ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডে ৫ ক্যাটাগরিতে ৭টি পুরস্কার জিতে সেরা বিকাশ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের আর্থিক প্রযুক্তি (ফিনটেক) খাতে উদ্ভাবনী সেবায় অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত প্রথম ‘বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ এ ৫ ক্যাটাগরিতে ৪টিতে বিজয়ী ও ৩টিতে ‘অনারেবল মেনশন’ পুরস্কার জিতে সেরা সাফল্য দেখিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ।

ফিনটেক খাতের টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে ‘বিকাশ ম্যাপ’, রেমিটেন্স সেবা ক্যাটাগরিতে বিকাশের ‘রেমিটেন্স সেবা’, পেমেন্ট ক্যাটাগরিতে বিকাশের ‘পে বিল’ সেবা ও মোবাইল মানিতে বিকাশের ‘অ্যাড মানি’ সেবা বছরের সেরা উদ্ভাবনের স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি, পেমেন্ট ডিজিটাইজেশন, ডোনেশন সেবা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে অবদান রাখায় ‘অনারেবল মেনশন’ পেয়েছে বিকাশ।

বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম প্রথমবারের মতো এই অ্যাওয়ার্ড আয়োজন করে যেখানে ১০০টিরও বেশি মনোনয়ন দেওয়া হয়।

সম্প্রতি ঢাকার একটি হোটেলে ১১টি ক্যাটাগরিতে ২৬ বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিকাশের পক্ষ থেকে চিফ কমার্শিয়ার অফিসার আলী আহম্মেদ এবং চিফ মার্কেটিং অফিসার মীর নওবত আলী পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন।

অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের এটুআই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) পরিচালক অধ্যাপক আবদুল মোমেন, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ইমরান রহমান সহ অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম পরিচালিত ভোক্তা জরিপে টানা দুই বার ২০২০ ও ২০২১ সালে দেশের সেরা ব্র্যান্ড পুরস্কার অর্জন করে বিকাশ। একই সাথে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস বিভাগেও টানা চারবার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয় বিকাশ। এছাড়া, বিশ্বখ্যাত ফরচুন ম্যাগাজিনের তৈরি তৃতীয় ‘চেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড’ লিস্টে বিশ্বসেরা ৫০টি কোম্পানির তালিকায় ২৩তম স্থান পায় বিকাশ।

হাওরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

হাওরে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের বদলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওর অঞ্চলের সেতু নির্মাণ একটু উচু করে করতে হবে যেন ছোট নৌকা ও লঞ্চ চলাচল করতে পারে। নদীর নব‍্যতা বজায় রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের সারের চাহিদা রয়েছে তবে দেশে উৎপাদন করতে গেলে গ‍্যাসের সংকট থাকে। ফলে বিদেশে কারখানা করে দেশে ব‍্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেই সার দেশের চাহিদা যেমন মিটাতে পারবে তেমনি বিদেশে ব‍্যবহার করতে পারে। এরমাধ্যমে গ‍্যাসের সংকট মোকাবিলা ও বিনিয়োগ বাড়বে। দেশের স্বার্থটা আগে রক্ষা করতে হবে।

আজ একনেক সভায় ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে নতুন পাঁচটি এবং সংশোধিত পাঁচটি প্রকল্প।

এসব প্রকল্পের মোট ব‍্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ১ হাজার ৫৬৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

;

একনেকে ৪৬২১ কোটি টাকা ব‍্যয়ে ১০ প্রকল্প অনুমোদন 



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহি কমিটির (একনেক) সভায় ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে নতুন পাঁচটি এবং সংশোধিত পাঁচটি প্রকল্প।

এসব প্রকল্পের মোট ব‍্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।  এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ১ হাজার ৫৬৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি ) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক-এর চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ‍্যমে যুক্ত ছিলেন।

সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ সম্মেলনে অনুমোদিত প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো: 

