ওয়ালটনের পণ্য গ্রিস, বুলগেরিয়ায় সম্প্রসারণে ফলপ্রসূ আলোচনা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য দিয়ে বিশ্বজয়ের লক্ষ্য ওয়ালটনের। লক্ষ্য অর্জনে চলছে বাংলাদেশে তৈরি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের জন্য বিশ্বব্যাপী রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের কাজ। এরই প্রেক্ষিতে গ্রিসের ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে ওয়ালটনের। গ্রিস, বুলগেরিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোতে ওয়ালটনের তৈরি সব ধরনের পণ্যের ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যাপকভাবে কাজ করবে।

সম্প্রতি গ্রিস সফর করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গোলাম মুর্শেদ। ওই সফরে তিনি গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে প্ল্যাসিও’র প্রধান কার্যালয়ে ব্যবসায়িক পার্টনারদের সঙ্গে বাংলাদেশে তৈরি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসা সম্প্রসারণ বিষয়ে বৈঠক করেন। সে সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেকের পরিচালক তাহমিনা আফরোজ তান্না, প্ল্যাসিও’র চেয়ারম্যান জর্জিওস গারারডোস এবং কমার্শিয়াল ডিরেক্টর জর্জিওস টিজিয়ালাস প্রমুখ।

গ্রিসের ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে ওয়ালটন হাই-টেকের এমডি ও সিইও গোলাম মুর্শেদ বলেন, বর্তমানে তারা ওয়ালটনের তৈরি টেলিভিশন নিচ্ছে। গ্রিসসহ ইউরোপের দেশগুলোতে টেলিভিশনের ব্যবসাটা আরো কিভাবে বাড়ানো যায়, সেটা নিয়ে আমরা ফলপ্রসু আলোচনা করেছি। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্যে তারা ভীষণ আগ্রহী।  বিশেষ করে গ্রিস ও বুলগেরিয়া মার্কেটে বাংলাদেশে তৈরি এসব পণ্য নিয়ে তারা ব্যাপকভাবে কাজ করবে। এ বৈঠক তাদের দারুণ উৎসাহিত করেছে।

তিনি জানান, গ্রিসের পাশাপাশি দক্ষিণ ও পূর্ব ইউরোপের বাজার টার্গেট করে ওয়ালটন এবং প্ল্যাসিও’র আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। ওয়ালটনের তৈরি পণ্যের ব্যবসা সম্প্রসারণে এই দুই টিম একসঙ্গে কাজ করবে। বাংলাদেশে ওয়ালটন যেসব পণ্য উৎপাদন করছে, সেসব পণ্য গ্রিস এবং এর আশপাশের দেশগুলোতে বাজারজাত করা হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে ওয়ালটন। করোনা মহামারির মধ্যেও চলতি বছর ১৪ মিলিয়ন ইউএস ডলারের ওয়ালটন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার পণ্য রপ্তানির টার্গেট রয়েছে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করবে ওয়ালটন। ওই সময়ে ওয়ালটনের লক্ষ্য ৭ বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন। এ লক্ষ্য অর্জনে গ্রিসের ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক ব্যাপক সুফল বয়ে আনবে।

ডলার সংকট: ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলমান ডলার সংকটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পাঁচটি দেশি ও একটি বিদেশি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর সোমবার (৮ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে খোলা বাজারে যারা ডলারের ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাঁচটি মানি এক্সচেঞ্জের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপা‌শি ৪৫টি‌কে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শোকজের পাশাপাশি আরও নয়টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স না নিয়েই ব্যবসা করে আসছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ব্যাংকের মতো খোলাবাজারেও ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ডলার নেই। প্রবাসী আয় কমেছে, বিদেশি পর্যটকও কম আসছেন। এসব কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে গেছে।

এদিকে সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার (০৮ আগস্ট) মার্কিন ডলারের দাম ৩০ পয়সা বাড়িয়ে ৯৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। আগে যা ছিল ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা। এছাড়া খোলাবাজারে ডলারের দাম উঠেছে ১১৫ টাকা, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম।

;

টাকার মান আরও কমল, প্রতি ডলার এখন ৯৫ টাকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমলো। বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার (০৮ আগস্ট) মার্কিন ডলারের দাম ৩০ পয়সা বাড়িয়ে ৯৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। আগে যা ছিল ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা।

এদিকে খোলা বাজারে টাকার দরপতন হয়েছে আরও ব্যাপকভাবে। একদিনের ব্যবধানে আজ ডলারের দাম প্রায় সাড়ে ৩ টাকা বেড়েছে। আজ প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে। গতকালও খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হয়েছে ১১২ টাকায়।

