের করবে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা আমরা করব। কেউ যদি প্রতারণার উদ্দেশ্যে করে। আমাদের কাছে খবর আসছে, এগুলো তদন্তে কমিটি কাজ করছে।

এদিকে ই-কমার্সের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হওয়া থেকে বাঁচতে লোভ কমানোর জন্য জনস্বার্থে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের জনগণকে সচেতন করতে প্রচার চালাতে বলেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার এ কথা বলেন।