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের "নেত্রকোনা-বিপিউড়া-ঈশ্বরগঞ্জ সড়ক (জেড-৩৭১০) উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)” প্রকল্প; ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)" প্রকল্প; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের "১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ (সংশোধিত ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ ও ৪টি পাসপোর্ট অফিস ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ) (১ম সংশোধিত)" প্রকল্প; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের "শেখ হাসিনা সেনানিবাস বরিশাল স্থাপন (১ম সংশোধিত)” প্রকল্প; কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প। যথাক্রমে “ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট" প্রকল্প এবং "আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, গাজীপুর এর এ্যাপ্রোচ সড়ক প্রশস্তকরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত)” প্রকল্প; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের "Flood and Riverbank Erosion Risk Management Investment Program (Project-2)" প্রকল্প এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে "ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) প্ল্যান্ট স্থাপন" প্রকল্প এবং "গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় বিটাকের ৬টি কেন্দ্র স্থাপন" প্রকল্প।

একনেক সভার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন,  কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম; শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন; বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ।

এছাড়া সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

;

সেরা ব্যাংকের স্বীকৃতি পেল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সেরা ব্যাংকের স্বীকৃতি পেল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক

সেরা ব্যাংকের স্বীকৃতি পেল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের সেরা ব্যাংক হিসেবে আবারো স্বীকৃতি পেল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। অ্যাসেট ট্রিপল এ সাস্টেইনেবল ক্যাপিটাল মার্কেটস কান্ট্রি অ্যাওয়ার্ডস-২০২১ পেয়েছে ব্যাংকটি। টানা দ্বিতীয়বারের মতো এ স্বীকৃতি পেয়েছে ব্যাংকটি। এছাড়া ২০২১ সালে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক মোট ৩১টি বিশেষ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে।

এ অর্জন সম্পর্কে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিইও নাসের এজাজ বিজয় বলেন, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও যেভাবে আমরা সব বাধা অতিক্রম করে সফলতার দারপ্রান্তে পৌঁছেছি, এ অ্যাওয়ার্ড তারই প্রমাণস্বরূপ। আমরা একসঙ্গে আমাদের গ্রাহক ও জনসাধারণের পাশে থেকে শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতার সঠিক পরিচালনা করেছি। এ অর্জনকে সম্ভব করার জন্য আমাদের গ্রাহক, নিয়ন্ত্রক এবং বৃহত্তর ইকসিস্টেমকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।

;

গ্যাসের পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
গ্যাসের পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে

গ্যাসের পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে

  • Font increase
  • Font Decrease

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ক্রটিপূর্ণ আবেদনের রেশ না কাটতেই বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। যথারীতি গ্যাসের মতোই ত্রুটিপুর্ণ হওয়ায় ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ বজলুর রহমান বার্তা২৪.কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিপিডিবি পাইকারি দর বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব জমা দেয়। প্রস্তাবটি জমা দেওয়ার সময় যথাযথ আইনী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় নি। তাই পুর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। আইনের কি ধরণের ব্যত্যয় ঘটেছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রস্তাবের সঙ্গে তিন বছরের অডিট রিপোর্ট জমা দিতে হয়, এক বছরের প্রক্কলিত আয় ব্যয়ের হিসেব দাখিল করতে হয়, প্রস্তাবনা অনুযায়ী দর বাড়ানো হলে ভোক্তাদের উপর কি ধরণের প্রভাব পড়তে পারে। এসব রিপোর্ট জমা দিতে হয়। এগুলোসহ আরও কিছু রিপোর্ট জমা দিতে হয়, যা আবেদনের সঙ্গে ছিল না। তাই বিপিডিবির আবেদনটি বাতিল কিংবা গ্রহণ কোনটাই না করে পুর্ণাঙ্গ প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিপিডিবি বিদ্যুতের একক ক্রেতা, নিজেরা উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি ও বেসরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনছে। সে সব বিদ্যুৎ ৫টি বিতরণ কোম্পানির কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করে আসছে। আর নিজেরা ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের শহরাঞ্চলে বিতরণ করে যাচ্ছে।