জানা যায়, এ নিয়ে গত তিন মাসের মধ্যে ১৯ দফা বাড়ানো হয়েছে ডলারের দাম। এ সময়ে টাকার মান কমেছে ৮ টাকা ৫০ পয়সা। এর আগে গত ২৯ মে দেশে ডলারের এক রেট ৮৯ টাকা বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু, পরবর্তীতে এই রেট উঠিয়ে দিয়ে ডলারের দর বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরই দু-এক দিন পরপরই বাড়ছে ডলারের দাম।

এবিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সোমবার ৯৫ টাকা দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই দামে আজ রিজার্ভ থেকে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই দামকে বলা হয় আন্তব্যাংক দর।

;

বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এখনও তিমিরেই



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এখনও তিমিরেই রয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু সরকার ছাড়া সব সরকারেই যথাযথ মনোযোগ দিতে ব্যর্থ, যার সামগ্রিক ফল আজকের জ্বালানি সংকট বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু সরকার তার সাড়ে ৩ বছরে সময়ে ৯টি কূপ খনন করেছিলেন। এর মধ্যে অফসোরে (সাগরে) ৭টি, মূল ভূ-খণ্ডে ছিল ২টি। ১৯৭৫ সালে এই ৯ আগস্ট ৫টি গ্যাস ক্ষেত্র (তিতাস, বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, রশিদপুর ও কৈলাশটিলা) নামমাত্র মূলে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিলো মাত্র ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড। যার ওপর ভিত্তি করেই এখন দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে ওই ৫ গ্যাস ফিল্ড থেকে জুন ২০২২ পর‌্যন্ত ১০.১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। এসব ফিল্ডে আরও ৫.৪৬ টিসিএফ গ্যাস মজুদ আছে বলে ধারণা করা হয়। যার বাজার মূল্য ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু সরকারের পরের ৩৬ বছরে অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে মাত্র ১২টি। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর‌্যন্ত মাত্র ২টি কূপ খনন করেছিল বিএনপি ও তত্বাবধায়ক সরকার।

গ্যাস সেক্টরে উন্নয়নের দিক থেকে বঙ্গবন্ধু সরকারের পরেই রযেছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। তারা বঙ্গবন্ধু সরকারকে ছুঁতে না পারলেও অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। অনুসন্ধান কূপ খননের পাশাপাশি রিগ ক্রয়, বাপেক্সকে ঢেলে সাজানোসহ নানা রকম কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে ৪১টি কূপের মধ্যে বর্তমান সরকারের ১৩ বছরে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ১৯টি কূপ খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশ ভু-খণ্ডে স্বাধীনতার পর মাত্র ৪১টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। প্রতিবেশী ত্রিপুরা রাজ্যে ছোট্ট আয়তনে কূপ খনন করেছে ১৬০টি। তারা ১৬০টি কূপ খনন করে মাত্র ১১টি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কার করেছে, এরমধ্যে ৭টি থেকে উৎপাদন করছে। বাংলাদেশ সীমানায় ১১১ বছরে (প্রথম কূপ খনন ১৯১০ সালে) ৯৬টি কূপ খননের মাধ্যমে ২৮টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়েছে। এর বাইরে রয়েছে মোবারকপুর ও কশবার মতো কয়েকটি ফিল্ড। যেগুলোতে গ্যাসের আঁধার পেলেও বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য নয় বলে ঘোষণা করা হয় নি।

সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও প্রাথমিক ধাপেই রয়েছে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে গভীর সমুদ্র এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে গেছে এখনও হিসেবের বাইরে। সাগরে আমাদের পাশের সীমানা থেকে মায়ানমার গ্যাস উত্তোলন করছে, অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের পাশে অশোকনগরে তেল আবিষ্কার করেছে ভারত। এতে করে এতোদিন যারা দেশের পশ্চিমাঞ্চলে (রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা অঞ্চল) গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা নেই মনে করতেন তারাও এখন নড়েচড়ে বসেছেন।

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল অনেকটাই অবহেলিত থেকে গেছে। আশির দশকে নটোরের সিংড়ার পর বর্তমান সরকার পাবনার মোবারকপুরে কূপ খনন করেছে। এখানে সম্ভাবনা দেখলেও আরও বিষদ বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা দেখছে সংশ্লিষ্টরা। ভোলা নর্থগ্যাস ফিল্ড ও মোবারকপুরের মাঝামাঝি শরীয়তপুরে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাপেক্স। বাংলাদেশ প্রতি ৫ হাজার বর্গ কিলোমিটারের একটি করে কূপ খননের লক্ষ্যে কাজ করছে, আমেরিকা প্রতি ১৪ বর্গকিলোমিটারের ১টি এবং ভারত ১৮.৬ বর্গকিলোমিটারের ১টি কূপ খনন মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। শুধুমাত্র অনুসন্ধান কার‌্যক্রমের ঢিলেমির কারণে দেশকে চরম মাসুল দিতে হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত স্থবিরতা দেশকে চরম সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান সরকার আন্তরিক হলেও অতীতের ব্যর্থতায় তাদের ভূগতে হচ্ছে। গ্যাস সংকট সামাল দিতে গিয়ে বিদেশ থেকে উচ্চদরে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। যার ফল এখন ভুগতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো।

যদি বাংলাদেশে প্রচুর গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা দেখছে সংশ্লিষ্টরা। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ৯টি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তেল-গ্যাস সম্পদের সম্ভাবনা নিরূপনে কাজ করে। কিছু সংস্থা সারাদেশে এবং কিছু সংস্থা বিশেষ এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে। ২০০১ সালে ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) ও পেট্রোবাংলা, হাইড্রোকার্বন ইউনিট ও নরওয়েজিয়ান পেট্রোলিয়াম ডাইরেক্টরেট সমীক্ষা পরিচালনা করে। ইউএসজিএস-পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৪, গড় ৩২ দশমিক ১ ও সর্বোচ্চ ৬৫ দশমিক ৭ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন কিউবিক ঘনফুট) গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা ব্যক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে হাইড্রোকার্বন ইউনিট ও নরওয়েজিয়ান পেট্রোলিয়াম ডাইরেক্টরেট সর্বনিম্ন ১৯, গড় ৪২ ও সর্বোচ্চ ৬৪ টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছে।

বিইআরসির সদস্য মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন ‘১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিমালা ফলো করলে আজকে এই সংকট হতো না। ‘ওই নীতিমালায় প্রতি বছরে মোট ৪টি করে অনুসন্ধান কূপ খনন করার কথা থাকলে কোনো সরকারেই তা মেনে চলেনি। তেল-গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা, সফলতা ও অনুসন্ধানস্তর বিবেচনায় এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায়, এদেশে ব্যাপক ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা হলে তেল-গ্যাস প্রাপ্তির আরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এনার্জি এন্ড পাওয়ারের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর খন্দকার সালেক সুফী বার্তা২৪.কমকে বলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। এখানে মাত্র ৯৬টি কূপ খনন করা খুবই হতাশারা। আমরা সহজ প্রাপ্তির বিষয়গুলো অর্জণ করেছি, কিন্তু এখন জটিল বিষয়গুলোর দিকে যেতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ একই ধরণের কাঠামো তারা ১৫০টি ওয়েল করেছে। ঘুরে দাঁড়াতে হলে বড় ধরণের ঝাঁকুনি দিতে হবে।

সমুদ্রসীমা জয়ের মাধ্যমে সাগরে বিশাল অঞ্চলে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের পাশের ব্লকগুলো থেকে মায়ানমার বিপুল পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করছে। আর বাংলাদেশ অনেকটা হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করলেও তেমন সাড়া মিলছে না। এর দু’টি কারণ রয়েছে একটি হচ্ছে গ্যাসের দাম কম, আর ডাটার অভাব। বলা হচ্ছে আমাদের হাতে পর‌্যাপ্ত ডাটা নেই কারণে বহুজাতিক কোম্পানি আগ্রহি হচ্ছে না। মাল্টিক্লেইন সার্ভে করার পর পর‌্যাপ্ত ডাটা সামনে এলে অনেকে আগ্রহী হবেন।

গ্যাসের দামের বিষয়ে একমত হলেও ডাটার অভাব মানতে নারাজ জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছে আমাদের কাছে যে ডাটা রয়েছে তাতেই অনেকে আগ্রহী হতেন। কিন্তু সেসব ডাটা পেট্রোবাংলা সিলড করে রেখেছে। বিদেশি কম্পানি কেনার কিংবা দেখার কোনো সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ খন্দকার সালেক সূফী বলেছেন, পর‌্যাপ্ত ডাটা নেই, আমি এই কথা মানি না। ১৯৭৪ সালে যে কোম্পানিগুলো এসেছিল তারা এসে ডাটা রেখে গেছে।