বিপিডিবির জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক সাইফুল হাসান চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, বিদ্যুতের উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এ কারণে লোকসান দিয়ে যাচ্ছে বিপিডিবি। তাই পাইকারি দাম সমন্বয়ের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কতটাকা হারে বাড়ানো প্রস্তাব করা হয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা নির্দিষ্ট করে কোনো প্রাইস বাড়ানোর প্রস্তাব দেইনি। আমরা প্রস্তাবে বলেছি ক্রয়মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করায় আগে থেকেই কিছুটা লোকসান দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে, এতে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমান অবস্থায় দাম সমন্বয় করা না হলে ২০২২ সালে ৩০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের। তাই সেই দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পাশাপাশি যদি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পায় তাহলে লোকসান আরও বাড়বে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হলে সেটিও সমন্বয় করার আবেদন করা হয়েছে বিইআরসির কাছে।

বিইআরসি হচ্ছে দাম চূড়ান্ত করার আইনগত প্রতিষ্ঠান। তারা আবেদন পাওয়ার পর প্রথমে যাচাই-বাছাই করে দেখেন। আবেদন যথাযথ হলে কমিশনের বৈঠক করে গণশুনানি করা হয়। তারপর দর ঘোষণা করা হয়। পাইকারি দাম বেড়ে গেলে বিতরণ কোম্পানিগুলো সেটাকে ভিত্তি ধরে খুচরা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেন। আবেদনের প্রাথমিক বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাগজে কলমে প্রমান করে দিতে হয় দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা। দাম বৃদ্ধি না হলে কি প্রভাব পড়বে তারও অংক কষে দেখাতে হয়। অতীতে অনেক সময় বিইআরসি সরকারকে ভর্তুকি দেওয়ার সুপারিশ দিয়ে দাম বাড়ানো থেকে বিরত থেকেছে। সর্বশেষ ২০২০ সালের মার্চে প্রতি ইউনিটের মূল্য ৪.৭৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫.১৭ টাকা করা হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেল’র মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, গত বছর প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে পাইকারি পর‌্যায়ে। এবার তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসান আরও বৃদ্ধি পাবে।

অন্যদিকে গ্যাসের বিতরণ কোম্পানিগুলো হাস্যকর প্রস্তাব জমা দিয়েছে কমিশনে। বর্তমানে প্রেক্ষাপটে তাদের গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আগে পেট্রোবাংলাকে পাইকারি দাম বাড়াতে হবে। তখন কোম্পানিগুলো আসবে সেই টাকা তোলার জন্য খুচরা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে। অতীতে এটাই হয়ে এসেছে। এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসান গুণতে হচ্ছে উল্লেখ করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর একটি চিঠি দেয় পেট্রোবাংলা। আবেদন যথাযথ না হওয়ায় বিইআরসির প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছে। একই সময়ে বিতরণ কোম্পানিগুলো ১১৭ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেয়। সঙ্গতকারণেই বিইআরসি আবেদনগুলো ফেরত দিয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা চলছে। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ও স্পর্ট মার্কেট থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রকৃতিক গ্যাস) আমদানি করছে বাংলাদেশ। দাম বেড়েছে স্পর্ট মার্কেট থেকে আনা ৫-৬ শতাংশ গ্যাসের। ৫-৬ শতাংশের দাম বেড়েছে বলে ১০০ ভাগ গ্যাসের দাম ১১৭ শতাংশ বাড়াতে হয় এটা বিশ্বাসযোগ্য! তারা গোজামিল দিয়ে হিসেব দেখাচ্ছে, এসব হিসাব বাস্তব সম্মত না। প্রয়োজন হলে ওই পরিমাণ এলএনজি আমদানি না করার পক্ষে আমরা। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই অবস্থায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি কোন ভাবেই কাম্য হতে পারে না। এই মুহূর্তে আমাদের অর্থনীতি ভর্তুকি বৃদ্ধি কিংবা দাম বৃদ্ধি কোনটার জন্য প্রস্তুত নয়। বরং রেশনিং করে ওই পরিমাণ এলএনজি আমদানি কমিয়ে দেওয়া উচিত। গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর ইস্যু সামনে আসবে। আমরা মনে করি গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ছাড়াও অনেক বিকল্প রয়েছে।

;