বাংলাদেশে আবিষ্কৃত ২৮টি গ্যাস ফিল্ডে প্রমাণিত ও সম্ভাব্য মিলে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস বিবেচনা করা হয় ২৮.৬ টিসিএফ। ২০২২ সালের জুন পর‌্যন্ত ১৯.৫৩ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট মজুদ ধরা হয় মাত্র ৯ টিসিএফ। এক সময় ২৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাস উত্তোলন করা হলেও  এখন  ২৪০০ এমএমসিএফডির নিচে নেমে এসেছে। উৎপাদন কমে যাচ্ছে পুরাতন কূপগুলোতে আরও কমতে পারে। অন্যদিকে ৩ থেকে ৪ বছরে মধ্যে  এলএনজি আমদানি বৃদ্ধির সুযোগ নেই। প্রাইমারী ফুয়েল এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমরা ২০২৩ সালের মধ্যে ২০২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। এরমধ্যে ৫টি অনুসন্ধান ‍কূপ, ৪টি উন্নয়ন কূপ ও ৬টি ওয়ার্কওভার কূপ হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের মধ্যে ৪৬টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, অতীতের সরকারগুলোর সামগ্রিক অবহেলার কারণে আজকের এই সংকট। আমরা কাটিয়ে উঠতে অনেক কার‌্যক্রম হাতে নিয়েছি। এতদিন সব ঠিকঠাকেই ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্পর্ট মার্কেটে দাম বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক ভাবে আমদানি বন্ধ। দাম কমলে আমদানি হবে, তখন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে। অন্যদিকে দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধ্যানেও জোর দেওয়া হয়েছে।

১৯৭৫ সালে ৯ আগস্ট ৫টি গ্যাস ফিল্ড কিনে নেওয়াকে এ খাতের টার্নিং পয়েন্ট বিবেচনা করা হয়। যার কারণে এখনও স্বল্পদামে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ঐতিহাসিক ওই ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১০ সালে ৯ আগস্টকে ‘জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এ বছরও  সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

;

উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে জ্বালানির বহুমুখী ব্যবহার জরুরি



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভার্চুয়াল সেমিনার

ভার্চুয়াল সেমিনার

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজস্ব গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধান উত্তোলন এবং আরও পরমাণু বিদ্যুৎ-কেন্দ্রের কথা বিবেচনা নিতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে জ্বালানি জোগানের সকল উৎসকে বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোববার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ এনার্জি সোসাইটি’র (বিইএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভিশন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে এমন অভিমত উঠে আসে।

বক্তারা বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি সামনে চলে আসছে। বিশেষ করে পরমাণু বিদ্যুতের ছোট মড্যুলার রিয়েক্টর (এসএমআর) সিস্টেম ব্যবহারের কথাও ভাবা যেতে পারে। প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সকল বিকল্প উৎস নিয়ে কাজ করতে হবে। একক জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু তার দূরদৃষ্টি ও সাহসিকতা দিয়ে দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তার সেই ভিশনের ধারাবাহিকতায় বর্তমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমরা দেশব্যাপী সোলার এনার্জি বা সৌরশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে অন্যান্য জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরতা কমবে। একইসাথে দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও সচেতন হতে হবে। আমাদের বর্তমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা বিচেবনা করে নীতিমালা নির্ধারণ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হতে সক্ষম হলেও জ্বালানি খাতে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। তবে যুগোপযোগী পলিসি নির্ধারণ, স্থানীয় বিনিয়োগ এবং সরকারি খাত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা জ্বালানি চাহিদা, সরবরাহ পূরণে সক্ষম হতে পারবো।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম.তামিম বলেন, বাংলাদেশ তেল ও গ্যাস আমদানিকারক একটি দেশ এবং আমাদের মোট জ্বালানির বড় একটি অংশ তেলভিত্তিক। পূর্ববর্তী সময়ে আমরা শুধু তেলের ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদান করতাম, তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তা দিতে হতো না। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে গেছে। তাই এখন যথাযথ নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিইএস’র সভাপতি ও সাবেক মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি আমদানিতে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের খনিজ সম্পদও ক্ষতির সম্মুখীন। তাই আমাদের যথাসম্ভব জ্বালানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং বিকল্প সমাধানগুলো কাজে লাগাতে হবে।

এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি কনসাল্টেন্ট ইঞ্জি. খন্দকার আবদুস সালেক (সুফি)। আলোচনায় অংশ নেন একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু , বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সাবেক সদস্য এবং বাংলাদেশ এনার্জি সোসাইটি’র (বিইএস) সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

;